📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ১. দ্বীন শেখায় গাফলতি

📄 ১. দ্বীন শেখায় গাফলতি


দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা মানুষকে গুনাহে লিপ্ত করে। আর গুনাহ মানুষের অন্তরকে রুক্ষ ও কঠিন করে তোলে। এভাবে বান্দা আল্লাহ্ ও আখেরাত থেকে গাফেল হয়ে পড়ে।

– যে ব্যক্তি পুলসিরাত ও মীযানের অস্তিত্ব সম্পর্কেই অজ্ঞ, সে কীভাবে আখেরাতের হিসাব-নিকাশকে ভয় করবে?!

– যে জানে না— মানুষের অন্তর দয়াময় আল্লাহর দুই আঙুলের মাঝে থাকে; তিনি যেভাবে চান সেভাবেই তাকে পরিবর্তন করেন, সে জীবনের মন্দ পরিসমাপ্তিকে কীভাবে ভয় করবে?!

এ ধরনের অজ্ঞতা ও মূর্খতা মুসলিমদের মাঝে ফাটল তৈরি করে। পরস্পরে বিভেদ সৃষ্টি করে। নিজেদেরকে অন্ধকার ও গোমরাহিতে নিমজ্জিত করে। কখনো কখনো নেককার-বুযুর্গদের ব্যাপারেও গুনাহে লিপ্ত হতে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। কাজী আবূ বকর ইবনুল আরাবী রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা যাকে বিতাড়িত বলে মনে করেন, তিনি বলেন, একবার বিখ্যাত ফকীহ শায়খ তরতুশী রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা মুসলিম স্পেন সফরে গেলেন। নামায আদায়ের জন্য তিনি উপকূলীয় শহরের এক মসজিদে প্রবেশ করলেন। ওই মসজিদে তখন ইবনুল আরাবী রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা উপস্থিত ছিলেন।

শায়খ তরতুশী রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা নফল নামায আদায় করলেন। নামাযে রফউল ইয়াদাইন করলেন। অর্থাৎ রুকূতে যাওয়ার সময় এবং রুকূ থেকে ওঠার সময় হাত উঠালেন। এ আমলটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু স্পেনের মালেকী মাযহাবের অনুসারীদের মাঝে তখন হাত না ওঠানোর বর্ণনাটি প্রসিদ্ধ ছিল। তাদের আমলও ছিল সে অনুযায়ী।

যাইহোক, শায়খ তরতুশী রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা এর নামাযে হাত ওঠানোর বিষয়টি সেখানে উপস্থিত নৌবাহিনী-প্রধানের কাছে খারাপ মনে হলো। অথচ এ আমল সেখানকার মালেকী মাযহাবের অনুসারীদের প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত আমলের বিপরীত হলেও তা কিন্তু সুন্নাত দ্বারাই প্রমাণিত। মসজিদের এক পাশে বসে তখন ইবনুল আরাবী রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা নামাযের অপেক্ষা করছিলেন। এমতাবস্থায় নৌবাহিনী-প্রধান তার কয়েকজন সৈনিককে আদেশ করলেন শায়খ তরতুশী রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা-কে হত্যা করে সমুদ্রে ফেলে দিতে!

কাজী আবূ বকর ইবনুল আরাবী রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা বলেন, এ নির্দেশ শুনে আমার প্রাণ সারা দেহে ছোটোছুটি করতে লাগল! আমি তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ালাম। বললাম, আরে! ইনি তো যামানার বিখ্যাত ফকীহ শায়খ তরতুশী!

আমার কথা শুনে তারা আমাকে বলল, তা হলে তিনি নামাযে এভাবে হাত ওঠাতেন কেন?!

এরপর ইবনুল আরাবী রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা তাদের বোঝালেন— এটিও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত একটি আমল। এমনকি মালেকী মাযহাবের এক মতও এমনই; তবে সেটি প্রসিদ্ধ মত নয়। এভাবে এক পর্যায়ে তারা শান্ত হলো। [তাফসীরে কুরতুবী : ১৯/২৮৯]

প্রিয় পাঠক! একটু ভাবুন! দ্বীনের ব্যাপারে জাহেল ও গাফেলদের কোন পর্যায়ে নিয়ে যায়! এমনকি তারা মুসলমানের রক্ত পর্যন্তও বৈধ মনে করে। অথচ তিনি হক ও সুন্নাতের উপরই আছেন। এ সব কিছুরই কারণ হচ্ছে দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা ও জ্ঞানহীনতা।

দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা ও মূর্খতা মারাত্মক অপরাধ ও গুনাহের কাজ। মূর্খতা হচ্ছে আত্মার মৃত্যু। জীবন ও হায়াত ধ্বংস করার নাম। মহান আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে মূর্খতা থেকে বেঁচে থাকতে এবং এর নিন্দা জ্ঞাপন করে ইরশাদ করেছেন—

أَفَلَمْ تَكُنْ مِنَ الْجَاهِلِينَ

আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, যেন তুমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত না হও। [সূরা হুদ : ৪৬]

শুধু তাই নয়, অপর এক আয়াতে তিনি মূর্খতাকে মৃত্যুর সঙ্গে তুলনা করে ইরশাদ করেছেন—

أَوَمَن كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُورًا يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَن مَّثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِّنْهَا

আর যে ছিল মৃত, অতঃপর আমি তাকে জীবন দিয়েছি এবং তাকে এমন একটি আলো দিয়েছি, যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে, সে কি ওই ব্যক্তির মতো, যে অন্ধকারে রয়েছে, যেখান থেকে সে বের হতে পারে না? [সূরা আনআম : ১২২]

অর্থাৎ যার অন্তর ঈমানের নূরে আলোকিত হয়েছে এবং আল্লাহ্ তা'আলার পথের দিশা লাভ করেছে, সে কি কখনও ওই লোকের ন্যায় হতে পারে, যে বিভিন্ন প্রকার জাহেলিয়াত ও পথভ্রষ্টতার অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে? উপরন্তু সে ওই অন্ধকারের বেষ্টনী থেকে কখনও বের হতে পারে না, মুক্তি পেতে পারে না; আলোর সাথে যার কখনও পরিচয় হবে না? কখনোই এই দুই দল এক হতে পারে না।

এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেছেন—

إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ خَلَقَ خَلْقَهُ فِي ظُلْمَةٍ ثُمَّ أَلْقَى عَلَيْهِمْ مِنْ نُورِهِ يَوْمَئِذٍ فَمَنْ أَصَابَهُ مِنْ نُورِهِ يَوْমَئِذٍ اهْتَدَى وَمَنْ أَخْطَأَهُ ضَلَّ.

আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে অন্ধকারে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি স্বীয় নূরের জ্যোতি বর্ষণ করেছেন। সুতরাং, সেদিন যে সেই নূরের আলোকপ্রভা লাভ করেছে, সে সৎ পথ পেয়েছে। আর যে ভুল করেছে অর্থাৎ সেই নূরের নাগাল পায়নি, সে বিপথগামী হয়েছে। [সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৪২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৬৯৪৪]

আল্লাহ (তাআলা) ইরশাদ করেন—

اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ ۖ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُمْ مِنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ ۗ أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

যারা ঈমানদার আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা কুফরী করে, তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হলো জাহান্নামের অধিবাসী, চিরকাল তারা সেখানেই থাকবে। [সুরা বাকারা : ২৫৭]

অপর এক স্থানে তিনি ইরশাদ করেছেন—

أَفَمَنْ يَمْشِي مُكِبًّا عَلَىٰ وَجْهِهِ أَهْدَىٰ أَمَّنْ يَمْশِي سَوِيًّا عَلَىٰ صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ

যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখে ভর দিয়ে চলে, সে কি সৎ পথে চলে, না সে ব্যক্তি, যে সোজা হয়ে সরলপথে চলে? [সুরা মূলক : ২২]

আরও ইরশাদ করেছেন—

مَثَلُ الْفَرِيقَيْنِ كَالْأَعْمَىٰ وَالْأَصَمِّ وَالْبَصِيرِ وَالسَّمِيعِ ۚ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ

উভয় পক্ষের দৃষ্টান্ত হচ্ছে যেমন অন্ধ ও বধির এবং যে দেখতে পায় ও শুনতে পায়; উভয়ের অবস্থা কি এক সমান? তবুও কি তোমরা ভেবে দেখবে না? [শিক্ষা গ্রহণ করবে না?] [সুরা হুদ : ২৪]

অন্যত্র ইরশাদ করেছেন—

দৃষ্টিমান ও দৃষ্টিহীন সমান নয়। সমান নয় অন্ধকার ও আলো। সমান নয় ছায়া ও তপ্তপ্রবাহ। আরও সমান নয় জীবিত ও মৃত। আল্লাহ শ্রবণ করান যাকে ইচ্ছা। আপনি কবরে শায়িতদের শুনাতে সক্ষম নন। আপনি তো কেবল একজন সতর্ককারী। [সুরা ফাতির : ১৯-২০]

এ ছাড়াও আরও বহু আয়াত-হাদীসে মূর্খতা ও দ্বীনী ইলম সম্পর্কে অজ্ঞতার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে এবং তার ব্যাপারে নিন্দা করা হয়েছে। অপরদিকে দ্বীনী ইলম অর্জন করার আবশ্যকতা ও গুরুত্ব বোঝানোর জন্য নবীজী (সা) ইরশাদ করেছেন—

طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَىٰ كُلِّ مُسْلِمٍ

দ্বীনী ইলম শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২২৪]

অনেকের ধারণা, ইলম অর্জনের বিষয়টি কেবল ফযীলতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ ইলম অর্জন করা ভালো এবং সাওয়াবের কাজ আর না করা দোষণীয় নয়, তবে সাওয়াব ও ফযীলত থেকে বঞ্চিত হওয়ার নামান্তর মাত্র। কিন্তু বিষয়টি কি আদৌ এমন? ফযীলতের মধ্যেই কি ইলম সীমাবদ্ধ? না; মোটেই তা নয়। কারণ, এই মাত্র আমরা নবীজী (সা)-র বাণী উল্লেখ করে এসেছি, যেখানে তিনি ইরশাদ করেছেন, দ্বীনী ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয।

হাঁ, এ ফরয দায়িত্ব আঞ্জাম দেওয়ার ফযীলত অবশ্যই অনেক অনেক বেশি। যেমন, আল্লাহ (তাআলা) পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—

قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ۗ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ

[হে নবী!] আপনি বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? উপদেশ কেবল জ্ঞানীরাই গ্রহণ করে। [সুরা যুমার : ৯]

অপর এক স্থানে তিনি ইরশাদ করেছেন—

يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ ۚ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَথِيرًا ۗ وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ

তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমাত তথা ইলমে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন, এবং যাকে হিকমাত তথা দ্বীনের জ্ঞান দান করেন, মূলত তাকেই প্রকৃত কল্যাণ দান করা হয়। আর উপদেশ তো কেবল তারাই গ্রহণ করে, যারা জ্ঞানবান। [সুরা বাকারা : ২৬৯]

আরেক আয়াতে ইরশাদ করেছেন—

يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ ۚ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত (আলেম), আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেন। আর আল্লাহ খবর রাখেন, তোমরা যা কিছু করো। [সুরা মুজাদালা : ১১]

এক হাদীসে নবীজী (সা) ইরশাদ করেছেন—

مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ وَإِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ وَاللَّهُ يُعْطِي

আল্লাহ যার কল্যাণ কামনা করেন, তাকে ‘তাফাককুহ ফিদ্-দ্বীন’ তথা দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন। আমি তো কেবল বিতরণকারী মাত্র, আল্লাহই তো দাতা। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭১, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৩৭]

আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত এক হাদীসে নবীজী (সা) ইরশাদ করেছেন—

إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ

মানুষ যখন মারা যায়, তখন তিনটি আমল ছাড়া তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়। [আমল তিনটি হচ্ছে-] ১. সদকায়ে জারিয়া; ২. ইলমে নাফে' তথা এমন ইলম, যা দ্বারা অন্যরা উপকৃত হয়; ৩. নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩১০, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৪২]

আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত অপর এক হাদীসে নবীজী (সা) ইরশাদ করেছেন—

إِنَّ مِمَّا يَلْحَقُ الْمُؤْمِنَ مِنْ عَمَلِهِ وَحَسَنَاتِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ عِلْمًا عَلَّمَهُ وَنَشَرَهُ وَوَلَدًا صَالِحًا تَرَكَهُ وَمُصْحَفًا وَرَّثَهُ أَوْ مَسْجِدًا بَنَاهُ أَوْ بَيْتًا لِابْنِ السَّبِيلِ بَنَاهُ أَوْ نَهْرًا أَجْرَاهُ أَوْ صَدَقَةً أَخْرَجَهَا مِنْ مَالِهِ فِي صِحَّتِهِ وَحَيَاتِهِ يَلْحَقُهُ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِ.

মৃত্যুর পর মুমিনের সঙ্গে যেসব আমল যুক্ত হয়, সেগুলোর অন্যতম হচ্ছে— ইলম, যা সে অন্যকে শিক্ষা দিয়েছে এবং যার প্রচার-প্রসার করেছে; নেক সন্তান, যা সে রেখে গেছে; কুরআন, যার সে উত্তরাধিকারী বানিয়েছে; মসজিদ, যা সে নির্মাণ করেছে; মুসাফিরের আশ্রয়কেন্দ্র, যা সে বানিয়েছে; নদী, যা সে খনন করেছে এবং সদকা, যা সে তার জীবদ্দশায় ও সুস্থাকালে নিজ সম্পদ থেকে দান করেছে; এসব তার মৃত্যুর পর তার সঙ্গে যুক্ত হবে। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২৪২]

কাসীর ইবনে কায়েস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— আমি দামেশকের মসজিদে আবূদারদার কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় তাঁর কাছে এক ব্যক্তি আগমন করে বললেন, হে আবূদারদা! আমি নবীজীর শহর মদীনা থেকে আপনার কাছে এসেছি এ কথা জেনে যে, আপনি রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে শোনা একটি হাদীস বর্ণনা করে থাকেন। আবূদারদা বললেন, তুমি কোনো ব্যবসায়িক কাজে আগমন করোনি? আগন্তুক বললেন, না। আবূদারদা [পুনরায়] বললেন, তুমি কি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আগমন করোনি? আগন্তুক বললেন, না। অতঃপর আবূদারদা বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের জন্য বের হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি পথ সুগম করে দেন। ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে পাখাসমূহ বিছিয়ে দেয় আর ইলম অন্বেষণকারীর জন্য আসমান-জমিনের সবাই আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে; এমনকি পানির অভ্যন্তরে মাছও। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৫০, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২২৫]

📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ২. কুরআনের ব্যাপারে গাফলতি

📄 ২. কুরআনের ব্যাপারে গাফলতি


কুরআনের ব্যাপারে গাফলতি হচ্ছে— কুরআন নিজে শিক্ষা করা, অপরকে শিক্ষা দেওয়া এবং কুরআন হিফয করা থেকে গাফেল থাকা। অথচ এ সবগুলোর প্রতিই রাসূলুল্লাহ (সা) তাগিদ করেছেন, উৎসাহ দিয়েছেন।

কুরআন অভিজ্ঞ ব্যক্তি কেয়ামতের দিন সম্মানিত ও অনুগতদের সাথে থাকবেন। আর হাফেযে কুরআনের মর্যাদা ও স্তর তার হিফয অনুযায়ী বৃদ্ধি পেতে থাকবে। কুরআন কেয়ামতের দিন তার সঙ্গীদের ব্যাপারে সুপারিশকারী হবে, যেমন কুরআনের তিলাওয়াতকারী তার পরিবার-পরিজনের জন্য সুপারিশ করবে।

এ ছাড়া আরও বহু ফযীলত ও মর্যাদা লাভ করবে হাফেযে কুরআন ও কুরআনের শিক্ষকগণ। তা সত্ত্বেও মানুষ কুরআনের ব্যাপারে গাফেল!

একজন মুমিনের জন্য কুরআনের ব্যাপারে গাফলতি কখনও কাম্য নয়। বরং কুরআনের ব্যাপারে সর্বোচ্চ যত্নবান হতে হবে। নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে। কুরআনের মর্ম ও ভাব অনুধাবন করতে হবে। সর্বোপরি কুরআনের শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ও অঙ্গনে বাস্তবায়ন করতে হবে।

উসমান (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ ইরশাদ করেছেন—

خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ

তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তিই সবচেয়ে উত্তম, যে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শেখায়। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০২৭, সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ১৪৫২]

আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ ইরশাদ করেছেন—

مَن قَرَأَ حَرفًا مِن كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشَرِ أَمْثَالِهَا لَا أَقُولُ الم حَرفٌ وَلَكِن أَلِفٌ حَرفٌ وَلَامٌ حَرفٌ وَمِيمٌ حَرفٌ.

যে ব্যক্তি আল্লাহ্র কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে, সে একটি নেকী লাভ করবে। আর উক্ত নেকী দশটি নেকীর সমতুল্য হবে। আমি বলি না— 'আলিফ-লাম-মীম' একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম আরেকটি হরফ। [সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৯১০]

উকবা ইবনে আমের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— আমরা মসজিদে নববীর সুফফাহয় বসা ছিলাম, এমন সময় নবী কারীম ﷺ আমাদের মাঝে তাশরীফ আনলেন এবং বললেন, তোমাদের মাঝে কে এটা পছন্দ করে যে, সকালবেলা বুতহান অথবা আকীক নামক বাজারে গিয়ে কোনো রকম গুনাহ ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ছাড়াই দু'টি অতি উত্তম উট নিয়ে আসবে? সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, এটা তো আমাদের সকলেই পছন্দ করবে। নবীজী ﷺ বললেন, তবে তোমাদের যে কেউ মসজিদে গিয়ে আল্লাহ্র কিতাবের দু'টি আয়াত শিখবে অথবা তিলাওয়াত করবে, তার জন্য তা দু'টি উটনী থেকে উত্তম। আর তিন আয়াত তার জন্য তিনটি উটনী থেকে উত্তম। চার আয়াত তার জন্য চারটি উটনী থেকে উত্তম এবং এগুলোর সমপরিমাণ উট থেকে উত্তম। [সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ১৪৫৮]

অপর এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ ইরশাদ করেছেন—

لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الْقُرْآنَ فَهْوَ يَتْلُوهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَهْوَ يُنفِقُهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ.

একমাত্র দুই ব্যক্তির ব্যাপারে হিংসা করা যেতে পারে। একজন হচ্ছে ওই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ্ কুরআন দান করেছেন আর সে তা রাতদিন তিলাওয়াত করে। আরেকজন হচ্ছে ওই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ্ সম্পদ দান করেছেন আর সে রাতদিন তা [আল্লাহ্র পথে] ব্যয় করে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০২৫]

আবদুল্লাহ্ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ ইরশাদ করেছেন—

কুরআন তিলাওয়াতকারীকে [কেয়ামতের দিন] বলা হবে, কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক এবং এর উপরে উঠতে থাক। তুমি দুনিয়াতে যেভাবে ধীরেসুস্থে তিলাওয়াত করতে সেভাবে তিলাওয়াত করো। কেননা, তোমার তিলাওয়াতের শেষ আয়াতেই [জান্নাতে] তোমার বাসস্থান হবে। [সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ১৪৬৪, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৯০৪]

কুরআন তিলাওয়াতকারীর ফযীলত যে কেবল তিলাওয়াতকারীর মাঝেই সীমাবদ্ধ— তা নয়, বরং এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবীজী ﷺ ইরশাদ করেছেন—

যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তদানুযায়ী আমল করে, কেয়ামতের দিন তার পিতামাতাকে এমন মুকুট পরিধান করানো হবে, যার আলো সূর্যের আলোর চেয়েও উজ্জ্বল হবে। যদি সূর্য তোমাদের ঘরের ভিতর উপস্থিত হয়। [এই যদি তিলাওয়াতকারীর পিতামাতার ফযীলত] তা হলে যে কুরআন অনুযায়ী আমল করে, তার সম্পর্কে তোমাদের কী ধারণা হতে পারে?!

📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ৩. যিকিরে গাফলতি

📄 ৩. যিকিরে গাফলতি


আল্লাহর যিকির মুত্তাকীদের পাথেয়। নেককার-বুযুর্গগণ এ ব্যাপারে খুবই সচেতন। আল্লাহর যিকির অন্তরকে শক্তি, ধৈর্য ও দৃঢ়তা দান করে। এ যিকিরের মাধ্যমেই ঘটে পেরেশানি ও বিপদমুক্তি। যিকিরকারীগণ জান্নাতের বাগানে বিচরণকারী। যিকির অন্তর ও জবানের ইবাদত, ইবাদতকারীর ভূষণ, আল্লাহ্ ও তাঁর বান্দার মাঝে উন্মুক্ত এক রাজতোরণ!

বহু মানুষ সাধারণ ও বিশেষ উভয় প্রকার যিকিরের ব্যাপারেই চরম উদাসীন। রাত শেষে ভোর আসে, কিন্তু কেউ সকালের যিকির করে না। দিনের পর সন্ধ্যা নামে, কিন্তু কেউ কেউ সন্ধ্যার যিকির করে না। মসজিদে প্রবেশ করে, মসজিদ থেকে বের হয়, কিন্তু কিছু বলে না; কোনো দোয়া পাঠ করে না, যিকির করে না। নিজ ঘরে প্রবেশ করে এবং বের হয়, কিন্তু যিকিরে তার ঠোঁট নড়ে না। অনেকেই গাধার ডাক ও মুরগীর আওয়াজ শুনে, কিন্তু এ ডাক শুনলে পাঠ করার যে নির্ধারিত দোয়া আছে, তা পাঠ করে না। সুতরাং, এই যার অবস্থা, সে ওই সময় কীভাবে আল্লাহর যিকির করবে, যখন বৈধ চাহিদার বিষয় তার সামনে আসবে। যেমন, খাবারের চাহিদা কিংবা বিবাহ ও জৈবিক চাহিদা!! যে ব্যক্তি ইবাদতের ক্ষেত্রে যিকির থেকে গাফেল, সে তো চাহিদার ক্ষেত্রে—নিশ্চিত করে বলা যায়— গাফেল থাকবে।

যিকিরের ব্যাপারে উদাসীনতা ও গাফলতি অনেক বড় ক্ষতির কারণ। যেমন, আল্লাহ্ ﷺ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—

فَوَيْلٌ لِّلْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُم مِّن ذِكْرِ اللَّهِ أُوْلَئِكَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ.

দুর্ভোগ তাদের জন্য, যাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা বিগলিত হয় না। তারা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে রয়েছে। [সূরা যুমার : ২২]

অপর এক আয়াতে আল্লাহ্ ﷺ ইরশাদ করেছেন—

وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ.

যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর যিকির থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করে দিই। অতঃপর সে-ই তার সঙ্গী হয়। [সূরা যুখরুফ : ৩৬]

অপর এক স্থানে তিনি ইরশাদ করেছেন—

وَمَن يُعْرِضْ عَن ذِكْرِ رَبِّهِ يَسْلُكْهُ عَذَابًا صَعَدًا.

আর যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার যিকির থেকে বিমুখ হয়, তিনি তাকে দুঃসহ শাস্তিতে প্রবেশ করাবেন। [সূরা জ্বিন : ১৭]

অপরদিকে যিকিরের আদেশ ও যিকিরের ফযীলত বর্ণনা করে বহু আয়াত নাযিল হয়েছে। যেমন, ইরশাদ করেছেন—

وَاذْكُرْ رَبَّكَ كَثِيرًا وَسَبِّحْ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ.

বেশি বেশি আপন প্রভুর যিকির করো এবং সকাল-বিকাল তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করো। [সূরা আলে ইমরান : ৪১]

অন্যত্র ইরশাদ করেছেন—

وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا.

আর আল্লাহর জন্য রয়েছে উত্তম নামসমূহ। কাজেই ওইসব নাম ধরেই তোমরা তাঁকে ডাকতে থাকো। [সূরা আরাফ : ১৮০]

আরেক আয়াতে ইরশাদ করেছেন—

وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ.

আর আল্লাহর যিকিরই সর্বশ্রেষ্ঠ। [সূরা আনকাবুত : ৪৫]

এ ধরনের আরও বহু আয়াতে আল্লাহ্ ﷺ তাঁর যিকিরের আদেশ ও ফযীলত বর্ণনা করেছেন। একইভাবে অসংখ্য হাদীসেও যিকিরের গুরুত্ব ও ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। যেমন, আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ ইরশাদ করেছেন—

আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, আমি সেই রকমই, যে রকম বান্দা আমার প্রতি ধারণা করে। সে আমাকে স্মরণ করলে আমিও তাকে স্মরণ করি। আর যদি সে জনসমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, তবে আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই। যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দুই হাত অগ্রসর হই। আর যদি সে আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৪০৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬৭৫]

📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ৪. সুরক্ষা দানকারী যিকিরের ব্যাপারে গাফলতি

📄 ৪. সুরক্ষা দানকারী যিকিরের ব্যাপারে গাফলতি


আল্লাহ ﷺ কখনও কখনও গাফেলদেরকে কিছু বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবতের মাধ্যমে যিকির-আযকার ও মাসনূন দোয়া সম্পর্কে সতর্ক করেন। এর ফলে তখন তাদের যিকিরের কথা স্মরণ হয়। এমনকি তাদের কেউ কেউ বলে— হায়! যদি আমি অমুক অমুক যিকির ও দোয়া করতাম!

খাওলা বিনতে হাকীম আস-সুলামিয়াহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছেন—

إِذَا نَزَلَ أَحَدُكُمْ مَنْزِلًا فَلْيَقُلْ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ.

তোমাদের কেউ যখন কোনো ঘাঁটিতে [বা মঞ্জিলে] অবতরণ করে, তখন সে যেন এই দোয়া পড়ে—
‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের উসিলায় তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’
তা হলে সে ওই স্থান ত্যাগ করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭০৮]

আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে উমর আল কুরতুবী রহ. বলেন, এটি সহীহ হাদীস, সত্য কথা। দলীল-প্রমাণ ও অভিজ্ঞতার আলোকে এটিকে আমরা সত্যই পেয়েছি। যখন থেকে এ হাদীসটি আমি জেনেছি, তখন থেকেই এর উপর আমল করেছি। অতঃপর কোনো কিছুই আমার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। এক রাতে বিছানায় একটি বিচ্ছু আমাকে দংশন করল। আমি আমাকে নিয়ে গভীরভাবে ভাবলাম। হঠাৎ মনে পড়ল, আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের উসিলায় প্রার্থনা করতে [অর্থাৎ এ দোয়া পাঠ করতে] ভুলে গেছি।

এমনি একটি ঘটনা আমি এক মদীনাবাসীর কাছেও শুনেছিলাম। ঘটনার সারাংশ এমন— ওই ব্যক্তি সফর থেকে ফেরার পথে নিজ শহরে যাওয়ার পূর্বে ৭০ কিলোমিটার দূরত্বে এই দোয়াটি পাঠ করেছিলেন। অতঃপর যখন তিনি নিজ শহরে পৌঁছলেন এবং মাথা থেকে মস্তকবন্ধনীটি খুললেন, তখন তাঁর ছেলে তাকে বলে, আব্বা! আপনার মাথায় কালো ও এই জিনিসটি কী? পিতা মাথা ঝাঁকালেন। দেখা গেল, ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত তিনি একটি বিচ্ছুকে মাথায় বহন করে এসেছেন। কিন্তু আশ্চর্য, এ দীর্ঘ সময়ে বিচ্ছুটি তাকে একটি কামড়ও দেয়নি বা তার কোনো ক্ষতি করেনি। তিনি বলেন, আমি মনে করি, নিজ শহর রওয়ানা দেওয়ার প্রাক্কালে আমি অমুক অমুক যে দোয়া পাঠ করেছিলাম, আল্লাহ ﷺ ওই দোয়ার বরকতে আমাকে হেফাজত করেছেন।

টিকাঃ
প্রাল মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখীসুল কিতাবি মুসলিম : ৭/৭৯, আর এটি তাঁর থেকে যুরকানী (রহ) বর্ণনা করেছেন ফায়যুল কদীর : ৫/৭৭৯২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px