📄 সম্রাটের মেয়েকে ইউনুসকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করার প্রস্তাব
নওফল বিন আমর বলেন, লোকটিকে আমি ঘোড়ায় চড়ে একাকী রোমানদের এলাকায় চলে যেতে দেখলাম। অতঃপর হযরত খালিদ গনীমত ও বন্দীদেরকে তার সামনে উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন। তিনি গনীমতের আধিক্য দেখে আল্লাহর প্রশংসা ও শোকরিয়া জ্ঞাপন করলেন এবং রাহবর ইউনুসকে ডেকে পাঠালেন। সে আসলে হযরত খালিদ বললেন তোমার স্ত্রীর কী খবর। ইউনুস তার স্ত্রীর ঘটনা খুলে বলল। শুনে হযরত খালিদ বিস্মিত হলেন। তখন হযরত রাফে বিন উমাইরা আততাঈ বললেন, আমীর সাহেব আমি সম্রাট হিরোক্লিয়াসের কন্যাকে বন্দী করেছি এবং ইউনুসকে তার স্ত্রীর পরিবর্তে ওকে গ্রহণ করতে বলেছি। হযরত খালিদ বললেন সম্রাটের মেয়ে কোথায়?
তখন সম্রাটের মেয়েকে হযরত খালিদের সামনে উপস্থিত করা হল। তিনি তার রূপ সৌন্দর্য ও লাবণ্য দেখে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন- سبحانك اللهم وبحمدك تخلق ماتشاء وتختار. "হে আল্লাহ! পবিত্রতা ও প্রশংসার অধিকারী আপনিই। আপনি যা চান সৃষ্টি করেন ও নির্বাচিত করেন"। অতঃপর তিনি কুরআনের এ আয়াতটি পড়েন- (( وربك يخلق مَا يَشَاءُ ويختار )) “তোমার পালনকর্তা যা চান সৃষ্টি করেন ও নির্বাচন করেন"। অতঃপর ইউনুসকে বললেন, তুমি কি একে তোমার স্ত্রীর পরিবর্তে গ্রহণ করতে রাজি আছ? সে বলল, আমীর সাহেব, আমি জানি যে, সম্রাট মুক্তিপণ বা যুদ্ধ করে তাকে উদ্ধার করে নিবেই। হযরত খালিদ বললেন, তুমি তাকে এখন নিয়ে নাও। যদি সম্রাট তাকে না খুঁজেন, তাহলে সে তোমার জন্যই নির্দিষ্ট হয়ে থাকবে। আর যদি সম্রাট তাকে খুঁজেন, তাহলে তোমাকে আল্লাহ তার চেয়ে ভাল স্ত্রী দান করবেন।
📄 হযরত খালিদের দামেস্কে প্রত্যাবর্তন
ইউনুস বলল, আমীর সাহেব আপনি এখন একটি সংকীর্ণ ও দুর্গম ভূমিতে রয়েছেন। অতএব, রোমান সৈন্যরা এ দিকে না আসার পূর্বেই এখান থেকে চলে যান। হযরত খালিদ বললেন, আমাদের সাথে আল্লাহ রয়েছেন। এ বলে তিনি গনীমত গুলো দিয়ে কিছু লোককে সামনে রেখে মুসলমানদের নিয়ে সানন্দে দামেস্কের পথে রওয়ানা হলেন।
📄 পিছনে শত্রুদের আগমন
রওহ বিন আতিইয়া বলেন, আমরা নির্বিঘ্নে পথ চলতে লাগলাম। বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চল পাড়ি দিয়ে আমরা এগুতে থাকলাম। যখন আমরা মুরজ আল সগীরের উম্মে হাকীমের উচ্চ অট্টালিকা পর্যন্ত আসলাম, তখন দেখলাম আমাদের পিছনে ধুলো উড়ছে। তখন আমাদের কিছু লোক গিয়ে বিষয়টি হযরত খালিদকে জানাল। হযরত খালিদ বললেন, আপনাদের মধ্যে কে তাদের খোঁজ নিতে পারবেন? তখন সা'সা'আ বিন ইয়াযীদ আল গিফারী বলে উঠল, আমীর সাহেব এদের খোঁজ নিতে আমি প্রস্তুত রয়েছি। এই বলে তিনি ঘোড়া থেকে নেমে দ্রুত ওদের দিকে চলে যান এবং তাদের খোঁজ নিয়ে দ্রুত চলে আসলেন। এসে বললেন, আমীর সাহেব খ্রিষ্টবাদীরা তো আমাদেরকে পেয়ে বসেছে। এরা বর্ম পরিহিত, এদের চোখ ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
একথা শুনে হযরত খালিদ ইউনুসকে ডাকলেন এবং বললেন, তুমি আমাদের পিছনে আসা অশ্বারোহীদের কাছে গিয়ে তারা কী চায় তা একটু জেনে আস। সে বলল, ঠিক আছে। সে তাদের কাছে গিয়ে ফিরে আসল। এসে হযরত খালিদকে বলল, আমীর সাহেব আমি কি বলিনি হিরোক্লিয়াস তার কন্যাকে অবশ্যই উদ্ধার করবেন? তিনি এদেরকে মুসলমানদের কাছ থেকে গনীমত গুলো চিনিয়ে নেওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। এরা দামেস্কের নিকটবর্তী হলে আপনার নিকট একজন দূত পাঠিয়ে সম্রাটের কন্যার মুক্তির ব্যাপারে কথা বলবে।
📄 সম্রাটের নরম সুর
কিছুক্ষণ পর মুসাফিরের পোশাক পরিহিত একজন বৃদ্ধ আসলেন। মুসলমানরা তাকে হযরত খালিদের কাছে নিয়ে গেল। হযরত খালিদ বললেন, আপনি কী বলতে চান নির্দ্বিধায় বলুন। বৃদ্ধ বললেন, আমি সম্রাট হিরোক্লিয়াসের দূত। তিনি আপনার উদ্দেশ্যে বলেছেন, "আমার কাছে খবর পৌছেছে যে, আপনি আমার লোকদের উপর জুলুম নির্যাতন চালিয়েছেন এবং আমার মেয়ের স্বামীকে হত্যা করেছেন। আর এতে করে আমার সম্মান নষ্ট করেছেন। তবে আপনি নিরাপদে বিজয় লাভ করেছেন বলে সীমালংঘন করবেন না। এখন আপনি আমার মেয়েকে হয়তো বিক্রি করে দেন, নতুবা হাদিয়া হিসেবে দিয়ে দেন। বদান্যতা আপনাদের স্বভাবজাত বিষয়। আমি আশা করি আপনাদের ও আমাদের মধ্যে সন্ধি হবে"।