📄 কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ-ত্রুটি বলাই হচ্ছে গীবত
আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেসা করলেন, তোমরা কি জানো, গীবত কী? সাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন,
ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ. قِيلَ أَفَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ, قَالَ إِنْ كَانَ فِيْهِ مَا تَقُوْلُ فَقَدِ اغْتَبْتَهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيْهِ فَقَدْ بَهَتَهُ
অর্থাৎ, গীবত হলো তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কোনো কথা বলা, যা শুনলে সে অপছন্দ করে (কষ্ট পায়)। এরপর সাহাবীগণ জানতে চাইলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি সত্যিই তার মধ্যে এই দোষ থাকে, তাহলেও কি গীবত হবে? তিনি বললেন, যদি বাস্তবেই তার মধ্যে সেই দোষ থাকে, তবে তো তা গীবত হবে। আর যদি তার মধ্যে সেই দোষ না থাকে, তাহলে তো মিথ্যা-অপবাদ হবে, (আর অপবাদ দেয়া গীবত থেকেও মারাত্মক গুনাহ)। (মুসলিম-৬৭৫৮, ৬৪৮৭, ইফা.-৬৩৫৭, আবু দাউদ-৪৮৩৪, ৪৮৭৬, তিরমিযী-১৯৩৪, আহমাদ-৭১০৬, ৮৭৫৯, ৯৫৮৬, ২৭৪৭৩, দারিমী- ২৭১৪, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করাই হচ্ছে গীবত। তার মধ্যে সে দোষ থাকলেও তা বর্ণনা করা যাবে না। তবে সংশোধনের নিয়তে তার উস্তাদ কিংবা এমন কারো নিকট বলা যাবে, যার মাধ্যমে তা সংশোধন করা সম্ভব। আর তার মধ্যে যদি সেই দোষ না থাকে, তাহলে তা হবে ‘অপবাদ’। আর কারো প্রতি মিথ্যা ‘অপবাদ’ দেয়া গীবত থেকেও জঘন্য অপরাধ।