📄 আবদুল্লাহ ইবনে উমরের গাইরত
নবিজির কনিষ্ঠ সাহাবিদের একজন ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.। নবিজির সুন্নাহর খুব বেশি অনুসরণ করতেন তিনি। এতে কোনোরূপ এদিক-সেদিক করা পছন্দ করতেন না। দরবেশ কিসিমের এই সাহাবিও ছিলেন প্রচণ্ড গাইরতমন্দ। শুনবেন তাঁর গাইরতের কাহিনি? তাহলে শুনুন—
একবার আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. শুনতে পেলেন তাঁর স্ত্রী দেওয়ালের এপাশ থেকে ওপাশে একজন ব্যক্তির সাথে আলাপ করছেন। ওপাশের ওই লোক ছিলেন তাঁর স্ত্রীর আত্মীয়। তবুও ইবনে উমরের গাইরত সেটা বরদাশ করতে পারল না। রাগে ফেটে পড়লেন তিনি। এরপর কয়েকটি ছড়ি একত্র করে আচ্ছামতো ঘা লাগালেন স্ত্রীকে!১
ইবনে উমরের এই ঘটনায় রয়েছে সেইসব গাইরতহীন পুরুষের জন্য শিক্ষা, যারা তাদের স্ত্রীদের দিয়ে চাকরি করায়। স্ত্রীরা প্রতিদিন খুবই সাজুগুজু করে অফিসে পুরুষ কলিগের পাশে বসে ধোঁয়া উড়া কফির পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে রঙ্গেরসে চুটিয়ে গল্প জমায়!
এতে শিক্ষা রয়েছে সেইসব গাইরতহীন স্বামীর জন্য, যারা তাদের স্ত্রীকে দিয়ে কোনো মেগাশপে সেলসম্যানের চাকরি করায়। যারা পেশার খাতিরে শপে আগত কাস্টমারদের সাথে মুখে কথার খই ফুটায় আর আটা ময়দা মাখা চেহারা দেখিয়ে কাস্টমারকে ফিতনায় ফেলতে চায়। এইসব স্বামীর সাথে নবিজির সাহাবি ইবনে উমরের যোজন যোজন দূরত্ব!
টিকাঃ
১ রাওজাতুল মুহিব্বিন: ২৯৯, ইবনু কাইয়িমি জাওযিয়্যাহ।
📄 মুআজ ইবনে জাবালের গাইরত
নবিজির সাহাবি হজরত মুআজ ইবনে জাবাল রা. ছিলেন মূলত ইয়ামানের লোক। সেখান থেকে হিজরত করে মদিনায় আসেন। পরবর্তীকালে খিলাফতে রাশেদার সময় ইয়ামানের গভর্নর ছিলেন। ইসলামি ইতিহাসে তাঁর অবদান আজও স্বর্ণাক্ষরে লিখিত। তাঁর গাইরতের এক আজিব ঘটনা পাওয়া যায়।
একদিন মুআজ ইবনে জাবাল রা. ও তাঁর স্ত্রী দুজন একসঙ্গে বসে আপেল খাচ্ছিলেন। দুজনের হাতে আলাদা আলাদা দুটি আপেল ছিল। ইত্যবসরে তাঁদের কাছে আগমন করে তাঁদের গোলাম। তাঁর স্ত্রী করলেন কী; নিজ হাতের ভক্ষণকৃত আপেলটাই গোলামকে দিয়ে দিলেন!
বিষয়টি সিরিয়াসলি নিলেন মুআজ ইবনে জাবাল রা.। স্ত্রীর মুখের লালা যে আপেলে লেগে রয়েছে, সেই আপেল কেন সে গোলামকে দেবে! ব্যস, সাথে সাথে উঠে তিনি স্ত্রীকে বেদম পেটাতে লাগলেন!'
আরেকদিনের ঘটনা। বাইরে থেকে ফিরে এলেন মুআজ ইবনে জাবাল রা.। এসে দেখেন—তাঁর স্ত্রী পর্দার ফাঁক দিয়ে বাইরে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন। এটাও সহজে নিতে পারলেন না তিনি। এটাও তাঁর গাইরতে আঘাত হানল। স্ত্রীকে ধরে সেদিনও তিনি পেটালেন।২
টিকাঃ
১ রাওজাতুল মুহিব্বিন: ২৯৯, ইমাম ইবনু কাইয়িমিল জাওযিয়্যাহ।
২ প্রাগুক্ত।
📄 এক আনসারি সাহাবির গাইরত
তিনি মদিনার আনসারদের অন্তর্ভুক্ত একজন সাহাবি ছিলেন। সবেমাত্র বিয়ে করেছেন। খন্দক যুদ্ধের সময় ছিল তখন। তিনি নবিজি -এর সাথে খন্দকের যুদ্ধে চলে যান। দীর্ঘ সময় নিয়ে অন্য সাহাবিদের সাথে তিনিও পরিখা খনন করেন।
বাড়িতে নববধূ রেখে এসেছেন। তার পায়ের নূপুর আর হাতের চুড়ির রিনিঝিনি মধুর আওয়াজ কানে বাজছিল তাঁর। বাড়িতে যেতে মনটাও আঁকুপাঁকু করছিল। এক সময় নবিজি -এর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বাড়ির পথ ধরলেন।
বাড়িতে এসে দেখেন—তাঁর নববধূ ঘরের দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। ঘরের বাইরে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আনসারি সাহাবির গাইরত টগবগ করে উথলে উঠতে লাগল। বউ থাকবে ঘরের ভেতরে; দরজায় দাঁড়িয়ে কেন! বাহিরের লোকের চোখে পড়বে নিশ্চয়!
বর্শা হাতে তেড়ে গেলেন নববধূর দিকে। আঘাত করে রাগ হজম করার জন্য। নববধূও বুঝতে পারলেন স্বামীর মনোভাব। তিনি চেঁচিয়ে বলে উঠলেন, 'আপনি তাড়াহুড়ো করবেন না; শান্ত হোন, আগে ঘরে ঢুকে দেখুন-ঘরে কী!'
আনসারি সাহাবি কোনোরকম রাগ কন্ট্রোল করে ঘরে ঢুকলেন। ঢুকেই তিনি যা দেখলেন, তাতে তাঁর চক্ষু ছানাবড়া! বিছানার ওপর একটি বিষধর সাপ গোল বৃত্ত পাকিয়ে বসে আছে!১
টিকাঃ
১ মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ৫/১৪২৩।