📄 ৩. আল্লাহ -র রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া
ইউসাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি হিজরতকারী মহিলা সাহাবীদের একজন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের বলেছেন—
عَلَيْكُنَّ بِالتَّسْبِيحِ وَالتَّقْدِيسِ وَالتَّهْلِيلِ وَاعْقِدْنَ بِالْأَنَامِلِ فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولَاتٌ مُسْتَنْطَقَاتٌ وَلَا تَغْفُلْنَ فَتَنْسَيْنَ الرَّحْمَةَ
অবশ্যই তোমরা তাসবীহ [সুবহানাল্লাহ], তাহলীল [লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ] ও তাকদীস [সুব্বূহুন রব্বুনা ওয়া রব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ অথবা সুবহানা মালিকিল কুদ্দুস] আঙ্গুলের গিরায় হিসাব করে পড়বে। কেননা, এগুলো [কেয়ামতের দিন] জিজ্ঞাসিত হবে; এগুলো কথা বলবে। আর তোমরা গাফেল হয়ো না। তা হলে তোমরা রহমতকে ভুলে যাবে। [সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৫০]
মোল্লা আলী কারী বলেন, এর অর্থ হচ্ছে— তোমরা যিকির ত্যাগ করো না। যদি তোমরা যিকির ত্যাগ করো, তা হলে তোমরা সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। আর এভাবেই কেমন যেন তোমরা রহমতকে পরিত্যাগ করলে। [তুহফাতুল আহওয়াযী : ১০/১০]
টিকাঃ
১. أَنَامِلُ [অ্যানামিল] শব্দটি মীম ও হামযা হরফে তিনটি রূপ হয়ে মোট নয়টি লুগাতে পাওয়া যায়। এর অর্থ হলো— আঙ্গুলের ওই স্থান, যেখানে নখ থাকে। এর বহুবচন হচ্ছে— أَنَامِلُ ও أَنَامِلَاتُ। (আল কাসমুল মবীন, নুন অধ্যায় : ১/১৭৬)
২. مُسْتَنْطَقَاتٌ অর্থাৎ তারা [আঙ্গুলগুলো] কথা বলার বৈশিষ্ট্যগুণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়ে কথা বলবে। অতঃপর এগুলোর অধিকারীর পক্ষে সাক্ষ্য দিবে কিংবা তার কৃতকর্মের কারণে তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে। (আউনুল মা‘বুদ : ৪/২৯৬)
📄 ৪. দোয়া কবুল না হওয়া
আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজী ﷺ ইরশাদ করেছেন—
ادْعُوا اللَّهَ وَأَنْتُمْ مُوقِنُونَ بِالْإِجَابَةِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَجِيبُ دُعَاءً مِنْ قَلْبٍ غَافِلٍ لَاهٍ
তোমরা কবুল হওয়ার পূর্ণ আস্থা নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। জেনে রেখো! নিশ্চয় আল্লাহ গাফেল, উদাসীন ও অমনোযোগী মনের দোয়া কবুল করেন না। [সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৪৫৮]
অর্থাৎ আপনার দোয়ার সময় আল্লাহর প্রতি আপনার দোয়া কবুলের বিশ্বাস ও ইয়াকীন যেন মজবুত হয়। আপনি সে সমস্ত গাফেল হৃদয়ের অধিকারীদের ন্যায় হবেন না, যারা দোয়ার নির্দিষ্ট সময়ে হাত তো ওঠায়, কিন্তু তারা নিজেরাই জানে না— তারা কী বলে বা কী নিয়ে দোয়া করে! অথবা আপনি তাদের মতো হবেন না, যারা ইমামের সাথে ‘আমীন আমীন’ বলে ঠিকই, কিন্তু ইমাম দোয়ায় কী বলছেন সে দিকে তাদের কোনো খেয়াল নেই। অতএব, এই যার অবস্থা, তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?!
📄 ৫. শয়তানের প্রাধান্য
গাফেলদের উপর শয়তান প্রাধান্য বিস্তার করে। একজন মানুষ যখন তার ঘরে প্রবেশ করে এবং প্রবেশ করার সময় আল্লাহর যিকির [স্মরণ] থেকে গাফেল থাকে, তখন শয়তান তার উপর বিজয়ী হয়ে যায়; তার উপর ভর করে বসে। তার সাথে তার ঘরে প্রবেশ করে এবং তার সাথে তার ঘরে রাত যাপন করে। তদ্রূপ যখন সে খাবার খাওয়ার সময় আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হয়ে যায়, তখন শয়তানও তার সাথে খাবার খায়।
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী কারীম ﷺ-কে ইরশাদ করতে শুনেছেন—
যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশের সময় এবং খাবার গ্রহণের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে, তখন শয়তান [হতাশ হয়ে তার সঙ্গীদের] বলে, [এখানে] তোমাদের রাত্রিযাপনও নেই, খাবারও নেই। আর যখন সে প্রবেশ করে এবং প্রবেশকালে আল্লাহর নাম স্মরণ করে না, তখন শয়তান বলে, তোমরা থাকার স্থান পেয়ে গেলে। অতঃপর যখন সে খাবারের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে না, তখন শয়তান বলে, তোমাদের রাত্রিযাপনের স্থান এবং খাবারও পেয়ে গেলে। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২০১৭]
📄 ৬. গাফলতির পর গাফলতি
এক গাফলতি আরেক গাফলতিকে টেনে আনে। দ্বিতীয় গাফলতি তৃতীয় গাফলতিকে টেনে আনে। এভাবে একটার পর এক গাফলতি পরবর্তী গাফলতিকে টেনে আনতেই থাকে। এ পর্যায়ে মানুষ গাফলতি ও প্রবৃত্তির সাথে ডুবে যায়। সেখান থেকে বের হওয়ার সামর্থ্য আর তার থাকে না— যতক্ষণ না আল্লাহর বিশেষ দয়া, মেহেরবানি ও খাস রহমত তাকে বের করে আনে।
বহু ফাসেক ও গুনাহগার এমন আছে, যার শুরুটা হয়েছিল একটি মাত্র গাফলতি দিয়ে। কিন্তু সে তার মোকাবিলা করতে পারেনি এবং কোনোদিন তা থেকে তাওবা করে ফিরে আসতে পারেনি!