📄 ৩. গুনাহের কারণে অনুভূতির মৃত্যু
গুনাহ্ করতে করতে বহু গাফেল ও উদাসীন লোকের অনুভূতিরাই মৃত্যু ঘটে। তাদের বোধ-বুদ্ধি ও বিবেচনাশক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। এমনকি এক পর্যায়ে পৌঁছে তারা মনে করে—তারা অনেক বড় কল্যাণের উপরই প্রতিষ্ঠিত আছে। অতঃপর কোনো এক সময় যদি তাদের গুনাহ-খাতা ও কৃতকর্মের প্রকৃত রূপ নিজেদের সামনে পরিষ্কার হয়ে যায়, তখন বিস্ময়ের শেষ থাকে না।
শুনে রাখ! আল্লাহর কসম! যদি মানুষ জানত তাদেরকে কী উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে, তা হলে তারা কখনও গাফেল হতো না, ঘুমাতে পারত না। তাদেরকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, যদি তারা তা অন্তর চোখ দিয়ে দেখতে পেত, [উপলব্ধি করতে সক্ষম হতো], তা হলে তারা দিশেহারা ও উন্মত্ত হয়ে যেত! [কারণ, তাদের সামনে রয়েছে] মৃত্যু, কবর, তারপর হাশর, অতঃপর নিন্দা-ভৎসনা ও কঠিন শাস্তির ভয়। [আল-মুরদিশ শি ইবনিল জাওযী : ১২২]
📄 ৪. প্রবৃত্তির অনুসরণ
প্রবৃত্তির অনুসরণ মানুষকে আল্লাহ ও আখেরাত থেকে গাফেল করে দেয়। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং প্রবৃত্তি থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে; তার ঠিকানা হবে জান্নাত। [সূরা নাযিআত : ৪০-৪২]
আল্লাহ প্রবৃত্তির অনুসরণকে হকপরিপন্থী বলে সাব্যস্ত করেছেন এবং তাকে গোমরাহির একটি প্রকার বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন, পবিত্র কুরআনে তিনি ইরশাদ করেছেন—
হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি। অতএব, তুমি মানুষের মাঝে সুবিচার কর এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। কেননা, তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি—এ কারণে যে, তারা হিসাবদিবসকে ভুলে যায়। [সূরা ছু-দ : ২৬]
এ আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারলাম, যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তারা মূলত আল্লাহ ও আখেরাত থেকে বিচ্যুতি ও গাফলতের পথে চলে। অতএব, মানুষকে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বেঁচে থাকতে হবে, যাতে সে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হতে না যায়।
📄 ৫. কাজ ও রিযিকের তালাশ
কোনো সন্দেহ নেই—নিজের, পরিবার-পরিজনের এবং যাদের ব্যাপারে আল্লাহ আদেশ করেছেন, তাদের জীবিকা নির্বাহ ও ভরনপোষণের জন্য একজন মানুষ কাজকর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপারে আকৃষ্ট। কিন্তু সমস্যাটা দেখা দেয় তখন, যখন এ কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যই আল্লাহ ও আখেরাত থেকে গাফেল হওয়ার কারণে পরিণত হয়। তখন এ কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যই তার একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।
পক্ষান্তরে মু'মিনদের গুণ হলো, তারা ব্যবসা-বাণিজ্য ও কাজকর্মের কারণে আল্লাহ থেকে গাফেল হয় না; উদাসীন হয় না। যেমন, আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—
আল্লাহ যেসব গৃহকে সমুন্নত করার এবং সেগুলোতে তাঁর নাম উচ্চারণ করার আদেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এমন লোকেরা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় যাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামায কায়েম করা থেকে এবং যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে। [সূরা নূর : ৩৬-৩৭]
ইবরাহিম সাহিয়ার এর সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, একবার তিনি দেখলেন, নামাযের জন্য আযান দেওয়ার সাথে সাথে বাজারের লোকেরা তাদের বেচাকেনা ছেড়ে নামাযের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। এতদসত্ত্বে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বললেন, এই সকল লোক সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে— ‘ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় যাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত রাখে না।
আমর ইবনে দীনার কাহরামানী সালেম এর সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি একদিন বাজারে ছিলেন। এমন সময় নামাযের জন্য আযান দেয়া হলো। তৎক্ষণাৎ লোকেরা তাদের দোকানপাট বন্ধ করে মসজিদে প্রবেশ করল। এ দেখে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বললেন, এদের ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে— ‘ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় যাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত রাখে না।
ইবনে আবী হাতিম সনদসহ আব্দুলদারা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ব্যবসা করি। প্রতিদিন আমার তিনশত দিনার লাভ হয়। তবুও আমি নামাযের সময় হলে সব ছেড়ে মসজিদে চলে যাই। ব্যবসা করা এবং ব্যবসায় লাভবান হওয়া হালাল নয়—আমি এ কথা বলি না। তবে আমি আল্লাহ যাদের ব্যাপারে ঘোষণা করেছেন— ‘ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় যাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত রাখে না’ তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে ভালোবাসি।
আমর ইবনে দিনার আল-আ‘ওয়ার বলেন, আমি একবার সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ এর সাথে ছিলাম। আমরা মাসজিদে যাবার জন্য বাজার অতিক্রম করছিলাম। তখন দেখতে পেলাম, বাজারের লোকদের সকলে নামাযের জন্য চলে গেছে এবং জিনিসপত্র ঢেকে রেখেছে, কিন্তু সেগুলোর পাহারা দেবার মতো কেউ সেখানে নেই। তখন সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন— ‘ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় যাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত রাখে না।’ অতঃপর বললেন, যারা নিজেদের মাল-সামানা এভাবে ফেলে রেখে নামাযের জন্য চলে গেছে, তাদের সম্পর্কেই আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেছেন। [তাফসীরে ইবনে কাসীর : ৩/৩৫৬]
📄 ৬. খেলাধুলা ও ক্রীড়া
খেলাধুলা ও ক্রীড়া গাফলতির বড় বড় কারণসমূহের অন্যতম। এজন্যই নবীজী ﷺ তাঁর যামানায় বিদ্যমান খেলাধুলার কোনো কোনোটিতে লিপ্ত হতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—এগুলো গাফলতের অন্যতম কারণ। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
মَنْ سَكَنَ الْبَادِيَةَ جَفَا وَمَنْ اتَّبَعَ الصَّيْدَ غَفَلَ وَمَنْ أَتَى السُّلْطَانَ افْتَتَنَ
যে মরুভূমিতে বসবাস করে, তার অন্তর কঠিন হয়ে যায়। যে শিকারের পিছনে ছুটে, সে গাফেল হয়ে যায়। আর যে রাজা-বাদশাহর কাছে আসা-যাওয়া করে, সে ফেতনায় পতিত হয়। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৮৫৬]
ইবনে হাজার আসকালানী বলেন, বর্ণিত হাদীসটি ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যে এ সকল কাজে সর্বদা লিপ্ত থাকে। ফলে এগুলো তাকে দ্বীনি ও অন্যান্য কল্যাণকর যাবতীয় বিষয় থেকে গাফেল ও উদাসীন করে দেয়। [ফাতহুল বারী : ৯/১৮২]
অতএব, যে ব্যক্তি এ সকল কাজে সর্বতোভাবে লিপ্ত হয়ে পড়বে এবং এগুলোই তার ধ্যান-ধারণায় পরিণত হবে, অচিরেই তার অন্তর পরিপূর্ণরূপে গাফেল হয়ে যাবে। সে নামাযের কথা ভুলে যাবে; আল্লাহ -র স্মরণের কথা ভুলে যাবে; আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা, নামাযের জামাতে শরিক হওয়া ইত্যাদি সকল ভালো ও পূণ্যকর্মের কথা বিস্মৃত হয়ে যাবে।
এখানে লক্ষণীয়, শিকারের বহু স্বাস্থ্যগত ও শারীরিক বিভিন্ন উপকার রয়েছে। যেমন, শরীর শক্ত সুগঠিত ও মজবুত হয়, যা জিহাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে কাজে লাগে। তা সত্ত্বেও যদি শিকার করা বা শিকারের পিছনে ছোটা গাফলতের কারণ হয়, তা হলে বর্তমান যামানায় প্রচলিত ইলেকট্রনিক গেমসের ব্যাপারে কী বলা যেতে পারে? আমাদের বর্তমান যামানায় প্রচলিত ইলেকট্রনিক গেমগুলো সব দিক দিয়েই অত্যন্ত ক্ষতিকর; গাফলতের অনেক বড় কারণ ও উপকরণ। একেকটি গেমসের একের পর এক স্টেজ বা পর্ব অনবরত তৈরি হতে থাকা তা একজন মানুষকে পরিপূর্ণরূপে আসক্তি ও গাফলতিতে ডুবিয়ে রাখার জন্য একাই যথেষ্ট। অন্য কিছুর দরকার নেই। এ গেমগুলোর কারণে মানুষের বহু মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। মানুষকে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ সময় দ্বীনী-দুনিয়াবী যাবতীয় বিষয়ে একেবারেই গাফেল করে রাখে। এককথায়, জীবনের অপূরণীয় ক্ষতি করে থাকে। গেমস নির্মাতারা কোম্পানিগুলো সর্বদা নিজেদের মধ্যে এই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে, যেন তাদের গেমসগুলোই বাজার দখল করে রাখতে পারে; তাদের গেমসগুলোই যেন সর্বাধিক বিক্রির শীর্ষে থাকে। তা হলে একবার ভেবে দেখুন, কী হতে পারে এ গেমগুলোর প্রকৃতি?
আর এ গেমগুলো আমাদের শিশু-কিশোর ও যুবকদের কী পরিমাণ সময় নষ্ট করে দিচ্ছে?!
বর্তমানে প্রচলিত গেমসমূহের অনেকগুলোই এক-দুই ঘন্টায় শেষ হয় না। বরং কোনো কোনোটি এক-দুই দিনেও শেষ হয় না। আবার কোনো কোনোটি পুরো সপ্তাহ বা তার চেয়েও বেশি সময় নিয়ে নেয়। আর কোনো কোনোটি শেষ করতে সময় লেগে যায় পুরো এক মাস বা তারও অধিক!
তা ছাড়া একবার দুইবার বা স্বাভাবিক চেষ্টা-প্রচেষ্টায় এ গেমসমূহের শেষ পর্যন্ত যাওয়া যায় না। এগুলোর শেষ পর্যন্ত যেতে হলে, একজন খেলোয়াড়কে গেমসে বিজয়ী হতে হলে অনবরত অনুশীলন ও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। বরং বলা ভালো, খেলোয়াড়দের জন্য পরিপূর্ণ অধ্যাবসায় ও একাগ্রতার প্রয়োজন হয়। তারপরেই কেবল শেষ পর্যন্ত যাওয়া যায়।
এখানেই শেষ নয়। কোনো খেলোয়াড় যদি উপরোক্ত সকল বিষয়ে মনোযোগী হয়ে এবং জীবনের বহু মূল্যবান সময় নষ্ট করে কোনোভাবে শেষ পর্যন্ত পৌঁছেই যায়, তা হলে গেমস নির্মাতা কোম্পানিগুলো তার দ্বিতীয় পর্ব বাজারে ছাড়ে! তারপর তৃতীয় পর্ব! তারপর পরবর্তী পর্ব... এভাবে চলতেই থাকে। এক পর্বের পর আরেক পর্ব! আমাদের সন্তানরা পুরনো খেলার পর নতুন আরেক খেলার নেশায় মেতে ওঠে! এভাবে তারা সময় নষ্ট ও জীবন ধ্বংসের অন্তহীন এক পথে এগিয়ে চলছে!!
গেমসের প্রতি মানুষের এ দুর্নিবার আগ্রহ ও নেশা দেখে তার সুবিধা ভোগ করছে কিছু কিছু স্যাটেলাইট চ্যানেল। বিশেষ কিছু চ্যানেল তৈরি হয়েছে ইলেকট্রনিক গেমসগুলোকে কেন্দ্র করে। তারা সেখানে নিয়মিত গেমসের সর্বশেষ ভার্সন ও গেম হারাবার প্রচার করে। সেগুলো কীভাবে খেলতে হয় তার টিপস ও অন্যান্য খুঁটিনাটি বিষয়েও সকলকে তালিম দিয়ে থাকে!!
প্রশ্ন : এ গেমগুলো থেকে আমাদের সন্তানরা কী ফায়দা পাচ্ছে?
উত্তর : এই গেমগুলো থেকে আমাদের সন্তানদের স্নায়ুচাপ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যের অবনতি, দৃষ্টিশক্তি-হ্রাস, চিন্তার অক্ষমতা ইত্যাদি মারাত্মক ক্ষতির বিষয়গুলি ছাড়া আর কিছুই পাচ্ছে না। তা ছাড়া একটানা দীর্ঘক্ষণ নিশ্চিন্তচিত্তে স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার ফলে আরও বহু ধরনের উদাসীনতা ও চিন্তার দুর্বলতা সৃষ্টি হয়।
হায়! যদি এগুলোর ক্ষতি এ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকত! কিন্তু আরও ভয়ংকর কথা হচ্ছে, এ গেমগুলো আমাদের কোমলমতি সন্তানদের মনে শিরক ও কাফের-মুশরিকদের প্রতি ভালোবাসার বীজ বপন করে দিচ্ছে!!
- কীভাবে?
একবার এক মা তার ছোট বাচ্চাকে গেমস খেলতে নিষেধ করছিল। কিন্তু ছেলেটি চিৎকার করে বলে উঠল— আমাকে ছেড়ে দাও! আমাকে খেলতে দাও! আমি আর কখনো গির্জায় প্রবেশ করব না!
- মা তো অবাক! গেমসের সাথে গির্জার কী সম্পর্ক?!
ঘটনা হচ্ছে— গেমটিতে খেলোয়াড় যদি কোনো পর্বের কোথাও গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে বা লেভেল নিচে নেমে আসে, তা হলে সে নিজের আত্মশক্তি বৃদ্ধি ও সজীবতা লাভের জন্য গির্জায় প্রবেশ করে। গির্জায় প্রবেশ করলে সে সুস্থ ও সবল হয়ে ওঠে। অতঃপর নতুন উদ্যমে বাকি অংশ বা পর্ব চালিয়ে যেতে পারে!
প্রিয় পাঠক!
এরপরও কি আমরা অবহেলা করব?! আমাদের সন্তানদের এ মারাত্মক ক্ষতির ব্যাপারে উদাসীন থাকব?? এরপরও কি আমরা প্রশ্ন করব— এ গেমগুলো থেকে আমাদের সন্তানদের কী ফায়দা হচ্ছে?!
- শুধু তাই নয়, এ প্রশ্ন করারও তো আর কোনো সুযোগ নেই— এ গেমগুলো কি আমাদের সন্তানদের কোনো ক্ষতি করছে?!!
এ গেমগুলো আমাদের সন্তানদের কত নামায নষ্ট করেছে, জীবনের কত সময়, কত দীর্ঘ সময় আল্লাহ ﷻ-র যিকির ও স্মরণ থেকে এবং তাঁর আনুগত্য থেকে গাফেল রেখেছে, তার কোনো হিসাব নেই; কোনো ইয়ত্তা নেই।
- এ গেমগুলো কি আমাদের সন্তানদের কুরআন হিফজ করা থেকে গাফেল রাখছে না?!
- পিতামাতার আনুগত্য থেকে বিমুখ রাখছে না!
বরং এগুলো তো তাদেরকে দৈনন্দিন আহার-বিহার থেকেও গাফেল রাখছে! যা তাদের সুস্থতা ও সুষম বুদ্ধির জন্য অন্যতম শর্ত।