📄 দিরারের জন্য হযরত খালিদের দু’আ
হযরত খালিদের উপর থেকে যখন বিপদ দূর হয়ে গেল, তখন তিনি হযরত দিরারকে বললেন - قد أفلح الله وجهك يا ابن الأزور, فمازلت مباركا في كل أفعالك, فأنجح الله أعمالك وأصلح ربي حالك. “ওহে ইবনে আযূর তোমাকে আল্লাহ সফলকাম করেছেন। তুমি তোমার কাজে সবসময় যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছ। আল্লাহ তোমার কর্মকে উত্তীর্ণ করুন এবং তোমার অবস্থার উন্নতি করুন".
📄 হযরত খালিদের সাহায্যার্থে অদৃশ্য থেকে আওয়াজ
অতঃপর হযরত খালিদ আবদুর রহমান বিন আবু বকর ও অন্যান্য মুসলমানদেরকে সালাম করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কীভাবে আমার খবর জানতে পারলেন? হযরত আবুদর রহমান বললেন, রোমানদের সাথে যুদ্ধে যখন আমরা বিজয়ী হলাম, তখন মুসলমানরা সবাই গনীমত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। হঠাৎ করে অদৃশ্য থেকে আওয়াজ আসল- اشتغلتم بالغنائم وخالد قد أحاطت به الروم "তোমরা গনীমত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছ, অন্যদিকে রোমানরা হযরত খালিদকে বেষ্টন করে আছে"। একথা শুনলাম, কিন্তু আপনি কোথায় তা বুঝতে পারলাম না। আপনার খোঁজ নেওয়ার পর আমাদের একজন সাথীর হাতে আটক এক রোমান সৈন্য বলল, আপনাদের নেতাকে আমি হারবীসের সন্ধান দিয়েছি। তিনি এ পাহাড়ে তার সাথে যুদ্ধ করতে গেছেন। লোকটির কথা শোনার পর আমরা আপনার সাহায্যে চলে আসলাম।
📄 হারবীসের সন্ধানদানকারী রোমান সৈন্যের পুরস্কার
হযরত খালিদ বললেন, লোকটি আমাকে আমাদের শত্রু হারবীসের সন্ধান দিয়েছে এবং আপনাদেরকে আমার সন্ধান দিয়েছে। তাকে এর উত্তম বিনিময় প্রদান করা আবশ্যক। অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে মুসলমানদের দিকে এগিয়ে আসলেন। হযরত খালিদকে দেখে সবাই সালাম দিল। অতঃপর তিনি ঐ রোমান সৈন্যটিকে নিয়ে আসতে বললেন। তাকে আনা হলে হযরত খালিদ বললেন, তুমি আমাদের সাথে কৃত অঙ্গিকার পূর্ণ করেছ। এখন আমি তোমার সাথে কৃত অঙ্গিকার পূর্ণ করতে চাচ্ছি। তুমি আমাদের হিতাকাঙ্ক্ষা করেছ। এখন আমরা তোমার হিতাকাঙ্ক্ষা করে বলছি, তুমি কি আমাদের নামাজ ও রোজার ধর্ম 'ইসলাম' গ্রহণ করে জান্নাতে যেতে চাও না? সে বলল, আমি আমার ধর্ম ত্যাগ করতে চাই না। তখন হযরত খালিদ তাকে ছেড়ে দিলেন।
📄 সম্রাটের মেয়েকে ইউনুসকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করার প্রস্তাব
নওফল বিন আমর বলেন, লোকটিকে আমি ঘোড়ায় চড়ে একাকী রোমানদের এলাকায় চলে যেতে দেখলাম। অতঃপর হযরত খালিদ গনীমত ও বন্দীদেরকে তার সামনে উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন। তিনি গনীমতের আধিক্য দেখে আল্লাহর প্রশংসা ও শোকরিয়া জ্ঞাপন করলেন এবং রাহবর ইউনুসকে ডেকে পাঠালেন। সে আসলে হযরত খালিদ বললেন তোমার স্ত্রীর কী খবর। ইউনুস তার স্ত্রীর ঘটনা খুলে বলল। শুনে হযরত খালিদ বিস্মিত হলেন। তখন হযরত রাফে বিন উমাইরা আততাঈ বললেন, আমীর সাহেব আমি সম্রাট হিরোক্লিয়াসের কন্যাকে বন্দী করেছি এবং ইউনুসকে তার স্ত্রীর পরিবর্তে ওকে গ্রহণ করতে বলেছি। হযরত খালিদ বললেন সম্রাটের মেয়ে কোথায়?
তখন সম্রাটের মেয়েকে হযরত খালিদের সামনে উপস্থিত করা হল। তিনি তার রূপ সৌন্দর্য ও লাবণ্য দেখে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন- سبحانك اللهم وبحمدك تخلق ماتشاء وتختار. "হে আল্লাহ! পবিত্রতা ও প্রশংসার অধিকারী আপনিই। আপনি যা চান সৃষ্টি করেন ও নির্বাচিত করেন"। অতঃপর তিনি কুরআনের এ আয়াতটি পড়েন- (( وربك يخلق مَا يَشَاءُ ويختار )) “তোমার পালনকর্তা যা চান সৃষ্টি করেন ও নির্বাচন করেন"। অতঃপর ইউনুসকে বললেন, তুমি কি একে তোমার স্ত্রীর পরিবর্তে গ্রহণ করতে রাজি আছ? সে বলল, আমীর সাহেব, আমি জানি যে, সম্রাট মুক্তিপণ বা যুদ্ধ করে তাকে উদ্ধার করে নিবেই। হযরত খালিদ বললেন, তুমি তাকে এখন নিয়ে নাও। যদি সম্রাট তাকে না খুঁজেন, তাহলে সে তোমার জন্যই নির্দিষ্ট হয়ে থাকবে। আর যদি সম্রাট তাকে খুঁজেন, তাহলে তোমাকে আল্লাহ তার চেয়ে ভাল স্ত্রী দান করবেন।