📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ১. যিকিরের মাধ্যমে

📄 ১. যিকিরের মাধ্যমে


আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন—

وَاذْكُر رَّبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيْفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ وَلَا تَكُنْ مِّنَ الْغَافِلِينَ

আর স্মরণ করতে থাকুন স্বীয় পালনকর্তাকে আপন মনে ক্রন্দনরত ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং এমন সুরে যা চিৎকার করে বলা অপেক্ষা কম; সকালে ও সন্ধ্যায়। আর আপনি গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। [সূরা আ'রাফ : ২০৫]

গাফলতির মোকাবিলায় যিকিরের প্রভাব অনেক বেশি। গাফলতির প্রতিরোধে যিকিরের ক্রিয়া অত্যন্ত শক্তিশালী। একজন মুসলিমকে গাফলতির বলয় ও পরিমণ্ডল থেকে বের করে আনার ক্ষেত্রে যিকির অনেক বড় ক্রিয়াশীল মাধ্যম। বান্দা যত বেশি যিকির থেকে গাফেল থাকবে, তত বেশি সে আল্লাহ থেকে দূরে সরে যাবে। পক্ষান্তরে বান্দা যত বেশি যিকিরের দিকে ফিরে আসবে এবং যিকিরে লিপ্ত থাকবে, তত বেশি তার অন্তর জীবিত ও জাগ্রত হবে এবং অন্তর থেকে গাফলত দূর হতে থাকবে।

📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ২. দোয়ার মাধ্যমে

📄 ২. দোয়ার মাধ্যমে


দোয়া গাফলতি দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে। বিশেষত মানুষ যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত মাসূর ও সহীহ দোয়া-দরুদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে এ ব্যাপারে প্রার্থনা করে। যেমন—

আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম ﷺ এ বলে দোয়া করতেন—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ وَالْبُخْلِ وَالْفَقْرِ وَالْقِلَّةِ وَالذِّلَّةِ وَالْمَسْكَنَةِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفَقْرِ وَالْكُفْرِ وَالشِّرْكِ وَالنِّفَاقِ وَالسُّمْعَةِ وَالرِّيَاءِ.

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, বার্ধক্য, নির্দয়তা, গাফলতি, লাঞ্ছনা ও নিঃস্বতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আমি আপনার কাছে আরও আশ্রয় প্রার্থনা করি দরিদ্রতা, কুফরি, শিরক, নিফাক, সুখ্যাতি কামনা ও রিয়া থেকে। [সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ১০২০, মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ১৯৪৪]

📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ৩. কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে

📄 ৩. কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে


আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন—

مَنْ قَامَ بِعَشْرِ آيَاتٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنَ الْغَافِلِينَ وَمَنْ قَامَ بِمِائَةِ آيَةٍ كُتِبَ مِنَ الْقَانِتِينَ وَمَنْ قَامَ بِأَلْفِ آيَةٍ كُتِبَ مِنَ الْمُقَنْطِرِينَ.

যে ব্যক্তি [রাতের নামাজে] দশটি আয়াত তিলাওয়াত করবে, তাকে গাফেলদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে না। আর যে ব্যক্তি [রাতের নামাজে] এক শত আয়াত তিলাওয়াত করবে, তাকে অনুগত বান্দাদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে। আর যে ব্যক্তি [রাতের নামাজে] এক হাজার আয়াত তিলাওয়াত করবে, তাকে অফুরন্ত পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩৯৮]

📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ৪. কবর যিয়ারতের মাধ্যমে

📄 ৪. কবর যিয়ারতের মাধ্যমে


যে সকল বিষয় মানুষ থেকে গাফলতি দূর করে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কবর যিয়ারত করা। কবর যিয়ারত গাফেলদের চোখ থেকে গাফলতের পর্দা সরিয়ে দেয়। যেমন— আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রথমে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন। পরবর্তীতে ইরশাদ করেছেন—

أَلَا إِنِّي قَدْ كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا فَإِنَّهَا تُرِقُّ الْقَلْبَ وَتُدْمِعُ الْعَيْنَ وَتُذَكِّرُ الْآخِرَةَ.

ওহে! শুনে রাখো! আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত থেকে নিষেধ করতাম। তারপর আমার কাছে স্পষ্ট হলো— কবর যিয়ারত অন্তরকে নরম করে, চোখকে অশ্রুসিক্ত করে, আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। অতএব, এখন তোমরা কবর যিয়ারত করো। [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৩০৭৯]

গাফেলদের ব্যাপারে প্রশ্নকারী কয়েকজন ব্যক্তির প্রতি আব্দুল আযীয বিন বায (রা)-এর যে সকল ওসিয়ত ছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল— গাফেলদেরকে নিজেদের সঙ্গে কবর যিয়ারতে নিয়ে যাওয়া; এবং এ কাজটিকে তিনি ‘কল্যাণ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে পরস্পরের প্রতি সহযোগিতা’ বলে গণ্য করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px