📄 তাওবার শর্তাবলী
তাওবার জন্য উলামায়ে কেরাম কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ শর্তারোপ করেছেন। সেই শর্তাবলী পালন করা ব্যতীত মহান আল্লাহর নিকট তাওবা গৃহীত হওয়ার আশা করা যায় না। উল্লেখযোগ্য শর্তসমূহ নিম্নে বর্ণিত হল :
১. গোনাহের কাজ বর্জন করা :
আল্লাহর সর্ব প্রকার নাফরমানী বর্জন করা। যে গোনাহের কাজে লিপ্ত হয়েছে তা থেকে নিজকে পুরোপুরিভাবে বিরত থাকা।
২. অতীত অপরাধের কারণে আত্মানুশোচনা করা :
এই অনুশোচনা ব্যতীত কোন ব্যক্তির তাওবা সঠিক রূপ লাভ করতে পারে না। যে ব্যক্তি তাওবা করে অথচ কৃত অন্যায়ের প্রতি অনুতপ্ত হয় না, তাতে এটাই প্রমাণিত হয় যে, সে ঐ খারাপ ও গর্হিত কর্মের প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছে। কেননা হাদীসে এই অনুশোচনা ও অনুতপ্ত হওয়াকেই তাওবা বলা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “কৃতকর্মের প্রতি প্রকৃত অনুশোচনাই হচ্ছে তাওবা”।¹
উলামায়ে কেরাম বলেন, এই অনুতাপ ও অনুশোচনার লক্ষণ হচ্ছে, সর্বদা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা ও সেই অপরাধের কথা অন্যের নিকট প্রকাশ না করা।
৩. অতীত পাপকার্য পুনরায় না করার দৃঢ় সংকল্প করা :
জীবনে যত বাধাই আসুক, যত যুলম-নির্যাতন হোক না কেন কোনক্রমেই অতীত পাপ কর্ম পুনরায় না করার দৃঢ় সংকল্প করা। তবে মুমিনের চরম শত্রু অভিশপ্ত শয়তানের কুমন্ত্রণায় পড়ে যদি দ্বিতীয় বার সেই পাপে লিপ্ত হয়েই যায়, তাহলে পরম করুণাময় মহান আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে পুনরায় দৃঢ় সংকল্পের সাথে তাওবা করতে হবে। আশা করা যায় যে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করতে পারেন। হাদীসে কুদসীতে রাসূল ﷺ বলেন, 'আল্লাহ বলেন, আমার কোন বান্দা গোনাহ করার পর যখন বলে, হে আল্লাহ! তুমি আমার গোনাহ মাফ কর। তখন মহান আল্লাহ পাক বলেন, আমার বান্দা গোনাহ করে কিন্তু এ বিশ্বাস রাখে যে, তার রব্ব (প্রতিপালক) আছেন, তিনি এই গোনাহ মাফ করেন আবার চাইলে এই গোনাহের কারণে পাকড়াও করেন। এভাবে সে পাপ করতে থাকে এবং তাওবাও করতে থাকে। তৃতীয় কিংবা চতুর্থবারে আল্লাহ বলেন, 'তোমার যা খুশী করতে থাক, আমি তোমাকে মাফ করে দিয়েছি'।' অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি পাপের কারণে অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করতে থাকবে, আমি ততক্ষণ মাফ করতে থাকব। এ হচ্ছে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতের কথা।
অতি সতর্কতার সাথে বিশেষভাবে স্মরণ রাখা দরকার যে, কোনক্রমেই যেন একই পাপ কার্য বার বার সংঘটিত না হয় এবং মনে এ আশাও যেন না থাকে যে, গোনাহ্ করতে থাকি পরে কোন এক সময় তাওবা করে নেব। কেননা পাপ করার পর তা থেকে তাওবা করার সুযোগ নাও মিলতে পারে।
পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর আযাবের ভয়ে এবং অসংখ্য নেয়ামতের আশায় বার বার গোনাহে লিপ্ত না হয়, মহান আল্লাহ তাদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ পাক বলেন,
وَالَّذِيْنَ إِذا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِدُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوْا وَهُمْ يَعْلَمُوْنَ، أَوْلَئِكَ جَزَاؤُهُم مَّغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ العَامِلِينَ [آل عمران: ١٣٥ - ١٣٦]
'তারা কখনও কখনও অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর যুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং স্বীয় পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? (তিনি ব্যতীত ক্ষমা করার কেউ নেই) তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে শুনে তা-ই করতে থাকে না। তাদেরই জন্য প্রতিদান হল তাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ, যেখানে তারা থাকবে অনন্ত কাল। যারা সৎ কাজ করে তাদের জন্য কতইনা চমৎকার প্রতিদান”।¹
উপরোক্ত শর্তসমূহ একান্তই আল্লাহ ও বান্দার সাথে সম্পৃক্ত। তবে হক্কুল ইবাদ (বান্দার অধিকার) নষ্টের কারণে তাওবার জন্য উক্ত শর্তসমূহের সাথে অন্য আরেকটি শর্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
৪. অন্যায়ভাবে নষ্টকৃত সম্পদ ও সম্মান মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেয়া :
উলামায়ে কেরাম বলেন, অন্যের সম্পদ জবর-দখল কিংবা চুরি করে থাকলে বা যে কোন উপায়ে আত্মসাৎ করলে তা সেই মালিককে প্রকাশ্যে হোক বা অপ্রকাশ্যে হোক ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কোন ক্রমেই যদি প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করা সম্ভব না হয়, তাহলে সমপরিমাণ অর্থ-সম্পদ তার পক্ষ থেকে সাদাক্বাহ করে দিবে এবং তার জন্য বেশী বেশী দু'আ করবে।
অপরাধ যদি এমন বিষয় হয় যা বাস্তবে ফেরৎ দেওয়া সম্ভব নয়, যেমন গীবত করা কিংবা পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অপপ্রচার করা ইত্যাদি। এমতাবস্থায় ফেৎনা সৃষ্টির ভয় না থাকলে সরাসরি তার নিকট বিষয়টি উল্লেখপূর্বক ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। কেননা এটা বান্দার হক্ব। সুতরাং বান্দা ক্ষমা না করলে আল্লাহও ক্ষমা করবেন না।²
তবে ফেৎনা সৃষ্টির ভয় থাকলে তাকে অবহিত না করেই সে ব্যক্তির অগোচরে তার জন্য অধিক পরিমাণে দু'আ ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। যেসব স্থানে ঐ ব্যক্তির গীবত ও দোষচর্চা করা হয়েছে, সেসব স্থানে খালেছ অন্তরে সুনাম ও ভাল গুণাবলীর কথা আলোচনা করতে হবে, তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহ তাকে মাফ করতে পারেন। তবে অতি উত্তম হল এ ধরনের জঘণ্য পাপে লিপ্ত না হওয়া।
অনুরূপভাবে বান্দার ধন-সম্পদ, মান-সম্মান ইত্যাদি অন্যায়ভাবে নষ্ট করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত উক্ত ব্যক্তি ক্ষমা না করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
مَنْ كَانَتْ لَهُ مَظْلَمَةٌ لأَخِيهِ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ شَيْءٍ فَلْيَتَحَلَّلَهُ مِنْهُ الْيَوْمَ قَبْلَ أَنْ لا يَكُوْنَ دِينَارٍ وَلَا دِرْهَم ....
'যদি কোন ব্যক্তি অন্যের ইযযত নষ্ট কিংবা অন্য কিছু হরণ করে থাকে, তাহলে সে যেন ঐ দিন আসার পূর্বেই তা নিষ্পত্তি করে নেয়, যে দিন তার কোন দীনার-দিরহাম কিছুই থাকবে না। অর্থাৎ ক্বিয়ামতের দিন। কেননা সে দিন তার মাফ নেওয়ার কোনই উপায় থাকবে না'।¹*
উল্লেখিত আলোচনার আলোকে আল্লাহ্ যেন আমাদেরকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতীয় চরিত্র সংশোধনের তাওফীক দান করেন এবং পরকালীন ভীষণ শাস্তি থেকে হেফাযত করেন- আমীন!
টিকাঃ
১. ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫২। হাদীছটি শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী ছহীহ বলেছেন। দ্র. ছহীহ আল-জামিউছ ছগীর, হা/৬৬৭৮।
১. সহীহ মুসলিম, 'কিতাবুত তাওবা', হা/২৭৫৮।
১. সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩৫-১৩৬।
২. বায়হাক্বী, মিশকাত, হা/৪৮৭৪।
১. সহীহ্ আল-বুখারী, 'কিতাবুল মাযালেম', হা/২১৯৯।
* এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে লেখকের "কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তাওবা" নামক বইটি পড়ুন।
📄 কতিপয় জরুরী দু'আ
দুশ্চিন্তা ও মুসীবতের দু'আ
لا إِلَهَ إِلا اللهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ.
“আল্লাহ্ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। তিনি সুমহান মহাসহিষ্ণু। আল্লাহ্ ব্যতীত সত্য কোন উপাস্য নেই। তিনি আকাশ ও যমীনের পালনকর্তা এবং সুমহান আরশের অধিপতি।”¹
কোন মানুষ যদি দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনায় পতিত হয় অতঃপর নিম্নলিখিত দু'আটি পাঠ করে, তবে আল্লাহ্ তার দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনাকে দূর করে তা আনন্দ ও খুশি দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন।
اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ أَمَتِكَ نَاصِيَتِي بِيَدِكَ مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي وَنُورَ صَدْرِي وَجِلاءَ حُزْنِي وَذَهَابَ هَمِّي.
“হে আল্লাহ্! আমি আপনার বান্দা, আপনারই এক বান্দার সন্তান এবং এক বান্দীর ছেলে। আমার সর্বস্ব আপনার হাতে, আমার ব্যাপারে আপনার হুকুম কার্যকর, আমার প্রতি আপনার ফায়সালা ইনসাফপূর্ণ। আমি প্রার্থনা করছি, আপনার সেই সকল প্রতিটি নামের মাধ্যমে যা দ্বারা আপনি নিজের নাম রেখেছেন অথবা সৃষ্টিকুলের কাউকে আপনি তা জানিয়েছেন অথবা আপনার কিতাবে উহা নাযিল করেছেন অথবা আপনার অদৃশ্য জ্ঞানে উহা সঞ্চিত করে রেখেছেন। আমি প্রার্থনা করছি যে, কুরআনকে আমার অন্তরের প্রশান্তি ও বক্ষের জ্যোতি স্বরূপ করে দিন এবং আমার সকল দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনা দূর হওয়া ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অপসারণ হওয়ার মাধ্যম বানিয়ে দিন।”¹
ঋণ পরিশোধের দু'আ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ
“হে আল্লাহ্! আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও কাপুরুষতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষের অত্যাচার থেকে।”²
ক্ষমা প্রার্থণার প্রধান দু'আ
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لا إله إلا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنا عَبْدُكَ، وَأَنا عَلَى عَهْدِكَ، وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوْءُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
“হে আল্লাহ্ তুমি আমার প্রভু প্রতিপালক, তুমি ছাড়া ইবাদতযোগ্য কোন ইলাহ্ নেই, তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো এবং আমি তোমার বান্দা। আমি সাধ্যানুযায়ী তোমার সাথে কৃত ওয়াদা-অঙ্গীকার রক্ষা করছি। আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় কামনা করছি। আমার প্রতি তোমার নেয়া'মত স্বীকার করছি এবং তোমার দরবারে আমার পাপকর্মেরও স্বীকারোক্তি দিচ্ছি। সুতরাং তুমি আমায় ক্ষমা কর। কেননা তুমি ছাড়া পাপরাশী কেহই ক্ষমা করতে পারে না।” এই দু'আটি কেউ সকালে পড়ে সন্ধ্যার পূর্বে ইন্তেকাল করলে এবং সন্ধ্যায় পড়ে সকাল হওয়ার পূর্বে ইন্তেকাল করলে সে জান্নাতী হবে”।¹
يا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ اسْتَغِيْثُ فَاصْلِحْ لِي شَانِي كُلُّهُ وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طرفة عين .
'হে চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী! তোমার রহমতের দ্বারা আমি ফরিয়াদ ও সাহায্য প্রার্থনা করছি। সুতরাং আমার সকল অবস্থা সংশোধন করে দাও এবং এক পলকের জন্য হলেও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দিও না'।²
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا وَزَكَهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَاهَا أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلاهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَسْبَعُ وَمِنْ دَعْوَةٍ لَا يُسْتَجَابُ لَهَا .
“হে আল্লাহ্! আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি অপারগতা ও অলসতা থেকে, কাপুরুষতা ও ভীরুতা এবং কৃপণতা ও অতি বার্ধক্যতা থেকে এবং কবরের আযাব থেকে। হে আল্লাহ্! আপনি আমার নক্সকে তাকওয়া ও পবিত্রতা এবং স্বচ্ছতা দান করুন। কেননা কেবলমাত্র আপনি নফসের পবিত্রতা দানকারী এবং অভিভাবক ও পরিচালক। হে আল্লাহ্! যে ইল্ল্ম কোন উপকারে আসে না সে ইল্ম থেকে আপনার নিকট পানাহ্ চাই এবং যে হৃদয় আপনার ভয়ে ভীত হয় না, যে আত্মা পরিতৃপ্ত হয় না এবং যে দু'আ কবুল করা হয় না, তা থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি”।³
اللهم إني أسألُكَ العَافِيةَ فِي الدُّنْيا والآخِرَةِ، اللهمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ العَفْوَ والعَافِيَةُ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأهْلِي ومالي اللهمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي اللهمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنَ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي، وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ انْ اغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
“হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা কামনা করছি। হে আল্লাহ্! আমি প্রার্থনা করছি তোমার কাছে ক্ষমার এবং আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার-পরিজন এবং সম্পদের নিরাপত্তা। হে আল্লাহ! আমার গোপন বিষয় সমূহ (দোষ-ত্রুটি) ঢেকে রাখ এবং আমাকে ভয়- ভীতি থেকে নিরাপদ রাখ। হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে হেফাযত কর আমার সম্মুখ থেকে, পিছন থেকে, ডান দিক থেকে, বাম দিক থেকে এবং উপর দিক থেকে। আর তোমার মাহাত্ম্যের অসীলা দিয়ে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি নিম্ন দিক থেকে মাটি ধসে আমার আকস্মিক মৃত্যু থেকে।”¹
اللهم فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لا إله إلا أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ، وَإِنْ اقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي سُوْءٌ، أَوْ أَجُرُّهُ إِلَى مُسْلِمٍ.
“হে আল্লাহ্! তুমি আসমান-যমীনের সৃষ্টিকর্তা, তুমি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সবকিছুই জান। তুমি সকল বস্তুর প্রভু ও মালিক, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া প্রকৃত সত্য কোন মা'বূদ নেই। আমি আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং শয়তান ও তার শিরকের অনিষ্ট থেকে। আর আশ্রয় কামনা করছি নিজের উপর অন্যায় করা থেকে বা সে অন্যায় কোন মুসলিমের উপর চাপিয়ে দেয়া থেকে।”²
টিকাঃ
১. তিরমিযী।
১. মুসনাদ আহমাদ।
২. আবু দাউদ, তিরমিযী, হা/৩৪২৪।
১. সহীহ্ আল-বুখারী।
২. মুসনাদ আহমাদ, তিরমিযী, হা/৩৫২৪।
৩. সহীহ মুসলিম।
১. আবু দাউদ, হা/৫০৭৪; ইবনু মাজাহ, হা/৩৮৭১।
২. আবু দাউদ, তিরমিযী, হা/৩৫২৯; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭৬৩।