📄 ব্যাখ্যা শুনে হযরত খালিদের প্রতিক্রিয়া
হযরত খালিদ বললেন, আপনার কথাই যদি স্বপ্নের ব্যাখ্যা হয়, তা হলে আল্লাহর কাছে কামনা করছি, তিনি যেন আমার এ অবনতি ও ত্রুটি পার্থিব বিষয়ে করেন। আল্লাহর কাছেই প্রত্যেক ব্যাপারে সাহায্য কামনা করছি ও ভরসা করছি। অতঃপর হযরত খালিদ সাথীদের নিয়ে রাহবারের সাথে চলে পাহাড় অতিক্রম করলেন। অতঃপর যেদিন সকালে আমরা শত্রুদের পেয়ে যাব বলে মনে করছিলাম, সে দিনের পূর্বের রাত্রে আমাদের মুসল ধারে বৃষ্টি পেয়ে বসে। তবে আল্লাহর রহমত, তিনি শত্রুদের পথ আটকে রাখেন।
📄 শত্রুদের সন্ধান লাভ
হযরত রওহা বিন তুরাইফ বলেন, ঐ রাত আমরা পুরোটাই পথ চললাম এবং সারারাত বৃষ্টি বর্ষণ অব্যাহত থাকে। সকালে সূর্যোদয় হওয়ার আগেই ইউনুস বলল, আমীর সাহেব! একটু দাঁড়ালে ভাল হয়। আমি শত্রুদের খোঁজ খবর নিয়ে আসছি। সন্দেহ নেই, শত্রুরা আমাদের নিকটেই অবস্থান করছে। আমি তাদের আওয়াজ শুনেছি। হযরত খালিদ বললেন, তুমি কি সত্যি তাদের আওয়াজ শুনেছ? ইউনুস বলল, হ্যাঁ। এখন আমি চাচ্ছি, আপনি আমাকে তাদের অবস্থা জেনে আসার জন্য পাঠান। হযরত খালিদ এদিক সেদিক তাকিয়ে মুফাররত বিন জা'দা নামের একজনকে ডেকে বললেন, তুমি ইউনুসের সাথে যাও। সতর্ক থাকবে, যেন শত্রুরা তোমাদের দেখে না ফেলে। মুফাররত বলল, ঠিক আছে। অতঃপর উভয়ে রওয়ানা হয়ে যায় এবং কিছু দূর চলার পর আবরাশ নামীয় একটি পাহাড়ে এসে উপনিত হয়। রোমানরা এ পাহাড়কে বারিদাহ (শীতল পাহাড়) নামে অভিহিত করে। মুফারারত বলেন, পাহাড়ের উপর উঠে আমরা একটি সবুজ ঘাস বিশিষ্ট প্রশস্ত মাঠ দেখতে পেলাম। ঐ মাঠে তারা নষ্ট না হওয়ার জন্য ভেজা মাল-সামানা বিছিয়ে শুকাতে দেয়। বৃষ্টি ও সফরের ক্লান্তির কারণে তাদের লোকদের প্রায় সকলেই ঘুমিয়ে পড়ে। এ অবস্থা দেখে আমি পরম খুশীতে ইউনুসকে ফেলেই হযরত খালিদের কাছে চলে আসলাম। হযরত খালিদ আমাকে একা দেখে আমার দিকে দৌড়ে আসলেন এবং মনে করলেন যে, আমার সাথী শত্রুদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। বললেন ওহে জা'দা পুত্র! কী খবর, দ্রুত বল! বললাম, আমীর সাহেব! খবর হল, গনীমত এ পাহাড়ের পশ্চাতে। বৃষ্টিতে ভেজা শত্রুরা সূর্য দেখে তাদের জিনিস-পত্র শুকাতে দিয়ে আরাম করছে। তখন আমি হযরত খালিদের চেহারায় আনন্দের ছাপ দেখতে পেলাম। এসময় ইউনুসও এসে উপস্থিত হল। সে বলল, সুসংবাদ গ্রহণ করুন আমীর সাহেব! শত্রুদের অধিকাংশই নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। তবে আমি আপনাদের সাথীদের সবাইকে এ ব্যাপারে নিবেদন করছি যে, যার হাতেই আমার স্ত্রী ধরা পড়ুক, তাকে যেন হেফাযত করে। আমি তাকে ব্যতীত আর কোন গনীমত চাই না। হযরত খালিদ বললেন, ঠিক আছে। ইনশাআল্লাহ সে তোমার জন্য নির্দিষ্ট থাকবে।
📄 হযরত খালিদের যুদ্ধ কৌশল
অতঃপর হযরত খালিদ তার সাথীদের চার ভাগে ভাগ করে দিয়ে প্রথম এক হাজারের আমীর নিযুক্ত করলেন হযরত দিরারকে। দ্বিতীয় এক হাজারের আমীর বানালেন রাফে' বিন উমাইরা আততাঈকে। তৃতীয় এক হাজারের আমীর নিযুক্ত করলেন হযরত আবদুর রহিম বিন আবু বকরকে। বাকী একহাজার হযরত খালিদ নিজের সাথে রাখলেন। আর তাদেরকে বললেন, আপনারা আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা করে অগ্রসর হোন। তাদের উপর সবাই এক যোগে আক্রমণ করবেন না। বরং ধারাবাহিকভাবে তাদের উপর আক্রমণ করবেন। তারা শত্রুদের কাছাকাছি যাওয়ার পর সর্ব প্রথম হযরত দিরার গিয়ে আক্রমণ করেন। অতঃপর হযরত রাফে বিন উমাইরা আততাঈ। অতঃপর হযরত আবদুর রহমান বিন আবু বকর। অতঃপর হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ।
📄 হযরত খালিদের নসিহত
হযরত উবাইদ বিন সাঈদ বলেন, ঐ মাঠের সুন্দর দৃশ্য দেখে আমরা সম্মোহিত হয়ে গেলাম। হযরত খালিদ ডাক দিয়ে বললেন, আপনারা আল্লাহর শত্রুদের নিধনে আত্মনিয়োগ করুন। গনীমত ও মাঠের সুন্দর দৃশ্য দেখে ব্যস্ত হবেন না। ইনশাআল্লাহ-ঐসবের মালিক আপনারাই।