📄 ইউনুস নামের এক রোমান ও তার আদরের স্ত্রীর কথা
ওয়ায়েলা বিন আসকা বলেন, দামেস্ক জয়ের সময় আমি হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদের সৈন্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। তিনি আমাকে হযরত দিরারের সাথে দামেস্কের চতুর্পার্শ্বে চক্কর দেওয়ার কাজে নিযুক্ত করলেন। হঠাৎ দেখলাম, একটি গেইট দিয়ে একজন অশ্বরোহী বের হচ্ছে। কাছে আসতেই আমরা তাকে বন্দী করে ফেললাম এবং বললাম, যদি আওয়াজ কর তাহলে মেরে ফেলবো। এর পর দেখলাম, আরেকজন অশ্বারোহী এসে তাকে ডাক দিচ্ছে। আমরা বললাম, ওকে এদিকে আসতে বল। সে রোমীয় ভাষায় বলল, পাখী ফাঁদে আটকা পড়েছে। তখন সে গেইট বন্ধ করে চলে গেল। অতঃপর আমরা তাকে হত্যা করতে চাইলাম, কিন্তু আমাদের কিছু সাথী বলল, তাকে হত্যা না করে হযরত খালিদের কাছে নিয়ে চল। আমরা তাকে নিয়ে হযরত খালিদের কাছে আসলাম। ঐ লোকটির নাম ইউনুস। হযরত খালিদ তার পরিচয় জানতে চাইলে বলল, আপনারা আসার পূর্বে আমি আমার এলাকায় একজন মেয়েকে বিয়ে করেছি। আমি তাকে খুব ভালবাসি। আপনাদের অবরোধ দীর্ঘ হওয়ায় আমি তার পরিবারকে বলি, তাকে আমার বাসর ঘরে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা তাকে আমার কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানাল এবং বলল, তাকে তোমার কাছে হস্তান্তরের সময় এখন আমাদের কাছে নেই। কিন্তু আমি তার কথা ভুলতে পারছি না। শহরে আমাদের একটি খেলার মাঠ রয়েছে। আমি তাকে সেখানে আসার কথা বললাম। সে আসলে উভয়ে অনেক খোশগল্প করলাম। সে আমাকে নিয়ে শহরের বাইরে চলে যাওয়ার জন্য বলল, তখন আমরা এসে গেইট খুললাম। গেইট খুলে আপনাদের খোঁজ খবর নিচ্ছিলাম। এসময় আপনার লোকেরা আমাকে ধরে ফেললে সে আমাকে ডাক দেয়। আমি তাকে আপনাদের ব্যাপারে সতর্ক করতে গিয়ে বললাম, পাখী ফাঁদে আটকা গেছে। অবশ্যই সে ছাড়া অন্য কেউ হলে তাকে আপনাদের ব্যাপারে এভাবে সতর্ক করতাম না।
📄 ইউনুসের ইসলাম গ্রহণ
হযরত খালিদ বললেন, ইসলাম সম্পর্কে তোমার কী মত? সে বলল- أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا رسول الله. বর্ণণাকারী বললেন, অতঃপর সন্ধি করে আমাদের দামেস্ক নগরীতে প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত সে আমাদের সাথে মুশরিক দামেস্কবাসীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত বীরত্বের সাথে লড়াই করেছে। আমরা দেমেস্কে প্রবেশ করার পর সে তার স্ত্রীকে খোঁজতে লাগল। তখন তাকে বলা হল, সে (স্ত্রী) দরবেশী পোশাক পরেছে। তাই সে তার স্ত্রীকে দেখে চিনতে পারছিল না। ইউনুস তাকে বলল, তোমাকে বৈরাগ্যবাদ অবলম্বনে কিসে প্ররোচিত করেছে? বলল, আমি আমার স্বামীর সাথে প্রতারণা করেছি। ফলে তাকে আরবরা ধরে নিয়ে গেছে। তাই তার বিরহ বেদনায় আমি বৈরাগ্যবাদী হয়ে গেছি। ইউনুস বলল, আমি তোমার স্বামী। আমি আরবদের ধর্ম গ্রহণ করেছি। একথা শোনে স্ত্রী বলল, এখন আপনি কী করার ইচ্ছা করেছেন? ইউনুস বলল, আমি চাচ্ছি, তুমি আরবদের নিরাপত্তায় চলে আস। স্ত্রী বলল, মসীহের শপথ, তা কখোনো হতে পারে না। এ বলে সে টমার সাথে চলে গেল। ইউনুস এসে হযরত খালিদকে তার ব্যাপারটা জানালেন। হযরত খালিদ বললেন, আবু উবাইদা তো সন্ধির মাধ্যমে নগরীকে পদানত করেছেন। তাই তোমার স্ত্রীকে এখানে আটকে রাখার আমাদের কোন সুযোগ নেই।
📄 পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হযরত খালিদের হতাশা
পরে যখন সে জানতে পারল, হযরত খালিদ শহর ছেড়ে চলে যাওয়া লোকদের বিরুদ্ধে তিন দিন পর অভিযানে বের হবেন, তখন বলল, তাহলে আমিও এ অভিযানে শরীক হব। হতে পারে আমি আমার স্ত্রীকে পেয়ে যাব। কিন্তু চারদিন পরও যখন হযরত খালিদ অভিযানে বের হলেন না। তখন সে তার কাছে এসে বলল, আমীর সাহেব! আপনি এ দুই অভিশপ্ত টমা ও হারবীসের বিরুদ্ধে অভিযানে বের হয়ে তাদের ধন সম্পদ গনীমত হিসেবে নিয়ে নেওয়ার কথা ছিল না? হযরত খালিদ বললেন, হ্যাঁ! সে বলল, আপনি বের হচ্ছেন না যে? হযরত খালিদ বললেন, তাদের ও আমাদের মাঝে এখন চার দিন চার রাতের পথের দুরত্ব। আর তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে খুব দ্রুত পথ চলবে, তাই আমাদের পক্ষে গিয়ে তাদের ধরা সম্ভব হবে না। তখন ইউনুস বলল, এরা কোথায় থাকবে ও কোথায় যাবে আমি জানি। এছাড়াও পথ ঘাটও আমি ভাল ভাবে চিনি। তাই আশা করি, ইনশাআল্লাহ আমরা গিয়ে তাদেরকে ধরতে সক্ষম হবো। আপনারা খ্রীষ্টান আরব রাখাল ও জুযাম গোত্রের পোষাক পরবেন।
📄 কৃত প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নে হযরত খালিদ
ইউনুসের কথা শোনে হযরত খালিদ হালকা পাথেয় নিয়ে চার হাজার অশ্বারোহী সহকারে বের হয়ে গেলেন। তাদের রাহবর ছিল ইউনুস। বের হওয়ার পূর্বে হযরত খালিদ বাকী মুসলমানদের উপর হযরত আবু উবাইদাকে আমীর নিযুক্ত করে দামেস্ক শহর রক্ষার দায়িত্ব দিয়ে গেলেন।