📘 ফুতুহুশ শাম 📄 টমার স্ত্রীর গ্রেপ্তার

📄 টমার স্ত্রীর গ্রেপ্তার


হযরত রাফে' বিন বলেন, আমি চিৎকার দিয়ে তাদের ধাওয়া করে আমার ঘোড়ার ঘাতক মহিলাটিকে ধরে ফেললাম এবং তার মাথায় তরবারী উঠালাম। সে তখন সাহায্য সাহায্য বলে চিৎকার করল। তখন আমি তরবারী নামিয়ে ফেললাম এবং তার গলা বেঁধে রোমানদের একটি ঘোড়ায় আরোহণ করে তাকে নিয়ে আসলাম। তার মাথায় মনি মুক্তার একটি অলংকার ছিল। তাকে নিয়ে আমি ইউনুসের কী অবস্থা দেখার জন্য তার দিকে গেলাম। দেখলাম, সে তার স্ত্রীর পাশে বসা। তার স্ত্রীর শরীর রক্তরঞ্জিত ছিল। ইউনুস তার জন্য কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আমি গিয়ে তার স্ত্রীকে বললাম, ইসলাম গ্রহণ কর। সে বলল, মসীহের সত্যতার কসম। তা কখনো হতে পারে না। অতঃপর সে কাপড়ে লুকিয়ে রাখা ছুরি বের করে আত্মহত্যা করল।

তখন আমি ইউনুসকে বললাম, আল্লাহ তোমাকে এর চেয়ে উত্তম নারী দিয়েছেন। তার ঘাড়ে রেশমের কাপড় ও মনিমুক্তার গহনা রয়েছে। সৌন্দর্যে সে যেন পূর্ণিমা। অতএব, স্ত্রীর পরিবর্তে তাকেই গ্রহণ কর। ইউনুস বলল, সে মহিলা কে? বললাম, ও আমার হাতে বন্দী এ মহিলা। ইউনুস তার সুন্দর চেহারা, দামী পোশাক ও স্বর্ণালংকারের দিকে তাকিয়ে রোমীয় ভাষায় তার সাথে কথা বলল। সে কান্না বিজড়িত কণ্ঠে ইউনুসের কথার উত্তর দিল। অতঃপর ইউনুস আমাকে বলল একে চিনতে পেরেছেন? বললাম, না। বলল, এ সম্রাট হিরোক্লিয়াসের কন্যা ও টমার স্ত্রী। আমার মত লোক তার যোগ্য নই। সম্রাট অবশ্যই পণ দিয়ে তাকে মুক্ত করে নিবেন।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হারবীসের সন্ধানে হযরত খালিদ

📄 হারবীসের সন্ধানে হযরত খালিদ


হযরত খালিদ যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। তাই মুসলামানদের অনেকে তাকে দেখতে না পেয়ে বড় অস্থির হয়ে পড়ল। টমার মৃত্যুর পর তিনি হারবীসের সন্ধানে ব্যস্ত ছিলেন। হারবীসের সন্ধানে তিনি চতুর্দিক দৃষ্টি ফেরাচ্ছিলেন। হঠাৎ বিশালদেহী লাল বর্ণের এক রোমানকে দেখতে পান। হযরত খালিদ তাকে হারবীস মনে করে তার দিকে বিদ্যুৎ বেগে দৌড়ে গেলেন। সে হযরত খালিদকে তার দিক দৌড়ে আসতে দেখে পালাতে শুরু করে। হযরত খালিদ পিছন থেকে তার উপর বর্শা দ্বারা আঘাত হানেন। আঘাতে সে মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে গেল। হযরত খালিদ ঘোড়া থেকে নেমে সিংহের ন্যায় তার বক্ষে বসে যান এবং বললেন, হারবীস তুমি কি মনে করেছ আমার কাছ থেকে পালিয়ে যেতে পারবে? লোকটি আরবী জানত। সে বলল, ওহে আরব ভাই! আমি হারবীস নই। অতএব, আমাকে হত্যা করো না। হযরত খালিদ বললেন হারবীস কোথায় দেখিয়ে না দিলে তোমার মুক্তি নেই। লোকটি বলল, ঠিক আছে ওহে আমার আরব ভাই! এ পাহাড়ের উপর যে সব অশ্বারোহী দেখা যাচ্ছে হারবীস তাদের মাঝেই রয়েছে।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হযরত খালিদের দুঃসাহস

📄 হযরত খালিদের দুঃসাহস


হযরত খালিদ লোকটিকে তখন জাবেরের হাতে রেখে পাহাড়ের উপর উঠলেন এবং তাদের কাছে গিয়ে বললেন, আজ তোমাদের রেহাই নেই। হারবীস ও তার সৈন্যরা হযরত খালিদের আওয়াজ শুনে অস্ত্র হাতে তুলে নিল। হযরত খালিদ তাদেরকে আবার বললেন, তোমরা কি মনে করেছ আল্লাহ তোমাদেরকে আমাদের কবল থেকে রক্ষা করবেন? মনে রাখবে, আমি বীর অশ্বারোহী খালিদ বিন ওয়ালীদ। অতঃপর তিনি শত্রুদের দু'জনের উপর আঘাত হানলেন। তাদের একজন সাথে সাথে মারা গেল।

হারবীস হযরত খালিদের কথা শুনে লোকদের বলল, তোমরা ধ্বংস হবে এ লোকই গোটা সিরিয়া তছনছ করছে। এ-ই বসরা, হাওরান, আজনাদীন ও দামেস্কে আমাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে। দ্রুত তাকে হত্যা কর। হারবীসের কথা শুনে তার লোকেরা হযরত খালিদকে একাকী পাহাড়ে পেয়ে তার উপর চড়াও হতে চাইল। মুসলমানরা সকলেই রোমানদের সাথে যুদ্ধ ও তাদের সম্পদ তুলে নেওয়ায় ব্যস্ত ছিল। হারবীস ও তার লোকেরা সবাই হযরত খালিদের উপর চড়াও হল। হযরত খালিদ ঘোড়া থেকে নেমে ধৈর্যের সাথে তাদের মোকাবিলা করছিলেন।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হযরত খালিদের সাহায্যার্থে হযরত আবদুর রহমান

📄 হযরত খালিদের সাহায্যার্থে হযরত আবদুর রহমান


এ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী হযরত শাদ্দাদ বিন আউস বলেন, হযরত খালিদ বীর বিক্রমে হারবীস ও তার সৈন্যদের সাথে লড়ে যাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে হারবীস হযরত খালিদের পিছনে এসে তাকে তরবারী দ্বারা আঘাত করল। তরবারীর আঘাতে তার শিরস্ত্রাণটি ছিদ্র হয়ে যায় ও পাগড়ী ফেটে যায়। অন্যদিকে হারবীসের হাত থেকে তরবারী পড়ে যায়। সামনের দিক থেকে রোমানদের আক্রমণের আশংকায় হযরত খালিদ পিছনের দিকে তাকাননি; বরং তিনি রোমানদেরকে তার সাহায্যের জন্য লোক আসছে- এ ধোঁকায় ফেলে দেওয়ার জন্য জোর গলায় লাইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও নবী সা.-এর উপর দরুদ পড়তে লাগলেন। যাতে এর ফলে সৈন্যরা এদিক সেদিক তাকালে তিনি তাদের উপর আক্রমণ করার সুযোগ পান।

এ সময় হঠাৎ তিনি মুসলমানদের তাকবীর ও তাহলীলের ধ্বনি শুনতে পান, তাদের একজন বললেন- لا إله إلا الله محمد الرسول الله, أتاك النصر من رب العلمين, أنا عبد الرحمن بن أبي بكر الصديق. “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্..। আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে আপনার জন্য সাহায্য এসে পৌঁছেছে। আমি হলাম আবদুর রহমান বিন আবু বকর সিদ্দীক”।

ফন্ট সাইজ
15px
17px