📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 গীবত ও একটি শিক্ষামূলক স্বপ্ন

📄 গীবত ও একটি শিক্ষামূলক স্বপ্ন


বিখ্যাত তাবেঈ রিবঈ রহ. নিজ ঘটনা বর্ণনা করেন যে, একবার আমি একটি মজলিসে হাজির হই। উপস্থিত লোকজন কথাবার্তায় লিপ্ত ছিল। আমিও তাদের সাথে বসে গেলাম। এক পর্যায়ে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে কথা শুরু হয়ে গেল। তাতে তার গীবত করা হচ্ছিল। আমার খুব খারাপ লাগল যে, এখানে বসে আমরা একটা লোকের নিন্দা করছি। আমি মজলিস থেকে উঠে গেলাম।
রিবঈ রহ.-এর কাজ দ্বারা বুঝা গেল যে, কোনো মজলিসে গীবত হলে প্রথমত উচিত তাদের বাধা দেয়া। আর সে ক্ষমতা না থাকলে দ্বিতীয় কর্তব্য হলো, নিজে তাতে শরীক না হওয়া এবং মজলিস থেকে উঠে যাওয়া। তিনি তাই করলেন, মজলিস থেকে উঠে গেলেন। কিছুক্ষণ পর মনে হলো, এখন হয়ত সে লোকটি সম্পর্কে চর্চা শেষ হয়ে গেছে। এখন আবার তাদের সাথে গিয়ে বসা যায়। আমি আবার সেখানে উপস্থিত হলাম। তখন কিছুক্ষণ বিক্ষিপ্ত কথাবার্তার পর আবারও গীবত শুরু হয়ে গেল। কিন্তু আমার আর উঠে যাওয়ার হিম্মত হলো না। আমি মজলিস থেকে উঠতে পারলাম না। প্রথমে তো তারা যে গীবত করছিল, তা শুনেই যাচ্ছিলাম, শেষ পর্যন্ত নিজেও তাদের সাথে তাল মিলিয়ে গীবতের দু-এক বাক্য বলে ফেললাম।
মজলিস শেষে যখন বাড়ি ফিরলাম এবং রাতের বেলা যথারীতি শুয়ে পড়লাম, তখন এক ভয়ানক স্বপ্ন দেখলাম। দেখলাম, কালো এক ব্যক্তি একটি বড় পাত্রে করে আমার কাছে গোশত নিয়ে এসেছে। ভালোভাবে লক্ষ্য করে বুঝতে পারলাম তা শূকরের গোশত। কালো লোকটি বললো, এই শূকরের গোশত খাও। আমি বললাম, শূকরের গোশত কিভাবে খাব? আমি তো একজন মুসলিম। সে বললো, না এ গোশত তোমাকে খেতেই হবে। এই বলে সে জোরপূর্বক আমার মুখে গোশতের টুকরা ঢুকিয়ে দিতে লাগল। আমি যতই বাধা দেই, সে ততই জোর করে আমার মুখে শূকরের গোশত ঢুকিয়ে দিতে লাগল। শেষ পর্যন্ত আমার বমি এসে গেল। কিন্তু সে নাছোড় বান্দা, আমার মুখের ভেতর শূকরের গোশত ঢুকাতেই থাকে। কষ্টে আমার দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হল। এ অবস্থায় আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। পরে যখন খাবার খেতে বসলাম, তখন স্বপ্নে দেখা সে শূকরের গোশতের স্বাদ আমার হালাল খাদ্যের মধ্যেও অনুভব করতে লাগলাম। রিবঈ রহ. বলেন, তিন দিন পর্যন্ত আমার এ অবস্থা চলতে থাকে। যখনই খেতে বসি তখনই খাবারের মধ্যে শূকরের গোশতের বিশ্রি স্বাদ অনুভব হতে থাকে। ঠিক তিন দিন পর আমি এই কষ্ট থেকে মুক্তি পাই।
হযরত রিবঈ রহ. বলেন, এ ঘটনার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাকে গীবতের কদর্যতা সম্পর্কে সতর্ক করে দেন। সামান্য যতটুকু গীবত আমি করেছিলাম, তার জন্য তিন দিন পর্যন্ত আমি খাদ্যের মাঝে শূকরের গোশতের বিস্বাদ পেতে থাকি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে হেফাযত করুন।

টিকাঃ
¹ তাফসীরে ইকনে কাছীর: খন্ড ৪, সূরা হুজুরাত

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 হারাম খাদ্যের কু-প্রভাব

📄 হারাম খাদ্যের কু-প্রভাব


বাস্তবতা এই যে, পরিবেশ-পরিস্থিতি কলুষিত হয়ে যাওয়ায় আমাদের অনুভূতি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই গুনাহের কুপ্রভাব আমরা অনুভব করতে পারি না। হযরত মাওলানা ইয়াকুব নানুতুবী রহ. বলতেন, একবার জনৈক ব্যক্তির দাওয়াতে দু-এক লোকমা খাবার খেয়ে ফেলেছিলাম। খাবার ছিল কিছুটা সন্দেহযুক্ত। অর্থাৎ খাবার হারাম হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। সেই এক-দুই লোকমা খাবারের অন্ধকার আমি কয়েকমাস পর্যন্ত অন্তরে অনুভব করতে থাকি। আমার অন্তরে একের পর এক অনুচিত চিন্তা ভাবনা দেখা দিতে থাকে। এমনকি গুনাহ করারও ইচ্ছা অন্তরে জন্ম নিতে থাকে। আর গুনাহের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হতে থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00