📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 প্রথমত: মানুষের প্রতি কুধারণা করা

📄 প্রথমত: মানুষের প্রতি কুধারণা করা


কারো সম্পর্কে কোনো কিছু শুনে অথবা তার মাঝে সামান্য অপছন্দনীয় জিনিস দেখেই অন্তরে তার প্রতি খারাপ ধারণা সৃষ্টি হওয়াকে পরিভাষায় 'কু-ধারণা' বলে। কোনো মুসলমানের প্রতি কু-ধারণা রাখা হারাম। এমনকি আলেমগণ বলেন, কোনো মানুষের প্রতি কু-ধারণার পক্ষে যদি ৯৯ টি প্রমাণ থাকে, আর সু-ধারণার পক্ষে মাত্র ১টি প্রমাণ থাকে, তথাপিও তার প্রতি কু-ধারণা রাখা যাবে না। কারণ, হতে পারে যে, সেই একটি মাত্র ভালো কাজের দরুন আল্লাহর নিকট তার মর্তবা আমার চেয়ে অনেক বেশি।
'কুধারণা' জঘন্যতম পাপ ও মারাত্মক একটি রূহানী রোগ। যদি কারো মাঝে এই রোগ থাকে, তাহলে একজন হক্কানী আলিম বা শায়েখের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা নিয়ে তা দূর করা জরুরী। কেননা, 'কুধারণা পোষণকারী' কখনোই আল্লাহর ওলী, এমনকি সে প্রকৃত মুমিনও হতে পারে না।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 এক নামাজী ব্যক্তি ও চোরের ঘটনা

📄 এক নামাজী ব্যক্তি ও চোরের ঘটনা


এক বুযূর্গ লোক শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে পুকুরে গিয়ে অজু করতে লাগলেন। অপরদিকে এক চোরও (চুরি করে এসে) পুকুরে হাত-মুখ পরিষ্কার করতে লাগলো। বুযূর্গ লোকটি মনে করলেন যে, ঐ ব্যক্তিও আমার মতো তাহাজ্জুদের উদ্দেশ্যে অজু করছে, সেতো আমার চেয়েও উত্তম। অপরদিকে চোর মনে করলো যে, ঐ ব্যক্তি আমার মতো চুরি করে এসে হাত-মুখ পরিষ্কার করছে। অর্থাৎ যে যেমন, সে অন্যের প্রতি তেমনই ধারণা করতে লাগলো।
কিয়ামত দিবসে আল্লাহ পাক কু-ধারণা পোষণকারীকে জিজ্ঞেস করবেন, 'তুমি অমুক অমুকের প্রতি কু-ধারণা পোষণ করতে, তোমার নিকট সেই কু- ধারণার পক্ষে কোনো দলিল-প্রমাণ আছে কী? যদি তার কাছে দলিল-প্রমাণ থাকেও, তথাপি সে আল্লাহর সামনে কোনো কথা বলার সাহস পাবে না। কারণ, এটাতো (অন্যের প্রতি কু-ধারণা পোষণ করা) দুনিয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ ছিলো। এরপর আল্লাহ পাক তার জন্যে অত্যন্ত কঠোর শাস্তির ফায়সালা করবেন।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 কারো প্রতি কুধারণা করা সম্পূর্ণ নিষেধ

📄 কারো প্রতি কুধারণা করা সম্পূর্ণ নিষেধ


হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ فَإِنَّ الظَّنَّ اَكْذَبُ الْحَدِيثَ وَلَا تَسُبُّوا وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا
অর্থাৎ, তোমরা কুধারণা থেকে বিরত থাকো। কেননা কুধারণা মারাত্মক মিথ্যা। তোমরা অন্যের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করবে না, গোয়েন্দাগিরী করবে না, পরস্পর হিংসা করবে না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করবে না এবং পরস্পর বিরোধে লিপ্ত হবে না। বরং তোমরা সকলেই আল্লাহর বান্দা ও ভাই হয়ে থাকবে। (বুখারী-৫১৪৩, ৫২৪৪, ৬০৬৪, ৬০৬৬, ৬৭২৪, ইফা.-৫৬৩৮, ৫৬৪০, মুসলিম-১৪১৩, ২৫৬৩, আবু দাউদ-৩২৮০, তিরমিযী-১৯৮৮, ইবনে মাজাহ-৩২৩৯, ৩২৪২, আহমাদ-৭২৯২, ৭৬৪৩, ৭৬৭০, ৭৭৯৮, মালিক-১১১১, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
হাদীসের ব্যাখ্যা: 'কুধারণা' অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটি রূহানী রোগ। এই রোগ থেকে হাজারো রোগের জন্ম হয়। বিশেষত স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ, আত্মীয়-স্বজনের মাঝে দূরত্ব, নিজেদের মধ্যে কলহ-বিবাদ এসব কিছুই কুধারণা থেকে হয়ে থাকে। এজন্যে অভিজ্ঞ আলেমগণ বলেন, কেউ যদি কুধারণা থেকে বাঁচতে পারে, তাহলে হাজারো গুনাহ থেকে বাঁচার তাওফিক হবে। আলোচ্য হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুধারণার পাশাপাশি আরো কয়েকটি কু-স্বভাব থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। যদি কেউ এই কু-স্বভাবগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারে, তবে আল্লাহর মেহেরবানীতে সে অল্প দিনের মধ্যেই বুযুর্গ হতে পারবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00