📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ১. দুনিয়াতে শাস্তিযোগ্য হওয়া

📄 ১. দুনিয়াতে শাস্তিযোগ্য হওয়া


আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِآيَاتِ رَبِّهِ فَأَعْرَضَ عَنْهَا وَنَسِيَ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ ۚ إِنَّا جَعَلْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَنْ يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا ۖ وَإِنْ تَدْعُهُمْ إِلَى الْهُدَىٰ فَلَنْ يَهْتَدُوا إِذًا أَبَدًا

আর যখন তাদের উপর কোনো আযাব পতিত হয়, তখন বলে, হে মূসা! আমাদের জন্য তোমার পরওয়ারদিগারের নিকট সে বিষয়ে দোয়া কর, যা তিনি তোমার সাথে ওয়াদা করে রেখেছেন। যদি তুমি আমাদের উপর থেকে এ আযাব সরিয়ে দাও, তবে অবশ্যই আমরা ঈমান আনব তোমার উপর এবং তোমার সাথে বনী ইসরাঈলকে ছেড়ে দেব। অতঃপর যখন আমি তাদের উপর থেকে আযাব তুলে নিতাম নির্ধারিত একটি সময় পর্যন্ত, যেখান পর্যন্ত তাদেরকে পৌঁছানোর উদ্দেশ্য ছিল, তখন তড়িঘড়ি তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করত। সুতরাং, আমি তাদের কাছ থেকে বদলা নিয়ে নিলাম এবং তাদেরকে অতল সমুদ্রে নিমজ্জিত করে দিলাম। কারণ, তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল আমার নিদর্শনসমূহকে এবং এ ব্যাপারে তারা ছিল গাফেল। [সূরা আ‘রাফ : ১৩৪-১৩৬]

আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিলেন তাঁর নিদর্শনের প্রতি গাফেল থাকার কারণে।

📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ২. সত্যোপলব্ধি থেকে বঞ্চিত হওয়া

📄 ২. সত্যোপলব্ধি থেকে বঞ্চিত হওয়া


গাফলতির কারণে আল্লাহর আয়াত-নিদর্শন নিয়ে চিন্তা-ফিকির করা, তা অনুধাবন করা ও তা থেকে ফায়দা হাসিল করা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। এটি একটি ভয়াবহ শাস্তি; অত্যন্ত যাতনাকর বিষয়। যেমন, আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—

سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَإِنْ يَرَوْا كُلَّ آيَةٍ لَا يُؤْمِنُوا بِهَا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الرُّشْدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الْغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ

আমি আমার নিদর্শনসমূহ থেকে তাদের ফিরিয়ে রাখি, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে গর্ব করে। তারা আমার যাবতীয় নিদর্শন দেখলেও তাতে বিশ্বাস স্থাপন করবে না; হেদায়েতের পথ দেখলেও তাকে পথ বলে গ্রহণ করবে না। পক্ষান্তরে গোমরাহির পথ দেখলেও তাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করে নেয়। এটি এ জন্য যে, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং সে সম্পর্কে তারা ছিল গাফেল। [সূরা আ‘রাফ : ১৪৬]

অর্থাৎ আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ নিয়ে চিন্তা-ফিকির করার সুযোগ দিব না; তা থেকে তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে না। তারা আমার যাবতীয় নিদর্শনাবলি প্রত্যক্ষ করবে এবং সেসবের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, কিন্তু তা থেকে কোনো ফায়দা ও উপকারিতা হাসিল করতে পারবে না।

ইমাম বাইহাকী বলেন, এ বিষয়টি তাদের মিথ্যা অপবাদের কারণে এবং আল্লাহর আয়াত-নিদর্শনাবলি নিয়ে চিন্তা-ফিকির ছেড়ে দেওয়ার কারণে। এটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর একটি শাস্তি। কিন্তু গাফেলরা তা অনুধাবন করতে পারে না।

আল্লাহ গাফেলদেরকে আরও বড় গাফলতি দিয়ে শাস্তি দেন— উপযুক্ত ও পরিপূর্ণ প্রতিফলস্বরূপ। যেমন, তিনি ইরশাদ করেছেন—

فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ

অতঃপর যখন তারা বক্রতা অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরকে বক্র করে দিলেন। [সূরা ছফ : ৫]

তারা ওই অবস্থাকে পছন্দ করেছে, ফলে আল্লাহ তাদেরকে সত্য থেকে অন্ধ করে দিয়েছেন।

📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ৩. আল্লাহ -র রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া

📄 ৩. আল্লাহ -র রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া


ইউসাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি হিজরতকারী মহিলা সাহাবীদের একজন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের বলেছেন—

عَلَيْكُنَّ بِالتَّسْبِيحِ وَالتَّقْدِيسِ وَالتَّهْلِيلِ وَاعْقِدْنَ بِالْأَنَامِلِ فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولَاتٌ مُسْتَنْطَقَاتٌ وَلَا تَغْفُلْنَ فَتَنْسَيْنَ الرَّحْمَةَ

অবশ্যই তোমরা তাসবীহ [সুবহানাল্লাহ], তাহলীল [লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ] ও তাকদীস [সুব্বূহুন রব্বুনা ওয়া রব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ অথবা সুবহানা মালিকিল কুদ্দুস] আঙ্গুলের গিরায় হিসাব করে পড়বে। কেননা, এগুলো [কেয়ামতের দিন] জিজ্ঞাসিত হবে; এগুলো কথা বলবে। আর তোমরা গাফেল হয়ো না। তা হলে তোমরা রহমতকে ভুলে যাবে। [সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৫০]

মোল্লা আলী কারী বলেন, এর অর্থ হচ্ছে— তোমরা যিকির ত্যাগ করো না। যদি তোমরা যিকির ত্যাগ করো, তা হলে তোমরা সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। আর এভাবেই কেমন যেন তোমরা রহমতকে পরিত্যাগ করলে। [তুহফাতুল আহওয়াযী : ১০/১০]

টিকাঃ
১. أَنَامِلُ [অ্যানামিল] শব্দটি মীম ও হামযা হরফে তিনটি রূপ হয়ে মোট নয়টি লুগাতে পাওয়া যায়। এর অর্থ হলো— আঙ্গুলের ওই স্থান, যেখানে নখ থাকে। এর বহুবচন হচ্ছে— أَنَامِلُ ও أَنَامِلَاتُ। (আল কাসমুল মবীন, নুন অধ্যায় : ১/১৭৬)
২. مُسْتَنْطَقَاتٌ অর্থাৎ তারা [আঙ্গুলগুলো] কথা বলার বৈশিষ্ট্যগুণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়ে কথা বলবে। অতঃপর এগুলোর অধিকারীর পক্ষে সাক্ষ্য দিবে কিংবা তার কৃতকর্মের কারণে তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে। (আউনুল মা‘বুদ : ৪/২৯৬)

📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ৪. দোয়া কবুল না হওয়া

📄 ৪. দোয়া কবুল না হওয়া


আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজী ﷺ ইরশাদ করেছেন—

ادْعُوا اللَّهَ وَأَنْتُمْ مُوقِنُونَ بِالْإِجَابَةِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَجِيبُ دُعَاءً مِنْ قَلْبٍ غَافِلٍ لَاهٍ

তোমরা কবুল হওয়ার পূর্ণ আস্থা নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। জেনে রেখো! নিশ্চয় আল্লাহ গাফেল, উদাসীন ও অমনোযোগী মনের দোয়া কবুল করেন না। [সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৪৫৮]

অর্থাৎ আপনার দোয়ার সময় আল্লাহর প্রতি আপনার দোয়া কবুলের বিশ্বাস ও ইয়াকীন যেন মজবুত হয়। আপনি সে সমস্ত গাফেল হৃদয়ের অধিকারীদের ন্যায় হবেন না, যারা দোয়ার নির্দিষ্ট সময়ে হাত তো ওঠায়, কিন্তু তারা নিজেরাই জানে না— তারা কী বলে বা কী নিয়ে দোয়া করে! অথবা আপনি তাদের মতো হবেন না, যারা ইমামের সাথে ‘আমীন আমীন’ বলে ঠিকই, কিন্তু ইমাম দোয়ায় কী বলছেন সে দিকে তাদের কোনো খেয়াল নেই। অতএব, এই যার অবস্থা, তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?!

ফন্ট সাইজ
15px
17px