📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হযরত খালিদের দুআ

📄 হযরত খালিদের দুআ


হযরত খালিদ তাদের দিকে তাকিয়ে আকাশের দিকে হাত তুলে বললেন- اللهم اجعله لنا وملكনা إياه واجعل هذه الأمتعة قوتا للمسلمين, أمين إنك سميع الدعاء. “হে আল্লাহ আমদেরকে এ সম্পদের মালিক বানিয়ে দিন এবং এ জিনিস-পত্রকে মুসলমানদের জীবিকায় পরিণত করুন। আমাদের দু'আ কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি দুআ কবুলকারী"।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হযরত খালিদের পরিকল্পনা

📄 হযরত খালিদের পরিকল্পনা


অতঃপর হযরত খালিদ মুসলমানদের দিকে চলে আসলেন। এসে বললেন, আমি এখন একটি বিষয় ভাল মনে করছি, তাতে আপনারা কী একমত হবেন? তারা বললেন, হ্যাঁ!

হযরত খালিদ বললেন, তা হলে আপনারা আপনাদের ঘোড়াগুলোকে যথাসম্ভব খুব ভালভাবে পরিচর্যা করুন এবং অস্ত্রশস্ত্র প্রস্তুত করে রাখুন। তিন দিন পর আমি আপনাদের নিয়ে এদের সন্ধানে বের হব। আশা করি, তাদের এ বিশাল সম্পদরাজি যা আপনারা দেখলেন, আল্লাহ আমাদেরকে গনীমত হিসেবে দান করবেন। আমার মনে হচ্ছে, এরা দামেস্কে কোন ভাল জিনিস রেখে যায়নি। তারা বললেন, আপনি যেটা ভাল মনে করেন তা করতে পারেন। আমরা আপনার বিরোধিতা করব না।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 আবার বিরোধ

📄 আবার বিরোধ


চলে যাওয়ার আগে টমা ও হারবীস হযরত আবু উবাইদার কাছে এসে কিছু ধন-সম্পদ দিয়ে গেল। হযরত আবু উবাইদা তাদেরকে বললেন, তোমাদের সাথে কৃত অঙ্গিকার পূর্ণ করা হয়েছে। তোমরা যেখানেই যাও না কেন, তিন দিন পর্যন্ত তোমাদের জান ও মালের নিরাপত্তা থাকবে।

ইয়াযীদ বিন যুরাইফ বলেন, হযরত আবু উবাইদাকে কিছু বস্তু হস্তান্তর করার পর দামেস্কের লোকেরা যাত্রা শুরু করল। দামেস্কের প্রায় লোক মুসলমান প্রতিবেশীদেরকে ঘৃণা করে সপরিবারে দামেস্ক ছেড়ে চলে গেল। অন্য দিকে দামেস্কে পাওয়া বিপুল পরিমাণ গম ও যব নিয়ে দামেস্কে থেকে যাওয়া লোকদের সাথে হযরত খালিদের বিরোধ দেখা দেয়।

হযরত আবু উবাইদা বললেন, এগুলো তাদের। কেননা তারা সন্ধির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এ নিয়ে হযরত খালিদ ও হযরত আবু উবাইদার লোকদের মাঝে ঝগড়া বেধে যাওয়ার উপক্রম হল। পরে সিদ্ধান্ত হল যে, এ ব্যাপারে হযরত আবু বকরের রা.-এর কাছে পত্র পাঠানো হবে। তিনি যা ফয়সালা করবেন তা সবাই মেনে নেবে। কিন্তু হযরত আবু বকর রা. যে তাদের দামেস্ক প্রবেশের দিন ইন্তিকাল করেছেন, সে খবর তাদের জানা ছিল না।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হযরত দিরারের আক্ষেপ

📄 হযরত দিরারের আক্ষেপ


হযরত আতিইয়া বিন আমের বলেন, যে দিন টমা, হারবীস ও সম্রাটের কন্যা (টমার স্ত্রী) দামেস্ক ছেড়ে চলে যাচ্ছিল, সেদিন আমি দামেস্কের প্রধান ফটকে দাঁড়ানো ছিলাম। এসময় হযরত দিরারকে তাদের দিকে ক্ষোভের দৃষ্টিতে তাকাতে দেখলাম। মনে হচ্ছিল, তিনি তাদের বিনা শাস্তিতে ছেড়ে দেওয়ায় আক্ষেপ করছেন। আমি তাকে বললাম, ওহে আযূরের পুত্র! কী অবস্থা? আপনাকে ক্ষুব্ধ মনে হচ্ছে! আল্লাহর নিকট কি এদের ধন সম্পদের চেয়ে অধিক নেই?

তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এদের ধনসম্পদের জন্য আক্ষেপ করছি না। এরা আমাদের হাত থেকে ছুটে যাওয়ায় আমি আক্ষেপ করছি। আমি বললাম, আমীনুল উম্মাহ যুদ্ধের কারণে মুসলমানদের যে রক্তপাত হবে তা থেকে বাঁচার জন্য এ ভাল উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন। কারণ, একজন লোকের জান-মালের মর্যাদা সমগ্র পৃথিবী থেকে বেশি। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অন্তরে রহমত ঢেলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার উপর দয়া করেন না। কুরআনে বলেছেন- والصلح خير "সন্ধি করাই ভাল"।

হযরত দিরার বললেন, আপনি সত্যি বলেছেন। তবে যারা আল্লাহর স্ত্রী ও পুত্র আছে বলে দাবী করে তাদের প্রতি আমি দয়া করতে পারি না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px