📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 ইসলামের একটি মূলনীতি

📄 ইসলামের একটি মূলনীতি


লক্ষ্য করুন, ইসলামের একটি মূলনীতি হলো- 'নিজের জন্য যা পছন্দ করবে অন্যের জন্য তাই পছন্দ করবে এবং নিজের জন্য যা অপছন্দ করবে, তা অপরের জন্য অপছন্দ করবে। এ মূলনীতিটা স্বয়ং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। এবার বলুন তো, কেউ যদি আপনার আড়ালে আপনার বদনাম করে। তাহলে আপনার কেমন লাগবে? আপনার কি তা ভালো লাগবে, নাকি খারাপ লাগবে? নিশ্চয় তা আপনার কাছে খারাপ লাগবে। যদি খারাপই লাগে এবং নিজের জন্য তা অপছন্দ করেন। তাহলে এই কাজটি আপনার ভাইয়ের জন্য পছন্দ করছেন কিভাবে? নিজের জন্য এক রকম আর অন্যের জন্য আরেক রকম এটা কেমন নীতি। একেই তো বলে মুনাফিকী। দেখা যায় গীবতের মধ্যে মুনাফিকীও থাকে। যদি এসব বিষয় চিন্তা করেন এবং গীবতের জন্য আখেরাতে যে আযাবের ব্যবস্থা আছে তাও ভাবতে থাকেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ গীবতের অভ্যাস দুর হয়ে যাবে।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 গীবত থেকে বাঁচার সহজ উপায়

📄 গীবত থেকে বাঁচার সহজ উপায়


হাকিমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. এ পর্যন্ত বলতেন যে, গীবত থেকে বাঁচার সর্বাপেক্ষা সহজ উপায় হলো- অন্যের সম্পর্কে কোনো রকম আলোচনা না করা। তার প্রশংসা করারও দরকার নেই এবং বদনাম করারও দরকার নেই। কেননা, শয়তান বড় খারাপ। তুমি যখন কারো প্রশংসা করে বলবে, অমুক বড় ভালো মানুষ। তার মধ্যে এই গুণ আছে, ঐ গুণ আছে। তখন মাথায় তো এটাই থাকবে যে, আমি তার কোন গীবত করছি না বরং তার প্রশংসাই করছি। তখন শয়তান সেই প্রশংসার মধ্যে এমন একটা বাক্য জুড়ে দিবে- যদ্দরুন সমস্ত প্রশংসা দূর্ণামে পরিণত হয়ে যাবে। যেমন, তুমি প্রশংসার একপর্যায়ে বলে ফেললে অমুক ব্যক্তি তো বড় ভালো মানুষ, কিন্তু তার মধ্যে এই একটা ব্যাপারও আছে। ব্যাস! শুধুমাত্র 'কিন্তু' শব্দটা সকল প্রশংসায় পেশাব ঢেলে দেয়ার মতো।
এ কারণে হযরত থানভী রহ. বলেন, অন্যের সম্পর্কে আলোচনা করারই দরকার নেই। তার গুণকীর্তনও করতে যেও না এবং তার দোষ-ত্রুটিও বলার দরকার নেই। অহেতুক আলোচনাই লিপ্ত হয়ে গুনাহের পথ তৈরি করার কী দরকার। একান্ত যদি কারো প্রশংসায় লিপ্ত হয়েও পড়, তবে খুব সতর্ক থাকবে, যাতে শয়তান ভুল পথে টেনে নিতে না পারে।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 নিজ অপরাধের প্রতি লক্ষ্য করুন

📄 নিজ অপরাধের প্রতি লক্ষ্য করুন


প্রিয় ভাই! অন্যের বদনাম কি করবেন, নিজের দোষ-ত্রুটির কি অভাব আছে? নিজের দোষ-ত্রুটির প্রতি লক্ষ করুন। অন্যের মধ্যে কোনো দোষ-ত্রুটি থাকলে সে কারণে তোমাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে না। তার দোষ-গুণের জন্য শাস্তি বা পুরস্কার পেলে সে-ই পাবে। কাজেই তার যা আছে, তা নিয়ে সে থাকুক এবং তার হিসাবও আল্লাহ তায়ালা নিবেন। তোমাকে তোমার নিজ কর্মফলই ভোগ করতে হবে। ভালো হলে ভালো ফল পাবে, আর মন্দ হলে মন্দ ফল পাবে। কাজেই নিজের ফিকির নিজে করো।
تجھ کو پرائی کیا پڑی اپنی نیڑ تو 'পর কে নিয়ে চিন্তা ছেড়ে, নিজের পরিণতি নিয়ে ভাবুন। নিজের দিকে ধ্যান দিন এবং নিজ দোষ-ত্রুটি লক্ষ্য করুন।
মানুষ নিজ সম্পর্কে যখন গাফেল হয়ে যায় এবং নিজ দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়ে- তখনই সে অন্যের দোষ-ত্রুটি খোঁজে। নিজ অপরাধের কথা মাথায় থাকলে কেউ কখনো অন্যের দোষের দিকে নজর দিতে পারে না। ফলে অন্যের দোষ চর্চারও কোনো অবকাশ তার হয় না। সম্রাট বাহাদুর শাহ জুফার খুবই চমৎকার কথা বলেছেন;
نہ تھی حال کی جب ہمیں اپنی خبر رہے ڈھونڈتے اور وں کے عیب و ہنر پڑی اپنی برائیوں پر جو نظر تو نگاہ میں کوئی برا نہ رہا
নিজ অবস্থা সম্পর্কে কোন সচেতনতা ছিল না যখন, তখন তো বেড়াতাম খুঁজে অন্যের যত দোষ-গুণ * নজর পড়ল খেনই নিজ দোষের উপর, তখনই আড়াল হয়ে গেল অন্যের যত দোষ।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 কথোপকথনের মোড় ঘুরিয়ে দিন

📄 কথোপকথনের মোড় ঘুরিয়ে দিন


আমরা যে সমাজে বসবাস করছি এবং যে সময়টা পার করছি, তার ভেতর থেকে এ কাজ যে অত্যন্ত কঠিন তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু এটাও সত্য যে, তা অসম্ভব নয়। অসম্ভব হলে আল্লাহ তায়ালা গীবতকে হারাম করতেন না। হারাম এজন্যই করেছেন যে, তা পরিহার করা মানুষের এখতিয়ারাধীন। মজলিসের আলোচনা যদি গীবতের দিকে যায়, তবে লাগাম টেনে ধরুন এবং আলোচনার মোড় অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিন। আর যদি কখনো গীবত হয়েই যায়, তাহলে সঙ্গে-সঙ্গে তাওবা করুন এবং ভবিষ্যতে তা পরিহার করে চলার জন্য নতুন সংকল্পে আবদ্ধ হোন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00