📘 ফুতুহুশ শাম 📄 বিরোধ মীমাংসার জন্য পরামর্শ

📄 বিরোধ মীমাংসার জন্য পরামর্শ


অন্য দিকে আরবের গ্রাম্য মুসলমানরা দামেস্কের লোকদের হত্যা ও তাদের সম্পদ লুটে নিতে ব্যস্ত ছিল। এ দেখে হযরত আবু উবাইদা ঘোড়ায় চড়ে তাদের দিকে দৌড়ে যান এবং আক্ষেপ করে ডাক দিয়ে বলতে থাকেন, ওহে মুসলমানরা! আমি আপনাদেরকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি। যুদ্ধ বন্ধ করুন। আমি আর খালিদের মাঝে কী সিদ্ধান্ত হচ্ছে তার অপেক্ষা করুন।

তখন মুসলমানদের নিয়ে হযরত মুআয বিন জাবাল, ইয়াযীদ বিন আবু সুফিয়ান, আমর ইবনুল আস, শুরাহবীল বিন হাসানা, রবীআ বিন আমের ও আবদুল্লাহ বিন উমরের মতো বিখ্যাত সাহাবীগণ হযরত খালিদ ও হযরত আবু উবাইদার সামনে উপস্থিত হলেন। সবাই পরামর্শে বসেন। মুসলমানদের একদল (যাদের মধ্যে হযরত মুআয ও ইয়াযীদ বিন আবু সুফিয়ানও ছিলেন) বললেন, হযরত আবু উবাইদা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বহাল থাকুক। কারণ, সিরিয়ার সকল শহর পদানত করা কখনো সম্ভব হবে না। অন্যান্য শহরের লোকেরা যদি শুনে যে আমরা এদের সাথে সন্ধি করেছি এবং পরে সন্ধি ভঙ্গ করে তাদের হত্যা করেছি, তাহলে সিরিয়ার আর কোন শহর সন্ধির মাধ্যমে পদানত করা সম্ভব হবে না। তাই এদের হত্যা করার চেয়ে সন্ধি করে ছেড়ে দেওয়াই ভাল হবে। আর যদি আমীর সাহেব এটা না মানেন, তাহলে তিনি যতটুকু তরবারী দ্বারা পদানত করেছেন ততটুকুতেই আপাতত অভিযান স্থগিত রাখা হোক। এর নিয়ন্ত্রণে হযরত আবু উবাইদা তাকে সাহায্য করবেন। আর এ বিরোধের চূড়ান্ত মীমাংসার জন্য দ্রুত খলীফার নিকট পত্র লেখা হোক। তিনি যা নির্দেশ দিবেন আমরা তা-ই করব।

হযরত খালিদ বললেন, ঠিক আছে আমি আপনাদের পরামর্শ মেনে নিলাম। তবে অভিশপ্ত টমা ও হারবীস ছাড়া দামেস্কের সকল লোক নিরাপদ। হারবীসকে টমা শহরের অর্ধেক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়েছিল।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হযরত খালিদের ভয়ে কম্পমান অভিশপ্ত টমা ও হারবীস

📄 হযরত খালিদের ভয়ে কম্পমান অভিশপ্ত টমা ও হারবীস


হযরত আবু উবাইদা বললেন, এরাই প্রথমে আমার সাথে সন্ধিতে এসেছে। অতএব আমার দেওয়া নিরাপত্তা ভঙ্গ করবেন না। আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। হযরত খালিদ বললেন, আপনি নিরাপত্তা না দিলে তাদের উভয়কে এখনই হত্যা করতাম। তাদের প্রাণ এখন নিরাপদ হলেও তারা এ শহরে থাকতে পারবে না। হযরত আবু উবাইদা বললেন, এ শর্তেই তো আমি তাদের সাথে সন্ধি করেছি।

হযরত আবু উবাইদার সাথে হযরত খালিদের এ বিরোধের খবর পেয়ে টমা ও হারবীস প্রাণের ভয়ে একজন দোভাষীকে নিয়ে হযরত আবু উবাইদার কাছে এসে উপস্থিত হল এবং বলল, আপনার এ নেতা আমাদের সাথে আপনার কৃত চুক্তি ভঙ্গ করতে চাচ্ছে। আমরা সবাই আপনাদের নিরাপত্তায় চলে এসেছি। চুক্তি ভঙ্গ করা আপনাদের চরিত্র নয় বলে আপনারা ঘোষণা করেছিলেন। এখন আমরা আপনার কাছে যা চাচ্ছি, তা হচ্ছে, আপনারা আমাদেরকে আমাদের যেখানে ইচ্ছা সেখানে চলে যাওয়ার সুযোগ দিন।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 টমা ও হারবীস বাহিনীর দামেস্ক ছেড়ে চলে যাওয়া

📄 টমা ও হারবীস বাহিনীর দামেস্ক ছেড়ে চলে যাওয়া


হযরত আবু উবাইদা বললেন, ঠিক আছে তুমি আমাদের নিরাপত্তায়। এখন তুমি যেখানে ইচ্ছা সেখানে চলে যেতে পার। যখন তুমি অন্য কোন স্থানে গিয়ে বসবাস করবে, তখন আমাদের পক্ষ থেকে তোমাকে দেয়া নিরাপত্তা বাতিল হয়ে যাবে।

তখন টমা ও হারবীস বলল, আমরা যেখানেই যাইনা কেন, তিন দিন পর্যন্ত আপনাদের নিরাপত্তাধীন থাকব। তিনদিন পর আপনাদের কাছে আমাদের কোন নিরাপত্তা থাকবে না। এরপর আপনাদের কেউ আমাদের পেলে হত্যাও করতে পারবে, বন্দীও করতে পারবে।

হযরত খালিদ বললেন, ঠিক আছে। তবে তোমরা যাওয়ার সময় এ শহর থেকে কেবল পাথেয়টুকুই নিতে পারবে। তখন হযরত আবু উবাইদা হযরত খালিদেকে বললেন, এটা সন্ধির ব্যতিক্রম কথা। আমাদের সাথে তাদের কথা হয়েছে যে, তারা তাদের লোকজন ও ধনসম্পদ সব নিয়ে চলে যেতে পারবে।

হযরত খালিদ বললেন, ঠিক আছে। তবে সম্পদের সাথে কোন অস্ত্র নিতে পারবে না। তখন টমা বলল, পথে আত্মরক্ষার জন্য আমাদের সাথে অস্ত্র থাকতে হবে। তা না হলে আমরা কোথাও যাব না। আমাদের নিয়ে আপনারা যা ইচ্ছা তা-ই করুন।

হযরত আবু উবাইদা বললেন, প্রত্যেকের জন্য একটি করে অস্ত্র নেওয়ার অনুমতি দিন। যদি কেউ তরবারী নেয় তাহলে সে বর্শা নিতে পারবে না। যদি বর্শা নেয় তাহলে তরবারী নিতে পারবে না। আর যদি তীর নেয় তাহলে ছুরি নিতে পারবে না।

একথা শুনে টমা বলল, ঠিক আছে। আমরা এতে রাজি আছি। আমাদের প্রত্যেকে একটি করে অস্ত্রই নিতে চাচ্ছি।

অতঃপর টমা হযরত আবু উবাইদাকে বললেন, এ লোক (অর্থাৎ হযরত খালিদ)-কে আমার ভয় হচ্ছে। অতএব বিষয়টি আমাদের লিখে দিন। হযরত আবু উবাইদা বললেন, আমরা আরব, মিথ্যাও বলি না, বিশ্বাসঘাতকতাও করি না। আমাদের কথার কোন হেরফের হয় না।

অতঃপর টমা ও হারবীস চলে গেল এবং তাদের লোকদেরকে জিনিস-পত্র গুছিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিল।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোমানদের সম্পদের আধিক্য

📄 রোমানদের সম্পদের আধিক্য


দামেস্কে সম্রাটের একটি রেশমী কাপড়ের গুদাম ছিল। তাতে প্রায় তিনশত লোকের বহনযোগ্য পরিমাণ রেশমী কাপড় ও অলংকার ছিল। জিনিস-পত্র এনে রাখার জন্য টমার নির্দেশে দেমেস্কের অদূরে রেশমী কাপড় দিয়ে একটি ছাউনি তৈরী করা হল। দামেস্কের লোকজন তাদের ধন-সম্পদ এনে তাতে রাখলে একটি বিরাট স্তূপ হয়ে যায়। হযরত খালিদ তাদের ধন-সম্পদের আধিক্য দেখে বললেন, এদের সফর অনেক বড়। অতঃপর তিনি এ আয়াত পড়লেন-

((وَلَوْلَا أَنْ يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً لَجَعَلْنَا لِمَنْ يَكْفُرُ بِالرَّحْمَنِ لِبُيُوتِهِمْ سَقْفًا مِنْ فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ وَلِبُيُوتِهِمْ أَبْوَابًا وَسُرُرًا عَلَيْهَا يَتَّكِنُوْنَ، وَزُخْرُفًا وَإِنَّ كُلَّ ذَلِكَ لَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ عِنْدَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِينَ))

“মানুষের সবাই যদি একই সম্প্রদায়ের (অর্থাৎ, কাফির) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশংকা না থাকত, তাহলে দয়াময়ের (অর্থাৎ আল্লাহর) সাথে যারা অন্যায় আচরণ করছে, তাদেরকে আমি তাদের ঘরের ছাদ ও সিঁড়ি রৌপ্য দিয়ে তৈরীর করার সামর্থ দিতাম এবং তাদের ঘরের দরজা ও শয়নের খাটও রৌপ্য দিয়ে তৈরী করার সামর্থ দিতাম। আর তাদেরকে দান করতাম প্রচুর স্বর্ণ। এগুলো পার্থিব জীবনের ভোগ সামগ্রী। আর তোমার প্রভুর নিকট আখিরাতের চিরস্থায়ী ভোগ সামগ্রী রয়েছে শুধু মুত্তাকীদের জন্য"।

দামেস্কের লোকজন তাদের মাল-সামানা নিয়ে শিকারীর ভয়ে পলায়নরত গাধার ন্যায় ছুটে চলছে। তাড়াহুড়ার কারণে তারা আত্মীয় স্বজনের খোঁজ খবর নেওয়ারও সুযোগ পেল না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px