📄 আল্লাহ তা’আলারও গাইরত আছে
গাইরত শুধু বান্দার গুণ নয়; এটি আল্লাহ তা'আলারও গুণ। আল্লাহও প্রচণ্ড গাইরতের অধিকারী। বরং স্রষ্টা হিসেবে তাঁর মাঝে সৃষ্টির চেয়েও বেশি গাইরত বিদ্যমান। এটি আমার কথা নয়; নবিজি -এর কথা। শুনুন তাহলে-
عن عبد الله بن مسعود قال : قال رسول الله ﷺ : ليس شيء أغير من الله، من أجل ذلك حرم الفواحش ما ظهر منها وما بطن.
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল বলেছেন, আল্লাহর চেয়ে বেশি গাইরতওয়ালা আর কেউ নেই। এজন্যই তিনি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব খারাপ কর্ম হারাম করেছেন।১
বুঝলাম-আল্লাহই বেশি গাইরতমন্দ, কিন্তু খারাপ কর্ম হারাম হওয়ার সাথে এর সম্পর্কটা কী? উত্তর হলো, খারাপ কর্মের সাথেই আল্লাহর গাইরতের সম্পর্ক। আল্লাহর গাইরতের বহিঃপ্রকাশ ঘটে হারাম কাজের ক্ষেত্রে। মানে আল্লাহ যেসব কাজ বান্দাদের জন্য হারাম সাব্যস্ত করেছেন, বান্দা সেসব কাজের কোনোটা করলে আল্লাহ খুব গাইরত অনুভব করেন। নিষেধ করা সত্ত্বেও বান্দা কোনো হারাম কাজ করলে আল্লাহর জন্য সেটা মেনে নেওয়া কষ্টকর। হাদিসে এসেছে-
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال رسول الله ﷺ : إن الله تبارك وتعالي يغار وإن المؤمن يغار وغيرة الله أن يأتي المؤمن ما حرم عليه.
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, নবি বলেন, 'নিশ্চয় আল্লাহ তা আ'লার গাইরত আছে। আল্লাহর গাইরত হলো-মুমিন যেন হারাম কোনো কাজে লিপ্ত না হয়।”
এ হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ তা'আলা যা নিষিদ্ধ করেছেন তাতে কেউ লিপ্ত হলে আল্লাহ তা'আলা গাইরতবোধ করেন। অর্থাৎ তিনি নারাজ হন। এটা এ কারণে যে, আল্লাহ তা'আলা প্রজ্ঞাময়। তিনি সর্বজ্ঞ ও দয়াময়। তিনি মানুষের জন্য যা ফরজ ও ওয়াজিব করেন, তার ভেতর তাদের দ্বীন-দুনিয়ার প্রভূত কল্যাণ নিহিত থাকে। যা হারাম করেন, তার মধ্যে নিহিত থাকে তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের প্রকৃত ক্ষতি। আদেশ-নিষেধ করার ভেতর তাঁর নিজের কোনো লাভ-ক্ষতি নেই। তিনি কোনো কিছু ফরজ এজন্য করেন না যে, বান্দা তা পালন করলে তাঁর নিজের কোনো লাভ হবে। আর যা নিষেধ করেন তাও এজন্য নয় যে, বান্দা তা পালন না করলে আল্লাহর ক্ষতি হবে। সমস্ত সৃষ্টি মিলেও যদি আল্লাহর অবাধ্যতা করে এবং পাপাচারে লিপ্ত হয়, তাতে আল্লাহর রাজত্বে কোনো কিছু কমবে না। আর সমস্ত সৃষ্টি মিলে আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য করলে তাতে আল্লাহর রাজত্বে এক কণাও বাড়বে না। তিনি আদেশ-নিষেধ করেন কেবলই বান্দার স্বার্থে।
তো আল্লাহ তা'আলা যখন কোনো কিছু হারাম করেন, তখন বান্দা কীভাবে সেই জিনিসে লিপ্ত হয়? বান্দার জানা আছে-আল্লাহ সব দেখেন, তিনি তার হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া দেখছেন। আল্লাহ সর্বশক্তিমান। তাঁর শাস্তি অতি কঠিন। এ কাজের জন্য তিনি তাকে শাস্তিদান করবেন। তা সত্ত্বেও মানুষ কীভাবে আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজ করতে পারে? তা করতে পারে তখনই, যখন সে কোনো কিছুকে পরোয়া করে না। যখন সে আল্লাহর শাস্তির ভয় করে না। যখন আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনই তার কাছে আসল মনে হয়। যখন শরিয়তের বিধানাবলি পালনের বিপরীতে নিজ খেয়াল-খুশিমতো চলাকেই বেছে নেয়। এটা মারাত্মক ভুল ও চরম ধৃষ্টতা। তাই আল্লাহর গাইরত হয়। এজন্য তাঁর পক্ষ থেকে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
মনে রাখা চাই, আল্লাহ তা আ'লার কোনো স্ত্রী, কন্যা নেই। তিনি এসব থেকে পূত-পবিত্র। তবুও তাঁর গাইরত রয়েছে। এটা তাঁর বিশেষ গুণ। আর হ্যাঁ, প্রকৃত অর্থে গাইরত শব্দটি কেবল মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। আল্লাহর জন্য এ শব্দটি ব্যবহৃত হয় রূপকার্থে। সেক্ষেত্রে আল্লাহর গাইরতের অর্থ হবে-অসন্তোষ ও শাস্তিদান।
টিকাঃ
১ সহিহ বুখারি : ৪২৮৯।
১ সহিহ বুখারি: ৫২২৩; মুসনাদে আহমাদ: ১৫৮৭৬; জামে তিরমিজি: ৩১৫৪।
📄 আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর গাইরত
সৃষ্টিজগতের মধ্যে নবিজি -এর গাইরাতই সবচেয়ে বেশি। আর নবিজির চেয়ে আল্লাহর গাইরত বেশি। সামনে এ ব্যাপারে হজরত সাদ ইবনে উবাদা রা.-এর একটি হাদিস আসবে। সাদের প্রচণ্ড গাইরত দেখে রাসুল বলেন, 'তোমরা কি সাদের গাইরত দেখে অবাক হচ্ছো? আমি তো তারচেয়েও বেশি গাইরতমন্দ। আর আল্লাহ, তিনি আমার চেয়েও আরও বেশি গায়তমন্দ।'১
স্ত্রীর ব্যাপারে নবিজির গাইরাত কেমন ছিল -সেটা শুনুন আম্মাজান আয়েশা রা.-এর মুখ থেকে। হাদিসটি হলো-
عن عائشة قالت: دخل علي رسول الله ﷺ وعندي رجل قاعد فاشتد ذلك عليه ورأيت الغضب في وجهه، قالت: فقلت: يا رسول الله إنه أخي من الرضاعة، قالت: فقال: انظرن إخوتكن من الرضاعة؛ فإنما الرضاعة من المجاعة.
আম্মাজান আয়েশা বলেন, 'একদিন রাসুল আমার ঘরে এসে দেখেন -আমার কাছে এক লোক বসে আছে। ব্যাপারটা নবিজির কাছে খুব ভারি হয়ে দেখা দিলো। নবিজির চেহারা মুবারকে আমি রাগের লক্ষণ দেখতে পাই। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, ইনি আমার দুধভাই। উত্তরে নবিজি বলেন, তোমাদের দুধভাইদের বিষয়গুলো ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে দেখো। কারণ, দুধপানের মাধ্যমে ভাই-বোনের সম্পর্ক তখনই হয়, যখন তা ক্ষুধা নিবারণের বয়সে পান করা হয়।'২
দেখুন, আম্মাজান আয়েশা রা. ছিলেন নবিজি -এর প্রিয়তমা স্ত্রী। যার সতীত্ব ও পূত-পবিত্রতার গ্যারান্টি স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজিদে দিয়েছেন। সেই নিষ্কলুষ স্ত্রীর কাছে অপরিচিত একটা লোক বসে থাকতে দেখে নবিজির গাইরত এতটাই জেগেছে যে, খোদ আম্মাজান আয়েশা রা. পর্যন্ত প্রিয়তম স্বামীর চেহারার ভাবমূর্তি দেখে বুঝে ফেলেছেন। পাশে বসা লোকটি স্ত্রীর দুধভাই জানার পরেও নবিজি অতিরিক্ত সতর্ক করে দিয়ে বললেন-কেউ শুধু এক মায়ের দুধ পান করলেই দুধভাই আর দুধবোন হয়ে যায় না; বরং একমাত্র দুধ পান করেই বেঁচে থাকার যে বয়স, সে বয়সে দুধ পান হতে হবে। সুতরাং এগুলোও খতিয়ে দেখতে হবে।
নবিজি-এর গাইরতের আরেকটি ঘটনা পাওয়া যায় উম্মে সালামাহ রা.-এর ঘরে। হাদিসটি হলো-
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ـ رضى الله عنها ـ دَخَلَ عَلَى النَّبِيُّ ﷺ وَعِنْدِي مُخَنَّثُ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ يَا عَبْدَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ الطَّائِفَ غَدًا فَعَلَيْكَ بِابْنَةِ غَيْلَانَ، فَإِنَّهَا تُقْبِلُ بِأَرْبَعٍ وَتُدْبِرُ بِثَمَانٍ، وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : لَا يَدْخُلَنَّ هَؤُلَاءِ عَلَيْكُنَّ.
উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে এক হিজড়া ব্যক্তি বসা ছিল, এমন সময়ে নবি আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি সে হিজড়া ব্যক্তিকে বলতে শুনলাম, সে আবদুল্লাহ ইবনে আবু উমাইয়া রা.-কে বলছে, হে আবদুল্লাহ! কী বলো, আগামীকাল যদি আল্লাহ্ তোমাদেরকে তায়েফের ওপর বিজয় দান করেন, তাহলে গাইলানের কন্যাকে অবশ্যই তুমি লুফে নেবে। কেননা সে এতই স্থূলদেহ ও কোমল যে, সামনের দিকে আসার সময়ে তার পিঠে চারটি ভাঁজ পড়ে আবার পিঠ ফিরালে সেখানে আটটি ভাঁজ পড়ে। উম্মে সালামা রা. বলেন, তখন নবি বললেন, এই হিজড়াদেরকে তোমাদের কাছে প্রবেশ করতে দিয়ো না।”১
আবদুল্লাহ ইবনে আবু উমাইয়া ছিলেন আম্মাজান উম্মে সালামাহ রা.-এর ভাই। আবার তিনি নবিজি-এর ফুফাতো ভাইও ছিলেন। আতিকাহ বিনতে আবদুল মুত্তালিবের ছেলে তিনি। ফলে নবিজির দুই দিকের আত্মীয় তিনি। তিনি তাঁর বোন উম্মে সালামাহর ঘরে এসেছিলেন। নবিজি যখন স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করেন, তখন তাদের ঘরে 'হিত' নামক একজন হিজড়া ব্যক্তিও ছিলেন।
হিজড়া লোকটির মুখে উচ্চারিত ব্যক্তি গাইলান ইবনে সালামাহ রা. ছিলেন একজন সাহাবি। অষ্টম হিজরিতে তায়েফ বিজয়ের পর তিনি মুসলিম হন। ইসলাম গ্রহণ করার আগে তিনি তায়েফের বনু সাকিফ গোত্রের সর্দার ছিলেন। সেই সময় নবিজি ﷺ তায়েফ বিজয়ের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলেন।
গাইলান সরদারের কন্যার দৈহিক আকার-আকৃতি সম্পর্কে ওই হিজড়ার জানাশোনা ছিল। তায়েফ বিজিত হলে বন্দি নারীরা তো দাসীর পর্যায়ে চলে আসবে। এজন্য তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবু উমাইয়াকে আগেভাগেই গাইলানের মেয়ে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করে দিচ্ছিলেন।
নবিজি মনে করতেন-হিজড়াদের নারী সম্পর্কে কোনো আগ্রহ নেই। তাই উম্মাহাতুল মুমিনিনদের জন্য হিজড়াদের সাথে পর্দা পালনে কোনোরূপ কড়াকড়ি করতেন না। কিন্তু প্রিয়তমা স্ত্রী উম্মে সালামাহর ঘরে এই হিজড়ার মুখে গাইলানের মেয়ের শারীরিক গঠন সম্পর্কে যে মন্তব্য করতে শুনলেন, তাতে বুঝতে পারলেন- হিজড়াদের মধ্যেও নারীদেহের প্রতি আকর্ষণ আছে! এতে প্রচণ্ড গাইরত অনুভব হয় নবিজির। তাই তৎক্ষণাৎ তিনি তাঁর ঘরে এই হিজড়াদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন।
নবিজির গাইরতের যতসব ঘটনা আছে, তন্মধ্যে মারিয়া কিবতিয়া রা.-এর সাথে ঘটে যাওয়া কাহিনিটাই বেশি সিরিয়াস। এ ঘটনা উল্লেখ করে প্রসঙ্গটা শেষ করেত চাই।
মিসরের বাদশাহ মুকাওয়াকিস, রাসুল-এর দাওয়াতি পত্রের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেন। হাদিয়া হিসেবে তিনি রাসুল-এর জন্য একজন দাসী পাঠান। তার নাম ছিল মারিয়া কিবতিয়্যাহ। রাসুলের সন্তান ইব্রাহিম ওই দাসীর গর্ভ থেকেই জন্ম নেন। তাঁর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কীয় একজন পুরুষও মিশর থেকে এসেছিল। সে মারিয়ার ঘরে যাতায়াত করত। একদিন রাসুল মারিয়ার ঘরে প্রবেশ করেন। মারিয়ার পাশে তখন ওই লোক বসা ছিল। তা দেখে রাসুল ﷺ এর আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। চেহারার রং পাল্টে যায়। তিনি বের হয়ে আসেন। রাস্তায় হজরত উমর রা.-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। হজরত উমর রা. রাসুলুল্লাহ -এর এই অবস্থা দেখে তলোয়ার নিয়ে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করতে যান। হজরত জিবরাইল আ. এসে মারিয়া ও তাঁর পাশে বসা ব্যক্তির পবিত্রতার সংবাদ দেন। এভাবে লোকটি বেঁচে যায়।১
রাসুল আমাদের জন্য আদর্শ। এটাই কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন। তাঁর প্রত্যেকটি কাজ, ওঠা-বসা, আচার-ব্যবহার অনুসরণীয়। তিনি নরম স্বভাবের ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও, নিজের দাসীর সঙ্গেও, অন্য পুরুষের ওঠা-বসাকে মেনে নিতে পারেননি; বরং তিনি তাঁকে হত্যার অনুমতি দিয়েছিলেন। তাহলে আপনি কীভাবে নিজের স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সঙ্গে হাসি-তামাশার জন্য অনুমতি দিতে পারেন?
টিকাঃ
১ সহিহ মুসলিম: ৬৩৪০।
২ সহিহ বুখারি : ২৫০৪; সহিহ মুসলিম: ১৪৫৫; মুসনাদে আহমাদ: ২৪৬৭৬; সুনানে আবু দাউদ : ২০৫৮; সুনানে নাসায়ি: ৩৩১২; সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৯৪৫।
১ সহিহ বুখারি: ৩৯৮৮।
১ রাওজাতুল মুহিব্বিন: ১/ ২৯৪, ইমাম ইবনু কাইয়িমিল জাওযিয়্যাহ।
📄 বউ বর্গা দেওয়া গাইরতহীনদের ইতরামি
নিজের বউকে বন্ধুর কাছে বর্গা দেওয়ার প্রচলন আছে অভিজাত সমাজে। বউ বর্গা দেওয়া মানে বউ অদল-বদল করা আরকি! যৌনজীবনে একঘেয়েমি কাটাতেই নাকি এলিটরা এই চরম সীমার বেহায়ামিটা করে থাকে! ফাইভ স্টার হোটেলে কিংবা নাইটক্লাবে এক বন্ধু আরেক বন্ধুর বউকে বাহুলগ্ন করে ইচ্ছামতো নাচানাচি করে। নাচ শেষ হলে বসে ঢকঢক করে মদপান করে। পিনিক উঠলে পরে একজন আরেকজনের বউকে জড়িয়ে ধরে আলাদা আলাদা কামরায় ঢুকে পড়ে। নাউজুবিল্লাহ!
মুসলিম কমিউনিটির এলিটদের মধ্যে এই নোংরা সভ্যতা আমদানি হয়েছে পশ্চিমা সভ্যতা থেকে। পশ্চিমা সমাজে নারীকে জাস্ট একজন সেক্স পার্টনার হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। নারীকে তারা কখনোই জীবনের পার্ট হিসেবে দেখে না। এজন্য পশ্চিমা সমাজে একটি কুত্তী আর নারীর মধ্যে কোনো বেশকম নেই! কুত্তীর ছানাগুলোর যেমন কোনো পিতৃপরিচয় নেই, পশ্চিমা নারীদের সন্তানেরও সেভাবে কোনো পিতৃপরিচয় থাকে না; সন্তানদের পরিচয় হয় মায়ের নামেই!
বউ বদলের এই নোংরা সংস্কৃতি মোটেও কোনো সভ্য সমাজের সংস্কৃতি নয়; এটি অশিক্ষিত, অসভ্য, বর্বর ও বুনো মানুষের সংস্কৃতি। জি, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইতিহাস তালাশ করলে এটাই বেরিয়ে আসে।
বিশ্বে এমন কিছু উপজাতি রয়েছে যারা পরকীয়া ঠেকাতে বউ বদল করে থাকে। হিমালয়ে বসবাসকারী এমন একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা ‘দ্রোকপা’ নামে পরিচিত। হিমালয়ের আর্য হিসেবেও অনেকেই চেনে তাদের। এই উপজাতি বিশেষ কোনো নিয়ম অনুসরণ করে না। তারা অনেকটা নিজেদের ইচ্ছেমতো জীবনযাপন করে থাকে। এরা একে অপরের প্রতি অনেক বন্ধুসুলভ এবং স্নেহশীল। বউ অদল-বদল করার রীতি তাদের কাছে খুবই সাধারণ।
একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায় নামিবিয়ান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ‘হিম্বা’ উপজাতির মাঝেও। এরা অবশ্য পুরোপুরি বউ বদল করে না। একজন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অতিথির সঙ্গে রাত কাটানোর সুযোগ দিয়ে থাকে। চাইলে এর বিরোধিতা করতে পারে স্ত্রী।
তবে স্বামীর কথা শুনেই স্ত্রীরা অতিথির সঙ্গে রাত্রিযাপন করে থাকে। এই রীতি তাদের মধ্যে 'ওকুজেপিসা ওমুকাজেন্দু' নামে পরিচিত।
উত্তরে আমেরিকা ও সাইবেরিয়ার বরফে বসবাসকারী এস্কিমো উপজাতিরাও এই ধরনের বউ বদল করে থাকে। নারী কিংবা পুরুষ যে কেউ তাদের ইচ্ছেমতো বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে যৌনমিলন করতে পারে। এস্কিমো উপজাতির একজনের স্ত্রীর সঙ্গে রাত কাটাতে পারে তার বন্ধু কিংবা সহোদররা। কারও স্বামী কাজের জন্য দূরে গেলে যে কারও সঙ্গে মিলন করতে পারে তার স্ত্রী। কোনো স্ত্রী চাইলে অন্যের সন্তান নিজের গর্ভে ধারণ করতে পারে।
আফ্রিকার নাইজেরিয়ার 'ওয়াড্ডাবে' উপজাতিরা অল্প বয়সে বিয়ে করে। কিন্তু পরে পরিণত বয়সে তারা অন্যের বৌ চুরি করে। এটাই তাদের রীতি। এবং চুরি করে যদি ধরা না পড়ে তাহলে, সেই জুটিকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়!
ইন্দোনেশিয়ায় পালিত হয় 'পোন উৎসব'। এই উৎসবটাই নাকি তাদের প্রার্থনা। পোন উৎসবে উপজাতিরা দল বেঁধে জাভা পাহাড়ে যায়। সেখানে তারা অবাধে যৌনতায় লিপ্ত হয়। তবে শর্ত একটা; নিজ নিজ স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য কারও স্বামী ও স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হতে হবে! বছরে সাতবার এই উৎসব হবে। এবং সাতবারই একই পার্টনারের সঙ্গে যৌনসঙ্গম করতে হবে। তাতেই পূর্ণ হবে প্রার্থনা!
এসব উপজাতির এমন রীতির প্রচলনের পেছনের কারণ; তারা মনে করে-এতে করে পরস্পরের মাঝে সম্পর্ক ভালো থাকবে। সবাই মিলে মিশে থাকলে সমাজে বা গোত্রে কোনো অন্যায় অত্যাচার বা হিংসা থাকবে না! কেউ কেউ তো বিশ্বাস করে, এমন রীতি অশুভ লক্ষ্মণ ও বিপদ-আপদ দূর হওয়ার মাধ্যম!
তো দেখা যায়, বউ বদলের এই নোংরা কালচার মূলত অসভ্য বুনো মানুষের। সেটাই এখন সভ্য জগতে 'লাইফ এঞ্জয়'র নামে অনুপ্রবেশ করেছে! প্রথমে এই বুনো সভ্যতা আমদানি করেছে পশ্চিমারা। পরে আস্তে আস্তে সেটা ছড়িয়েছে বিশ্বে নানান দেশে।
কিন্তু কথা হলো, এই নোংরা সভ্যতার সাথে মুসলিম সমাজের কী সম্পর্ক? এলিট সমাজের মুসলিম দাবিদার যারা এই চরম মাত্রার বেহায়ামির সাথে জড়িত, এরা শুধু দ্বীনহীন-ই না; গাইরতহীনই না; বদলোকই না; এরা জানোয়ার! বরং জানোয়ারের চেয়েও আরও নিকৃষ্ট। জানোয়ারের তো কোনো শিক্ষা নেই; সভ্যতা নেই; কিন্তু মানুষরূপী এই জানোয়ারদের তো শিক্ষা আছে! সভ্যতা আছে!
📄 গাইরত ও পর্দা: একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ
ইসলামি শরিয়াহর মৌলিক উৎস হলো কুরআন ও সুন্নাহ। কুরআন ও সুন্নাহ মানেই ইসলাম। কুরআন-সুন্নাহ ঘাঁটলে দেখা যায়, পুরুষকে পরনারীর ঘনিষ্ঠ হতে নিষেধ করা হয়েছে। আবার নারীকেও পরপুরুষের ঘনিষ্ঠ হতে বারণ করা হয়েছে। এটাই পর্দা। এটা ইসলামের ফরজ বিধান।
এই পর্দাই হলো গাইরত। গাইরত ও পর্দার অঙ্গাঅঙ্গি সম্পর্ক রয়েছে। কারণ, যার মধ্যে গাইরত আছে, সে তার অধীনস্থ নারীকে মোটেও বেপর্দা চলাফেরা করতে দেবে না। যে বেপর্দা চলাফেরা করতে দেবে, সে মূলত গাইরতহীন পুরুষ।
নারী-পুরুষের কোনো নির্জন স্থানে একাকী বাস, কিছুক্ষণের জন্যও লোকচক্ষুর অন্তরালে, ঘরের ভেতরে, পর্দার আড়ালে একান্তে অবস্থান শরিয়তে সম্পূর্ণরূপে হারাম। যেহেতু তা ব্যভিচার না হলেও ব্যভিচারের নিকটবর্তী করে, ব্যভিচারের ভূমিকা অবতারণায় সহায়িকা হয়। কোনো গাইরতমন্দ পুরুষ এটা করতে পারে না। এটার সুযোগ দিতে পারে না। এজন্য আল্লাহর নবি বলেন,
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلُ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانِ
'কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে একান্তে গোপনে অবস্থান না করে। এ রকম হলে তৃতীয়জন থাকে শয়তান।১
এ ব্যাপারে আমাদের এই সমাজে অধিক শৈথিল্য পরিলক্ষিত হয় দেবর-ভাবি ও শালি-দুলাভাইয়ের ক্ষেত্রে। অথচ এদের মাঝেই বিপর্যয় ঘটে বেশি কারণ 'পর চোরকে পার আছে, ঘর চোরকে পার নাই।' তাইতো নবিজি মহিলাদের জন্য তাদের দেবরকে মৃত্যুর সাথে তুলনা করেছেন।
হাদিসটা আগে উল্লেখ করেছি। তবুও প্রসঙ্গক্রমে এখানে আবারও উল্লেখ করা জরুরি। উকবা ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল বলেন,
إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَारِ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَفَرَأَيْتَ الحَمْوَ، قَالَ: الحَمْوُ الْمَوْتِ
'তোমরা নারীদের কাছে প্রবেশ করা হতে বিরত থাকো। এ কথা বলার পর একজন আনসারি ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, দেবরের বিষয়ে আপনি কী বলেন? নবিজি বলেন, দেবর হলো মৃত্যু সমতুল্য।”
অতএব, দেবরের সাথে মায়ের বাড়ি, আত্মীয়ের বাসা, ডাক্তারের চেম্বার; অনুরূপ দুলাভাইয়ের সাথে বোনের বাড়ি, মার্কেট বা কোনো বিলাস-বিহারে যাওয়া-আসা গ্রামে-গঞ্জে প্রথা হলেও শহরে এই ট্রেন্ড ফ্যাশন হিসেবে প্রচলিত। এটা একেতো পর্দার খেলাপ; তার ওপর ব্যাপারটা মারাত্মক গাইরতবিরোধী।
দেবর কিংবা দুলাভাই পরপুরুষ, তাদের সঙ্গে কোনো কামরা বা স্থানে নির্জনতা অবলম্বন, বাড়ির ঝি বা চাকরের সাথে গৃহকর্তা বা কর্ত্রী অথবা তাদের ছেলে-মেয়ের সাথে নিভৃত বাস, বাগদত্তা বর-কনের একান্তে আলাপ বা মিট করা, বন্ধু-বান্ধবীর একত্রে নির্জন বাস, লিফটে কোনো বেগানা যুবক-যুবতির একান্তে ওঠানামা, ডাক্তার ও নার্সের একান্তে চেম্বারে অবস্থান, টিউটর ও ছাত্রীর একান্তে নির্জন বাস ও পড়াশোনা, স্বামীর অবর্তমানে কোনো বেগানা আত্মীয় বা বন্ধুর সাথে নির্জন বাস, ট্যাক্সি ড্রাইভারের সাথে বা রিক্সায় রিকশাচালকের সাথে নির্জনে গমন, ভণ্ড পিরের কাছে কোনো নারীর নির্জনে মুরিদ হওয়া—সবই একই পর্যায়ের।
উল্লিখিত সব পরিস্থিতিই গাইরতের খেলাপ। গাইরত বিসর্জন দিয়ে কেউ এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে শয়তান তৃতীয়জন হয়ে অবৈধ বাসনা ও কামনা জাগ্রত করে কোনো পাপ সংঘটিত করতে চেষ্টা করে।
বারুদের নিকট আগুন রাখা হলে বিস্ফোরণ তো হতেই পারে। যেহেতু মানুষের মন বড় মন্দপ্রবণ এবং দুর্নিবার কামনা ও বাসনা মানুষকে অন্ধ ও বধির করে তোলে। তা ছাড়া নারীর মাঝে রয়েছে মনোরম কমনীয়তা, মোহনীয়তা এবং চপলতা। আর শয়তান তো মানুষকে অসৎ কাজে ফাঁসিয়ে দিয়ে আনন্দ বোধ করে থাকে। অনুরূপ কোনো বেগানা মহিলার সাথে নির্জনে নামাজ পড়াও বৈধ নয়।
তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর নিকট নিজের সন্তান দেখতে গিয়ে বা কোনো কাজে গিয়ে তার সাথে নির্জনতাও অনুরূপ। কারণ, সে আর স্ত্রী নেই। আর এমন মহিলার সাথে বিপদের আশঙ্কা বেশি। শয়তান তাদেরকে তাদের পূর্বের স্মৃতিচারণ করে ফাঁসিয়ে দিতে পারে।
বৃদ্ধ-বৃদ্ধার একান্তে বা তাদের সাথে যুবতি-যুবকের নির্জন বাস, কোনো হিজড়ার সাথে যুবক-যুবতির, একাধিক মহিলার সাথে কোনো একটি যুবক অথবা একাধিক পুরুষের সাথে এক মহিলার, কোনো সুশ্রী কিশোরের সাথে যুবকের নির্জন বাসও অবৈধ।
ব্যভিচার থেকে সমাজকে দূরে রাখার জন্যই ইসলাম গাইরতের গুরুত্বারোপ করেছে। এজন্য নারী-পুরুষে অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ করেছে। একই অফিসে, মেসে, ক্লাসরুমে, বিয়ে ও মরা বাড়িতে, হাসপাতালে, বাজারে প্রভৃতি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের একত্রে অবাধ মেলামেশা করা জায়েজ নয়।
মুসলিম নারীর শিক্ষার অর্থ এই নয় যে, তাকে বড় ডিগ্রি, বড় পদ, মোটা অঙ্কের চাকরি পেতে হবে। তার শিক্ষা জাতি গঠনের জন্য, সমাজ গড়ার জন্য, মুসলিম দেশ ও পরিবেশ গড়ার জন্য যতটুকু দরকার, ততটুকু শিখতে পারলেই যথেষ্ট; যদিও তা ঘরে বসেই হয়। তা ছাড়া পৃথক গার্লস স্কুল-কলেজ না থাকলে মিশ্র শিক্ষাঙ্গনে মুসলিম নারীর শিক্ষায় 'জল খেতে গিয়ে ঘটি হারিয়ে যাওয়া'র ঘটনাই অধিক ঘটে থাকে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষিত হওয়া যায় ঠিকই; কিন্তু আদর্শ মুসলিম হওয়া যায় না।
নারীর স্বনির্ভরশীলা হয়ে জীবনযাপন করায় গর্ব আছে ঠিকই; কিন্তু সুখ নেই। প্রকৃতির সাথে লড়ে আল্লাহর আইনকে অবজ্ঞা করে নানান বিপত্তি ও বাধাকে লঙ্ঘন করে অর্থ কামিয়ে স্বাধীনতা আনা যায় ঠিকই; কিন্তু শান্তি আনা যায় না। শান্তি আছে স্বামীর সোহাগে, স্বামীর প্রেম, ভালোবাসা ও আনুগত্যে। পরিত্যক্তা বা নিপীড়িতা হলে এবং দেখার কেউ না থাকলে মুসলিম রাষ্ট্র ও সমাজে তার কালাতিপাত করার যথেষ্ট সহজ উপায় আছে। যেখানে নেই সেখানকার কথা বিরল। অবশ্য দ্বীন ও দুনিয়ার প্রকৃত মূল্যায়ন করতে পারলে এ সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে উঠবে। যারা পরকালের চিরসুখের বিশ্বাসী, তারা জাগতিক কয়েকদিনের সুখ-বিলাসের জন্য দ্বীন ও ইজ্জত বিলিয়ে দেবে কেন?
গাইরত বিসর্জন দিলে ব্যভিচার সহজ হয়ে যায়। ব্যভিচারের প্রতি নিকটবর্তী হওয়ার এক সহজ পদক্ষেপ হলো-মহিলাদের একাকিনী কোথাও বের হওয়া। তাই 'সুন্দরী চলেছে একা পথে, সঙ্গী হলে দোষ কি তাতে?' বলে বহু লম্পট তাদের পাল্লায় পড়ে থাকে। ধর্ষণের হাত হতে অনেকেই রক্ষা পায় না। পারে না নিজেকে 'রিমার্ক' ও 'টিজ'র শিলাবৃষ্টি হতে বাঁচাতে। এজন্যই তো আল্লাহর রাসুল বলেন,
لَا تُسَافِرِ الْمَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ، وَلَا يَدْخُلُ عَلَيْهَا رَجُلٌ إِلَّا وَمَعَهَا مَحْرَمُ، فَقَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَخْرُجَ فِي جَيْشِ كَذَا وَكَذَا، وَامْرَأَتِي تُرِيدُ الحَجِّ، فَقَالَ: اخْرُجْ مَعَهَا
'কোনো মহিলা যেন মাহরাম পুরুষ ছাড়া একাকিনী সফর না করে, তার নিকট যেন মাহরাম ছাড়া কোনো বেগানা পুরুষ প্রবেশ না করে, এ কথা শুনে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি অমুক অমুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য সৈন্য দলে নাম লিখিয়েছি অথচ আমার স্ত্রী হজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন এখন আমি কী করব? রাসুল তাকে উত্তর দিলেন তুমি তার সাথে বের হও।১
দেখুন, জিহাদ ইসলামে ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। তারপরও রাসুল ওই সাহাবিকে নির্দেশ দিচ্ছেন, জিহাদ ছেড়ে স্ত্রীর সঙ্গে হজের সফরে যেতে। স্ত্রীকে একা না ছাড়তে। অথচ ওই সময়ের হাজিদের আত্মা ছিল সব ধরনের পাপ থেকে মুক্ত। নারীরাও ছিল পবিত্র। তারপরও রাসুল -এর এই নির্দেশ প্রমাণ করে, ইসলামে গাইরতের গুরুত্ব কত বেশি।
রাসুল অন্য হাদিসে বলেন : المَرْأَةُ عَوْرَةُ، فَإِذَا خَرَجَتْ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ
'নারী গুপ্ত জিনিস; সুতরাং যখন সে বাড়ি হতে বের হয়, তখন শয়তান তাকে পুরুষের দৃষ্টিতে রমণীয় করে দেখায়।'২
গাইরত বিসর্জন দেওয়ার মাধ্যমে ব্যভিচারের কাছে যাওয়ার আরও এক পদক্ষেপ হলো—কোনো এমন মহিলার নিকট কোনো আত্মীয় বা অন্য পুরুষের গমন যার স্বামী বর্তমানে বাড়িতে নেই, বিদেশে আছে। কারণ, এমন স্ত্রীর মনে সাধারণত যৌন ক্ষুধা একটু তুঙ্গে থাকে, তাই বিপদ ঘটাই স্বাভাবিক। স্ত্রী বা ওই পুরুষ যতই পরহেজগার হোক, তবুও না। এ বিষয়ে নবিজি বলেন:
لَا تَلِجُوا عَلَى المُغِيبَاتِ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ أَحَدِكُمْ مَجْرَى الدَّمِ، قُلْنَا: وَمِنْكَ؟ قَالَ : وَمِنِّي، وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمُ
'তোমরা সেই মহিলাদের নিকট গমন করো না, যাদের স্বামীরা বিদেশে আছে। কারণ, শয়তান তোমাদের রক্ত শিরায় প্রবাহিত হয়। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, আপনার শিরায়ও কি শয়তান প্রবাহিত হয়? তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, তবে আল্লাহ তা'আলা আমাকে সহায়তা করেন; তাই আমি নিরাপদ থাকি।'১
অপর আরেক হাদিসে নবিজি বলেন:
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَانَا أَنْ نَدْخُلَ عَلَى النِّسَاءِ بِغَيْرِ ن إِذْنِ أَزْوَاجِهِن
'আল্লাহর নবি আমাদেরকে নিষেধ করেছেন যে, আমরা যেন মহিলাদের নিকট তাদের স্বামীদের বিনা অনুমতিতে গমন না করি।'২
নারীদের জন্য সেন্ট বা পারফিউমড্ ক্রিম অথবা পাউডার ব্যবহার করে বাইরে পুরুষদের সম্মুখে যাওয়াও গাইরতের খেলাপ। এতে সেটা বোরকা-হিজাব পরে হলেও একই বিধান। এটা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হওয়ার জন্য সহায়ক। এভাবে সুবাস ছড়িয়ে পুরুষের পাশ দিয়ে যাওয়া মানে পুরুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করা! যেহেতু পুরুষের প্রবৃত্তি এই যে, মহিলার নিকট হতে সুগন্ধ পেলে তার যৌনচেতনা উত্তেজনায় পরিণত হয়। এজন্যই নবি বলেন:
كُلُّ عَيْنٍ زَانِيَةٌ، وَالمَرْأَةُ إِذَا اسْتَعْطَرَتْ فَمَرَّتْ بِالْمَجْلِسِ فَهِيَ كَذَا وَكَذَا يَعْنِي زَانِيَةً
'প্রত্যেক চক্ষুই ব্যভিচারী। আর নারী যদি সুগন্ধি ব্যবহার করে কোনো পুরুষের মজলিসের পাশ দিয়ে পার হয়ে যায় তাহলে সে এক ব্যাভিচারিণী।'১
গাইরত আছে—এমন কোনো নারী বেগানা পুরুষের সাথে ভাবভঙ্গী নিয়ে কিংবা মোহনীয় কণ্ঠে আলাপ করতে পারে না। এটা গাইরতওয়ালি নারীর সাথে যায় না। এটাও ব্যভিচারের নিকটবর্তীকারী পথসমূহের মধ্যে অন্যতম এক ছিদ্রপথ। এ বিপজ্জনক বিষয়ে সাবধান করে আল্লাহ তা'আলা নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন:
(يُنِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضِ)
'হে নবিপত্নীগণ, তোমরা অন্যান্য নারীদের মতো নও, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে পরপুরুষদের সাথে কোমল কন্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে ব্যাধিগ্রস্ত অন্তরের মানুষ প্রলুব্ধ হয়।'২
এজন্যই তো নামাজে ইমাম সাহেব ভুল করলে পুরুষ মুক্তাদিরা তাসবিহ বলে লুকমা দেবে, আর নারীরা হাততালি দিয়ে লুকমা দেবে; তাসবিহ উচ্চারণ করে নয়! এটা স্পষ্ট করে নবিজি হাদিসে বলে গেছেন। যাতে নারীর কণ্ঠে পুরুষের মনে যৌনানুভূতির জাগ্রত না হয়ে ওঠে।
সুতরাং, নারীকণ্ঠের গান যে পুরুষের জন্য অগ্নিবাণ, তা রুচিশীল মানুষের নিকট সহজেই অনুমেয়। আমাদের সমাজে এমন বহু হতভাগী নারী আছে, যারা স্বামীর সাথে কর্কশ কণ্ঠে কথা বলে; কিন্তু পরপুরুষের সাথে ঠিকই মোহনীয় স্বরে আলাপ করে! এমন নারী তো শুধু গাইরতহীনই নয়; সে রীতিমতো কণ্ঠবেশ্যাও বটে! এরা পরকালেও হতভাগী।
টিকাঃ
১ জামে তিরমিজি, হদিস: ১১৭১।
১ সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২৩২; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২১৭২; জামে তিরমিযি, হাদিস : ১১৭১।
১ সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৬২।
২ জামে তিরমিজি, হাদিস: ১১৩৭।
১ জামে তিরমিজি, হাদিস: ১১৭২।
২ জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৭৭৯।
১ জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৭৮৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৯০১৯; সহিহ ইবনে খুযাইমা, হাদিস: ১৬৮১। ইমাম তিরমিজি হাদিসটিকে হাসান সহিহ বলেছেন।
২সুরা আহযাব: ৩২।