📄 গীবতের ক্ষতি
(১). গীবতকারীর দুআ কবুল হয় না। (২). গীবতকারীর চেহারা থেকে নূর চলে যায়। (৩). গীবতকারীর আমলনামা থেকে নেকী কেটে নিয়ে যার গীবত করা হয় তাকে দেয়া হয়। (৪). যার গীবত করা হয় তার গুনাহ গীবতকারীর আমলনামায় চলে যায়।
গীবতকারীর জন্য উপহার! কেউ হযরত হাসান বসরী রহ. এর গীবত করলে তিনি অত্যন্ত খুশি হতেন এবং তার নিকট প্লেটভর্তি ফল-মূল ও মিষ্টি পাঠাতেন। তিনি বলতেন, সে কষ্ট করে নেকী কামাই করে আমাকে দিয়ে দিয়েছে এবং আমার গুনাহ সে নিয়েছে। এর চেয়ে বড় উপকার আর কী হতে পারে? এজন্য আমি তাকে মিষ্টি হাদিয়া পাঠিয়েছি।
ইমাম আবু হানিফা রহ. কখনো গীবত করতেন না। তিনি বলতেন, যদি গীবত করতেই হয়, তাহলে তুমি তোমার পিতা-মাতার গীবত করো! কারণ, এতে তোমার নেকী অন্যের আমলনামায় না গিয়ে তোমার পিতা-মাতার আমলনামায় যাবে এবং তারা উপকৃত হবে।
📄 যেসব ক্ষেত্রে গীবত বৈধ
গীবত করা ও শোনা উভয়ই হারাম ও কবিরাহ গুনাহ। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে গীবত করা অর্থাৎ, পশ্চাতে দোষ বলা জায়েয। পরিভাষায় একে গীবতও বলা হয় না। যেমন-
(১). সংশোধনের নিয়তে উস্তাদের নিকট ছাত্রের দোষ-ত্রুটি বলা জায়েয।
(২). সংশোধনের নিয়তে পিতা বা অভিভাবকের নিকট সন্তান ও অধীনস্থদের দোষ-ত্রুটি বলে দেয়া জায়েয।
(৩). ন্যায্য বিচার প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে বিচারকের নিকট প্রতিপক্ষের দোষ-ত্রুটি বলা জায়েয।
(৪). শাসকগোষ্ঠী ইসলামের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করলে জনসাধারণকে সে বিষয়ে সতর্ক করা শুধু জায়েযই নয়, বরং কর্তব্যও বটে।
(৫). বাতিলপন্থীদের ক্ষতি থেকে জাতিকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে তাদের দোষ-ত্রুটি ও ভ্রান্ত আকিদা প্রকাশ করে দেয়া শুধু জায়েযই নয়, বরং ঈমানী দায়িত্বও বটে।
📄 গীবত একটি ভয়ানক গুনাহ
মাদক সেবন ও যিনা-ব্যভিচার যেমন কবীরা গুনাহ, তেমনিভাবে গীবতও একটি কবীরা গুনাহ। যিনা-ব্যভিচার যেমন নিশ্চিত হারাম, তেমনিভাবে গীবতও নিশ্চিত হারাম; বরং কখনো কখনো মাদক সেবন অপেক্ষা গীবতের গুনাহ আরো বেশি ভয়ানক। কেননা, এটা হুকুকুল ইবাদের সাথে সম্পৃক্ত। হুকুকুল ইবাদের গুনাহ ততক্ষণ পর্যন্ত মাফ হয় না, যতক্ষণ না বান্দা নিজে মাফ করে দেন। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে শুধু তাওবা যথেষ্ট নয়। পক্ষান্তরে অন্যান্য গুনাহ কেবল তাওবা দ্বারাই মাফ হয়ে যায়। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, গীবতের বিষয়টি আরো গুরুতর।
📄 তারা নিজ চেহারা আছড়াতে থাকবে
হযরত আনাস রাযি. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিশেষ খাদেম ছিলেন। দশ বছর যাবত আল্লাহর রাসূলের খেদমত করেছেন। তিনি বর্ণনা করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَمَّا عُرِجَ بِي مَرَرْتُ بِقَوْمٍ لَهُمْ أَظْفَارُ مِنْ نُحَاسٍ يَخْمِشُونَ وُجُوهَهُمْ وَصُدُورَهُمْ فَقُلْتُ مَنْ هَؤُلاءِ يَا جِبْرِيلُ قَالَ هَؤُلاءِ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ لُحُوْمَ النَّاسِ وَيَقَعُونَ فِي أَعْرَاضِهِمْ
'মিরাজের রাতে আমি একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, যাদের নখগুলো তামার, যা দিয়ে তারা তাদের চেহারা ও বুক আঁচড়াচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরীল! এরা কারা? তিনি বললেন, এরা সেইসব লোক, যারা মানুষের গোশত ভক্ষণ করত। তাদের মান-সম্মানের উপর আঘাত করত। অর্থাৎ তাদের পিছনে বদনাম করত। (আবু দাউদ-৪৮৭৮)