📘 গাইরত > 📄 গাইরত : পুরুষের দায়িত্বশীল হওয়ার কারণ

📄 গাইরত : পুরুষের দায়িত্বশীল হওয়ার কারণ


মানুষ সামাজিক জীব। আর একটা সমাজ গড়ে ওঠে কিছু পরিবারকে কেন্দ্র করে। আর একটা পরিবার গড়ে ওঠে একজন অভিভাবককে কেন্দ্র করে। ফলে একটি পরিবারের অভিভাবক ঠিক, তো পরিবার ঠিক। পরিবার ঠিক তো সমাজ ঠিক, সমাজ ঠিক তো রাষ্ট্র ঠিক। দেখা যায়, একজন অভিভাবকের ওপর শুধু একটি পরিবার নয়; বরং সমাজ ও রাষ্ট্র পর্যন্ত নির্ভরশীল। ফলে প্রশ্ন আসে, একটা পরিবারের অভিভাবকত্বের জায়গাটা যেহেতু এতটাই গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে কে হবে অভিভাবক; পুরুষ নাকি নারী?
জি, ইসলামই এই প্রশ্নের সমাধান দিয়েছে। ইসলাম যেহেতু একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন-বিধান; ব্যক্তিজীবন থেকে নিয়ে পারিবারিক জীবন; সামাজিক জীবন; রাষ্ট্রীয় জীবন; এমনকি আন্তর্জাতিক জীবনেরও ফরমুলা রয়েছে ইসলামে, তাই ইসলাম অভিভাবকত্বের জায়গাটাও ঠিক করে দিয়েছে। ইসলাম বলেছে, অভিভাবকত্বের বাগডোর গ্রহণ করবে পুরুষ; নারী নয়। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেন :
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ
'পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল'।১
নারীর হাতে কর্তৃত্ব না দেওয়ার একটা কারণ তো হলো, পুরুষের তুলনায় নারীর দ্বীনও অর্ধেক, জ্ঞান-বুদ্ধিও অর্ধেক। মাসের একটা নির্দিষ্ট সময়ে নারী সালাত আদায় করতে পারে না। আবার গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল সমস্যায় পুরুষের মতো নারী সমাধান দিতে পারে না। পুরুষের তুলনায় নারীর যে জ্ঞান-বুদ্ধি অর্ধেক কম-এটা হাদিসের কথা। আমাদের সকলেরই জানা।
বিশ্বাস না হলে এমন ফ্যামিলির দিকে তাকান, যে ফ্যামিলি চলে নারীর কথায়। সেই ফ্যামিলিতে আপনি কোনো নীতি, নৈতিকতা বা কল্যাণ দেখতে পাবেন না। বলতে পারেন, বিশ্বের অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান তো নারী, তাহলে ওইসব দেশ কীভাবে চলে? আমি বলব, ওইসব দেশ শুধু ওই একক নারীর কথায় চলে না; চলে মূলত মন্ত্রীপরিষদের কথায়। মন্ত্রীপরিষদ ছাড়া শুধু এক নারীর হাতে চালিত দেশ কোথাও পাবেন না। এটা পসিবল না।
যাক, এবার মূল কথায় আসি। নারীর ওপর পুরুষের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের অন্য কারণটা হলো—গাইরত বা আত্মমর্যাদাবোধ। পুরুষের মতো নারীর কখনো গাইরত হয় না। গাইরত পুরুষের ফিতরাত বা মজ্জাগত স্বভাব। গাইরতই পুরুষের পুরুষত্বের মূল। পুরুষ তার স্বভাবগত গাইরতের কারণেই অধীনস্থ নারীকে হেফাজত করবে। প্রয়োজনে জীবন বাজি রাখবে। পুরুষের কাছে নারী ফুলের মতো। পুরুষ একটি ফুলকে বাঁচাবে বলে যুদ্ধ করতে পারে। এ ব্যাপারে সামনে কিছু ঐতিহাসিক বাস্তবতা তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ।
ওয়াল্লাহি, এটাই ইসলামের স্পিরিট। এজন্য স্বভাবগতভাবেই গাইরতসম্পন্ন পুরুষজাতিকে ইসলাম নারীজাতির অভিভাবকত্বের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে। হ্যাঁ, কোনো পুরুষের মধ্যে যদি কাঙ্ক্ষিত গাইরত পাওয়া না যায়, সেটার কারণ ভিন্ন; সেই পুরুষ আসলে তার ফিতরাতকে বিসর্জন দিয়েছে। নন-ইসলামিক শিক্ষা, দীক্ষা, চিন্তা, চেতনা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মূলত সে গাইরতহীন পুরুষে কনভার্ট হয়েছে। এমন কনভার্টেড পুরুষকে আসলে ইসলাম নারীজাতির দায়িত্ব দেয়নি; দিয়েছে মূলত গাইরতওয়ালা পুরুষকেই।১
ইমাম শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, 'মেয়েদের ব্যাপারে নারীদের তুলনায় পুরুষেরাই অধিক গাইরতবান হয়ে থাকে। ফলে কন্যাসন্তানের ওপর বাবার তুলনায় মায়ের গাইরত বেশি হয় না। অনেক মা তার মেয়ের জীবন নষ্ট করতে সহায়তা করে। জ্ঞান-বুদ্ধির স্বল্পতা হেতু, দ্রুত প্রবঞ্চিত হওয়ার সুযোগে এবং তুলনামূলক গাইরতে দুর্বলতা থাকার কারণে মা কন্যাকে ভুল পথে পা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এই সমস্যাটা বাবার মধ্যে পাওয়া যায় না। আর এজন্যই ইসলামি শরিয়ত কন্যার বিয়ে-শাদির দায়িত্ব বাবার ঘাড়ে রেখেছে; মায়ের ঘাড়ে রাখেনি। ইসলামি শরিয়তের সৌন্দর্যের অন্যতম দিক হলো, কন্যা যতদিন পর্যন্ত লালনপালন ও আদরযত্নের মুখাপেক্ষী থাকবে, ততদিন পর্যন্ত সে মায়ের দায়িত্বেই থাকবে। কিন্তু যেদিন থেকে সে বড় হয়ে যাবে এবং যুবকদের আগ্রহের বস্তুতে পরিণত হবে, সেদিন থেকে সে এমন কোনো দায়িত্বশীলের মুখাপেক্ষী, যে তার ব্যাপারে অধিক গাইরতমন্দ হবে এবং তার ভালো-মন্দ বেশি বুঝবে। আর সে ব্যক্তিটাই হলো বাবা।”
শাইখ সাইদ আলি আহমাদ সাদ বলেন, 'এজন্যই তো দেখা যায়— পুরুষের স্বভাবেই গাইরত বিদ্যমান থাকে। সে যতই পাপীতাপী হোক না কেন; নিজের স্ত্রী, কন্যা, বোনকে বেহায়ামি করতে দেখলে সহ্য করতে পারে না; রাগের আতিশয্যে অনেক সময় খুন পর্যন্ত করে ফেলে! কিন্তু নারীর মধ্যে এই স্বভাব দেখা যায় না; তার মধ্যে ঢিল ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা প্রাধান্য পায়।'২

টিকাঃ
১ সুরা নিসা: ৩৪।
১ ফাযাইলুল গাইরাহ আলান-নিসা: ১৭, হাম্মাদাহ মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ ইসমাইল।
১ আল-জাওয়াবুল কাফি : ৬৮, ইমাম ইবনুল কাইয়িম; যাদুল মাআদ : ৫/৪২৩, ইমাম ইবনুল কাইয়িম।
২ যাহিরাতু যাফিল গাইরাহ, পৃষ্ঠা : ২১, সাইদ আলি আহমদ সাদ।

📘 গাইরত > 📄 গাইরতমান্দ পুরুষই বউকে ভালোবাসে

📄 গাইরতমান্দ পুরুষই বউকে ভালোবাসে


স্ত্রীকে ভালোবাসার অন্যতম লক্ষণ হলো—পুরুষ তার স্ত্রীর ব্যাপারে জেলাসি ফিল করবে। মানে গাইরত রাখবে। বস্তুত গাইরতমন্দ পুরুষই তার স্ত্রীকে বেশি ভালোবেসে থাকে। আমার স্ত্রীর দিকে পরপুরুষ কেন কুনজরে তাকাবে—এটা যে পুরুষ মেনে নিতে পারে না, সে-ই আসল প্রেমিক। স্ত্রীর প্রতি এমন ব্যক্তির ভালোবাসাটাই খাঁটি। এমন পুরুষকেই গাইরতমন্দ বলে। আর যে পুরুষের মধ্যে গাইরত নেই, তার মধ্যে আসলে তার স্ত্রীর প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই। প্রেম নেই।
আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, দ্বীনহীন কমিউনিটিতে তথাকথিত শিক্ষিত অনেক এলিট পুরুষ এমন আছে, যারা হারাম রিলেশনের পর লাভ ম্যারেজ করেছে; বিয়ের পর তারা তাদের বউদের মুখে আটা-ময়দা মাখিয়ে, 'আমার বউ বিশ্বসুন্দরী'-এমন একটা ভাব ধরে হোটেল, রেস্তোরাঁ, বার, ক্লাব, আড্ডাক্যাফে, পার্ক, শপিংমল, মেলা, হসপিটাল ও পাবলিক প্লেসগুলোতে প্রদর্শন করাতে নিয়ে যায়, আর লোকেরা খোলা ম্যানহোলের মতো 'হ্যাঁ' করে তাকিয়ে থাকে তাদের বউদের খোলামেলা পোশাক ও সাজসজ্জার দিকে!
অথচ, এই লোকগুলোর অনেকেই যখন বিয়ের আগে হারাম রিলেশন করত, সে তার স্ত্রীর কেবলমাত্র একজন বয়ফ্রেন্ড ছিল, তখন পার্কে কিংবা কোনো পাবলিক প্লেসে তার গার্লফ্রেন্ডের দিকে অন্য কোনো ছেলে কুনজরে তাকালে, বা কোনোভাবে ইভটিজিং করলে দৌড়ে গিয়ে সেই ছেলের জামার কলার টেনে ধরত এবং রীতিমতো যুদ্ধ বাধিয়ে ফেলত—কেন সে তার গার্লফ্রেন্ডের দিকে তাকাল! এটা নিয়ে তো অনেক সময় বড়োসড়ো গন্ডগোল হয়েও যায়। এমনকি খুনখারাবিতে পর্যন্ত গিয়ে গড়ায়!
স্কুল, কলেজ ও ভার্সিটির ক্যাম্পাসে এইসব অপ্রীতিকর ঘটনা বেশিই হয়। জেনারেল শিক্ষিত ভাই-বোনেরা এসব দেখে অভ্যস্ত। তাদেরকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বিশ্বাস করানোর কিছু নেই। কিন্তু আমার কথা যাদের বিশ্বাস হবে না, তারা পারলে এটা নিয়ে গুগলে সার্চ করুন; ভুরি ভুরি ঘটনা সামনে আসবে।
অন্য কারও সাথে গার্লফ্রেন্ডের রিলেশন চলছে-বয়ফ্রেন্ডের এমন অমূলক সন্দেঃ থেকেই কিন্তু অনেক হারাম রিলেশনে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় এবং এক সময় সেটা ব্রেকাপে রূপ নেয়! গার্লফ্রেন্ডের ফেসবুকের ফ্রেন্ডলিস্টে অপরিচিত ছেলে থাক কিংবা অপরিচিত ছেলের লাইক-কমেন্ট করা এবং গার্লফ্রেন্ড কর্তৃক সেই ছেলের কমেন্টের গদগদে ভাষায় রিপ্লাই দেওয়া-এসব নিয়ে তো হারাম রিলেশনশিপ ভেঙে যাওয়ার ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে।
কিন্তু কেন? কখনো কি চিন্তা করেছেন-এটা কেন হয়? জি, এটা যে কারণে হয় সেটাই পুরুষের গাইরত। এই গাইরতই এত সব ঝগড়াঝাঁটি, খুনখারাবি, সন্দেহ, মনোমালিন্য ও ব্রেকআপের কারণ। প্রেমিক পুরুষ তার প্রেমিকাকে একান্ত নিজের আপন করেই ভাবতে চায়, এখানে যেকোনো এঙ্গেলেই অন্য কারও কোনো ধরনের সামান্যতম সংশ্লিষ্টতাও সে বরদাশত করতে চায় না! তবে এটাই যে ইসলামের গুরুত্বারোপকৃত 'গাইরত'- এটা সে জানে না!
হায় আফসোস, হারাম রিলেশনশিপে জড়িত ছেলেরা প্রেমিক থাকাকালে এই গাইরত অনুভব করে ঠিকই; কিন্তু বিয়ে করার পরপরই সেই গাইরত বিসর্জন দিয়ে দেয়! আগে কোনো একজন ছেলেও তার প্রেমিকার দিকে তাকালে তার গাইরতে লাগত, এখন স্বামী হয়ে সে নিজেই দায়িত্ব নিয়ে হাজারও পুরুষের কামুক দর্শন দ্বারা তার বউকে ধর্ষিতা বানাচ্ছে, কিন্তু এতে তার বিন্দুমাত্র গাইরতে লাগছে না! বাসর রাতে বউয়ের ভার্জিনিটি বিসর্জনের সাথে সাথে এদের গাইরতেরও কি বিসর্জন হয়ে যায়-আল্লাহ মালুম!
যাক, তো যে কথাটি বলতে শুরু করেছিলাম সেটা হলো, যে পুরুষের মধ্যে যত বেশি গাইরত, সে তার জীবনসঙ্গিনীকে তত বেশি ভালোবাসে। গাইরত হলো প্রেমিক পুরুষের গুণ। এজন্য সর্বকালেই উম্মাহর জ্ঞানী, গুণী ও মনীষীগণ নিজেদের গাইরত নিয়ে গর্ব করতেন। কথাবার্তায় প্রকাশ করতেন-তাদের যে খুব গাইরত আছে।
একজন আরব কবি তো কবিতার মাধ্যমেই স্ত্রীর প্রতি তার তীব্র গাইরতের বহিঃপ্রকাশ করেছেন এভাবে-
أغار عليها أن ترى الشمس وجهها ... وكل محب لمن يحب غيور
وفي النقاب حفظت نفسها ... وسر عشقي أن جمالها مستور
(কাব্যানুবাদ)
সূর্যও দেখুক আমার প্রেয়সী বধূর মুখ- মোর আত্মমর্যাদাবোধ করে না তা সায়, পৃথিবীতে আছে যতসব প্রেমিক পুরুষ প্রেয়সীর ক্ষেত্রে তারা গাইরতমন্দ, হায়! ভালোবাসি তার নেকাবে ঢাকা মুখখানি, সে যে প্রকাশ করে না রূপের ঝলকানি।১

টিকাঃ
১ ফাযাইলুল গাইরাহ আলান-নিসা: ৩৮, হাম্মাদাহ মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ ইসমাইল।

📘 গাইরত > 📄 গাইরতমান্দ পুরুষই নারীর পছন্দ

📄 গাইরতমান্দ পুরুষই নারীর পছন্দ


গাইরতমন্দ পুরুষই নারীর পছন্দের শীর্ষে। সে-কাল থেকে নিয়ে একালে। তবে যেকোনো নারী নয়; যে নারীর নিজের গাইরত আছে, ব্যক্তিত্ব আছে, জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিবেক আছে—এমন নারী তার জীবনে একজন গাইরতমন্দ পুরুষই চায়। কারণ, তার জীবনের সেফটি ও ইজ্জতের জন্য সে বাস্তবেই একজন গাইরতওয়ালা পুরুষের মুখাপেক্ষী। গাইরতহীন পুরুষ তো নিজের ইজ্জতই বোঝে না; স্ত্রীর ইজ্জত বুঝবে কোত্থেকে? গাইরতহীন পুরুষকে তো তার মতো আরেক গাইরতহীন নারীই পছন্দ করতে পারে!
জাহিলি যুগের নারীরাও খুব গাইরতওয়ালি হতেন। স্বামী হিসেবে গাইরতমন্দ পুরুষকেই পছন্দ করতেন। জি, এটা আমার কোনো কথা নয়; ইমাম আবু আলি কালি তাঁর বিখ্যাত কিতাব 'আল-আমালি'র মধ্যে উল্লেখ করেছেন। তিনি বিস্তারিতভাবে বলেছেন। আমি প্রয়োজন অনুসারে সংক্ষেপে উল্লেখ করছি—
ইসলামপূর্ব যুগ বলতে আমাদের মস্তিষ্কে আইয়ামে জাহিলিয়্যাতের এক অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়কাল ভেসে ওঠে। সেই অন্ধকার সময়েও নারীরা গাইরতমন্দ পুরুষকেই পছন্দ করত!
কুরাইশের সর্দার উতবা ইবনে রাবিআহর কন্যা হিন্দার কথা কে না জানে। রূপ-সৌন্দর্যে, জ্ঞান-বুদ্ধিতে গোটা আরবে তার মতো আরেকজন কন্যা মেলা ছিল ভার। তিনি ছিলেন কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান ইবনে হারব রা.-এর স্ত্রী। আবু সুফিয়ান রা. ছিলেন আবু জাহেলের পর মক্কার কাফেরদের নেতা। আজীবন ইসলামের বিরোধিতা করে গেছেন। অবশ্য মক্কা বিজয়ের পর স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই সাচ্চা মুসলিম হয়ে গিয়েছিলেন। এজন্য তাঁদের নামোচ্চারণের পর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলতে হয়।
বদরের যুদ্ধে হিন্দার বাবা উতবা ইবনে রাবিআহ, চাচা শাইবাহ ইবনে রাবিআহ ও ছেলে ওয়ালিদ ইবনে রাবিআহকে মুসলমানরা হত্যা করেন। এরপর থেকে হিন্দা উন্মাদিনীর মতো হয়ে যান। প্রতিশোধের আগুন তার বুকে দাউ দাউ করে জ্বলে। তার বাবা উতবাকে হত্যা করেছিলেন নবিজি -এর চাচা হামযাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা.। উহুদের যুদ্ধে হিন্দা তার হাবশি গোলাম ওয়াহশির মাধ্যমে হামযাহকে হত্যা করান। এরপর হামযাহর নাক, কান, ঠোঁট কেটে মালা বানিয়ে গলায় পরেন! বুক ফেঁড়ে কলিজা বের করে চিবিয়ে খান। এভাবেই তিনি তার বুকের দহন মেটান!
এবার একটু পেছনে যাই। হিন্দা তখন সেয়ানা মেয়ে। বিয়ের বয়স হয়েছে। কথায় আছে, 'গাছে বরই পাকলে সবাই একটা ঢিল মারে'। হিন্দার ক্ষেত্রেও তা-ই হলো। তার মতো রূপসী ও বুদ্ধিমতী মেয়েকে বধূ হিসেবে বরণ করে নিতে কুরাইশের যুবকেরা পাগল। তারা উতবা ইবনে রাবিআহর কাছে প্রস্তাব পাঠাতে লাগল। একে একে দুই দুইবার বিয়ে হয় হিন্দার। দুটি বিয়ের কাহিনিই বলছি। তবে অতি সংক্ষেপে। দুটির সাথেই গাইরতের সম্পর্ক রয়েছে।
কুরাইশ বংশের যুবক ফাকিহ ইবনে মুগিরা মাখযুমির সাথে হিন্দার প্রথম বিয়ে হয়। কিন্তু সে বিয়ে বেশি দিন টেকেনি; ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ফাকিহ ইবনে মুগিরার ঘরে বহু মানুষের যাতায়াত ছিল। ব্যাপারটা ভালো চোখে নিতে পারেননি ফাকিহ ইবনে মুগিরা; প্রচণ্ড গাইরতে লাগে তার। নিছক সন্দেহের বসে তিনি হিন্দাকে ব্যভিচারী বলে তালাক দিয়ে দেন!
মেয়ের তালাকের খবর শুনে হিন্দার পিতা উতবা ইবনে রাবিআহ রাগান্বিত হন। মেয়ের সতীত্বের গ্যারান্টি নিতে তিনি ইয়ামানের একজন বিখ্যাত ভবিষ্যৎবক্তার নিকট বিচার পেশ করেন। ইয়ামানের সেই ভবিষ্যৎবক্তা হিন্দাকে নিষ্পাপ ঘোষণা করেন। শুধু তা-ই নয়; পরবর্তী বৈবাহিক জীবনে হিন্দার কোল আলোকিত করে জন্মানো পুত্রসন্তান মুআবিয়া ভবিষ্যতে বাদশাহ হবেন বলে সুসংবাদও দেন।
এসব শুনে ফাকিহ ইবনে মুগিরাহ হিন্দাকে ফেরত নিতে চান। কিন্তু হিন্দা বিনতে উতবা ফাকিহের ঘর করতে আর রাজি হননি। যে স্বামী স্ত্রীর চরিত্রে কালিমা লেপন করে তালাক দিয়ে দেয়, তার ঘরে আবারও ফিরে যাওয়ার মতো মেয়ে ছিলেন না হিন্দা।১
ফাকিহ ইবনে মুগিরাহর সাথে হিন্দার ঘর ভাঙনের খবর পেয়ে কুরাইশের অনেকেই হিন্দাকে বিয়ে করতে চাইলেন। হিন্দা এখন আর সেই আগের মতো চুপটি মেরে বসে থাকা কিশোরী না; তিনি এখন পরিণত বয়সের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন মা। আগের ঘরে তার একজন পুত্রসন্তান হয়েছে। তাই নিজের মতামত ছাড়া কাউকে বিয়ে করতে রাজি নন তিনি। বাবার কাছে যে বিয়ের পয়গাম আসতেই আছে—ব্যাপারটা আঁচ করতে পেরে হিন্দা অকপটে তার বাবাকে বললেন,
: আব্বাজান! আমি সমঝদার নারী; আমার ব্যাপারে আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা রাখি। হুট করে কারও সাথে আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলবেন না; আমার কাছে আগে পাত্রদের অবস্থা পেশ করবেন।
: ঠিক আছে, মা।
একদিন উতবাহ ইবনে রাবিআহ বললেন, 'মা! আমার কাছে তোমাকে বিয়ে করার জন্য তোমার জাতি কুরাইশের দুজন যুবক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। আমি তাদের কারোরই নাম বলব না তোমাকে; শুধু গুণাগুণ বলব।'
এরপর উতবা ইবনে রাবিআহ বললেন, 'প্রথমজন হলো সম্ভ্রান্ত ও অভিজাত বংশের। উত্তম সাহচর্যের অধিকারী। দানশীল। তুমি তার আনুগত্য করলে সেও তোমার আনুগত্য করবে। তোমার সিদ্ধান্তেরই সে অনুগামী হবে। তুমি তার ধনসম্পদ ব্যয় করতে পারবে। তার পরামর্শ ছাড়া নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে...।'
উতবা ইবনে রাবিআহ বললেন, 'আর অপরজন হলো সম্ভ্রান্ত ও অভিজাত বংশের। মজবুত রায়ের অধিকারী। নিজ কওমের কাছে সে বড় সম্মানী। পরিবার-পরিজনকে সে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়, তাদের তাকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে হয় না। তারা তার আনুগত্য করলে সে তাদের সাথে নম্র আচরণ করে। আর তাকে পরিত্যাগ করলে সে তাদের ব্যাপারে কঠিন আকার ধারণ করে। লোকটি মারাত্মক গাইরতমন্দ...।'
বাবার মুখ থেকে হিন্দা দুজনের কথা শোনার পর বললেন, 'আব্বাজান! প্রথম পুরুষটি হচ্ছে আত্মসম্মান বিক্রিকারী...। আর অপর পুরুষটিই হচ্ছে একজন সম্মানিতা নারীর স্বামী হওয়ার যোগ্য। আমি এই পুরুষকেই আমার জন্য পছন্দ করছি। তাকে পাওয়ার জন্য আমি উদগ্রীব।'১
সেই গাইরতমন্দ পুরুষটি আর কেউ নন; তিনিই হলেন আবু সুফিয়ান ইবনে হারব। ব্যস, আবু সুফিয়ানের সাথে হিন্দার বিয়ে হয়। আর তাদের ঘর আলোকিত করে জন্ম নেন নবিজির প্রসিদ্ধ সাহাবি, কাতিবে ওহি হজরত আমিরে মুআবিয়া রা.। যিনি পরবর্তীকালে সত্যিই বাদশাহ হয়েছিলেন। মানে উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম খলিফা ছিলেন। আবু সুফিয়ানকে স্বামী হিসেবে পছন্দ করেছিলেন হিন্দা শুধুমাত্র গাইরতের কারণে।
যদিও আমাদের আলোচনা এখানেই শেষ হওয়ার মতো, তবুও আরও কিছু কথা না বলে পারছি না। হিন্দার বিয়ে প্রসঙ্গে কিন্তু জানার মতো চমৎকার অনেক কিছুই আছে।
হিন্দাকে বিয়ে করার জন্য উতবা ইবনে রাবিআহর কাছে আবু সুফিয়ানের পাশাপাশি অপর যে পুরুষ প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন সুহাইল ইবনে আমর রা.। তখন অবশ্য তিনি মুশরিক ছিলেন। বেচারা হিন্দাকে একান্ত করে না পাওয়ার কারণে দিলে খুব চোট পেয়েছিলেন। ভগ্নহৃদয়ে একটি কবিতাও রচনা করেছিলেন। কম যাননি আবু সুফিয়ানও; তিনিও আরেকটি কবিতায় পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন।১
ওদিকে কুরাইশের সুন্দরী ললনা হিন্দা বিনতে উতবার সাথে মুসাফির ইবনে আবু আমর নামি এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই যুবক দেখতে বেশ সুন্দর ও হ্যান্ডসাম ছিলেন। কাব্য প্রতিভাও ছিল তার। কিন্তু দরিদ্র ছিলেন। জ্ঞানগরিমা যা-ই থাক; কোনো পিতাই তার আদরের দুলালীকে গরিবের হাতে তুলে দেয় না—এটাই পৃথিবীর নিয়ম।
বাবা উতবা ইবনে রাবিআহ যে মুসাফির ইবনে আবু আমরকে মেনে নেবেন না—এটা খুব ভালো করে জানতেন হিন্দা। তিনি প্রেমিককে পাশের কোনো রাজ্যে গিয়ে কিছু সম্পদের মালিক হয়ে ফিরে আসতে বললেন। মুসাফির নিকটস্থ হিরা রাজ্যে নুমান ইবনুল মুনযিরের নিকট যাওয়ার কিছুদিন পর জানতে পারলেন—আবু সুফিয়ান ইবন হারব হিন্দাকে বিয়ে করেছেন।
মক্কা থেকে হিরায় গিয়ে একজন লোক মুসাফিরকে এই দুঃসংবাদটা দেয়। প্রিয়াকে হারানোর মনোবেদনা ও ডিপ্রেশনে মুসাফির অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার পেটে পানি জমে যায়। চিকিৎসক পানি বের করতে গিয়ে আগুন দ্বারা সেঁকা দেয়। এতে মারাত্মক কষ্ট হওয়ার কথা ছিল মুসাফিরের। কিন্তু মুসাফিরের ধৈর্য দেখে চিকিৎসক অবাক হয়ে গেলেন!
টুটাফাটা দিল নিয়ে মুসাফির নিজেই নিজেকে সম্বোধন করে নিম্নের চরণ দুটি আবৃত্তি করেছিলেন—
আলা ইন্না হিন্দান আছবাহাত মিনকা মুহর‍্রামান ... ওয়া আছবাহাত মিন আদনা হুমুতিহা হিমান ওয়া আছবাহাত কালমাছলুবি জাফনু ছিলাহু ... ইয়াক্বাল্লিবু বিলকাফফাইনি ক্বাওছান ওয়া আছহা
(কাব্যানুবাদ)
হে মুসাফির শুনো, হিন্দা তোমার জন্য নিষিদ্ধ হয়ে গেছে তার রক্ষকদের মধ্যে তুমিই হলে সবচেয়ে নিকৃষ্ট আর নিচু, তুমি তো সেই সেই খারাপ মানুষ, যে অস্ত্র কোষমুক্ত করে তির-ধনুক দু-হাত দিয়ে উল্টে-পাল্টে দেখে, নও তুমি উঁচু।১

টিকাঃ
১ তারিখু দিমাঙ্ক-তারাজিমুন-নিসা, ৪৪০-৪৪১; আল-ইকদুল ফারিদ, ৬/৮৯।
১ নাসরুদ-দুর ফিল মুহাযারাত: ৪/২৭, আবু সাদ আবি।
১ মাজমাউয-যাওয়ায়িদ: ৯/২৬৭-২৬৮।
১ আল-মুনাম্মাক ফি আখবারি কুরাইশ : ৩৭০; আলামুন-নিসা, ৫/২৪২।

📘 গাইরত > 📄 লজ্জাবতী নারীকেই পুরুষ পছন্দ করে

📄 লজ্জাবতী নারীকেই পুরুষ পছন্দ করে


লজ্জা নারীর ভূষণ। লজ্জায় নারীকে সুন্দর দেখায়। পরপুরুষ দেখে ফেলার ভয়ে ঘরে গুটিশুটি মেরে বসে থাকাও চূড়ান্ত সীমার লজ্জা। শুধু ইসলামেই না; জাহিলি যুগেও লজ্জাবতী নারীদের পছন্দ করতেন গাইরতমন্দ পুরুষেরা। নারীর লজ্জাও ছিল তাদের গর্ব করার উপলক্ষ্য। যাদের কাব্যিক প্রতিভা থাকত, তারা তো কাব্যকলিতে সেটা প্রকাশ করতেন।
এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'একবার সালিহ ইবনে হাসসান তার শিষ্যদের লক্ষ করে বললেন, তোমাদের এমন কোনো প্রণয়কাব্য জানা আছে, যেখানে স্বামী তার লজ্জাবতী স্ত্রীর প্রশংসা করেছে? তারা বললেন, হ্যাঁ, আরবের বিখ্যাত দানবীর হাতেম তায়ি তাঁর স্ত্রী মাবিয়্যাহ বিনতে উফাইরের লজ্জা নিয়ে একটি প্রণয়কাব্য লিখেছেন।
এরপর তারা একটি কবিতা আবৃত্তি করলেন। সালিহ বললেন, 'না; হয়নি।' তারা আরেকটি আবৃত্তি করলেন। সালিহ বললেন, 'তোমরা শুধুই ভুল করছো!' এরপর তিনি নিজেই জাহিলি যুগের আরব কবি আবু কাইস ইবনে আসলাতের একটি কবিতা আবৃত্তি করলেন-
يكرمها جاراتها فيزرنها ... وتعتل عن إيانهن فتعذر وليس لها أن تستهين بجارة ... ولكنها منهن تحيا وتخفر
(কাব্যানুবাদ)
তাকে তার প্রতিবেশিনীরা সম্মান করে তার সাথে সাক্ষাতে যায় নিয়মিত, কিন্তু সে কখনো তাদের কাছে যায় না ওজর-আপত্তি করে হয়ে বিনয়াবনত। প্রতিবেশিনীদের সে করে না তুচ্ছজ্ঞান, আসলে তার আছে লজ্জা চির অম্লান।১
(ব্যাখ্যা) আবু কাইস ইবনে আসলাت ছিলেন জাহিলি যুগে মদিনার প্রসিদ্ধ আউস গোত্রের শাখাগোত্র বনু ওয়াইলের একজন নেতৃস্থানীয় লোক। যুদ্ধে তাঁকে সালিশ মানা হতো। তিনি একত্ববাদী ছিলেন। ইসলামপূর্ব যুগে তিনি মূর্তিপূজা করতেন না। তাঁরই ছেলে হলেন বিখ্যাত সাহাবি উকবা ইবনে আবু কাইস রা.।
আবু কাইসের স্ত্রী ছিলেন খুবই লাজুক। প্রতিবেশিনীদের কাছে সম্মানিতা হওয়ায় তারা নিয়মিত তার ঘরে আসত। কিন্তু লজ্জার কারণে তিনি কখনো তাদের ঘরে যেতেন না। স্ত্রীর এই গুণ ভালো লাগল আবু কাইসের। তাই কবিতার মাধ্যমে স্ত্রীর গুণ গাইলেন। আবার স্ত্রীর প্রতি সুপ্ত ভালোবাসারও বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন।
ঘরের বউয়ের লজ্জাবতী হওয়া, সতীসাধ্বী হওয়া, পর্দা-আব্রুর মধ্যে থাকা, স্বামীর অজান্তেও চরিত্র ঠিক রাখা; খেয়ানত না করা—এসব শুধু ইসলামের নির্দেশ নয়; এসব নীতি ও নৈতিকতার কথা। ইসলাম যেহেতু নীতি ও নৈতিকতার জীবনব্যবস্থা, তাই এসব ব্যাপারে খুবই গুরুত্বারোপ করেছে।
যেকোনো কালে, যেকোনো সমাজে, যেকোন ধর্মে এইসব গুণ ছিল প্রশংসনীয়। এমনকি আইয়ামে জাহিলিয়াতের ঘোর তমসাচ্ছন্ন সমাজেও এসব গুণ নারীদের মাঝে বিদ্যমান ছিল। এমন গুণান্বিতা বধূরাই ছিল সেই অন্ধকার যুগেও স্বامীদের ভালোবাসার নারী। তাইতো সেই যুগের কবিদের কবিতায় এমন নারীর প্রশংসা ফুটে ওঠে। কবি আলকামা ইবনে আবদাহ ফাহল বলেন:
‏منعمة لا يستطاع كلامها ... على بابها من أن تزار رقيب ‏إذا غاب عنها البعل لم تفش سره ... وترضي إياب البعل حين يؤوب
(কাব্যানুবাদ) বধূ আমার কতই-না ভালো; সতীসাধ্বী নারী, এমনই এক বধূকে নিয়ে আমি জীবন দিচ্ছি পাড়ি।
দরজায় দাঁড়িয়ে তার সাথে কথা বলা বিষম দায়, না জানি কেউ দেখে ফেলে সেখানে দাঁড়িয়ে ঠায়! স্বামী দূরে গেলে সে স্বামীর গোপনীয়তা করে না ফাঁস স্বামীকে সন্তুষ্ট করে সে যখনই স্বামী ফিরে থেকে পরবাস।১
জাহিলি যুগে নারীদের অতিশয় লাজুকতা ও পর্দাবৃতা থাকা নিয়ে কত কবিতাই বা আর বলা যায়! সে যুগের নামকরা কবি সাবিত ইবনে আউস আজদি, যিনি 'শানফারা আজদি' নামে পরিচিত, তার একটি কবিতায় নিজ জীবনসঙ্গিনীকে নিয়ে প্রশংসা করেছেন এভাবে—
لَقَد أَعْجَبَتْنِي لَا سُقُوطاً قِنَاعُهَا ... إِذَا مَا مَشَتْ وَلَا بِذَاتِ تَلَفَّتِ أميمة لا يُخْزى نَثَاها حَلِيلُها ... إذا ذُكِرَ النسوانُ عَفَّتْ وَجَلَّتِ إذا هُوَ أَمسى آبَ قُرَّةَ عَيْنِهِ ... مَابَ السَعِيدِ لَم يَسَل أَينَ ظَلَّتِ (কাব্যানুবাদ)
তাকে ভালোবাসি এজন্য, পড়ে না মাথার ওড়না তার, চলতে গিয়েও এদিক-ওদিক তাকায় না তো আর। সে স্বল্পবয়সী মা, স্বামীকে নিয়ে মন্তব্য করে না কদাচিৎ, ভালো হোক কিংবা মন্দ; যাতে স্বামী তার হয় না লাঞ্ছিত। তার সামনে যখন নারীরা স্বামীদের করে নানান আলাপ, সে তখন চুপ থাকে, সম্মানিতা বেশে, করে না প্রলাপ। সৌভাগ্যবান স্বামী যখন ফিরে আসে তার জুড়িয়ে নয়ন, বধূকে জিজ্ঞাসে না সে এতদিন কোথায় করেছে শয়ন!২
(ব্যাখ্যা)
স্ত্রীর মাথায় ঘোমটা থাকে সব সময়। নিজের আব্রু মেইন্টেইন করে চলে সে। হাঁটার সময়ও সে আনতনয়না হয়ে চলে, যাতে পরপুরুষের ওপর দৃষ্টি না পড়ে। স্বামীর ব্যাপারে অন্যান্য নারীদের সঙ্গে সে ভালো-মন্দ কিছুই আলাপ করে না; চুপচাপ অন্যদের কথা শুধু শুনে যায়। তার চোখের শীতলতা হলো তার স্বামী। স্বামী দূরে থাকলে সে চরিত্রের হেফাজত করে। স্ত্রী যে সতীসাধ্বী—এটা খুব ভালো করে জানে তার স্বামী। এজন্য দূরের সফর থেকে ফিরে স্ত্রীকে মোটেও জিজ্ঞেস করে না—স্বামীর বর্তমানে কোথায় সময় যাপন করেছে সে?

টিকাঃ
১ রাওজাতুল মুহিব্বীন: ২৩৯, ইবনুল কাইয়িম, দারুল কুতুবিল ইলমিইয়াহ।
১ আল-মুফাযযালিয়্যাত, পৃষ্ঠা: ৩৯১।
২ আল-মুফাযযালিয়্যাত, পৃষ্ঠা: ১০৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00