📘 গাইরত > 📄 বউ বর্গা দেওয়া গাইরতহীনদের ইতরামি

📄 বউ বর্গা দেওয়া গাইরতহীনদের ইতরামি


নিজের বউকে বন্ধুর কাছে বর্গা দেওয়ার প্রচলন আছে অভিজাত সমাজে। বউ বর্গা দেওয়া মানে বউ অদল-বদল করা আরকি! যৌনজীবনে একঘেয়েমি কাটাতেই নাকি এলিটরা এই চরম সীমার বেহায়ামিটা করে থাকে! ফাইভ স্টার হোটেলে কিংবা নাইটক্লাবে এক বন্ধু আরেক বন্ধুর বউকে বাহুলগ্ন করে ইচ্ছামতো নাচানাচি করে। নাচ শেষ হলে বসে ঢকঢক করে মদপান করে। পিনিক উঠলে পরে একজন আরেকজনের বউকে জড়িয়ে ধরে আলাদা আলাদা কামরায় ঢুকে পড়ে। নাউজুবিল্লাহ!
মুসলিম কমিউনিটির এলিটদের মধ্যে এই নোংরা সভ্যতা আমদানি হয়েছে পশ্চিমা সভ্যতা থেকে। পশ্চিমা সমাজে নারীকে জাস্ট একজন সেক্স পার্টনার হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। নারীকে তারা কখনোই জীবনের পার্ট হিসেবে দেখে না। এজন্য পশ্চিমা সমাজে একটি কুত্তী আর নারীর মধ্যে কোনো বেশকম নেই! কুত্তীর ছানাগুলোর যেমন কোনো পিতৃপরিচয় নেই, পশ্চিমা নারীদের সন্তানেরও সেভাবে কোনো পিতৃপরিচয় থাকে না; সন্তানদের পরিচয় হয় মায়ের নামেই!
বউ বদলের এই নোংরা সংস্কৃতি মোটেও কোনো সভ্য সমাজের সংস্কৃতি নয়; এটি অশিক্ষিত, অসভ্য, বর্বর ও বুনো মানুষের সংস্কৃতি। জি, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইতিহাস তালাশ করলে এটাই বেরিয়ে আসে।
বিশ্বে এমন কিছু উপজাতি রয়েছে যারা পরকীয়া ঠেকাতে বউ বদল করে থাকে। হিমালয়ে বসবাসকারী এমন একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা ‘দ্রোকপা’ নামে পরিচিত। হিমালয়ের আর্য হিসেবেও অনেকেই চেনে তাদের। এই উপজাতি বিশেষ কোনো নিয়ম অনুসরণ করে না। তারা অনেকটা নিজেদের ইচ্ছেমতো জীবনযাপন করে থাকে। এরা একে অপরের প্রতি অনেক বন্ধুসুলভ এবং স্নেহশীল। বউ অদল-বদল করার রীতি তাদের কাছে খুবই সাধারণ।
একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায় নামিবিয়ান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ‘হিম্বা’ উপজাতির মাঝেও। এরা অবশ্য পুরোপুরি বউ বদল করে না। একজন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অতিথির সঙ্গে রাত কাটানোর সুযোগ দিয়ে থাকে। চাইলে এর বিরোধিতা করতে পারে স্ত্রী।
তবে স্বামীর কথা শুনেই স্ত্রীরা অতিথির সঙ্গে রাত্রিযাপন করে থাকে। এই রীতি তাদের মধ্যে 'ওকুজেপিসা ওমুকাজেন্দু' নামে পরিচিত।
উত্তরে আমেরিকা ও সাইবেরিয়ার বরফে বসবাসকারী এস্কিমো উপজাতিরাও এই ধরনের বউ বদল করে থাকে। নারী কিংবা পুরুষ যে কেউ তাদের ইচ্ছেমতো বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে যৌনমিলন করতে পারে। এস্কিমো উপজাতির একজনের স্ত্রীর সঙ্গে রাত কাটাতে পারে তার বন্ধু কিংবা সহোদররা। কারও স্বামী কাজের জন্য দূরে গেলে যে কারও সঙ্গে মিলন করতে পারে তার স্ত্রী। কোনো স্ত্রী চাইলে অন্যের সন্তান নিজের গর্ভে ধারণ করতে পারে।
আফ্রিকার নাইজেরিয়ার 'ওয়াড্ডাবে' উপজাতিরা অল্প বয়সে বিয়ে করে। কিন্তু পরে পরিণত বয়সে তারা অন্যের বৌ চুরি করে। এটাই তাদের রীতি। এবং চুরি করে যদি ধরা না পড়ে তাহলে, সেই জুটিকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়!
ইন্দোনেশিয়ায় পালিত হয় 'পোন উৎসব'। এই উৎসবটাই নাকি তাদের প্রার্থনা। পোন উৎসবে উপজাতিরা দল বেঁধে জাভা পাহাড়ে যায়। সেখানে তারা অবাধে যৌনতায় লিপ্ত হয়। তবে শর্ত একটা; নিজ নিজ স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য কারও স্বামী ও স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হতে হবে! বছরে সাতবার এই উৎসব হবে। এবং সাতবারই একই পার্টনারের সঙ্গে যৌনসঙ্গম করতে হবে। তাতেই পূর্ণ হবে প্রার্থনা!
এসব উপজাতির এমন রীতির প্রচলনের পেছনের কারণ; তারা মনে করে-এতে করে পরস্পরের মাঝে সম্পর্ক ভালো থাকবে। সবাই মিলে মিশে থাকলে সমাজে বা গোত্রে কোনো অন্যায় অত্যাচার বা হিংসা থাকবে না! কেউ কেউ তো বিশ্বাস করে, এমন রীতি অশুভ লক্ষ্মণ ও বিপদ-আপদ দূর হওয়ার মাধ্যম!
তো দেখা যায়, বউ বদলের এই নোংরা কালচার মূলত অসভ্য বুনো মানুষের। সেটাই এখন সভ্য জগতে 'লাইফ এঞ্জয়'র নামে অনুপ্রবেশ করেছে! প্রথমে এই বুনো সভ্যতা আমদানি করেছে পশ্চিমারা। পরে আস্তে আস্তে সেটা ছড়িয়েছে বিশ্বে নানান দেশে।
কিন্তু কথা হলো, এই নোংরা সভ্যতার সাথে মুসলিম সমাজের কী সম্পর্ক? এলিট সমাজের মুসলিম দাবিদার যারা এই চরম মাত্রার বেহায়ামির সাথে জড়িত, এরা শুধু দ্বীনহীন-ই না; গাইরতহীনই না; বদলোকই না; এরা জানোয়ার! বরং জানোয়ারের চেয়েও আরও নিকৃষ্ট। জানোয়ারের তো কোনো শিক্ষা নেই; সভ্যতা নেই; কিন্তু মানুষরূপী এই জানোয়ারদের তো শিক্ষা আছে! সভ্যতা আছে!

📘 গাইরত > 📄 গাইরত ও পর্দা: একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ

📄 গাইরত ও পর্দা: একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ


ইসলামি শরিয়াহর মৌলিক উৎস হলো কুরআন ও সুন্নাহ। কুরআন ও সুন্নাহ মানেই ইসলাম। কুরআন-সুন্নাহ ঘাঁটলে দেখা যায়, পুরুষকে পরনারীর ঘনিষ্ঠ হতে নিষেধ করা হয়েছে। আবার নারীকেও পরপুরুষের ঘনিষ্ঠ হতে বারণ করা হয়েছে। এটাই পর্দা। এটা ইসলামের ফরজ বিধান।
এই পর্দাই হলো গাইরত। গাইরত ও পর্দার অঙ্গাঅঙ্গি সম্পর্ক রয়েছে। কারণ, যার মধ্যে গাইরত আছে, সে তার অধীনস্থ নারীকে মোটেও বেপর্দা চলাফেরা করতে দেবে না। যে বেপর্দা চলাফেরা করতে দেবে, সে মূলত গাইরতহীন পুরুষ।
নারী-পুরুষের কোনো নির্জন স্থানে একাকী বাস, কিছুক্ষণের জন্যও লোকচক্ষুর অন্তরালে, ঘরের ভেতরে, পর্দার আড়ালে একান্তে অবস্থান শরিয়তে সম্পূর্ণরূপে হারাম। যেহেতু তা ব্যভিচার না হলেও ব্যভিচারের নিকটবর্তী করে, ব্যভিচারের ভূমিকা অবতারণায় সহায়িকা হয়। কোনো গাইরতমন্দ পুরুষ এটা করতে পারে না। এটার সুযোগ দিতে পারে না। এজন্য আল্লাহর নবি বলেন,
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلُ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانِ
'কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে একান্তে গোপনে অবস্থান না করে। এ রকম হলে তৃতীয়জন থাকে শয়তান।১
এ ব্যাপারে আমাদের এই সমাজে অধিক শৈথিল্য পরিলক্ষিত হয় দেবর-ভাবি ও শালি-দুলাভাইয়ের ক্ষেত্রে। অথচ এদের মাঝেই বিপর্যয় ঘটে বেশি কারণ 'পর চোরকে পার আছে, ঘর চোরকে পার নাই।' তাইতো নবিজি মহিলাদের জন্য তাদের দেবরকে মৃত্যুর সাথে তুলনা করেছেন।
হাদিসটা আগে উল্লেখ করেছি। তবুও প্রসঙ্গক্রমে এখানে আবারও উল্লেখ করা জরুরি। উকবা ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল বলেন,
إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَारِ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَفَرَأَيْتَ الحَمْوَ، قَالَ: الحَمْوُ الْمَوْتِ
'তোমরা নারীদের কাছে প্রবেশ করা হতে বিরত থাকো। এ কথা বলার পর একজন আনসারি ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, দেবরের বিষয়ে আপনি কী বলেন? নবিজি বলেন, দেবর হলো মৃত্যু সমতুল্য।”
অতএব, দেবরের সাথে মায়ের বাড়ি, আত্মীয়ের বাসা, ডাক্তারের চেম্বার; অনুরূপ দুলাভাইয়ের সাথে বোনের বাড়ি, মার্কেট বা কোনো বিলাস-বিহারে যাওয়া-আসা গ্রামে-গঞ্জে প্রথা হলেও শহরে এই ট্রেন্ড ফ্যাশন হিসেবে প্রচলিত। এটা একেতো পর্দার খেলাপ; তার ওপর ব্যাপারটা মারাত্মক গাইরতবিরোধী।
দেবর কিংবা দুলাভাই পরপুরুষ, তাদের সঙ্গে কোনো কামরা বা স্থানে নির্জনতা অবলম্বন, বাড়ির ঝি বা চাকরের সাথে গৃহকর্তা বা কর্ত্রী অথবা তাদের ছেলে-মেয়ের সাথে নিভৃত বাস, বাগদত্তা বর-কনের একান্তে আলাপ বা মিট করা, বন্ধু-বান্ধবীর একত্রে নির্জন বাস, লিফটে কোনো বেগানা যুবক-যুবতির একান্তে ওঠানামা, ডাক্তার ও নার্সের একান্তে চেম্বারে অবস্থান, টিউটর ও ছাত্রীর একান্তে নির্জন বাস ও পড়াশোনা, স্বামীর অবর্তমানে কোনো বেগানা আত্মীয় বা বন্ধুর সাথে নির্জন বাস, ট্যাক্সি ড্রাইভারের সাথে বা রিক্সায় রিকশাচালকের সাথে নির্জনে গমন, ভণ্ড পিরের কাছে কোনো নারীর নির্জনে মুরিদ হওয়া—সবই একই পর্যায়ের।
উল্লিখিত সব পরিস্থিতিই গাইরতের খেলাপ। গাইরত বিসর্জন দিয়ে কেউ এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে শয়তান তৃতীয়জন হয়ে অবৈধ বাসনা ও কামনা জাগ্রত করে কোনো পাপ সংঘটিত করতে চেষ্টা করে।
বারুদের নিকট আগুন রাখা হলে বিস্ফোরণ তো হতেই পারে। যেহেতু মানুষের মন বড় মন্দপ্রবণ এবং দুর্নিবার কামনা ও বাসনা মানুষকে অন্ধ ও বধির করে তোলে। তা ছাড়া নারীর মাঝে রয়েছে মনোরম কমনীয়তা, মোহনীয়তা এবং চপলতা। আর শয়তান তো মানুষকে অসৎ কাজে ফাঁসিয়ে দিয়ে আনন্দ বোধ করে থাকে। অনুরূপ কোনো বেগানা মহিলার সাথে নির্জনে নামাজ পড়াও বৈধ নয়।
তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর নিকট নিজের সন্তান দেখতে গিয়ে বা কোনো কাজে গিয়ে তার সাথে নির্জনতাও অনুরূপ। কারণ, সে আর স্ত্রী নেই। আর এমন মহিলার সাথে বিপদের আশঙ্কা বেশি। শয়তান তাদেরকে তাদের পূর্বের স্মৃতিচারণ করে ফাঁসিয়ে দিতে পারে।
বৃদ্ধ-বৃদ্ধার একান্তে বা তাদের সাথে যুবতি-যুবকের নির্জন বাস, কোনো হিজড়ার সাথে যুবক-যুবতির, একাধিক মহিলার সাথে কোনো একটি যুবক অথবা একাধিক পুরুষের সাথে এক মহিলার, কোনো সুশ্রী কিশোরের সাথে যুবকের নির্জন বাসও অবৈধ।
ব্যভিচার থেকে সমাজকে দূরে রাখার জন্যই ইসলাম গাইরতের গুরুত্বারোপ করেছে। এজন্য নারী-পুরুষে অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ করেছে। একই অফিসে, মেসে, ক্লাসরুমে, বিয়ে ও মরা বাড়িতে, হাসপাতালে, বাজারে প্রভৃতি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের একত্রে অবাধ মেলামেশা করা জায়েজ নয়।
মুসলিম নারীর শিক্ষার অর্থ এই নয় যে, তাকে বড় ডিগ্রি, বড় পদ, মোটা অঙ্কের চাকরি পেতে হবে। তার শিক্ষা জাতি গঠনের জন্য, সমাজ গড়ার জন্য, মুসলিম দেশ ও পরিবেশ গড়ার জন্য যতটুকু দরকার, ততটুকু শিখতে পারলেই যথেষ্ট; যদিও তা ঘরে বসেই হয়। তা ছাড়া পৃথক গার্লস স্কুল-কলেজ না থাকলে মিশ্র শিক্ষাঙ্গনে মুসলিম নারীর শিক্ষায় 'জল খেতে গিয়ে ঘটি হারিয়ে যাওয়া'র ঘটনাই অধিক ঘটে থাকে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষিত হওয়া যায় ঠিকই; কিন্তু আদর্শ মুসলিম হওয়া যায় না।
নারীর স্বনির্ভরশীলা হয়ে জীবনযাপন করায় গর্ব আছে ঠিকই; কিন্তু সুখ নেই। প্রকৃতির সাথে লড়ে আল্লাহর আইনকে অবজ্ঞা করে নানান বিপত্তি ও বাধাকে লঙ্ঘন করে অর্থ কামিয়ে স্বাধীনতা আনা যায় ঠিকই; কিন্তু শান্তি আনা যায় না। শান্তি আছে স্বামীর সোহাগে, স্বামীর প্রেম, ভালোবাসা ও আনুগত্যে। পরিত্যক্তা বা নিপীড়িতা হলে এবং দেখার কেউ না থাকলে মুসলিম রাষ্ট্র ও সমাজে তার কালাতিপাত করার যথেষ্ট সহজ উপায় আছে। যেখানে নেই সেখানকার কথা বিরল। অবশ্য দ্বীন ও দুনিয়ার প্রকৃত মূল্যায়ন করতে পারলে এ সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে উঠবে। যারা পরকালের চিরসুখের বিশ্বাসী, তারা জাগতিক কয়েকদিনের সুখ-বিলাসের জন্য দ্বীন ও ইজ্জত বিলিয়ে দেবে কেন?
গাইরত বিসর্জন দিলে ব্যভিচার সহজ হয়ে যায়। ব্যভিচারের প্রতি নিকটবর্তী হওয়ার এক সহজ পদক্ষেপ হলো-মহিলাদের একাকিনী কোথাও বের হওয়া। তাই 'সুন্দরী চলেছে একা পথে, সঙ্গী হলে দোষ কি তাতে?' বলে বহু লম্পট তাদের পাল্লায় পড়ে থাকে। ধর্ষণের হাত হতে অনেকেই রক্ষা পায় না। পারে না নিজেকে 'রিমার্ক' ও 'টিজ'র শিলাবৃষ্টি হতে বাঁচাতে। এজন্যই তো আল্লাহর রাসুল বলেন,
لَا تُسَافِرِ الْمَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ، وَلَا يَدْخُلُ عَلَيْهَا رَجُلٌ إِلَّا وَمَعَهَا مَحْرَمُ، فَقَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَخْرُجَ فِي جَيْشِ كَذَا وَكَذَا، وَامْرَأَتِي تُرِيدُ الحَجِّ، فَقَالَ: اخْرُجْ مَعَهَا
'কোনো মহিলা যেন মাহরাম পুরুষ ছাড়া একাকিনী সফর না করে, তার নিকট যেন মাহরাম ছাড়া কোনো বেগানা পুরুষ প্রবেশ না করে, এ কথা শুনে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি অমুক অমুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য সৈন্য দলে নাম লিখিয়েছি অথচ আমার স্ত্রী হজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন এখন আমি কী করব? রাসুল তাকে উত্তর দিলেন তুমি তার সাথে বের হও।১
দেখুন, জিহাদ ইসলামে ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। তারপরও রাসুল ওই সাহাবিকে নির্দেশ দিচ্ছেন, জিহাদ ছেড়ে স্ত্রীর সঙ্গে হজের সফরে যেতে। স্ত্রীকে একা না ছাড়তে। অথচ ওই সময়ের হাজিদের আত্মা ছিল সব ধরনের পাপ থেকে মুক্ত। নারীরাও ছিল পবিত্র। তারপরও রাসুল -এর এই নির্দেশ প্রমাণ করে, ইসলামে গাইরতের গুরুত্ব কত বেশি।
রাসুল অন্য হাদিসে বলেন : المَرْأَةُ عَوْرَةُ، فَإِذَا خَرَجَتْ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ
'নারী গুপ্ত জিনিস; সুতরাং যখন সে বাড়ি হতে বের হয়, তখন শয়তান তাকে পুরুষের দৃষ্টিতে রমণীয় করে দেখায়।'২
গাইরত বিসর্জন দেওয়ার মাধ্যমে ব্যভিচারের কাছে যাওয়ার আরও এক পদক্ষেপ হলো—কোনো এমন মহিলার নিকট কোনো আত্মীয় বা অন্য পুরুষের গমন যার স্বামী বর্তমানে বাড়িতে নেই, বিদেশে আছে। কারণ, এমন স্ত্রীর মনে সাধারণত যৌন ক্ষুধা একটু তুঙ্গে থাকে, তাই বিপদ ঘটাই স্বাভাবিক। স্ত্রী বা ওই পুরুষ যতই পরহেজগার হোক, তবুও না। এ বিষয়ে নবিজি বলেন:
لَا تَلِجُوا عَلَى المُغِيبَاتِ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ أَحَدِكُمْ مَجْرَى الدَّمِ، قُلْنَا: وَمِنْكَ؟ قَالَ : وَمِنِّي، وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمُ
'তোমরা সেই মহিলাদের নিকট গমন করো না, যাদের স্বামীরা বিদেশে আছে। কারণ, শয়তান তোমাদের রক্ত শিরায় প্রবাহিত হয়। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, আপনার শিরায়ও কি শয়তান প্রবাহিত হয়? তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, তবে আল্লাহ তা'আলা আমাকে সহায়তা করেন; তাই আমি নিরাপদ থাকি।'১
অপর আরেক হাদিসে নবিজি বলেন:
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَانَا أَنْ نَدْخُلَ عَلَى النِّسَاءِ بِغَيْرِ ن إِذْنِ أَزْوَاجِهِن
'আল্লাহর নবি আমাদেরকে নিষেধ করেছেন যে, আমরা যেন মহিলাদের নিকট তাদের স্বামীদের বিনা অনুমতিতে গমন না করি।'২
নারীদের জন্য সেন্ট বা পারফিউমড্ ক্রিম অথবা পাউডার ব্যবহার করে বাইরে পুরুষদের সম্মুখে যাওয়াও গাইরতের খেলাপ। এতে সেটা বোরকা-হিজাব পরে হলেও একই বিধান। এটা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হওয়ার জন্য সহায়ক। এভাবে সুবাস ছড়িয়ে পুরুষের পাশ দিয়ে যাওয়া মানে পুরুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করা! যেহেতু পুরুষের প্রবৃত্তি এই যে, মহিলার নিকট হতে সুগন্ধ পেলে তার যৌনচেতনা উত্তেজনায় পরিণত হয়। এজন্যই নবি বলেন:
كُلُّ عَيْنٍ زَانِيَةٌ، وَالمَرْأَةُ إِذَا اسْتَعْطَرَتْ فَمَرَّتْ بِالْمَجْلِسِ فَهِيَ كَذَا وَكَذَا يَعْنِي زَانِيَةً
'প্রত্যেক চক্ষুই ব্যভিচারী। আর নারী যদি সুগন্ধি ব্যবহার করে কোনো পুরুষের মজলিসের পাশ দিয়ে পার হয়ে যায় তাহলে সে এক ব্যাভিচারিণী।'১
গাইরত আছে—এমন কোনো নারী বেগানা পুরুষের সাথে ভাবভঙ্গী নিয়ে কিংবা মোহনীয় কণ্ঠে আলাপ করতে পারে না। এটা গাইরতওয়ালি নারীর সাথে যায় না। এটাও ব্যভিচারের নিকটবর্তীকারী পথসমূহের মধ্যে অন্যতম এক ছিদ্রপথ। এ বিপজ্জনক বিষয়ে সাবধান করে আল্লাহ তা'আলা নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন:
(يُنِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضِ)
'হে নবিপত্নীগণ, তোমরা অন্যান্য নারীদের মতো নও, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে পরপুরুষদের সাথে কোমল কন্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে ব্যাধিগ্রস্ত অন্তরের মানুষ প্রলুব্ধ হয়।'২
এজন্যই তো নামাজে ইমাম সাহেব ভুল করলে পুরুষ মুক্তাদিরা তাসবিহ বলে লুকমা দেবে, আর নারীরা হাততালি দিয়ে লুকমা দেবে; তাসবিহ উচ্চারণ করে নয়! এটা স্পষ্ট করে নবিজি হাদিসে বলে গেছেন। যাতে নারীর কণ্ঠে পুরুষের মনে যৌনানুভূতির জাগ্রত না হয়ে ওঠে।
সুতরাং, নারীকণ্ঠের গান যে পুরুষের জন্য অগ্নিবাণ, তা রুচিশীল মানুষের নিকট সহজেই অনুমেয়। আমাদের সমাজে এমন বহু হতভাগী নারী আছে, যারা স্বামীর সাথে কর্কশ কণ্ঠে কথা বলে; কিন্তু পরপুরুষের সাথে ঠিকই মোহনীয় স্বরে আলাপ করে! এমন নারী তো শুধু গাইরতহীনই নয়; সে রীতিমতো কণ্ঠবেশ্যাও বটে! এরা পরকালেও হতভাগী।

টিকাঃ
১ জামে তিরমিজি, হদিস: ১১৭১।
১ সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২৩২; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২১৭২; জামে তিরমিযি, হাদিস : ১১৭১।
১ সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৬২।
২ জামে তিরমিজি, হাদিস: ১১৩৭।
১ জামে তিরমিজি, হাদিস: ১১৭২।
২ জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৭৭৯।
১ জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৭৮৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৯০১৯; সহিহ ইবনে খুযাইমা, হাদিস: ১৬৮১। ইমাম তিরমিজি হাদিসটিকে হাসান সহিহ বলেছেন।
২সুরা আহযাব: ৩২।

📘 গাইরত > 📄 পুরুষের ক্ষেত্রে নারীর গাইরতের কারণ

📄 পুরুষের ক্ষেত্রে নারীর গাইরতের কারণ


শুধুই কি নারীর সংস্পর্শে পুরুষের সমস্যা? পুরুষের সংস্পর্শে কি নারীর সমস্যা নেই? শুধুই কি পুরুষ গাইরত দেখাবে নারীর ক্ষেত্রে, নারী কি গাইরত দেখাবে না পুরুষের ক্ষেত্রে? হ্যাঁ, অবশ্যই দেখাবে। সমস্যা কিন্তু দুই জায়গাতেই সমানে সমান। আগুনের মোমের পাশে নিলে যেমন মোম গলে; তেমনিভাবে মোমকে আগুনের পাশে নিলে গলে। নারী ও পুরুষের অবস্থা হলো আগুন ও মোমের মতো। সুতরাং এই দুই বস্তু কোনোটাকেই একটা আরেকটার পাশে নেওয়া যাবে না।
পুরুষকে নারীর সংস্পর্শে যেতে মানা করার মূল রহস্যটা হলো, নারীর মন বড় নরম ও তুলতুলে। তার মন সহজেই গলে যায়। বিশেষ করে গলে যাওয়ার উপলক্ষ্যটা যদি কোনো পুরুষ হয়। কারণ, পুরুষের প্রতি নারীর টান সহজাত প্রবৃত্তি। ব্যাপারটি বোঝাতে একটা হাদিসের ঘটনা বলি-
নবিজি -এর 'আনজাশা' নামে একজন হাবশি গোলাম সাহাবি ছিলেন। তিনি সুমিষ্ট স্বরে গান গেয়ে উট চালাতে পারদর্শী ছিলেন। আনজাশার উপনাম ছিল আবু মারিয়া। বিদায় হজের দিন নবিজির কাফেলার সাথে আনজাশাও ছিলেন। তিনি মহিলা যাত্রীদের বাহনে গান গেয়ে গেয়ে উট চালাতে লাগলেন। কিন্তু নবিজি তাঁকে গান গাইতে নিষেধ করে দিলেন। হাদিসে এসেছে-
عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ الْبَرَاءَ بْنَ مَالِكٍ كَانَ يَحْدُو بِالرِّجَالِ، وَكَانَ أَنْجَشَةُ يَحْدُو بِالنِّسَاءِ، وَكَانَ حَسَنَ الصَّوْتِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: يَا أَنْجَشَهُ، رُوَيْدَكَ سَوْقَكَ بِالْقَوَارِيرِ.
আনাস রা. থেকে বর্ণিত, বারা ইবনে মালিক রা. পুরুষ যাত্রীদের গান শুনিয়ে কাফেলা চালাতেন, আর আনজাশা মহিলা যাত্রীদের বাহন গান গেয়ে চালাতেন। তার কন্ঠস্বর ছিল সুমধুর। নবি বলেন, 'হে আনজাশা, আস্তে করো। তোমার যাত্রীরা যে কাচের শিশির মতো!'১
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, নবিজি বলেছেন: رفقا بالقوارير 'হে আনজাশা, কাচের শিশির সাথে একটু সহমর্মী হও।'২
জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম নববি রহ. এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, 'নবিজি নারীদেরকে কাচের শিশির সাথে তুলনা করার কারণ হলো, নারীদের চিত্ত খুবই দুর্বল। কাচের শিশি যেভাবে দুর্বল হয় এবং সামান্য আঘাতে ভেঙে যায়, তেমনিভাবে নারীদের মনের দুর্বলতার কারণে খুব সহজেই ভেঙে যায়।'
হাদিস জগতের আরেক ব্যাখ্যাকার ইমাম কাজি ইয়াজ মালিকি বলেন, 'আনজাশা ছিলেন সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী। তিনি নারীদের উটের বাহন চালাতেন গান গেয়ে গেয়ে। নবিজির ভয় ছিল—আনজাশার গানে নারীরা আবার ফিতনায় পড়ে যান কিনা। তাঁর গান নারীদের অন্তরে জায়গা করে নিতে পারে হয়তো। তাই তিনি আনজাশাকে এভাবে শ্রুতিমধুর কণ্ঠে গান গাইতে বারণ করেছেন। পুরুষের সুমধুর কণ্ঠে নারীর মন বিগলিত হয়ে যায় বলেই তো আরবরা বলে থাকে—গান হলো ব্যভিচারের মন্ত্র!'
এই হাদিসের অন্য ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়। তবে উল্লিখিত ব্যাখ্যাটি বহু আলেম পছন্দ করেছেন। এই ব্যাখ্যার সমর্থনে আরেকটি হাদিস রয়েছে। সেটিও উল্লেখ করলে ব্যাপারটা ক্লিয়ার হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
عن أنس بن مالك قال: كان البراء بن مالك رجلا حسن الصوت فكان يرجز لرسول الله ﷺ في بعض أسفاره فبينما هو يرجز إذ قارب النساء فقال له رسول الله ﷺ : إياك والقوارير. قال فأمسك : قال محمد : كره رسول الله ﷺ أن تسمع النساء صوته.
আনাস রা. থেকে বর্ণিত, বারা ইবনে মালিক রা. সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী লোক ছিলেন। বিভিন্ন সফরে তিনি নবিজিকে গান (কবিতা) গেয়ে শোনাতেন। একবার তিনি গান গেয়ে গেয়ে কাফেলার নারীদের কাছাকাছি হয়ে গেলেন। তখন নবিজি তাঁকে সাবধান করে দিয়ে বললেন, 'বারা, কাচের শিশির মতো নারীদের থেকে নিজেকে বাঁচাও। এরপরই বারা নিজেকে সামলিয়ে নেন; আর সামনে বাড়েননি। হাদিসের বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ বলেন, 'নবিজি পছন্দ করেননি যে, নারীরা তাঁর কণ্ঠস্বর শুনুক।'১
হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা গেল, পুরুষের সুমধুর কণ্ঠও নারীর জন্য জন্য মারাত্মক ফিতনার কারণ। খোদ নবিজি তাঁর পুণ্যবতী পত্নীদের ক্ষেত্রেও পুরুষের সুমধুর কণ্ঠে ফিতনার ভয় করেছেন। এমতাবস্থায় আমি-আপনি কোন স্যার? পুরুষের জন্য যেমন নারীকণ্ঠ ফিতনার কারণ, তেমনিভাবে নারীর জন্য পুরুষকণ্ঠও ফিতনার কারণ।
জাহিলি যুগের একটা ঘটনা বলি। সে সময় হুতাইআহ নামে একজন লোক ছিলেন। খুব প্রজ্ঞার অধিকারী। যে-কারও সমালোচনায় বেশ পটু ছিলেন। একবার তার এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলো। তিনি গিয়ে আশ্রয় নিলেন বনু মাকলাদ ইবনে ইয়ারবু গোত্রে। হুতাইআহকে দেখে তো গোত্রের লোকেরা পেরেশান। তারা একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে বলল, 'এই লোকটার জবান থেকে তো কেউ রেহাই পায় না। তাই আসো, আমরা লোকটাকে বলি, তিনি কী পছন্দ করেন, তাহলে আমরা সেটা করব, আর তিনি কী অপছন্দ করেন, তাহলে আমরা সেটা পরিহার করব।'
গোত্রের গণ্যমান্য লোকেরা এলো হুতাইআহর কাছে। এসে বলল, 'জনাব! আপনি গোটা আরববাসীর মধ্যে আমাদেরকে নির্বাচন করেছেন; বিপদের সময় আমাদের কাছে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। সুতরাং আপনি আমাদেরকে আদেশ করুন আপনি যা পছন্দ করেন, আমরা তা করব; আর আপনি যা অপছন্দ করেন, তাও বলুন; আমরা তা পরিত্যাগ করে চলব।'
হুতাইআহ বললেন, 'আপনারা আমার সাথে খুব বেশি বেশি দেখাসাক্ষাৎ করতে আসবেন না, এতে আপনারা আমাকে বিরক্ত করে ছাড়বেন। আবার দেখাসাক্ষাৎ একেবারে কমও করবেন না, এতে করে আপনারা আমাকে ভয় পেতে শুরু করবেন।
আমি যে ঘরে থাকি সে ঘরের আঙিনায় তোমরা আড্ডা বসাবে না। আর তোমাদের যুবকদের গান আমার মেয়েদেরকে শোনাবে না। কেননা, গান হলো ব্যভিচারের মন্ত্র।'
এরপর হুতাইআহ সে গোত্রে বউ-বাচ্চা নিয়ে অবস্থান করতে লাগলেন। এদিকে গোত্রের লোকেরা তাদের ছেলেদের একত্রিত করে শাসিয়ে বলল, 'খবরদার! তোমাদের মা তালাক হয়ে যাবে এবং তোমাদের শক্ত পিটুনি দেব, যদি তোমাদের কেউ হুতাইআহ আমাদের মাঝে অবস্থান করা পর্যন্ত গান গায়!'১
'গান ব্যভিচারের মন্ত্র'। কথাটা ঠিক। বাস্তবেও তা-ই হচ্ছে। এ ব্যাপারে রাখঢাক ছাড়াই একটু কথা বলি-
দ্বীনহীন নারী কণ্ঠশিল্পী ও পুরুষ কণ্ঠশিল্পী এবং তাদের ভক্ত ও ফ্যানদের কথা এখানে বলা উদ্দেশ্য না। ওরা তো যাপিত জীবনে দ্বীন প্র্যাকটিস করে না। এমতাবস্থায় কেউ তাদের কণ্ঠের পাগল হওয়া না-হওয়া নিয়ে আলাপ করা মানে অপলাপ বৈ কিছু নয়। এখানে ইসলামি কণ্ঠশিল্পী ও নারী ফিতনা নিয়েই কিছু বলতে চাই।
ইসলামি কণ্ঠশিল্পীদের ভক্ত ও ফ্যান-ফলোয়ারদের বড় একটা অংশ কিন্তু নেকাবি- হিজাবি বোনেরা! শিল্পীদের সুললিত কণ্ঠে বিগলিত হয়ে কত কত দ্বীনি আপু ফিদা হয়ে যাচ্ছেন! নিজ নিজ পছন্দের ইসলামি কণ্ঠশিল্পীদের ফেসবুক পেইজ আর ইউটিউব চ্যানেল ফ্যাভারিট করে কিংবা সাবস্ক্রাইব করে নিয়মিত গজল শুনছেন আর কণ্ঠের মূর্ছনায় নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন!
কত দ্বীনি সিস্টার আছেন, নির্দিষ্ট একজন নাশিদ শিল্পীর একান্ত ভক্ত তিনি। ওই শিল্পীর জন্য দিওয়ানা। স্বপ্নে শিল্পীকে নিজের প্রেমিক পুরুষ বানিয়ে দিন গুজরান করছেন। ভবিষ্যতে তাকে স্বামী হিসেবে জল্পনা-কল্পনা করছেন। এজন্য বারবার বিয়ের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিচ্ছেন। কোনো পুরুষকেই আর ভাল্লাগে না! অথচ, বেচারা নাশিদ শিল্পীর এদিকে কোনো খবরই নেই! বেচারা হয়তো প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বউ- বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সুখেই দিনাতিপাত করছেন! অথবা অবিবাহিত হলে কোনো একদিন হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিয়ের অনুষ্ঠানে দুলহা সেজে ছবি পোস্ট করে কতশত দ্বীনি সিস্টার ভক্তের মন ভাঙছেন!
ইসলামি শিল্পী গোষ্ঠীগুলোর এমন কোনো শিল্পী নেই, যার অসংখ্য-অগণিত মেয়েভক্ত নেই। এতে শিল্পী সেটা জানেন বা না-জানেন। শিল্পী গোষ্ঠীগুলোর ফ্যান-ফলোয়ারদের বড় একটা অংশ হলো দ্বীনি সিস্টারগং। কোনো কোনো সিস্টার তো এমন যে, তার প্রিয় শিল্পীর গজল শুনতে শুনতে ঘুমোতে যান। জাগার পরও আবার শোনেন। এভাবে দিনদিন ক্রাশ খাইতে থাকেন। সখীদের কাছেও তার ক্রাশের কথা জানান। শুধু তা-ই নয়; গোপনে প্রিয় শিল্পীর আইডি বা পেইজে গিয়ে নক করে নিজের ভালোলাগার কথাও জানান। ব্যস, বাকিটুকু ইতিহাস!
ইতিহাসের অংশ হিসেবে যখন কোনো স্ক্যান্ডাল ফাঁস হয়, তখন সকলেই শিল্পীকে ধুয়ে দেয়। তুলাধুনা করে। শুধুমাত্র নটকে নিয়েই কথা বলে। কিন্তু কেউই নটিকে নিয়ে কথা বলে না। আলগোছ পাশ কেটে যায়। অথচ, এসব শিল্পীর নষ্টামির পেছনে নটিদের ভূমিকা মোটেও কম না। সব জেনে-বুঝেই তারা প্রথমে ভক্ত হয়। তারপর গোপনে প্রেম করে। পরকীয়া করে। এমনকি বিয়ে করে। তাদের বিয়ে করার জন্য কি আর কোনো পুরুষ নেই? নষ্ট শিল্পীদের দুই দিনের বউ হওয়ার জন্য তারা এত কাঙালিনী কেন?
আসলে সমস্যা হলো, মেয়েরা সুমধুর কণ্ঠের পাগল। কণ্ঠশিল্পী দেখলেই বিগলিত হয়ে পড়ে। জল্পনা-কল্পনা করতে শুরু করে। সুযোগ করে ভাব জমাতে চায়। এটা তাদের একটা মারাত্মক সমস্যা। অবশ্য সব মেয়েরা এমন নয়। তারা বোঝে না, জীবন-সংসার করার জন্য এই কণ্ঠশিল্প মোটেও কাজ দেবে না; কাজ দেবে একজন পুরুষের গুণ, চরিত্র, কর্ম ও ব্যক্তিত্ব। এসব কণ্ঠশিল্পীর প্রেমিকা বা বউ হয়ে তারা কখনো স্ত্রীর মর্যাদা পাবে না। বদচরিত্রের শিল্পীর কাছে তারা মধুমক্ষিকা হয়েই থাকবে শুধু!
দ্বীনি বোনদের গাইরত রাখা উচিত। আবেগের মুখে লাগাম পরানো দরকার। কোনো শিল্পীর কণ্ঠস্বরের পেছনে পড়ে নিজেকে বরবাদ করার কী দরকার! শিল্পীকেও বরবাদ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করারও কী দরকার! কোনো কাপুরুষকে নিজের আবেগ ও সরলতা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দিতে হবে কেন? প্রয়োজনে ভেবেচিন্তে সৎ, কর্মঠ, যোগ্য, চরিত্রবান, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও দ্বীনদার কোনো ছেলেকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য দুআর আমল চালিয়ে যাওয়া উচিত। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ ঠকাবেন না। তিনি কাউকে ঠকান না।
এসব আলতু-ফালতু কণ্ঠশিল্পী ও স্টারদের নিয়ে আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখা বোকামি বৈ কিছু নয়। আবেগের রঙিন ফানুস না উড়িয়ে; বাস্তবতার পাখনায় উড়া শিখতে হবে। আবেগ দিয়ে জীবন চলে না; জীবন চলে বাস্তবতা দিয়ে—এটা বুঝতে চেষ্টা করতে হবে। যে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে সুখে রাখবে, সেই স্বামীই তো জীবনের প্রকৃত স্টার।

টিকাঃ
১ সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৮০৯; আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ১২৭৬।
২ প্রাগুক্ত।
১ মুস্তাদরাক হাকিম, হাদিস: ৫২৭৩। ইমাম হাকিম নিশাপুরি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। ইমাম যাহাবি সমমত পোষণ করেছেন।
১ আল-আগানি: ২/১৭১, ইমাম আবুল ফারাজ ইস্পাহানি।

📘 গাইরত > 📄 গাইরত যখন হজের পথে বাধা

📄 গাইরত যখন হজের পথে বাধা


আরবের এই লোকটির নাম ছিল আশজায়ি। তার গাইরত এত বেশি ছিল যে, হজে আগত লোকেরা তার স্ত্রীকে দেখে ফেলবে—এজন্য বেচারা তার স্ত্রীকে হজে যেতে রুখে দিয়েছিলেন!
এটা যদিও শরিয়তে গ্রহণযোগ্য না, তবুও ঘটনা থেকে লোকটির স্ত্রীর ব্যাপারে সীমাহীন প্রায় গাইরত অনুভব করা যায়।
বেচারার এমন কঠিন পদক্ষেপের অবশ্য কারণ আছে। হজের সময় নারী ও পুরুষ হাজিদের ভিড় দেখে বেচারা ভড়কে যান। এরপর মন্তব্য করেন, ‘যে ব্যক্তি এই ভিড়ের মধ্যে তার স্ত্রীকে প্রবেশ করায়, সে পাগল ছাড়া কেউ নয়!’
এরপরই তিনি তার বাহনজন্তুর মুখ ফিরিয়ে দেন নিজ অঞ্চলের দিকে। এবং হজ না করেই চলে আসেন! আসার পথে কবিতা আবৃত্তি করেন :
وليس بحر من يوسط زوجة ... له بين أهل الموسم المتقصد وفيهم رجال كالبدور وجوههم ... فمن بين ذي طرف كثير وأمر
হজের ভিড়ে যে তার স্ত্রীকে নিয়ে আসে, মোটেও কোনো সম্মানী লোক নয় সে। হাজিদের মধ্যে আছে সুন্দর পুরুষ চাঁদবদন, কত দৃষ্টিপাতকারী ও শ্মশ্রুবিহীন তরুণ।১

টিকাঃ
১ মুহাযারাতুল উদাবা : ১/৪২৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00