📄 অভিশপ্ত টমার বিদায়
টমা হযরত খালিদের দিকে এগিয়ে গেল। তাকে পাঁচশত অশ্বারোহী ঘিরে রেখেছিল। তার সামনে মনিমুক্তা খচিত একটি স্বর্ণের ক্রুশ উত্তোলন করে রাখা হয়েছিল। হযরত খালিদ তার উপর হামলা করলেন। বললেন, ওহে আল্লাহর শত্রু তোমরা কি মনে করেছ আমাদের কবল থেকে রেহাই পাবে? আল্লাহ তা'আলা আমাদের জন্য ভূমিকে গুটিয়ে দিয়েছেন। টমা কানা ছিল। হযরত আবানের স্ত্রী তাকে কানা করে দেন। হযরত খালিদ বর্শা দিয়ে তার অপর চক্ষুটি অন্ধ করে দেন। তখন সে তার ঘোড়া থেকে পড়ে যায়। সাথে সাথে অন্যান্য মুসলমানরা টমা ও হারবীসের সৈন্যদের উপর তীব্র আক্রমন শুরু করলেন। হযরত আবদুর রহমান বিন আবু বকরকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দান করুন। টমা ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে তিনি তার ঘোড়া থেকে নেমে দৌড়ে এসে তার বুকের উপর বসে যান এবং তার মাথাটি কেটে বর্শার মাথায় রেখে বললেন অভিশপ্ত টমা নিহত হয়েছে। এখন সবাই হারবীসকে খোঁজ করুন। একথা শোনে মুসলমানরা আনন্দিত হল।
📄 ইউনুসের স্ত্রীর সন্ধান লাভ
রাফে' বিন উমাইরা আততাঈ বলেন, আমি হযরত খালিদের ডান পার্শ্বে ছিলাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম, রোমানদের লেবাস পরিহিত একজন লোক এসে এক রোমান মহিলার সাথে যুদ্ধ করছে। কাছে গিয়ে দেখলাম সে ইউনুস। সে তার স্ত্রীকে ধরার জন্য প্রাণপণ লড়াই করছে। আমি কাছে গিয়ে ইউনুসকে সাহায্য করার ইচ্ছা করলাম। এসময় দেখলাম দশজন রোমান মহিলা মুসলমানদের উপর পাথর ছুঁড়ে মারছে। দেখলাম রেশমের কাপড় পরিহিত এক সুন্দরী মহিলা মুসলমানেদের দিকে একটি বিরাট পাথর ছুড়ে মারল। ওই পাথরটি আমার ঘোড়ার কপালে এসে পড়ল। ঘোড়া সাথে সাথে লুটিয়ে পড়ল এবং মারা গেল। ঘোড়াটি খুব ভাল ঘোড়া ছিল। এ ঘোড়া নিয়ে আমি ইয়ামামার যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছি। ঘোড়া পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমি ওই মহিলার দিকে দৌড়ে গেলাম। আমাকে দেখে সে শিকারের হরিণের ন্যায় দৌড়ে পালিয়ে গেল। তার সাথে সাথে অন্যান্য মহিলারাও পালিয়ে গেল।
📄 টমার স্ত্রীর গ্রেপ্তার
হযরত রাফে' বিন বলেন, আমি চিৎকার দিয়ে তাদের ধাওয়া করে আমার ঘোড়ার ঘাতক মহিলাটিকে ধরে ফেললাম এবং তার মাথায় তরবারী উঠালাম। সে তখন সাহায্য সাহায্য বলে চিৎকার করল। তখন আমি তরবারী নামিয়ে ফেললাম এবং তার গলা বেঁধে রোমানদের একটি ঘোড়ায় আরোহণ করে তাকে নিয়ে আসলাম। তার মাথায় মনি মুক্তার একটি অলংকার ছিল। তাকে নিয়ে আমি ইউনুসের কী অবস্থা দেখার জন্য তার দিকে গেলাম। দেখলাম, সে তার স্ত্রীর পাশে বসা। তার স্ত্রীর শরীর রক্তরঞ্জিত ছিল। ইউনুস তার জন্য কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আমি গিয়ে তার স্ত্রীকে বললাম, ইসলাম গ্রহণ কর। সে বলল, মসীহের সত্যতার কসম। তা কখনো হতে পারে না। অতঃপর সে কাপড়ে লুকিয়ে রাখা ছুরি বের করে আত্মহত্যা করল।
তখন আমি ইউনুসকে বললাম, আল্লাহ তোমাকে এর চেয়ে উত্তম নারী দিয়েছেন। তার ঘাড়ে রেশমের কাপড় ও মনিমুক্তার গহনা রয়েছে। সৌন্দর্যে সে যেন পূর্ণিমা। অতএব, স্ত্রীর পরিবর্তে তাকেই গ্রহণ কর। ইউনুস বলল, সে মহিলা কে? বললাম, ও আমার হাতে বন্দী এ মহিলা। ইউনুস তার সুন্দর চেহারা, দামী পোশাক ও স্বর্ণালংকারের দিকে তাকিয়ে রোমীয় ভাষায় তার সাথে কথা বলল। সে কান্না বিজড়িত কণ্ঠে ইউনুসের কথার উত্তর দিল। অতঃপর ইউনুস আমাকে বলল একে চিনতে পেরেছেন? বললাম, না। বলল, এ সম্রাট হিরোক্লিয়াসের কন্যা ও টমার স্ত্রী। আমার মত লোক তার যোগ্য নই। সম্রাট অবশ্যই পণ দিয়ে তাকে মুক্ত করে নিবেন।
📄 হারবীসের সন্ধানে হযরত খালিদ
হযরত খালিদ যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। তাই মুসলামানদের অনেকে তাকে দেখতে না পেয়ে বড় অস্থির হয়ে পড়ল। টমার মৃত্যুর পর তিনি হারবীসের সন্ধানে ব্যস্ত ছিলেন। হারবীসের সন্ধানে তিনি চতুর্দিক দৃষ্টি ফেরাচ্ছিলেন। হঠাৎ বিশালদেহী লাল বর্ণের এক রোমানকে দেখতে পান। হযরত খালিদ তাকে হারবীস মনে করে তার দিকে বিদ্যুৎ বেগে দৌড়ে গেলেন। সে হযরত খালিদকে তার দিক দৌড়ে আসতে দেখে পালাতে শুরু করে। হযরত খালিদ পিছন থেকে তার উপর বর্শা দ্বারা আঘাত হানেন। আঘাতে সে মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে গেল। হযরত খালিদ ঘোড়া থেকে নেমে সিংহের ন্যায় তার বক্ষে বসে যান এবং বললেন, হারবীস তুমি কি মনে করেছ আমার কাছ থেকে পালিয়ে যেতে পারবে? লোকটি আরবী জানত। সে বলল, ওহে আরব ভাই! আমি হারবীস নই। অতএব, আমাকে হত্যা করো না। হযরত খালিদ বললেন হারবীস কোথায় দেখিয়ে না দিলে তোমার মুক্তি নেই। লোকটি বলল, ঠিক আছে ওহে আমার আরব ভাই! এ পাহাড়ের উপর যে সব অশ্বারোহী দেখা যাচ্ছে হারবীস তাদের মাঝেই রয়েছে।