📘 ফুতুহুশ শাম 📄 আবার বিরোধ

📄 আবার বিরোধ


চলে যাওয়ার আগে টমা ও হারবীস হযরত আবু উবাইদার কাছে এসে কিছু ধন-সম্পদ দিয়ে গেল। হযরত আবু উবাইদা তাদেরকে বললেন, তোমাদের সাথে কৃত অঙ্গিকার পূর্ণ করা হয়েছে। তোমরা যেখানেই যাও না কেন, তিন দিন পর্যন্ত তোমাদের জান ও মালের নিরাপত্তা থাকবে।

ইয়াযীদ বিন যুরাইফ বলেন, হযরত আবু উবাইদাকে কিছু বস্তু হস্তান্তর করার পর দামেস্কের লোকেরা যাত্রা শুরু করল। দামেস্কের প্রায় লোক মুসলমান প্রতিবেশীদেরকে ঘৃণা করে সপরিবারে দামেস্ক ছেড়ে চলে গেল। অন্য দিকে দামেস্কে পাওয়া বিপুল পরিমাণ গম ও যব নিয়ে দামেস্কে থেকে যাওয়া লোকদের সাথে হযরত খালিদের বিরোধ দেখা দেয়।

হযরত আবু উবাইদা বললেন, এগুলো তাদের। কেননা তারা সন্ধির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এ নিয়ে হযরত খালিদ ও হযরত আবু উবাইদার লোকদের মাঝে ঝগড়া বেধে যাওয়ার উপক্রম হল। পরে সিদ্ধান্ত হল যে, এ ব্যাপারে হযরত আবু বকরের রা.-এর কাছে পত্র পাঠানো হবে। তিনি যা ফয়সালা করবেন তা সবাই মেনে নেবে। কিন্তু হযরত আবু বকর রা. যে তাদের দামেস্ক প্রবেশের দিন ইন্তিকাল করেছেন, সে খবর তাদের জানা ছিল না।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হযরত দিরারের আক্ষেপ

📄 হযরত দিরারের আক্ষেপ


হযরত আতিইয়া বিন আমের বলেন, যে দিন টমা, হারবীস ও সম্রাটের কন্যা (টমার স্ত্রী) দামেস্ক ছেড়ে চলে যাচ্ছিল, সেদিন আমি দামেস্কের প্রধান ফটকে দাঁড়ানো ছিলাম। এসময় হযরত দিরারকে তাদের দিকে ক্ষোভের দৃষ্টিতে তাকাতে দেখলাম। মনে হচ্ছিল, তিনি তাদের বিনা শাস্তিতে ছেড়ে দেওয়ায় আক্ষেপ করছেন। আমি তাকে বললাম, ওহে আযূরের পুত্র! কী অবস্থা? আপনাকে ক্ষুব্ধ মনে হচ্ছে! আল্লাহর নিকট কি এদের ধন সম্পদের চেয়ে অধিক নেই?

তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এদের ধনসম্পদের জন্য আক্ষেপ করছি না। এরা আমাদের হাত থেকে ছুটে যাওয়ায় আমি আক্ষেপ করছি। আমি বললাম, আমীনুল উম্মাহ যুদ্ধের কারণে মুসলমানদের যে রক্তপাত হবে তা থেকে বাঁচার জন্য এ ভাল উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন। কারণ, একজন লোকের জান-মালের মর্যাদা সমগ্র পৃথিবী থেকে বেশি। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অন্তরে রহমত ঢেলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার উপর দয়া করেন না। কুরআনে বলেছেন- والصلح خير "সন্ধি করাই ভাল"।

হযরত দিরার বললেন, আপনি সত্যি বলেছেন। তবে যারা আল্লাহর স্ত্রী ও পুত্র আছে বলে দাবী করে তাদের প্রতি আমি দয়া করতে পারি না।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 ইউনুস নামের এক রোমান ও তার আদরের স্ত্রীর কথা

📄 ইউনুস নামের এক রোমান ও তার আদরের স্ত্রীর কথা


ওয়ায়েলা বিন আসকা বলেন, দামেস্ক জয়ের সময় আমি হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদের সৈন্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। তিনি আমাকে হযরত দিরারের সাথে দামেস্কের চতুর্পার্শ্বে চক্কর দেওয়ার কাজে নিযুক্ত করলেন। হঠাৎ দেখলাম, একটি গেইট দিয়ে একজন অশ্বরোহী বের হচ্ছে। কাছে আসতেই আমরা তাকে বন্দী করে ফেললাম এবং বললাম, যদি আওয়াজ কর তাহলে মেরে ফেলবো। এর পর দেখলাম, আরেকজন অশ্বারোহী এসে তাকে ডাক দিচ্ছে। আমরা বললাম, ওকে এদিকে আসতে বল। সে রোমীয় ভাষায় বলল, পাখী ফাঁদে আটকা পড়েছে। তখন সে গেইট বন্ধ করে চলে গেল। অতঃপর আমরা তাকে হত্যা করতে চাইলাম, কিন্তু আমাদের কিছু সাথী বলল, তাকে হত্যা না করে হযরত খালিদের কাছে নিয়ে চল। আমরা তাকে নিয়ে হযরত খালিদের কাছে আসলাম। ঐ লোকটির নাম ইউনুস। হযরত খালিদ তার পরিচয় জানতে চাইলে বলল, আপনারা আসার পূর্বে আমি আমার এলাকায় একজন মেয়েকে বিয়ে করেছি। আমি তাকে খুব ভালবাসি। আপনাদের অবরোধ দীর্ঘ হওয়ায় আমি তার পরিবারকে বলি, তাকে আমার বাসর ঘরে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা তাকে আমার কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানাল এবং বলল, তাকে তোমার কাছে হস্তান্তরের সময় এখন আমাদের কাছে নেই। কিন্তু আমি তার কথা ভুলতে পারছি না। শহরে আমাদের একটি খেলার মাঠ রয়েছে। আমি তাকে সেখানে আসার কথা বললাম। সে আসলে উভয়ে অনেক খোশগল্প করলাম। সে আমাকে নিয়ে শহরের বাইরে চলে যাওয়ার জন্য বলল, তখন আমরা এসে গেইট খুললাম। গেইট খুলে আপনাদের খোঁজ খবর নিচ্ছিলাম। এসময় আপনার লোকেরা আমাকে ধরে ফেললে সে আমাকে ডাক দেয়। আমি তাকে আপনাদের ব্যাপারে সতর্ক করতে গিয়ে বললাম, পাখী ফাঁদে আটকা গেছে। অবশ্যই সে ছাড়া অন্য কেউ হলে তাকে আপনাদের ব্যাপারে এভাবে সতর্ক করতাম না।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 ইউনুসের ইসলাম গ্রহণ

📄 ইউনুসের ইসলাম গ্রহণ


হযরত খালিদ বললেন, ইসলাম সম্পর্কে তোমার কী মত? সে বলল- أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا رسول الله. বর্ণণাকারী বললেন, অতঃপর সন্ধি করে আমাদের দামেস্ক নগরীতে প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত সে আমাদের সাথে মুশরিক দামেস্কবাসীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত বীরত্বের সাথে লড়াই করেছে। আমরা দেমেস্কে প্রবেশ করার পর সে তার স্ত্রীকে খোঁজতে লাগল। তখন তাকে বলা হল, সে (স্ত্রী) দরবেশী পোশাক পরেছে। তাই সে তার স্ত্রীকে দেখে চিনতে পারছিল না। ইউনুস তাকে বলল, তোমাকে বৈরাগ্যবাদ অবলম্বনে কিসে প্ররোচিত করেছে? বলল, আমি আমার স্বামীর সাথে প্রতারণা করেছি। ফলে তাকে আরবরা ধরে নিয়ে গেছে। তাই তার বিরহ বেদনায় আমি বৈরাগ্যবাদী হয়ে গেছি। ইউনুস বলল, আমি তোমার স্বামী। আমি আরবদের ধর্ম গ্রহণ করেছি। একথা শোনে স্ত্রী বলল, এখন আপনি কী করার ইচ্ছা করেছেন? ইউনুস বলল, আমি চাচ্ছি, তুমি আরবদের নিরাপত্তায় চলে আস। স্ত্রী বলল, মসীহের শপথ, তা কখোনো হতে পারে না। এ বলে সে টমার সাথে চলে গেল। ইউনুস এসে হযরত খালিদকে তার ব্যাপারটা জানালেন। হযরত খালিদ বললেন, আবু উবাইদা তো সন্ধির মাধ্যমে নগরীকে পদানত করেছেন। তাই তোমার স্ত্রীকে এখানে আটকে রাখার আমাদের কোন সুযোগ নেই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px