📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ৯. সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শাস্তি : জাহান্নামে প্রবেশ

📄 ৯. সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শাস্তি : জাহান্নামে প্রবেশ


আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—

إِنَّ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا وَرَضُوا بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَاطْمَأَنُّوا بِهَا وَالَّذِينَ هُمْ عَنْ آيَاتِنَا غَافِلُونَ * أُولَئِكَ مَأْوَاهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ

নিঃসন্দেহে যেসব লোক আমার সাক্ষাৎ লাভের আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই উৎফুল্ল রয়েছে, তাতেই প্রশান্তি অনুভব করছে এবং যারা আমার নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে গাফেল; এমন লোকদের ঠিকানা হবে [জাহান্নামের] আগুন; সেসবের বদলাস্বরূপ যা তারা উপার্জন করেছিল। [সুরা ইউনুস : ৭-৮]

অপর এক আয়াতে তিনি ইরশাদ করেছেন—

وَاقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ فَإِذَا هِيَ شَاخِصَةٌ أَبْصَارُ الَّذِينَ كَفَرُوا يَا وَيْلَنَا قَدْ كُنَّا فِي غَفْلَةٍ مِّنْ هَذَا بَلْ كُنَّا ظَالِمِينَ

অমোঘ প্রতিশ্রুত সময় নিকটবর্তী হলে কাফেরদের চক্ষু উচ্চে স্থির হয়ে যাবে; হায় আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা এ বিষয়ে গাফেল ছিলাম; বরং আমরা ছিলাম সীমালঙ্ঘনকারী। [সুরা আম্বিয়া : ৯৭]

অন্যত্র তিনি ইরশাদ করেছেন—

وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لَّا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَّا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ

আর আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তা দ্বারা তারা বিবেচনা করে না; তাদের চোখ রয়েছে, তা দ্বারা তারা দেখে না; আর তাদের কান রয়েছে, তা দ্বারা তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হলো গাফেল, খেয়ালপরায়ণ। [সুরা আ'রাফ : ১৭৯]

এ সকল গাফেলের অন্তর কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অন্তর শিক্ষাপ্রাপ্তি, উপদেশলাভ ও চিন্তা-ফিকির করা থেকে বিমুখ হয়ে গেছে। তাদের চোখ দেখা থেকে অন্ধ হয়ে গেছে। তাদের কান হক কথা শোনা থেকে বধির হয়ে গেছে। আর এজন্যই তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তারা আরও অধিক পথভ্রষ্ট। তারাই হলো গাফেল।

অচিরেই কেয়ামতের দিন হিসাব-নিকাশের সময় প্রত্যেক গাফেলকে বলা হবে—

لَّقَدْ كُنْتَ فِي غَفْلَةٍ مِّنْ هَذَا فَكَشَفْنَا عَنْكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ

তুমি তো এই দিন সম্পর্কে গাফেল ছিলে। এখন তোমার কাছ থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছি। ফলে আজ তোমার দৃষ্টি প্রখর। [সুরা ক্ব-ফ : ২২]

অর্থাৎ তুমি একটি পর্দার আড়ালে ছিলে। ফলে তুমি মৃত্যু-পরবর্তী কিছুই দেখতে পাচ্ছিলে না। বিধায় তাকে কিছুই মনে করছিলে না এবং তার জন্য কোনো ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলে না। তা নিয়ে ভাবছিলেও না। অতঃপর আজ আমি তোমার থেকে পর্দা সরিয়ে দিলাম— তোমার রুহ কবজ করার মাধ্যমে। ফলে আজকের বিপদ-আপদ ও ভয়াবহ অবস্থা নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করলে। ভয়-ভীতি ও সন্ত্রস্ততার আধিক্য আজ তোমার চোখগুলো ডানে-বামেও ফেরাতে পারছ না। বরং ভয়-ভীতি ও আতঙ্ক আজ তা স্বস্থানে সুস্থিত।

নিঃসন্দেহে গাফলতির শেষ পরিণাম সহজ হয় না। বরং কখনও তা গাফেলদেরকে উভয় জগতের ক্ষতিগ্রস্ততায় নিক্ষেপ করে। আমরা আল্লাহর দরবারে গাফলতি থেকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা কামনা করছি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px