📄 আবু বকর আল মিশকী -এর ঘটনা
ইবনুল জাওযী (রাহ.) বলেন, আবু বকর আল মিশকীকে জিজ্ঞাসা করা হলো— কী ব্যাপার? আমরা সব সময় আপনার থেকে মেশকের ঘ্রাণ পাই! এর কারণ কী?
আবু বকর আল মিশকী (রহ.) বললেন, আল্লাহর কসম! বহু বছর যাবত আমি কোনো মেশক বা সুগন্ধি ব্যবহার করিনি। তবে এর কারণ হচ্ছে— একবার এক মহিলা বাহানা করে আমাকে তার ঘরে নিয়ে যায়। অতঃপর সে তার ঘরের সকল দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়। তারপর আমাকে তার সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত হতে আহ্বান করে। আমি তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাই! কী করা যায়—ভেবে পাচ্ছি না। কোনো পন্থা ও কৌশলই আমার মাথায় আসছে না। হঠাৎ আমি তাকে বললাম, আমার কিছুটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন। শৌচাগারে যাওয়া দরকার।
আমার কথা শুনে সে তার এক দাসীকে হুকুম দিল আমাকে শৌচাগারে নিয়ে যেতে। আমি সেখানে গিয়ে সেখানকার মলমূত্র আমার শরীরে মেখে নিলাম। অতঃপর সে অবস্থায়ই বের হয়ে তার কাছে এলাম। আমাকে দেখে মহিলা একেবারে হতভম্ব! তারপর আমাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার আদেশ করল এবং আমাকে বের করে দেওয়া হলো। সেখান থেকে বেরিয়ে আমি চলে এলাম এবং গোসল করে নিলাম।
রাতে যখন ঘুমালাম, স্বপ্নে দেখলাম, কেউ একজন বলছেন— ‘তুমি এমন কাজ করেছ, যে কাজ তুমি ছাড়া আর কেউ করেনি। আমি তোমার সৌরভকে দুনিয়া-আখেরাতে ছড়িয়ে দিব।’
ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার শরীর থেকে মেশকের ঘ্রাণ আসছে। তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। [আল-মাওয়ারিফ ওয়াল মাজালিস: ২৫৪]
এজন্যই আল্লাহ (সুব.) ও মুত্তাকীগণ শয়তানের স্পর্শ ও ধোঁকার সময় সচেতন হয়ে ওঠেন; তাদের বিবেচনা শক্তি জাগ্রত হয়ে ওঠে।