📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 ইশারা-ইঙ্গিতে গীবত করা

📄 ইশারা-ইঙ্গিতে গীবত করা


গীবত কেবল মুখেই নয়, বরং ইশারা-ইঙ্গিতেও গীবত হয় এবং সেটাও মৌখিক গীবতের মতই হারাম। একবার উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি. নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলেন। কথায় কথায় অপর উম্মুল মুমিনীন হযরত সাফিয়্যা রাযি. এর কথা উঠে গেল। তিনি কিছুটা বেটে প্রকৃতির ছিলেন। হযরত আয়েশা রাযি. হাতের ইশারায় বোঝালেন যে, তিনি একজন ছোট-খাট মানুষ। মুখে বেটে বা খাটো কিছুই বললেন না। তবুও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করে বললেন, হে আয়েশা! তুমি এমন একটা কাজ করলে যে, এর বিষ ও বদবু যদি সাগরে ঢেলে দেয়া হয়, তবে গোটা সাগরের পানি বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে যাবে।
চিন্তা করে দেখুন! গীবতের একটা ইশারাকেও পর্যন্ত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটা গুরুতর সাব্যস্ত করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন, সারা বিশ্বের ধন-দৌলতও যদি আমাকে দেয়া হয়, তার বিনিময়েও আমি কারো এমন অনুকরণ করতে প্রস্তুত নই যা দ্বারা অন্যকে ব্যঙ্গ করা হয় বা তার কোন মন্দ দিক প্রকাশ করা হয়। (আবু দাউদ-৪৮৭৫, তিরমিযী-২৫০২, আহমাদ-২৫০৩২, হাদীসের শব্দাবলী আবু দাউদের, হাদীসটি হাসান সহীহ)

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 গীবত পরিহারে বিশেষ গুরুত্ব দিন

📄 গীবত পরিহারে বিশেষ গুরুত্ব দিন


বর্তমানে তো অনুকরণ করতে পারা একটা রসাত্মক শিল্পে পরিণত হয়েছে। অন্যের হুবহু অনুকরণ করে দেখাতে পারলে তাকে প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখা হয়। মুগ্ধ হয়ে বলা হয়, দেখেছ কী অনুকরণদক্ষ লোক! অথচ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সারা জাহানের ধন-সম্পদের বিনিময়েও আমি কারো অনুকরণ করে দেখাতে রাজী নই। এর দ্বারা অনুমান করা যায়, তাঁর দৃষ্টিতে এটা কত বড় মন্দ ও গর্হিত কাজ ছিল। সাথে সাথে তিনি কত গুরুত্ব সহকারে তার থেকে বিরত থাকার জন্য তাকিদ করেছেন। কিন্তু আমাদের যে কী হয়েছে? আমরা মদ্যপান ও ব্যভিচারকে গর্হিত মনে করলেও গীবত করাকে কোন গর্হিত কাজ মনে করছি না; বরং একে মায়ের দুধের মত মজাদার বানিয়ে ফেলেছি। যার ফলে এমন কোনো মজলিস পাওয়া যাবে না, যেখানে এ মজা ভোগ করা হয় না। আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করুন এবং এর থেকে বাঁচার চেষ্টা করুন।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 গীবত থেকে কিভাবে বাঁচবেন

📄 গীবত থেকে কিভাবে বাঁচবেন


গীবত থেকে বাঁচার উপায় হলো, তার কদর্যতাকে মাথায় বসিয়ে আল্লাহ তায়ালার কাছে দুআ করা যে, হে আল্লাহ! গীবত যে বড় কঠিন গুনাহ, আমি তার থেকে বেঁচে থাকতে চাচ্ছি। কিন্তু বৈঠক-মজলিসে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে যখন কথাবার্তা বলি, তাতে কারো না কারো গীবত হয়ে যায়। হে আল্লাহ! আমি দৃঢ় সংকল্প করেছি যে, ভবিষ্যতে আর কখনো কারো গীবত করবো না। কিন্তু আপনার তাওফিক ও সাহায্য ছাড়া এ সংকল্পে দৃঢ় ও অবিচল থাকা সম্ভব নয়। হে আল্লাহ! নিজ দয়ায় আমাকে সাহায্য করুন। আমাকে হিম্মত দিন এবং তাওফিক দিন যাতে এ সংকল্পে স্থির থাকতে পারি। এই দুআর পর আজই আমল করা শুরু করে দিন।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 গীবত পরিহারে দৃঢ় সংকল্প করুন

📄 গীবত পরিহারে দৃঢ় সংকল্প করুন


মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো কাজ করার দৃঢ় সংকল্প না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে কাজ হয় না, হতে পারে না। অন্যদিকে শয়তানের কাজ হলো ভালো কাজে বাধা সৃষ্টি করা। মনের মধ্যে টালবাহানা সৃষ্টি করা। আজ নয় কাল শুরু করবো... এমন দোদুল্যমান চক্করে ফেলে দেয়া। ফলে ভালো কাজের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা গড়িমসি করি। প্রতিদিনই বলি, ঠিক আছে কাল শুরু করবো। কালকের দিনটি যখন আসে, তখন কোনো ওযর দাঁড়িয়ে যায়। আবারও বলি আচ্ছা কাল করবো, এভাবে দিন চলে যায়, কিন্তু সে কাল আর আসে না। কাজেই কালের চক্রে না পড়ে, যে কাজ করার তা আজই করে ফেলুন। কেননা, কালকের জন্যে ফেলে রাখলে তা আর কখনই করা হবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00