📘 ফুতুহুশ শাম 📄 টমা ও হারবীস বাহিনীর দামেস্ক ছেড়ে চলে যাওয়া

📄 টমা ও হারবীস বাহিনীর দামেস্ক ছেড়ে চলে যাওয়া


হযরত আবু উবাইদা বললেন, ঠিক আছে তুমি আমাদের নিরাপত্তায়। এখন তুমি যেখানে ইচ্ছা সেখানে চলে যেতে পার। যখন তুমি অন্য কোন স্থানে গিয়ে বসবাস করবে, তখন আমাদের পক্ষ থেকে তোমাকে দেয়া নিরাপত্তা বাতিল হয়ে যাবে।

তখন টমা ও হারবীস বলল, আমরা যেখানেই যাইনা কেন, তিন দিন পর্যন্ত আপনাদের নিরাপত্তাধীন থাকব। তিনদিন পর আপনাদের কাছে আমাদের কোন নিরাপত্তা থাকবে না। এরপর আপনাদের কেউ আমাদের পেলে হত্যাও করতে পারবে, বন্দীও করতে পারবে।

হযরত খালিদ বললেন, ঠিক আছে। তবে তোমরা যাওয়ার সময় এ শহর থেকে কেবল পাথেয়টুকুই নিতে পারবে। তখন হযরত আবু উবাইদা হযরত খালিদেকে বললেন, এটা সন্ধির ব্যতিক্রম কথা। আমাদের সাথে তাদের কথা হয়েছে যে, তারা তাদের লোকজন ও ধনসম্পদ সব নিয়ে চলে যেতে পারবে।

হযরত খালিদ বললেন, ঠিক আছে। তবে সম্পদের সাথে কোন অস্ত্র নিতে পারবে না। তখন টমা বলল, পথে আত্মরক্ষার জন্য আমাদের সাথে অস্ত্র থাকতে হবে। তা না হলে আমরা কোথাও যাব না। আমাদের নিয়ে আপনারা যা ইচ্ছা তা-ই করুন।

হযরত আবু উবাইদা বললেন, প্রত্যেকের জন্য একটি করে অস্ত্র নেওয়ার অনুমতি দিন। যদি কেউ তরবারী নেয় তাহলে সে বর্শা নিতে পারবে না। যদি বর্শা নেয় তাহলে তরবারী নিতে পারবে না। আর যদি তীর নেয় তাহলে ছুরি নিতে পারবে না।

একথা শুনে টমা বলল, ঠিক আছে। আমরা এতে রাজি আছি। আমাদের প্রত্যেকে একটি করে অস্ত্রই নিতে চাচ্ছি।

অতঃপর টমা হযরত আবু উবাইদাকে বললেন, এ লোক (অর্থাৎ হযরত খালিদ)-কে আমার ভয় হচ্ছে। অতএব বিষয়টি আমাদের লিখে দিন। হযরত আবু উবাইদা বললেন, আমরা আরব, মিথ্যাও বলি না, বিশ্বাসঘাতকতাও করি না। আমাদের কথার কোন হেরফের হয় না।

অতঃপর টমা ও হারবীস চলে গেল এবং তাদের লোকদেরকে জিনিস-পত্র গুছিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিল।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোমানদের সম্পদের আধিক্য

📄 রোমানদের সম্পদের আধিক্য


দামেস্কে সম্রাটের একটি রেশমী কাপড়ের গুদাম ছিল। তাতে প্রায় তিনশত লোকের বহনযোগ্য পরিমাণ রেশমী কাপড় ও অলংকার ছিল। জিনিস-পত্র এনে রাখার জন্য টমার নির্দেশে দেমেস্কের অদূরে রেশমী কাপড় দিয়ে একটি ছাউনি তৈরী করা হল। দামেস্কের লোকজন তাদের ধন-সম্পদ এনে তাতে রাখলে একটি বিরাট স্তূপ হয়ে যায়। হযরত খালিদ তাদের ধন-সম্পদের আধিক্য দেখে বললেন, এদের সফর অনেক বড়। অতঃপর তিনি এ আয়াত পড়লেন-

((وَلَوْلَا أَنْ يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً لَجَعَلْنَا لِمَنْ يَكْفُرُ بِالرَّحْمَنِ لِبُيُوتِهِمْ سَقْفًا مِنْ فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ وَلِبُيُوتِهِمْ أَبْوَابًا وَسُرُرًا عَلَيْهَا يَتَّكِنُوْنَ، وَزُخْرُفًا وَإِنَّ كُلَّ ذَلِكَ لَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ عِنْدَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِينَ))

“মানুষের সবাই যদি একই সম্প্রদায়ের (অর্থাৎ, কাফির) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশংকা না থাকত, তাহলে দয়াময়ের (অর্থাৎ আল্লাহর) সাথে যারা অন্যায় আচরণ করছে, তাদেরকে আমি তাদের ঘরের ছাদ ও সিঁড়ি রৌপ্য দিয়ে তৈরীর করার সামর্থ দিতাম এবং তাদের ঘরের দরজা ও শয়নের খাটও রৌপ্য দিয়ে তৈরী করার সামর্থ দিতাম। আর তাদেরকে দান করতাম প্রচুর স্বর্ণ। এগুলো পার্থিব জীবনের ভোগ সামগ্রী। আর তোমার প্রভুর নিকট আখিরাতের চিরস্থায়ী ভোগ সামগ্রী রয়েছে শুধু মুত্তাকীদের জন্য"।

দামেস্কের লোকজন তাদের মাল-সামানা নিয়ে শিকারীর ভয়ে পলায়নরত গাধার ন্যায় ছুটে চলছে। তাড়াহুড়ার কারণে তারা আত্মীয় স্বজনের খোঁজ খবর নেওয়ারও সুযোগ পেল না।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হযরত খালিদের দুআ

📄 হযরত খালিদের দুআ


হযরত খালিদ তাদের দিকে তাকিয়ে আকাশের দিকে হাত তুলে বললেন- اللهم اجعله لنا وملكনা إياه واجعل هذه الأمتعة قوتا للمسلمين, أمين إنك سميع الدعاء. “হে আল্লাহ আমদেরকে এ সম্পদের মালিক বানিয়ে দিন এবং এ জিনিস-পত্রকে মুসলমানদের জীবিকায় পরিণত করুন। আমাদের দু'আ কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি দুআ কবুলকারী"।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হযরত খালিদের পরিকল্পনা

📄 হযরত খালিদের পরিকল্পনা


অতঃপর হযরত খালিদ মুসলমানদের দিকে চলে আসলেন। এসে বললেন, আমি এখন একটি বিষয় ভাল মনে করছি, তাতে আপনারা কী একমত হবেন? তারা বললেন, হ্যাঁ!

হযরত খালিদ বললেন, তা হলে আপনারা আপনাদের ঘোড়াগুলোকে যথাসম্ভব খুব ভালভাবে পরিচর্যা করুন এবং অস্ত্রশস্ত্র প্রস্তুত করে রাখুন। তিন দিন পর আমি আপনাদের নিয়ে এদের সন্ধানে বের হব। আশা করি, তাদের এ বিশাল সম্পদরাজি যা আপনারা দেখলেন, আল্লাহ আমাদেরকে গনীমত হিসেবে দান করবেন। আমার মনে হচ্ছে, এরা দামেস্কে কোন ভাল জিনিস রেখে যায়নি। তারা বললেন, আপনি যেটা ভাল মনে করেন তা করতে পারেন। আমরা আপনার বিরোধিতা করব না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px