📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি 📄 যালিমের যুলুম সম্পর্কে সতর্ক করা গীবত নয়

📄 যালিমের যুলুম সম্পর্কে সতর্ক করা গীবত নয়


আরো একটি ক্ষেত্রে শরীয়ত গীবতের অনুমতি দান করেছে। তা হলো অত্যাচারীর অত্যাচার থেকে সতর্ক করা। কেউ যদি আপনার উপর যুলুম বা অত্যাচার করে থাকে এবং আপনি সে কথা অন্যের সামনে প্রকাশ করেন ও সতর্ক করেন যে, অমুক ব্যক্তি আমার উপর অত্যাচার করেছে। তবে তা নিষিদ্ধ গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে না। তাতে কোন প্রকার গুনাহও হবে না। যে ব্যক্তিকে আপনি তা জানাচ্ছেন সে তার প্রতিকার করার কোন শক্তি রাখুক বা না রাখুক। উদাহরণত, এক ব্যক্তি আপনার বাড়িতে চুরি করেছে। আপনি থানায় গিয়ে অভিযোগ করলেন যে, অমুক ব্যক্তি আমার বাড়িতে চুরি করেছে। এই অভিযোগ করাটা যদিও তার অগোচরে হয়েছে, তবুও তা গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে না। কেননা, সে আপনার ক্ষতি করেছে এবং আপনার উপর অবিচার করেছে। আপনি থানায় তার প্রতিকার চেয়েছেন। থানা তার প্রতিকার করার ক্ষমতাও রাখে। সুতরাং এটা কিছুতেই গীবত হবে না।
এমনিভাবে আপনি এই চুরির ঘটনা যদি এমন কাউকে জানান, যে তার প্রতিকার করার ক্ষমতা রাখে না, যেমন চুরির ঘটনাটি ঘটার পর কিছু লোক আপনার কাছে আসল এবং কিভাবে কি ঘটেছে তা জানতে চাইল। আপনি তাদেরকে জানালেন যে, অমুক ব্যক্তি রাতের আধারে আমার ঘরে সিঁধ কেটেছে এবং আমার ঘরের এটা ওটা নিয়ে গেছে। সুতরাং এক্ষেত্রে যদিও চোরের অগোচরে আপনি তার এসব খারাপ কথা বলছেন এবং উপস্থিত লোকেরা চোরের কোনো প্রতিকার করতে পারবে না। তবুও এটা গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং এ কারণে আপনি গুনাহগারও হবেন না। কেননা, এ কথা বলার দ্বারা যদিও আপনি কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না, কিন্তু আপনার মনের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হচ্ছে এবং তাদের সমবেদনা দ্বারা আপনার মন কিছুটা হালকা হচ্ছে।
দেখুন! শরীয়ত আমাদের স্বভাব-প্রকৃতির প্রতি কতটা আনুকুল্য দেখিয়েছেন। এটা মানুষের একটা স্বভাব যে, তার প্রতি কোনো অবিচার করা হলে সে তার সেই দুঃখের কাহিনী অন্যকে শোনাতে চায় এবং এর দ্বারা কিছুটা মনের কষ্ট লাঘবের প্রয়াস পায়। তাই শরীয়ত এর অনুমতি প্রদান করেছে। ইরশাদ হচ্ছে-
لَا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَنْ ظُلِمَ وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا
অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা মন্দ কথা প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে যার উপর যুলুম করা হয়েছে তার বিষয়টি স্বতন্ত্র। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা নিসা-১৪৮)
ব্যাখ্যা: আলোচ্য আয়াতে দুনিয়া থেকে জোর-যুলুমের অবসান ঘটানোর এক অপূর্ব বিধান পেশ করা হয়েছে। যার মধ্যে একদিকে ইনসাফ ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা ও অপরাধ দমনের জন্য মযলুমকে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আধিকার দিয়েছে। অপরদিকে প্রতিশোধ নিতে গিয়েও যুলুম ও বাড়াবাড়ি থেকে নিষেধ করা হয়েছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية