📘 গীবত ভয়াবহ পরিনতি ও পরিত্রাণের উপায় > 📄 নামীমাহ বা চুগলখোরী

📄 নামীমাহ বা চুগলখোরী


নামীমাহ্ বা চুগলখোরী (চুকলি কিংবা চুগলি হচ্ছে, আড়ালে নিন্দা ও লাগানি-ভাঙ্গানি। আর চুকলখোর অথবা চুগলখোর আড়ালে নিন্দা বা লাগানি-ভাঙ্গানি করে এমন ব্যক্তি।) পরস্পরের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একের কথা অপরের নিকট লাগিয়ে বেড়ানো। নামীমাহ্ ভয়াবহতার দিক থেকে গীবতের মতই বরং তার চেয়েও মারাত্মক। কেননা সুশৃংখল সমাজে ভাঙ্গন ও পারস্পরিক অশান্তি, হিংসা-বিদ্বেষ ও হানা-হানি সৃষ্টির ক্ষেত্রে নামীমার প্রভাব অত্যধিক। একটি ঘটনা উল্লেখ করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।
জনৈক ব্যক্তি এক গোলাম খরিদ করে কিন্তু ঐ গোলামের মধ্যে নামীমাহর অভ্যাস ছিল। অবশ্য বিক্রেতা তার এই দোষের কথা উল্লেখ করেই বিক্রি করে। ঐ গোলাম মালিকের নিকট কিছুদিন অতিবাহিত করার পর একদা মালিকের স্ত্রীর নিকট গিয়ে বলে, আপনার স্বামী আপনাকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করতে চায়, সে আসলে আপনাকে ভালবাসে না। অতএব আপনার প্রতি ভালবাসাকে যদি মজবুত রাখতে চান তাহলে আপনার স্বামী যখন ঘুমাবে তখন তার থুতনির নিচের অংশের দাড়ি ব্লেড দিয়ে কামিয়ে নিজের নিকট রাখবেন তাহলে ভালবাসা বৃদ্ধি পাবে এবং সে আর অন্যত্র বিবাহ করবে না। অপরদিকে মালিকের নিকট গিয়ে বলে যে, আপনার স্ত্রী আপনাকে বাদ দিয়ে অন্যকে ভালবেসে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়েছে সে আপনার নিকট থাকতে চায় না। আপনি যদি এর বাস্তবতা প্রমাণ করতে চান তাহলে তার ঘরে ঘুমের বাহানা করে শুয়ে থাকবেন দেখবেন সে ব্লেড নিয়ে আপনাকে হত্যা করতে আসবে। দু'জনই ঐ গোলামের কথা বিশ্বাস করে। ফলে মালিক যখন ঐ স্ত্রীর ঘরে ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকে তখন স্ত্রী ব্লেড হাতে নিয়ে খুব সাবধানতার সাথে দাড়ির নিচের অংশ কামানোর জন্য প্রস্তুত হয়। সাথে সাথে মালিক লাফ দিয়ে উঠে ব্লেডসহ খপ্ করে ধরে ফেলে। গোলামের কথা বাস্তবে দেখতে পায় ফলে সে রাগান্বিত হয়ে ঐ ব্লেড দিয়েই নিজ স্ত্রীকে হত্যা করে। অবশেষে ঐ মহিলার আত্মীয়-স্বজন এসে তাকেও হত্যা করে। অভিশপ্ত দ্বিমুখী মুনাফিক গোলামের কারণে উভয়ই নিহত হল এবং নিজেদের মধ্যে হিংসার রেশ চালু হল।¹ এজন্যই মহান আল্লাহ্ এরূপ নামীমাহ্কারী দ্বিমুখী স্বভাবের লোকদেরকে ফাসেক বলে আখ্যায়িত করেন এবং এদের দেয়া সংবাদও যাচাই-বাছাই করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ্ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٌ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ (الحجرات: ٦)
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের নিকট যদি কোন ফাসেক ব্যক্তি কোন বিষয়ে সংবাদ দেয়, তাহলে তার সত্যতা যাচাই কর যেন অজ্ঞতাবশতঃ কোন সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত না কর এবং নিজেদের কৃতকর্মের জন্য নিজেদেরকে অনুতপ্ত না কর।”²

হাদীসের ভাষায় নামীমাহ্ :
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ إِنَّ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَلَا أُنَبِّئُكُمْ مَا الْعَصْهُ هِيَ النَّمِيمَةُ الْقَالَةُ بَيْنَ النَّاسِ
আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা রাসুল ﷺ বলেন, আমি কি তোমাদেরকে "الْعَصْهُ” “আল-আযহু” সম্পর্কে অবহিত করব না? আযহু হচ্ছে “নামীমাহ্”। আর তা হচ্ছে, মানুষের মাঝে কথা ছড়িয়ে বেড়ানো।³

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন,
নামীমাহ্ হচ্ছে “ফাসাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একের কথা অপরের নিকট ছড়িয়ে বেড়ানো।”⁴ এটাই হচ্ছে চুগলী বা চুগলখোরী।

টিকাঃ
১. ইমাম যাহাবী, আল-কাবায়ের, নং-৪৩।
২. সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ৬।
৩. সহীহ্ মুসলিম, 'আল-বির ওয়াসসিলাহ্ ওয়াল আদাব' অধ্যায়, 'নামীমাহ্ হারাম' অনুচ্ছেদ, হা/৪৭১৮; মুসনাদ আহমাদ, হা/৪৯৪৬।
৪. ইমাম নববী, কিতাবুল আযকার, পৃ. ৩৩৬।

📘 গীবত ভয়াবহ পরিনতি ও পরিত্রাণের উপায় > 📄 ইসলামী শরী'আতে গীবত ও নামীমাত্র বিধান

📄 ইসলামী শরী'আতে গীবত ও নামীমাত্র বিধান


গীবত ও নামীমাহ্ হারাম :
ইসলামী শরী'আতের বিধান অনুযায়ী গীবত ও নামীমাহ্ কবীরা গোনাহের অন্তর্ভুক্ত যা মূলতঃ হারাম। এ ব্যাপারে কুরআন ও সহীহ্ হাদীসে স্পষ্ট দলীল-প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে এবং বিশিষ্ট সাহাবাগণের আছার তথা উক্তিও রয়েছে, সেই সাথে মুসলিম উম্মতও একমত হয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوْا اجْتَنِبُوا كَثِيْرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَعْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ [الحجرات: ١٢]
“তোমরা একে অপরের পিছনে গীবত বা পরনিন্দা করো না। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? বস্তুত তোমরা তো এটাকে ঘৃণ্যই মনে কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ্ তাওবা কবুলকারী পরম দয়ালু”।¹
আল্লাহ্ তা'আলা গীবতের তুলনা করেছেন মৃত ভাইয়ের গোস্ত খাওয়ার সাথে। এর কারণ হচ্ছে, মৃত ব্যক্তি তার গোন্ত ভক্ষণ করা হচ্ছে কি না সে সম্পর্কে যেমন কিছুই জানতে পারে না, ঠিক তেমনিভাবে জীবিত ব্যক্তি যার গীবত করা হয় সেও তার গীবত সম্পর্কে জানে না। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, “আল্লাহ্ তা'আলা এরূপ দৃষ্টান্ত দিয়েছেন এজন্য যে, মৃতের গোস্ত খাওয়া যেমন স্পষ্ট হারাম ও অপছন্দনীয়, তেমনিভাবে অন্যের গীবত করাও ইসলামী শরী'আতে স্পষ্ট হারাম ও অন্তরের কাছেও ঘৃণিত।”²
এ প্রসঙ্গে রাসূল ﷺ বলেন,
فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ حَرَامٌ عَلَيْكُمْ إِلَى أَنْ تَلْقَوْا رَبَّكُمْ تَعَالَى كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا .
“নিশ্চয়ই তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত (ক্বিয়ামত পর্যন্ত) তোমাদের এই শহরে, এই মাসে এই দিনের ন্যায় তোমাদের রক্ত, সম্পদ ও তোমাদের মান-সম্মান, ইজ্জত ও সম্ভ্রম হারাম।” অর্থাৎ রক্তপাত, সম্পদ লুণ্ঠন ও মান-সম্মান হরণ করা হারাম।¹ অপর হাদীসে এই অপরাধকে হত্যা, সম্পদ লুণ্ঠন ও ছিনতাই-এর শামিল করা হয়েছে।
রাসূল ﷺ বলেন,
كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ.
“প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান নষ্ট করা হারাম।”²
গীবত করার অর্থই হচ্ছে, মানুষের মান-সম্মান ও ইজ্জত লুণ্ঠন করা। অতএব এটাও স্পষ্ট হারামের শামিল।

টিকাঃ
১. সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১২।
২. তাফসীর কুরতুবী, ১৬/২৮৬।
১. মুসনাদ আহমাদ হা/১৯৫২৩; সহীহ্ মুসলিম, 'আল-কাসামাহ্ ওয়াল মুহারেবীন...' অধ্যায়, 'তাগলীয তাহরীমুদ-দিমাআ ওয়াল আ'রায ওয়াল আমওয়াল' অনুচ্ছেদ, হা/৩১৭৯।
২. সহীহ্ মুসলিম, 'কিতাবুল বিত্র ওয়াসিলাহ্ ওয়াল আদাব', 'বাবু তাহরীমু যুলমিল মুসলিমি', হা/৪৬৫০।

📘 গীবত ভয়াবহ পরিনতি ও পরিত্রাণের উপায় > 📄 গীবত শ্রবণ করাও হারাম

📄 গীবত শ্রবণ করাও হারাম


গীবতে লিপ্ত হওয়া যেমন ইসলামী শরী'আতে হারাম, তেমনিভাবে গীবত শ্রবণ করাও হারাম হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। গীবতকারীকে প্রথমতঃ গীবতের ভয়াবহ পরিণতি ও জান্নাতের লোভ এবং জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে উত্তম কৌশলে গীবত থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করতে হবে। এরপরও যদি সে গীবতে লিপ্ত থাকে, তাহলে ঐ মজলিস ছেড়ে উঠে যেতে হবে।

আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,
وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِيْنَ يَخُوضُوْنَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيْثٍ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنْسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِيْنَ [الأنعام: ٦٨]
“যখন আপনি তাদেরকে দেখেন, যারা আমার আয়াতসমূহ সম্বন্ধে উপহাসমূলক আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তাদের নিকট হতে সরে যান যে পর্যন্ত তারা অন্য প্রসংগে প্রবৃত্ত না হয়। আর শয়তান যদি আপনাকে ভ্রমে ফেলে তবে স্মরণ হওয়ার পরে যালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসবেন না।”¹
আল্লাহ্ তা'আলা এ প্রসঙ্গে আরো বলেন,
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْؤُولاً [الإسراء: ٣٦]
“যে বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে জবাবদিহি করা হবে।”²
আল্লাহ্ তা'আলা অন্যত্র বলেন,
وَإِذَا سَمِعُوا اللَّعْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ وَقَالُوْا لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ لَا نَبْتَغِيُّ الْجَاهِلِينَ [القصص: ٥٥].
“তারা যখন অসার অশ্লীল বাক্য শ্রবণ করে তখন তারা তা উপেক্ষা করে এড়িয়ে চলে এবং বলে, আমাদের কাজের ফল আমাদের জন্য এবং তোমাদের কাজের ফল তোমাদের জন্য। তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সঙ্গ চাই না।”³

টিকাঃ
১. সূরা আল-আন'আম, আয়াত ৬৮।
২. সূরা বানী ইসরাঈল, আয়াত ৩৬।
৩. সূরা আল-কাসাস, আয়াত ৫৫।

📘 গীবত ভয়াবহ পরিনতি ও পরিত্রাণের উপায় > 📄 গীবতকারীকে বাধা দেয়ার ফযীলত

📄 গীবতকারীকে বাধা দেয়ার ফযীলত


গীবতকারীকে তার গীবতে বাধা দিতে যদি সক্ষম না হয় কিংবা গীবতের ভয়াবহ পরিণতির কথা বলার পরও যদি না শোনে ও না মানে, তাহলে যে মজলিসে গীবত করা হচ্ছে সে মজলিস অবশ্যই ত্যাগ করবে। গীবতের মত অশ্লীল কথা ও কর্ম বর্জন করে চলা মুমিনদের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,
وَالَّذِيْنَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ [المؤمنون: ٣]
“যারা অসার ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকে (তারাই পরিত্রাণ প্রাপ্ত মুমিন)।”¹
"মায়মুন বিন সিয়াহ্ কারো গীবত করতেন না এবং তার সামনে অন্য কারো গীবত করারও সুযোগ কাউকে দিতেন না। গীবতকারীকে কঠিনভাবে বাধা দিতেন এবং বাধা না শুনলে সে মজলিস ছেড়ে উঠে যেতেন।”²
যারা গীবতে লিপ্ত হয়, তারাই তো গীবত সংক্রান্ত আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করে এবং এর প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রুপও করে। সুতরাং গীবতকারীগণও নিঃসন্দেহে আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার ও তার প্রতি ঠাট্টা- বিদ্রুপকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

নিজে গীবতের মত জঘন্য অপরাধ থেকে বেঁচে থাকলে যেমন আল্লাহর নিকট মর্যাদা লাভ করা যায়, তেমনিভাবে সমাজেও সম্মানিত ও মর্যাদাবান হওয়া যায়। কোন গীবতকারীকে বাধা দিলেও আল্লাহ্ তা'আলা দুনিয়া ও আখেরাতে সাহায্য-সহযোগিতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেন,
مَا مِنْ امْرِئٍ يَخْذُلُ امْرَاً مُسْلِمًا فِي مَوْضِعٍ تُنْتَهَكُ فِيْهِ حُرْمَتُهُ وَيُنْتَقَصُ فِيْهِ مِنْ عِرْضِهِ إِلَّا خَذَلَهُ اللَّهُ فِي مَوْطِنٍ يُحِبُّ فِيْهِ نُصْرَتَهُ وَمَا مِنْ امْرِئٍ يَنْصُرُ مُسْلِمًا فِي مَوْضِعٍ يُنْتَقَصُ فِيْهِ مِنْ عِرْضِهِ وَيُنْتَهَكُ فِيْهِ مِنْ حُرْمَتِهِ إِلَّا نَصَرَهُ اللَّهُ فِي مَوْطِنٍ يُحِبُّ نُصْرَتَهُ.
“যে ব্যক্তি কোন স্থানে কোন মুসলিমের মান-সম্মান এবং ইজ্জত ও সম্ভ্রম নষ্ট করে অর্থাৎ সম্মান ক্ষুণ্ণ করে, আল্লাহ্ তাকে ঐ স্থানে বেইজ্জত ও অপমানিত করেন যেস্থানে সে তার নিজের সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়া পছন্দ করে বা আশা করে। অপরদিকে যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের মান- সম্মান এবং ইজ্জত ও সম্ভ্রম রক্ষায় সাহায্য-সহযোগিতা করে বা সম্মান রক্ষা করে আল্লাহ্ তাকে সেই স্থানে সাহায্য-সহযোগিতা করেন যেখানে সে তার নিজের সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়ার আশা করে।”¹ অপর এক হাদীসে এসেছে-
مَنْ حَمَى مُؤْمِنًا مِنْ مُنَافِقٍ أَرَاهُ قَالَ بَعَثَ اللَّهُ مَلَكًا يَحْمِي لَحْمَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ نَارِ جَهَنَّمَ وَمَنْ رَمَى مُسْلِمًا بِشَيْءٍ يُرِيدُ شَيْنَهُ بِهِ حَبَسَهُ اللَّهُ عَلَى حِسْرِ جَهَنَّمَ حَتَّى يَخْرُجَ مِمَّا قَالَ.
রাসূলে করীম ﷺ বলেন, “যে ব্যক্তি কোন মুমিনকে মুনাফিকের কুচক্র থেকে রক্ষা করে কিয়ামত দিবসে আল্লাহ্ তা'আলা ফিরিস্তা প্রেরণ করে তার শরীরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। আর যে ব্যক্তি দোষ-ত্রুটি বর্ণনার দ্বারা কোন মুসলিমকে কষ্ট দেয় আল্লাহ্ তা'আলা তাকে জাহান্নামের উপর কঠিন পুলসিরাতে আটকে রাখবেন যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার কৃত অপরাধ থেকে মুক্ত হতে না পারবে।”²
অপর হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেন,
مَنْ رَدَّ عَنْ عِرْضِ أَخِيهِ رَدَّ اللَّهُ عَنْ وَجْهِهِ النَّارَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ .
“যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্মান রক্ষার জন্য প্রতিরোধ করে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামত দিবসে তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন।”¹
রাসূল ﷺ আরো বলেন,
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ ذَبَّ عَنْ لَحْمٍ أَخِيهِ فِي الْغِيْبَةِ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُعْتِقَهُ مِنْ النَّارِ .
আসমা বিনতে ইয়াযিদ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন “যে ব্যক্তি তার অপর ভাইয়ের গীবতকারীকে বাধা দেয় বা প্রতিরোধ করে তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব আল্লাহর উপর বর্তায়।”²
সুবহানাল্লাহ্! সমাজে শান্তি-শৃংখলা ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম মিল্লাতের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে উৎসাহিত করার জন্যই আদর্শ সমাজ সংস্কারক মুহাম্মাদ ﷺ এ ধরনের লোভনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। অপরদিকে কঠিন কথাও বলেছেন, মা আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) যখন ছাফিয়্যাহ্ (রাযিআল্লাহু আনহা)-এর ব্যাপারে রাসূল ﷺ-এর নিকট একটু খাটো বলে মন্তব্য করেছিলেন তখন রাসূল ﷺ বলেছিলেন তুমি এমন মারাত্মক কথা বলেছ, যা সমুদ্রের পানিতে মিশিয়ে দিলে সমুদ্র বরাবর হয়ে যাবে।³
অতএব যে ব্যক্তি এই লোভনীয় বিষয়টি লুফে নিতে পারবে এবং কঠিন হুঁশিয়ারী থেকে মুক্ত থাকতে পারবে, সেই তো দুনিয়া ও আখেরাতে লাভবান হবে এবং সুন্দর সমাজ গড়তে সহযোগিতা করবে।

টিকাঃ
১. সূরা মুমিনূন, আয়াত ৩।
২. তাফসীর কুরতুবী, ১৬/২৮৭।
১. আবু দাউদ, 'আল-আদাব' অধ্যায়, 'মান রাদ্দা আন মুসলিমীন গীবাতান' অনুচ্ছেদ, হা/৪২৪০, ৪৪৮৪।
২. আবু দাউদ, 'আল-আদাব' অধ্যায়, 'মান রাদ্দা আন মুসলিমীন গীবাতান' অনুচ্ছেদ, হা/৪২৩৯, ৪৮৮৩।
১. তিরমিযী, 'আল-বির ওয়াসিলাহ্' অধ্যায়, 'আয-যাব্বু আন ইরযেল মুসলিম' অনুচ্ছেদ, হা/১৮৫৪, ১৯৩১।
২. মুসনাদ আহমাদ, হা/২৪৩২৮।
৩. আবু দাউদ, 'আদব' অধ্যায়, 'গীবত' অনুচ্ছেদ, হা/৪২৩২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00