📘 গীবত ভয়াবহ পরিনতি ও পরিত্রাণের উপায় > 📄 মিথ্যা অপবাদের পরিণতি

📄 মিথ্যা অপবাদের পরিণতি


“গীবত, বুহতান ও ইষ্ক” এগুলি আরবী শব্দ। গীবত-এর অর্থ- ব্যক্তির মধ্যে বিদ্যমান কোন দোষ-ত্রুটির সমালোচনা করা। আর কোন ব্যক্তির এমন দোষ-ত্রুটি আলোচনা করা যা তার মধ্যে আসলেই বিদ্যমান নেই, এটাই হচ্ছে বুহতান বা মিথ্যা অপবাদ। ইষ্ক অর্থ চরম মিথ্যা। কোন বিষয় শুনে কোনরূপ যাচাই-বাছাই না করে অমনি সাথে সাথে তা বলে বেড়ানো। অর্থাৎ মিথ্যা অপবাদ বা ভিত্তিহীন বিষয়ের প্রচার ও প্রসার করা। বুহতান ও ইস্ক মূলতঃ মিথ্যার সাথেই সম্পৃক্ত।

মিথ্যা অপবাদের কারণে উম্মুল মুমিনীন জননী আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) এবং রাসূল ﷺ ও উপস্থিত সাহাবীদের মাঝে কি চরম পরিস্থিতি বিরাজ করছিল তা কি আমরা কখনও ভেবে দেখেছি? এরূপ গুঞ্জনের কারণে মদীনার আকাশ-বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠেছিল। বাণী মুস্তালিক যুদ্ধে রাসূল ﷺ-এর স্ত্রীদের মধ্য হতে সাথে ছিলেন মা আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা)। পথিমধ্যে তাঁর হার হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবদুল্লাহ্ বিন উবাই বিন সালূল মা আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা)-এর প্রতি যেনার যে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল সে কারণে রাসূল ﷺ ভীষণ অস্থির হয়ে পড়েন। এমনকি মধুর সম্পর্ক আস্তে আস্তে কমিয়ে দিতে থাকেন। অথচ মা আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) তখনও এ বিষয়ে কিছুই অবগত ছিলেন না। পরে যখন তাঁর প্রতি মিথ্যা অপবাদের কথা উম্মে মিসতাহ্র নিকট হতে অবহিত হলেন, তখন তিনিও পাগল প্রায় হয়ে পড়লেন। বাঘের গলায় হাড় বিধলে যেমন অস্থির হয়ে ছুটাছুটি করতে থাকে, তিনিও তেমনিভাবে নিজেকে পূত-পবিত্র প্রমাণিত করার জন্য পেরেশান হয়ে গেলেন। অশ্রু জলে পবিত্র বুক ভিজতে থাকে এবং দুঃখে ও শোকে একাধিক রাত্রি বিনিদ্র অবস্থায় কাটাতে থাকেন। একদা রাসূল ﷺ তাঁর নিকট এসে বলেন, হে আয়েশা! তোমার ব্যাপারে এরূপ শুনছি। অতএব তুমি যদি এ বিষয়ে সত্যই নির্দোষ হয়ে থাকো তাহলে মহান আল্লাহ্ তোমাকে পূত-পবিত্র ঘোষণা করবেন। আর যদি তুমি অপরাধী হয়েই থাকো তাহলে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও এবং তাওবা কর। কেননা আল্লাহই একমাত্র তাওবা কবুলকারী। একথা শুনে মা আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ আমি অল্প বয়সী মেয়ে, কুরআন মাজীদও বেশী পড়তে পারি না। আল্লাহর কসম! আমি জানতে পারলরাম যে, আপনারা এ বিষয়ে অনেক কিছু শুনেছেন যা আপনাদের অন্তরে বসে গেছে এবং বিশ্বাসও করে ফেলেছেন। অতএব আমি যদি বলি, এ বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ পবিত্র তাহলে আপনারা তা বিশ্বাস করবেন না। আর যদি আপনাদেরকে বলি যে, যা শুনছেন তা সত্য, তাহলে মহান আল্লাহ্ জানেন আমি এ বিষয়ে সম্পূর্ণ মুক্ত। অতঃপর একমাস পর মহান আল্লাহ্ তাঁর পবিত্রতার সমর্থনে দশটি আয়াত নাযিল করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করেন।' ফলে মদীনার মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ আস্তে আস্তে পরিস্কার হয়ে উঠল এবং সেই কপোট মিথ্যুকদের মুখোশ উন্মোচিত হল। এই অপবাদের ঘটনা সহীহ্ আল-বুখারীসহ বিভিন্ন তাফসীর গ্রন্থে বিস্তারিত উল্লেখিত হয়েছে।²
উক্ত অপবাদের কারণে মিসতাহ্ বিন আছাছাহ্, হাসান বিন ছাবেত ও হামনাহ্ বিনতে জাহাশকে দণ্ডায়িত করা হয়েছিল, প্রত্যেককে আশিটি করে বেত্রাঘাত করা হয়। যদিও এই মিথ্যা অপবাদ ছড়ানোর মূল হোতা ছিল আবদুল্লাহ্ বিন উবাই বিন সালূল, তবুও তার উপর দণ্ডারোপ করা হয়নি।' কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয় যে, দুনিয়াতে শাস্তির বিধান কায়েম করলে হয়ত পরকালীন শাস্তি হালকা হয়ে আসতে পারে। আর মহান আল্লাহ তার জন্য পরকালে কঠিন শাস্তির ওয়াদা করেছেন।

টিকাঃ
১. ইমাম নববী, আল-আযকার পৃ. ৫৩৪।
১. সূরা নূর, আয়াত ১১-২০।
২. সহীহ্ আল-বুখারী, 'কিতাবুল মাগাযী', 'হাদীদুল ইষ্ক' অনুচ্ছেদ।

📘 গীবত ভয়াবহ পরিনতি ও পরিত্রাণের উপায় > 📄 মিথ্যুকের ভয়াবহ পরিণতি

📄 মিথ্যুকের ভয়াবহ পরিণতি


একজন কপট মিথ্যুক মুহূর্তের মধ্যে যেভাবে পরিবেশ কলুষিত করতে পারে, অপরদিকে একজন মুমিন চব্বিশ ঘণ্টাতেও সত্য দ্বারা পরিবেশ উজ্জ্বল করতে সক্ষম হয় না।

কোন কপট মিথ্যুক যদি ক্বিয়ামত দিবসে মিথ্যার ভয়াবহ শাস্তির কথা চিন্তা করত, তাহলে এ চিন্তাই তাকে এ ধরনের জঘন্য চরিত্র থেকে বিরত রাখত।
সামুরাহ বিন জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, দীর্ঘ হাদীছে নবী কারীম ﷺ মিথ্যুকের চরম ভয়াবহ শাস্তির কথা আমাদেরকে বলে গিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা চলতে থাকলাম অতঃপর চিত হয়ে (মাথার পিছন ভরে) পড়ে আছে এমন এক লোকের নিকট উপস্থিত হলাম। আর অপর একজন তার পার্শ্বেই লোহার হুঁক বা আঁকড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেই বড়শি কশে (ওষ্ঠাধরে) অর্থাৎ ঠোঁটের কোণে বাধিয়ে মাথার পিছন দিকে টেনে নিয়ে আসছে। ঠিক অনুরূপভাবে নাকের ছিদ্রে ও চোখে আঁকড়া বাধিয়ে পিছনের দিকে টেনে নিয়ে আসছে। অতঃপর কাত করে ফেলে প্রথম পার্শ্বের মতই দ্বিতীয় পার্শ্বেও করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় কশের কাজ শেষ হতে হতেই প্রথম কশ ঠিক হয়ে যাচ্ছে এবং প্রথম কশের ন্যায় আযাব দিচ্ছে। (এভাবে এক পার্শ্বের পর অপর পার্শ্বে কিয়ামত পর্যন্ত হতে থাকবে) হাদীসের শেষাংশে এসেছে। যার কশে এবং নাকের ছিদ্রে ও চোখে লোহার হুঁক বাধিয়ে মাথার পিছনের দিকে টেনে নেয়া হচ্ছিল সে এমন ব্যক্তি যে সকালে বাড়ি হতে বের হয়েই মিথ্যা কথা বলত। ফলে সেই মিথ্যা মহাশূন্য পর্যন্ত পৌঁছে যেত।' অর্থাৎ পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে যায়।

টিকাঃ
১. ছফিউর রহমান মুবারকপুরী, আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৩২।

📘 গীবত ভয়াবহ পরিনতি ও পরিত্রাণের উপায় > 📄 গীবতের প্রকার

📄 গীবতের প্রকার


ইমাম নববীর উপরোক্ত সংজ্ঞায় গীবতের প্রকারভেদ অনুমান করা যায়। যথা- (১) সৃষ্টিগত শারীরিক গঠন বা অবয়বের গীবত। (২) চারিত্রিক আচার-আচরণের গীবত। (৩) বংশের গীবত। (৪) পোষাক-পরিচ্ছদের গীবত। (৫) পরোক্ষ গীবত।

অন্তরের গীবত :
কথা ও ইঙ্গিতের দ্বারা গীবত যেমন হারাম, তেমনিভাবে মনে মনে গীবত করাও হারাম। আর অন্তরের গীবত হয় অন্যের প্রতি মনে মনে কুধারণার মাধ্যমে। এজন্য আল্লাহ্ তা'আলা এরূপ ধারণা করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيْرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ (الحجرات: ۱۲)
“হে মু'মিনগণ! তোমরা বেশী বেশী ধারণা করা থেকে বিরত থাকো, নিশ্চয়ই কিছু কিছু ধারণা গোনাহ্...”।² রাসূল ﷺ বলেন,
إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ .
“তোমরা ধারণা করার বিষয়ে সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করবে। কেননা ধারণা করে যা বলা হয় তা-ই অধিক বড় মিথ্যা।”¹

মৃত ব্যক্তির গীবত :
জীবিত মানুষের গীবত করা যেমন হারাম তেমনিভাবে মৃত মানুষেরও গীবত হারাম। মায়েয বিন মালেক আল-আসলামী (রাঃ) পরকালীন আযাব থেকে বাঁচার জন্য যখন নিজের যেনার অপরাধের কথা রাসূল ﷺ-এর সামনে স্বীকারোক্তি দিলেন, তখন তিনি তাকে যেনার শাস্তি হিসাবে রজমের (পাথর মেরে হত্যার) নির্দেশ দেন। ফলে তাকে রজম করা হলে সাহাবীদের মধ্য হতে দু'জন ব্যক্তি তার প্রতি ব্যঙ্গ করে একে অপরকে বলাবলি করে যে, দেখ! তাকে কুকুরের ন্যায় রজম করা হয়েছে। একথা শুনে রাসূল ﷺ চুপ থাকলেন। অতঃপর কিছুক্ষণ সময় পথ চলার পর একটি মৃত গাধার দুর্গন্ধময় লাশের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে ঐ দুই ব্যক্তিকে ডেকে বলেন, যাও এই মরা গাধার গোস্ত খাও, তারা বলে, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ! কেউ কি এই গাধার পচা দুর্গন্ধময় গোস্ত খায়? রাসূল ﷺ বলেন, কিছুক্ষণ পূর্বেই তোমাদের ভাইয়ের সম্মানের ব্যাপারে সমালোচনায় লিপ্ত হয়েছিলে। তাতো এই গোস্ত ভক্ষণের চেয়েও মারাত্মক কঠিন ছিল। আল্লাহর কসম! সেতো এখন জান্নাতের নহর সমূহে আনন্দে বিরাজ করছে।²

টিকাঃ
১. সহীহ্ আল বুখারী ও সহীহ্ মুসলিম।
২. আবু দাউদ, 'কিতাবুল হুদুদ', 'রজমে মায়েয' অনুচ্ছেদ।
১. সহীহ্ আল-বুখারী, 'কিতাবুল জানাইয', 'বাবু মা কিলা ফী আওলাদিল মুশরেকিন'।
* বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : লেখক কর্তৃক অনূদিত আযহারী আহমাদ মাহমূদ প্রণীত "মিথ্যা” ইসলামিক সেন্টার, ছানাইয়া কাদীমা, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত।
২. সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১২।

📘 গীবত ভয়াবহ পরিনতি ও পরিত্রাণের উপায় > 📄 নামীমাহ বা চুগলখোরী

📄 নামীমাহ বা চুগলখোরী


নামীমাহ্ বা চুগলখোরী (চুকলি কিংবা চুগলি হচ্ছে, আড়ালে নিন্দা ও লাগানি-ভাঙ্গানি। আর চুকলখোর অথবা চুগলখোর আড়ালে নিন্দা বা লাগানি-ভাঙ্গানি করে এমন ব্যক্তি।) পরস্পরের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একের কথা অপরের নিকট লাগিয়ে বেড়ানো। নামীমাহ্ ভয়াবহতার দিক থেকে গীবতের মতই বরং তার চেয়েও মারাত্মক। কেননা সুশৃংখল সমাজে ভাঙ্গন ও পারস্পরিক অশান্তি, হিংসা-বিদ্বেষ ও হানা-হানি সৃষ্টির ক্ষেত্রে নামীমার প্রভাব অত্যধিক। একটি ঘটনা উল্লেখ করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।
জনৈক ব্যক্তি এক গোলাম খরিদ করে কিন্তু ঐ গোলামের মধ্যে নামীমাহর অভ্যাস ছিল। অবশ্য বিক্রেতা তার এই দোষের কথা উল্লেখ করেই বিক্রি করে। ঐ গোলাম মালিকের নিকট কিছুদিন অতিবাহিত করার পর একদা মালিকের স্ত্রীর নিকট গিয়ে বলে, আপনার স্বামী আপনাকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করতে চায়, সে আসলে আপনাকে ভালবাসে না। অতএব আপনার প্রতি ভালবাসাকে যদি মজবুত রাখতে চান তাহলে আপনার স্বামী যখন ঘুমাবে তখন তার থুতনির নিচের অংশের দাড়ি ব্লেড দিয়ে কামিয়ে নিজের নিকট রাখবেন তাহলে ভালবাসা বৃদ্ধি পাবে এবং সে আর অন্যত্র বিবাহ করবে না। অপরদিকে মালিকের নিকট গিয়ে বলে যে, আপনার স্ত্রী আপনাকে বাদ দিয়ে অন্যকে ভালবেসে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়েছে সে আপনার নিকট থাকতে চায় না। আপনি যদি এর বাস্তবতা প্রমাণ করতে চান তাহলে তার ঘরে ঘুমের বাহানা করে শুয়ে থাকবেন দেখবেন সে ব্লেড নিয়ে আপনাকে হত্যা করতে আসবে। দু'জনই ঐ গোলামের কথা বিশ্বাস করে। ফলে মালিক যখন ঐ স্ত্রীর ঘরে ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকে তখন স্ত্রী ব্লেড হাতে নিয়ে খুব সাবধানতার সাথে দাড়ির নিচের অংশ কামানোর জন্য প্রস্তুত হয়। সাথে সাথে মালিক লাফ দিয়ে উঠে ব্লেডসহ খপ্ করে ধরে ফেলে। গোলামের কথা বাস্তবে দেখতে পায় ফলে সে রাগান্বিত হয়ে ঐ ব্লেড দিয়েই নিজ স্ত্রীকে হত্যা করে। অবশেষে ঐ মহিলার আত্মীয়-স্বজন এসে তাকেও হত্যা করে। অভিশপ্ত দ্বিমুখী মুনাফিক গোলামের কারণে উভয়ই নিহত হল এবং নিজেদের মধ্যে হিংসার রেশ চালু হল।¹ এজন্যই মহান আল্লাহ্ এরূপ নামীমাহ্কারী দ্বিমুখী স্বভাবের লোকদেরকে ফাসেক বলে আখ্যায়িত করেন এবং এদের দেয়া সংবাদও যাচাই-বাছাই করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ্ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٌ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ (الحجرات: ٦)
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের নিকট যদি কোন ফাসেক ব্যক্তি কোন বিষয়ে সংবাদ দেয়, তাহলে তার সত্যতা যাচাই কর যেন অজ্ঞতাবশতঃ কোন সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত না কর এবং নিজেদের কৃতকর্মের জন্য নিজেদেরকে অনুতপ্ত না কর।”²

হাদীসের ভাষায় নামীমাহ্ :
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ إِنَّ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَلَا أُنَبِّئُكُمْ مَا الْعَصْهُ هِيَ النَّمِيمَةُ الْقَالَةُ بَيْنَ النَّاسِ
আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা রাসুল ﷺ বলেন, আমি কি তোমাদেরকে "الْعَصْهُ” “আল-আযহু” সম্পর্কে অবহিত করব না? আযহু হচ্ছে “নামীমাহ্”। আর তা হচ্ছে, মানুষের মাঝে কথা ছড়িয়ে বেড়ানো।³

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন,
নামীমাহ্ হচ্ছে “ফাসাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একের কথা অপরের নিকট ছড়িয়ে বেড়ানো।”⁴ এটাই হচ্ছে চুগলী বা চুগলখোরী।

টিকাঃ
১. ইমাম যাহাবী, আল-কাবায়ের, নং-৪৩।
২. সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ৬।
৩. সহীহ্ মুসলিম, 'আল-বির ওয়াসসিলাহ্ ওয়াল আদাব' অধ্যায়, 'নামীমাহ্ হারাম' অনুচ্ছেদ, হা/৪৭১৮; মুসনাদ আহমাদ, হা/৪৯৪৬।
৪. ইমাম নববী, কিতাবুল আযকার, পৃ. ৩৩৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00