📄 তারা নিজ চেহারা আছড়াতে থাকবে
হযরত আনাস রাযি. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিশেষ খাদেম ছিলেন। দশ বছর যাবত আল্লাহর রাসূলের খেদমত করেছেন। তিনি বর্ণনা করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَمَّا عُرِجَ بِي مَرَرْتُ بِقَوْمٍ لَهُمْ أَظْفَارُ مِنْ نُحَاسٍ يَخْمِشُونَ وُجُوهَهُمْ وَصُدُورَهُمْ فَقُلْتُ مَنْ هَؤُلاءِ يَا جِبْرِيلُ قَالَ هَؤُلاءِ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ لُحُوْمَ النَّاسِ وَيَقَعُونَ فِي أَعْرَاضِهِمْ
'মিরাজের রাতে আমি একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, যাদের নখগুলো তামার, যা দিয়ে তারা তাদের চেহারা ও বুক আঁচড়াচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরীল! এরা কারা? তিনি বললেন, এরা সেইসব লোক, যারা মানুষের গোশত ভক্ষণ করত। তাদের মান-সম্মানের উপর আঘাত করত। অর্থাৎ তাদের পিছনে বদনাম করত। (আবু দাউদ-৪৮৭৮)
📄 ‘গীবত’ যিনা থেকেও জঘন্য পাপ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَا ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْغِيْبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا، قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ الْغِيْبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا ؟ قَالَ : إِنَّ الرَّجُلَ لَيَزْنِي فَيَتُوبُ ، فَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِ ، وَفِي رِوَايَةٍ : فَيَتُوبُ فَيَغْفِرُ اللَّهُ لَهُ، وَإِنَّ صَاحِبَ الْغِيْبَةِ لَا يُغْفَرُ لَهُ حَتَّى يَغْفِرَهَا لَهُ صَاحِبُهُ
অর্থ: হযরত আবু সাঈদ ও জাবির রাযি. থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: 'গীবত' যিনার চেয়েও জঘন্যতম অপরাধ। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! 'গীবত' কীভাবে যিনার চেয়ে মারাত্মক? তিনি বললেন, কোনো ব্যক্তি যিনা করার পর তাওবাহ করলে আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করেন। পক্ষান্তরে, গীবতকারীকে যতক্ষণ পর্যন্ত যার গীবত করা হয়েছে সে ক্ষমা না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করা হবে না। (মিশকাত-৪৮৭৪, বায়হাকী-৫/৩০৬, তাবারাণী-৬/৩৪৮, হাদীসের শব্দাবলী মিশকাতের)
ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে গীবতকে 'যিনা-ব্যভিচার' থেকেও মারাত্মক বলার কারণ হলো- কোনো মানুষ 'যিনা-ব্যভিচারকে' হালাল মনে করে না; বরং কোনো মুসলমান যখন এই পাপে লিপ্ত হয়, তখন সে হারাম ও গুনাহ মনে করেই তা করে থাকে। পক্ষান্তরে, 'গীবত' অকাট্যভাবে হারাম হওয়া সত্ত্বেও গীবতকারী এটাকে হারাম মনে করে না; বরং হালাল মনে করে অহরহ গীবত করতে থাকে। আর হারাম জিনিসকে হালাল মনে করা কুফরী। এ কারণে 'গীবতকে' যিনা থেকেও মারাত্মক বলা হয়েছে।
তাছাড়া 'গীবত' দ্বারা বান্দার হক নষ্ট হয়। আর কেউ বান্দার হক নষ্ট করলে যতক্ষণ না বান্দা তাকে ক্ষমা করবে, ততক্ষণ আল্লাহও তাকে ক্ষমা করবেন না। 'গীবত' দ্বারা বান্দার হক নষ্ট হওয়ার কারণ হলো, এর দ্বারা চরমভাবে তার সম্মানহানী ঘটে। ফলে তার হক নষ্ট হয়। এজন্য হাদীসে 'গীবতকে' যিনা থেকেও মারাত্মক বলা হয়েছে।
📄 গীবতকারীকে জার পথে আটকে দেয়া হবে
এক হাদীসে এসেছ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন; এমন অনেক গীবতকারী আছে, যারা আপাতদৃষ্টিতে খুব ভালো আমলী। যেমন, নামায পড়ে, রোযা রাখে, আরো অনেক ইবাদত-বন্দেগী করে। কিন্তু ক্বিয়ামতের দিন তাদেরকে পুলসিরাতে আটকে দেয়া হবে। সকলে জানেন, জাহান্নামের উপর একটা সেতু আছে, যাকে পুলসিরাত বলা হয়। সেটা সকলেরই পার হতে হবে। জান্নাতীরাও সেটা পার হয়ে জান্নাতে দাখেল হবে। আর (আল্লাহ মাফ করুন) যারা জাহান্নামী হবে, তাদেরকে ঐ সেতুর উপর থেকেই জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর যারা মানুষের গীবত করে তাদেরকে ঐ সেতুর গোড়ায় আটকে দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা গীবতের কাফফারা আদায় না করবে, সামনে যেতে পারবে না। অর্থাৎ যাদের গীবত করেছে তাদের থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। তারা ক্ষমা না করা পর্যন্ত জান্নাতে যেতে পারবে না।
📄 নিকৃষ্টতম সুদ হলো গীবত করা
এক হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাও বলেছেন যে, সুদ এতটা মারত্মক গুনাহ যে তার মধ্যে অগনিত খারাবী ও গুনাহের সমষ্টি বিদ্যমান। যার সর্বনিম্ন স্তর হলো, যেন কেউ তার নিজ মায়ের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হল। সুদ সম্পর্কে এমন কঠিন সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে- যা অন্য কোন গুনাহ সম্পর্কে হয়নি। অথচ গীবত সেই সুদেরই নিকৃষ্টতম স্তর। এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
إِنَّ مِنْ أَرْبَيَ الرِّبَا الْاِسْتِطَالَةَ فِي عِرْضِ الْمُسْلِمِ بِغَيْرِ حَقٍ
'সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্টতম সুদ হলো অন্যায়ভাবে মুসলিম ভাইয়ের ইজ্জতহানী করা' অর্থাৎ গীবত করা। (আবু দাউদ-৪৮৭৬)