📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 ইশারা-ইঙ্গিতে গীবত করাও হারাম

📄 ইশারা-ইঙ্গিতে গীবত করাও হারাম


মুখে বলার দ্বারা যেমন গীবত হয়, তেমনিভাবে অঙ্গভঙ্গী ও ইশারা-ইঙ্গিতেও গীবত হয়। যেমন- কেউ হাতের সাহায্যে বুঝালো যে, অমুক খুব বেটে। চোখ বন্ধ করে বুঝালো যে, অমুক অন্ধ। পা বাঁকা করে বুঝালো যে, অমুক ল্যাংড়া ইত্যাদি। এরূপ ইশারা-ইঙ্গিতেও কাউকে হেয় করা গীবতের অন্তর্ভূক্ত।
এমনিভাবে কারো আমল-আখলাক, বুদ্ধি-বিবেক, পোশাক-পরিচ্ছদ, চলাফেরা, উঠাবসা, শারীরিক গঠন, ইত্যাদি যে কোনো বিষয়ের দোষ বর্ণনা করা গীবত। যেমন কেউ বললো- আরে, অমুকতো খুব বদ-আমলী, বেওকুফ, ভিতরটা খারাপ ইত্যাদি। এসবও গীবতের অর্ন্তভূক্ত। ইশারা-ইঙ্গিতেও গীবত হয়। এমর্মে হযরত আয়েশা রাযি. বলেন-
قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَسْبُكَ مِنْ صَفِيَّةَ كَذَا وَكَذَا, قَالَ تَعْنِي قَصِيرَةً فَقَالَ : لَقَدْ قُلْتِ كَلِمَةً لَوْ مُرْجَتْ بِمَاءِ الْبَحْرِ لَمَزَجَتُهُ قَالَتْ وَحَكَيْتُ لَهُ إِنْسَانًا فَقَالَ: مَا أُحِبُّ أَنِّي حَكَيْتُ إِنْسَانًا وَأَنَّ لِي كَذَا وَكَذَا
অর্থাৎ, আমি একদা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম, আপনার জন্য সাফিয়ার অমুক অমুক জিনিসই যথেষ্ট। অর্থাৎ, তার দৈহিক আকৃতি খাটো ছিলো। (এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি এমন একটি কথা বললে, যদি একে সমুদ্রের পানিতে মিশিয়ে দেয়া হয়, তাহলে (এর দুর্গন্ধে) তার স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যাবে। তখন আয়েশা রাযি. বললেন, আমি একজন থেকে শুনে এরূপ বলেছি। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোনো লোকের কথা বর্ণনা করা আমার কাছে আদৌ পছন্দনীয় নয়, যদিও এর বিনিময়ে আমাকে এতো এতো ধন-সম্পদ দেয়া হয়। (আবু দাউদ-৪৮৭৫, তিরমিযী-২৫০২, আমাদ-২৫০৩২, হাদীসের শব্দাবলী আবু দাউদের, হাদীসটি হাসান সহীহ)

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ-ত্রুটি বলাই হচ্ছে গীবত

📄 কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ-ত্রুটি বলাই হচ্ছে গীবত


আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেসা করলেন, তোমরা কি জানো, গীবত কী? সাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন,
ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ. قِيلَ أَفَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ, قَالَ إِنْ كَانَ فِيْهِ مَا تَقُوْلُ فَقَدِ اغْتَبْتَهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيْهِ فَقَدْ بَهَتَهُ
অর্থাৎ, গীবত হলো তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কোনো কথা বলা, যা শুনলে সে অপছন্দ করে (কষ্ট পায়)। এরপর সাহাবীগণ জানতে চাইলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি সত্যিই তার মধ্যে এই দোষ থাকে, তাহলেও কি গীবত হবে? তিনি বললেন, যদি বাস্তবেই তার মধ্যে সেই দোষ থাকে, তবে তো তা গীবত হবে। আর যদি তার মধ্যে সেই দোষ না থাকে, তাহলে তো মিথ্যা-অপবাদ হবে, (আর অপবাদ দেয়া গীবত থেকেও মারাত্মক গুনাহ)। (মুসলিম-৬৭৫৮, ৬৪৮৭, ইফা.-৬৩৫৭, আবু দাউদ-৪৮৩৪, ৪৮৭৬, তিরমিযী-১৯৩৪, আহমাদ-৭১০৬, ৮৭৫৯, ৯৫৮৬, ২৭৪৭৩, দারিমী- ২৭১৪, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করাই হচ্ছে গীবত। তার মধ্যে সে দোষ থাকলেও তা বর্ণনা করা যাবে না। তবে সংশোধনের নিয়তে তার উস্তাদ কিংবা এমন কারো নিকট বলা যাবে, যার মাধ্যমে তা সংশোধন করা সম্ভব। আর তার মধ্যে যদি সেই দোষ না থাকে, তাহলে তা হবে ‘অপবাদ’। আর কারো প্রতি মিথ্যা ‘অপবাদ’ দেয়া গীবত থেকেও জঘন্য অপরাধ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00