📄 এক যুবকের ঘটনা
হাফেয ইবনে আসাকির তাঁর রচিত ইতিহাস গ্রন্থে আমর ইবনে জামে-এর জীবন-চরিত আলোচনা প্রসঙ্গে একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এক যুবক সর্বদা মসজিদে ইবাদত-বন্দিগিতে মশগুল থাকত। কিন্তু এক নারী তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করত। একবার সে তাকে সঙ্গোপনে জেনা-ব্যভিচারে ডাকল। যতক্ষণ যুবক রাজি হলো না, ততক্ষণ ওই নারী যুবকের পিছনে লেগে রইল। অবশেষে সে তাকে বশীভূত করে নিজের সঙ্গে নিজ ঘরের দরজা পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হলো। আর তখনই হঠাৎ যুবকটির এই আয়াত মনে পড়ে গেল—
إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُمْ مُبْصِرُونَ
‘যারা তাকওয়ার অধিকারী, তাদের উপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে সাথে তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে ওঠে।’ অমনি সে বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেল এবং তখনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল।
তখন হযরত উমর (রা.) সেখানে এলেন এবং তার শোক-সন্তপ্ত পিতাকে সান্ত্বনা দিলেন। অবশ্য তার পিতা তাকে রাতেই দাফন করেছিলেন। উমর (রা.) তার সঙ্গীদ্বয়কে নিয়ে কবরের সামনে গিয়ে জানাযা পড়লেন। অতঃপর তিনি যুবককে ডেকে বললেন, হে যুবক! وَمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِۦ جَنَّتَانِ [আর যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দু'টি জান্নাত। –সূরা আর-রহমান: ৪৬] এর ব্যাপারে তোমার অভিজ্ঞতা কী?
যুবক কবরের ভিতর থেকে ডেকে উত্তর দিল, হে উমর! আমার মহান প্রতিপালক আমাকে দুই বারে দু'টি জান্নাতই দান করেছেন। [তাফসীরে ইবনে কাসীর]
📄 আবু বকর আল মিশকী -এর ঘটনা
ইবনুল জাওযী (রাহ.) বলেন, আবু বকর আল মিশকীকে জিজ্ঞাসা করা হলো— কী ব্যাপার? আমরা সব সময় আপনার থেকে মেশকের ঘ্রাণ পাই! এর কারণ কী?
আবু বকর আল মিশকী (রহ.) বললেন, আল্লাহর কসম! বহু বছর যাবত আমি কোনো মেশক বা সুগন্ধি ব্যবহার করিনি। তবে এর কারণ হচ্ছে— একবার এক মহিলা বাহানা করে আমাকে তার ঘরে নিয়ে যায়। অতঃপর সে তার ঘরের সকল দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়। তারপর আমাকে তার সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত হতে আহ্বান করে। আমি তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাই! কী করা যায়—ভেবে পাচ্ছি না। কোনো পন্থা ও কৌশলই আমার মাথায় আসছে না। হঠাৎ আমি তাকে বললাম, আমার কিছুটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন। শৌচাগারে যাওয়া দরকার।
আমার কথা শুনে সে তার এক দাসীকে হুকুম দিল আমাকে শৌচাগারে নিয়ে যেতে। আমি সেখানে গিয়ে সেখানকার মলমূত্র আমার শরীরে মেখে নিলাম। অতঃপর সে অবস্থায়ই বের হয়ে তার কাছে এলাম। আমাকে দেখে মহিলা একেবারে হতভম্ব! তারপর আমাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার আদেশ করল এবং আমাকে বের করে দেওয়া হলো। সেখান থেকে বেরিয়ে আমি চলে এলাম এবং গোসল করে নিলাম।
রাতে যখন ঘুমালাম, স্বপ্নে দেখলাম, কেউ একজন বলছেন— ‘তুমি এমন কাজ করেছ, যে কাজ তুমি ছাড়া আর কেউ করেনি। আমি তোমার সৌরভকে দুনিয়া-আখেরাতে ছড়িয়ে দিব।’
ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার শরীর থেকে মেশকের ঘ্রাণ আসছে। তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। [আল-মাওয়ারিফ ওয়াল মাজালিস: ২৫৪]
এজন্যই আল্লাহ (সুব.) ও মুত্তাকীগণ শয়তানের স্পর্শ ও ধোঁকার সময় সচেতন হয়ে ওঠেন; তাদের বিবেচনা শক্তি জাগ্রত হয়ে ওঠে।