📄 অভিশপ্ত হারবীসের বিদায়
হযরত খালিদ মুসলমানেদের আগমনের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে ডান ও বাম উভয় দিকে শত্রুদের যাকে পাচ্ছেন, তাকে আঘাত করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে মুসলমানদের আগমন দেখে হারবীস নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে দৌড়াল। তখন হযরত খালিদ তাকে ধাওয়া করলেন এবং তার গায়ে তরবারী দ্বারা আঘাত হানলেন। আঘাতে সে লুটিয়ে পড়ল এবং কিছুক্ষণ পর মারা গেল। অতঃপর মুসলমানদের হাতে তার সাথে থাকা সকল রোমান নিহত হল। রোমানরা যার হাতে সবচেয়ে বেশী নিহত হয়েছে, তিনি হচ্ছেন দিরার বিন আযূর।
📄 দিরারের জন্য হযরত খালিদের দু’আ
হযরত খালিদের উপর থেকে যখন বিপদ দূর হয়ে গেল, তখন তিনি হযরত দিরারকে বললেন - قد أفلح الله وجهك يا ابن الأزور, فمازلت مباركا في كل أفعالك, فأنجح الله أعمالك وأصلح ربي حالك. “ওহে ইবনে আযূর তোমাকে আল্লাহ সফলকাম করেছেন। তুমি তোমার কাজে সবসময় যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছ। আল্লাহ তোমার কর্মকে উত্তীর্ণ করুন এবং তোমার অবস্থার উন্নতি করুন".
📄 হযরত খালিদের সাহায্যার্থে অদৃশ্য থেকে আওয়াজ
অতঃপর হযরত খালিদ আবদুর রহমান বিন আবু বকর ও অন্যান্য মুসলমানদেরকে সালাম করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কীভাবে আমার খবর জানতে পারলেন? হযরত আবুদর রহমান বললেন, রোমানদের সাথে যুদ্ধে যখন আমরা বিজয়ী হলাম, তখন মুসলমানরা সবাই গনীমত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। হঠাৎ করে অদৃশ্য থেকে আওয়াজ আসল- اشتغلتم بالغنائم وخالد قد أحاطت به الروم "তোমরা গনীমত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছ, অন্যদিকে রোমানরা হযরত খালিদকে বেষ্টন করে আছে"। একথা শুনলাম, কিন্তু আপনি কোথায় তা বুঝতে পারলাম না। আপনার খোঁজ নেওয়ার পর আমাদের একজন সাথীর হাতে আটক এক রোমান সৈন্য বলল, আপনাদের নেতাকে আমি হারবীসের সন্ধান দিয়েছি। তিনি এ পাহাড়ে তার সাথে যুদ্ধ করতে গেছেন। লোকটির কথা শোনার পর আমরা আপনার সাহায্যে চলে আসলাম।
📄 হারবীসের সন্ধানদানকারী রোমান সৈন্যের পুরস্কার
হযরত খালিদ বললেন, লোকটি আমাকে আমাদের শত্রু হারবীসের সন্ধান দিয়েছে এবং আপনাদেরকে আমার সন্ধান দিয়েছে। তাকে এর উত্তম বিনিময় প্রদান করা আবশ্যক। অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে মুসলমানদের দিকে এগিয়ে আসলেন। হযরত খালিদকে দেখে সবাই সালাম দিল। অতঃপর তিনি ঐ রোমান সৈন্যটিকে নিয়ে আসতে বললেন। তাকে আনা হলে হযরত খালিদ বললেন, তুমি আমাদের সাথে কৃত অঙ্গিকার পূর্ণ করেছ। এখন আমি তোমার সাথে কৃত অঙ্গিকার পূর্ণ করতে চাচ্ছি। তুমি আমাদের হিতাকাঙ্ক্ষা করেছ। এখন আমরা তোমার হিতাকাঙ্ক্ষা করে বলছি, তুমি কি আমাদের নামাজ ও রোজার ধর্ম 'ইসলাম' গ্রহণ করে জান্নাতে যেতে চাও না? সে বলল, আমি আমার ধর্ম ত্যাগ করতে চাই না। তখন হযরত খালিদ তাকে ছেড়ে দিলেন।