📄 হযরত খালিদের যুদ্ধ কৌশল
অতঃপর হযরত খালিদ তার সাথীদের চার ভাগে ভাগ করে দিয়ে প্রথম এক হাজারের আমীর নিযুক্ত করলেন হযরত দিরারকে। দ্বিতীয় এক হাজারের আমীর বানালেন রাফে' বিন উমাইরা আততাঈকে। তৃতীয় এক হাজারের আমীর নিযুক্ত করলেন হযরত আবদুর রহিম বিন আবু বকরকে। বাকী একহাজার হযরত খালিদ নিজের সাথে রাখলেন। আর তাদেরকে বললেন, আপনারা আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা করে অগ্রসর হোন। তাদের উপর সবাই এক যোগে আক্রমণ করবেন না। বরং ধারাবাহিকভাবে তাদের উপর আক্রমণ করবেন। তারা শত্রুদের কাছাকাছি যাওয়ার পর সর্ব প্রথম হযরত দিরার গিয়ে আক্রমণ করেন। অতঃপর হযরত রাফে বিন উমাইরা আততাঈ। অতঃপর হযরত আবদুর রহমান বিন আবু বকর। অতঃপর হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ।
📄 হযরত খালিদের নসিহত
হযরত উবাইদ বিন সাঈদ বলেন, ঐ মাঠের সুন্দর দৃশ্য দেখে আমরা সম্মোহিত হয়ে গেলাম। হযরত খালিদ ডাক দিয়ে বললেন, আপনারা আল্লাহর শত্রুদের নিধনে আত্মনিয়োগ করুন। গনীমত ও মাঠের সুন্দর দৃশ্য দেখে ব্যস্ত হবেন না। ইনশাআল্লাহ-ঐসবের মালিক আপনারাই।
📄 যুদ্ধের সূচনা
মুসলমানেদের দেখে হতবিহ্বল রোমানরা দৌড়ে গিয়ে অস্ত্র হাতে নিল ও ঘোড়ায় চড়ে বসল। তারা একে অপরকে বলল, এটা একটি ক্ষুদ্র বাহিনী। মসীহ আমাদের জন্য গনীমত স্বরূপ তাদেরকে আমাদের কাছে প্রেরণ করেছেন। অতএব, তাদেরকে ধর। রোমানরা মনে করেছিল, হযরত দিরারের সাথে থাকা সৈন্যরা ছাড়া মুসলমানদের আর কোন সৈন্য নেই। হঠাৎ তারা দেখতে পেল, হযরত দিরারের সমান সৈন্য নিয়ে হযরত রাফে এগিয়ে আসছেন। এর পর দেখল আরেকটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ এগিয়ে আসছেন। তারা এসে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ধ্বনি দিয়ে রোমানদেরকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেললেন এবং বললেন, হাতে যা কিছু আছে দিয়ে দাও। মুসলমানদেরকে তাদের দিকে বহমান স্রোতের ন্যায় ধেয়ে আসতে দেখে হারবীস তার লোকদেরকে বলল, আপনাদের সম্পদ রক্ষার্থে এদের উপর ঝাপিয়ে পড়ুন। এখানে এদের কোন কৌশল কাজে আসবে না। এরা সবাই এখানেই মারা পড়বে। এ সময় রোমানরা দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একভাগের নেতৃত্বে থাকে হারবীস ও আরেক ভাগের নেতৃত্বে থাকে টমা।
📄 অভিশপ্ত টমার বিদায়
টমা হযরত খালিদের দিকে এগিয়ে গেল। তাকে পাঁচশত অশ্বারোহী ঘিরে রেখেছিল। তার সামনে মনিমুক্তা খচিত একটি স্বর্ণের ক্রুশ উত্তোলন করে রাখা হয়েছিল। হযরত খালিদ তার উপর হামলা করলেন। বললেন, ওহে আল্লাহর শত্রু তোমরা কি মনে করেছ আমাদের কবল থেকে রেহাই পাবে? আল্লাহ তা'আলা আমাদের জন্য ভূমিকে গুটিয়ে দিয়েছেন। টমা কানা ছিল। হযরত আবানের স্ত্রী তাকে কানা করে দেন। হযরত খালিদ বর্শা দিয়ে তার অপর চক্ষুটি অন্ধ করে দেন। তখন সে তার ঘোড়া থেকে পড়ে যায়। সাথে সাথে অন্যান্য মুসলমানরা টমা ও হারবীসের সৈন্যদের উপর তীব্র আক্রমন শুরু করলেন। হযরত আবদুর রহমান বিন আবু বকরকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দান করুন। টমা ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে তিনি তার ঘোড়া থেকে নেমে দৌড়ে এসে তার বুকের উপর বসে যান এবং তার মাথাটি কেটে বর্শার মাথায় রেখে বললেন অভিশপ্ত টমা নিহত হয়েছে। এখন সবাই হারবীসকে খোঁজ করুন। একথা শোনে মুসলমানরা আনন্দিত হল।