📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ৮. দুনিয়ার প্রতি ঝোঁক

📄 ৮. দুনিয়ার প্রতি ঝোঁক


কোনো সন্দেহ নেই—দুনিয়ার ভালোবাসা ও দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়া গাফলতির অন্যতম কারণ। কেননা, এ ভালোবাসা ও ঝুঁকে পড়া মানুষকে তার নিজের নফসের হিসাব নিতে দেয় না। বরং মানুষের আশাকে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ ও অন্তহীন করে তোলে এবং তাকে মিথ্যা আশায় আশান্বিত করে থাকে; তার জীবনধারা বিলাস থেকে আরও বিলাসী করতে থাকে।

সে যদি তার অন্তর থেকে দুনিয়ার মোহ ও ভালোবাসা বের করে দিতে পারত, তা হলে সে আল্লাহ্ ও আখিরাত থেকে কখনোই গাফেল হতো না। এভাবে তার আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃত্তির চাহিদাকে লাগামহীন ছেড়ে দিত না। পাশাপাশি সে এ-ও বুঝতে পারত, দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, এটা থাকার জায়গা নয়; বরং অতিক্রমের একটি মাধ্যম মাত্র।

📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ৯. বাতিল ও গাফেলদের সঙ্গে মেলামেশা

📄 ৯. বাতিল ও গাফেলদের সঙ্গে মেলামেশা


বাতিলদের সাথে ওঠাবসা, চলাফেরা, মেলামেশা গাফলতির অন্যতম কারণ। যেমন, আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—

وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَن ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا

আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিবেন না। আপনি তার আনুগত্য করবেন না, যার অন্তরকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা। [সুরা কাহাফ : ২৮]

অপর এক আয়াতে তিনি ইরশাদ করেছেন—

وَلَا تَكُونُوا۟ كَالَّذِينَ نَسُوا۟ ٱللَّهَ فَأَنَسَىٰهُمْ أَنفُسَهُمْ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَٰসِقُونَ

তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে! ফলে আল্লাহও তাদেরকে আত্মবিস্মৃত [গাফেল] করে দিয়েছেন। তারাই ফাসেক-অবৈধ। [সুরা হাশর : ১৯]

অর্থাৎ তোমরা আল্লাহ্ কে ভুলে যেও না! অন্যথায় কেয়ামত দিবসে যে আমলে সালেহ তোমাদের উপকারে আসবে, তা তোমাদের ভুলিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ তোমাদেরকে নেক আমলের তাওফীক দেওয়া হবে না।

তাই আল্লাহ্ বলেন, ‘তারাই ফাসেক-অবৈধ’ অর্থাৎ যারা আল্লাহ্ -র কথা ভুলে যায়, তারা ফাসেক তথা আল্লাহ্ -র না-ফরমান। কেয়ামতের দিন তাদের ধ্বংস অনিবার্য। যেমন, অপর এক আয়াতে আল্লাহ্ বলেন—

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহ্ স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এমন করবে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। [সুরা মুনাফিকুন : ৯]

📘 গাফলতি ছাড়ুন 📄 ১০. মুবাহ কাজ অধিক হারে করা

📄 ১০. মুবাহ কাজ অধিক হারে করা


মুবাহ কাজ [সাধারণ বৈধ কাজ; যা কেবল বৈধ ও অনুমোদিত; যা পাপ-পুণ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।] অধিক হারে করা গাফলতি ডেকে আনে। কেননা, এ ধরনের কাজ অন্তরকে কঠিন ও রূক্ষ্ম করে তোলে।

আপনি হাল যামানার মানুষের দিকে তাকান। তাদের নিয়ে একটু ভাবুন। দেখবেন, অধিক হারে মুবাহ কাজে ব্যস্ত থাকা তাদেরকে আল্লাহ্ ও আখিরাত থেকে গাফেল করে দিচ্ছে।

ওই ব্যক্তির ব্যাপারে কী বলা যেতে পারে, দিনের অধিকাংশ সময় যে কাজে ব্যস্ত থাকে; অতঃপর খাবার খেতেও অবসর হয়। তারপর ঘুমিয়ে পড়ে। পরবর্তী দিন সকালে ঘুম থেকে জেগে আবার বিশ্রাম নেয় কিংবা পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবের সাথে বিনোদনে বের হয়। এক সময় দিন গড়িয়ে রাত আসে। এভাবেই এবং এ জাতীয় কাজই তার দিন-রাত পার হতে থাকে। তা হলো—

- এটা কেমন ধরনের জীবন?!
- এমন ব্যক্তির কাছে কী আশা করা যেতে পারে?!

গাফলতির প্রধানতম কারণ হচ্ছে অন্তর কঠিন হয়ে যাওয়া। এখানে আমরা এমন কিছু বিষয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকা তুলে ধরছি, যা মানুষের অন্তরকে কঠিন করে তোলে। যেমন—
১. নামাযের জামাতে শরিক হওয়ার ব্যাপারে অবহেলে করা এবং সকাল সকাল মসজিদে না যাওয়া।
২. কুরআনে কারীম পরিত্যাগ করা। অর্থাৎ বিনয়-নম্রতা আর মনোযোগ ও চিন্তা-গবেষণা সহকারে কুরআনে কারীম তিলাওয়াত না করা।
৩. হারাম উপার্জন করা। যেমন, সুদ, ঘুষ এবং বেচাকেনাসহ অন্যান্য লেনদেনে প্রতারণা ও জালিয়াতিসহ হারাম পদ্ধতিতে আয়-উপার্জন করা।
৪. অহংকার, বড়াই, আত্মম্ভরিতা, প্রতিশোধপরায়ণতা, মানুষের দোষত্রুটি ও অপরাধ ক্ষমা না করা, মানুষকে অবহেলা করা, নিকৃষ্ট মনে করা, মানুষকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা।
৫. দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়া, দুনিয়া দ্বারা প্রভাবিত ও প্রতারিত হওয়া, আখেরাতের কথা ভুলে যাওয়া।
৬. বেগানা নারীর দিকে তাকানোসহ যেকোনো হারাম দৃষ্টি দেওয়া।
৭. স্বীয় গুনাহের দিকে না তাকিয়ে কেবল অন্যের দোষত্রুটি তালাশ করা, মানুষের সমালোচনা করা।
৮. বহু দিন দুনিয়ায় থাকব, অনেক কিছুর মালিক হব—এমন ধারণা-বিশ্বাস ও আশা অন্তরে পোষণ করা।
৯. আল্লাহ্ তা'আলার যিকির না করে অযথা বেশি কথা বলা। অধিক হারে হাসি-তামাশা করা।
১০. অধিকহারে পানাহার করা।
১১. অধিক ঘুমানো।
১২. মানুষের উপর জুলুম করা।
১৩. শরীয়তের আদেশ-নিষেধ লঙ্ঘন হওয়ার কারণ ব্যতীত অন্য কোনো কারণে রাগ করা।
১৪. ইসলামের দাওয়াত দেওয়া ও দেওয়ার উদ্দেশ্য ব্যতীত কাফের রাষ্ট্রে ভ্রমণে যাওয়া।
১৫. মিথ্যা, গীবত, চোগলখুরি করা।
১৬. মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ ও ফাসাদ সৃষ্টি করা।
১৭. খারাপ লোকদের সাথে ওঠাবসা করা।
১৮. অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করা।
১৯. কোনো মুসলমানের উন্নতি সহ্য করতে না পারা, বরং তার ধ্বংস বা অবনতি কামনা করা।
২০. কোনো মুসলমান ভাইয়ের সাথে শত্রুতা পোষণ করা।
২১. অযথা সময় নষ্ট করা।
২২. ইসলামী জ্ঞান শিক্ষা না করা এবং ইসলামী শিক্ষা থেকে নিজেকে দূরে রাখা।
২৩. জাদুকর, গণক, জ্যোতিষী, তন্ত্রমন্ত্রকারীর নিকট গমন করা।
২৪. মাদক ও নেশাদ্রব্য সেবন করা।
২৫. সকাল-সন্ধ্যার যিকির-আযকার পাঠ না করা।
২৬. গান-বাদ্য শোনা, অশ্লীল চিত্র দেখা, অশ্লীল লেখা বা ম্যাগাজিন পড়া।
২৭. আল্লাহ্ তা'আলার কাছে দোয়া না করা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px