📄 পিছনে শত্রুদের আগমন
রওহ বিন আতিইয়া বলেন, আমরা নির্বিঘ্নে পথ চলতে লাগলাম। বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চল পাড়ি দিয়ে আমরা এগুতে থাকলাম। যখন আমরা মুরজ আল সগীরের উম্মে হাকীমের উচ্চ অট্টালিকা পর্যন্ত আসলাম, তখন দেখলাম আমাদের পিছনে ধুলো উড়ছে। তখন আমাদের কিছু লোক গিয়ে বিষয়টি হযরত খালিদকে জানাল। হযরত খালিদ বললেন, আপনাদের মধ্যে কে তাদের খোঁজ নিতে পারবেন? তখন সা'সা'আ বিন ইয়াযীদ আল গিফারী বলে উঠল, আমীর সাহেব এদের খোঁজ নিতে আমি প্রস্তুত রয়েছি। এই বলে তিনি ঘোড়া থেকে নেমে দ্রুত ওদের দিকে চলে যান এবং তাদের খোঁজ নিয়ে দ্রুত চলে আসলেন। এসে বললেন, আমীর সাহেব খ্রিষ্টবাদীরা তো আমাদেরকে পেয়ে বসেছে। এরা বর্ম পরিহিত, এদের চোখ ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
একথা শুনে হযরত খালিদ ইউনুসকে ডাকলেন এবং বললেন, তুমি আমাদের পিছনে আসা অশ্বারোহীদের কাছে গিয়ে তারা কী চায় তা একটু জেনে আস। সে বলল, ঠিক আছে। সে তাদের কাছে গিয়ে ফিরে আসল। এসে হযরত খালিদকে বলল, আমীর সাহেব আমি কি বলিনি হিরোক্লিয়াস তার কন্যাকে অবশ্যই উদ্ধার করবেন? তিনি এদেরকে মুসলমানদের কাছ থেকে গনীমত গুলো চিনিয়ে নেওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। এরা দামেস্কের নিকটবর্তী হলে আপনার নিকট একজন দূত পাঠিয়ে সম্রাটের কন্যার মুক্তির ব্যাপারে কথা বলবে।
📄 সম্রাটের নরম সুর
কিছুক্ষণ পর মুসাফিরের পোশাক পরিহিত একজন বৃদ্ধ আসলেন। মুসলমানরা তাকে হযরত খালিদের কাছে নিয়ে গেল। হযরত খালিদ বললেন, আপনি কী বলতে চান নির্দ্বিধায় বলুন। বৃদ্ধ বললেন, আমি সম্রাট হিরোক্লিয়াসের দূত। তিনি আপনার উদ্দেশ্যে বলেছেন, "আমার কাছে খবর পৌছেছে যে, আপনি আমার লোকদের উপর জুলুম নির্যাতন চালিয়েছেন এবং আমার মেয়ের স্বামীকে হত্যা করেছেন। আর এতে করে আমার সম্মান নষ্ট করেছেন। তবে আপনি নিরাপদে বিজয় লাভ করেছেন বলে সীমালংঘন করবেন না। এখন আপনি আমার মেয়েকে হয়তো বিক্রি করে দেন, নতুবা হাদিয়া হিসেবে দিয়ে দেন। বদান্যতা আপনাদের স্বভাবজাত বিষয়। আমি আশা করি আপনাদের ও আমাদের মধ্যে সন্ধি হবে"।
📄 বদান্যতা স্বরূপ হযরত খালিদের সম্রাটের মেয়েকে মুক্তি দান
এ কথা শুনে হযরত খালিদ বৃদ্ধকে বললেন, আপনি আপনার নেতা হিরোক্লিয়াসকে বলবেন, আমি তার সিংহাসন ও পায়ের নিচের মাটির অধিকারী না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে ফিরে যাব না, ব্যাপারটা অবশ্যই তিনি জানেন। আর তিনি যদি সুযোগ পেতেন, তাহলে কখনো আমাদের প্রতি নমনীয় হতেন না। আর বলবেন যে, তার কন্যাকে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে হাদিয়া দিয়ে দিলাম। অতঃপর হযরত খালিদ সম্রাট তনয়াকে বৃদ্ধের কাছে হস্তান্তর করেন।
📄 ক্ষমতা লোভী সম্রাটের সেই পুরাতন অরণ্যে রোদন
বৃদ্ধ তাকে নিয়ে সম্রাটের কাছে উপস্থিত হবার পর সম্রাট তার সভাসদকে ডেকে বললেন- “এ বিপদের প্রতিই আমি তোমাদের ইঙ্গিত দিয়েছিলাম। কিন্তু তোমরা আমার কথাকে আমলে নাওনি, বরং আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলে। শীঘ্রই এর চেয়ে বড় বিপদ দেখা দিবে। বিপদটি আমাদের প্রভুর পক্ষ থেকেই আসবে”। সম্রাটের কথা শুনে তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল।