📄 গেইটের তালা ও শিকল ভেঙ্গে হযরত খালিদের দামেস্ক বিজয়
হযরত খালিদ তাদেরকে বললেন, তোমরা শহরে প্রবেশ করে তাকবীর বলবে এবং গেটের তালা ও শিকল ভেঙ্গে ফেলবে। ইউনুস তাদেরকে নিয়ে ছিদ্র দিয়ে তার ঘরে প্রবেশ করে। সেখানে সবাই অস্ত্র সজ্জিত হয়ে তাকবীর সহকারে গেটের দিকে গেল। দামেস্কের লোকেরা মুসলমানদের তাকবীর ধ্বনি শুনে হতভম্ব হয়ে গেল এবং বুঝতে পারল, মুসলমানরা তালা ও শিকল ভেঙ্গে প্রবেশ করেছে। গেট খোলার পর হযরত খালিদ মুসলমানদের নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং শত্রুদের যাকে পান তাকে হত্যা ও বন্দী করে চলছেন।
📄 দামেস্কে প্রবেশ করে হযরত আবু উবাইদার সাথে হযরত খালিদের বিরোধ
এক পর্যায়ে তিনি মারয়াম গির্জায় এসে উপনীত হলেন। সেখানে এসে তিনি দেখতে পান, দরবেশদের পেছনে হযরত আবু উবাইদা তার সাথীদের নিয়ে সামনে চলছেন। তাদের তরবারী কোশমুক্ত না দেখে হযরত খালিদ বিস্মিত হয়ে হযরত আবু উবাইদার প্রতি অসন্তুষ্ট নেত্রে তাকালেন। তখন হযরত আবু উবাইদা বললেন, আমীর সাহেব! আল্লাহ সন্ধির মাধ্যমেই আমার হাতে এ শহরের বিজয় দান করেছেন। এদের সাথে আমাদের সন্ধি সম্পূর্ণ হয়েছে।
হযরত খালিদ বললেন, কিসের সন্ধি? আল্লাহ এদেরকে শান্তিতে না রাখুন। আমি তো তরবারী দ্বারা এদের শহর জয় করেছি। মুসলমানদের তরবারী তাদের রক্তে রঞ্জিত এবং তাদের ছেলে-মেয়েকে গোলাম ও বাদী হিসেবে ও তাদের সম্পকে গনীমত হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
হযরত আবু উবাইদা বললেন, আমীর সাহেব! আমি সন্ধির মাধ্যমেই প্রবেশ করেছি।
হযরত খালিদ বললেন, আপনি এখনো নরম রয়ে গেছেন। আমি তো তরবারীর জোরে প্রবেশ করেছি। অতএব, তাদের কোন নিরাপত্তা থাকতে পারে না। আপনি তাদের সাথে কীভাবে সন্ধি করলেন।
হযরত আবু উবাইদা বললেন, আমীর সাহেব! আল্লাহকে ভয় করুন। আল্লাহর কসম আমি তাদের সাথে লিখিত ভাবে সন্ধি করেছি। সন্ধি পত্রটি তাদের কাছে রয়েছে।
হযরত খালিদ বললেন, আপনি আমীরের অনুমতি ছাড়া কীভাবে সন্ধি করলেন? আমি তাদের একজনও জীবিত থাকা পর্যন্ত তরবারী কোশবদ্ধ করব না।
হযরত আবু উবাইদা বললেন, আমি মনে করিনি যে আপনি আমার সন্ধির বিরোধিতা করবেন। সন্ধি করে আমি তাদের সবাইকে আল্লাহর ও তার রাসূলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা দান করেছি। এ ব্যাপারে আমার সাথে আমার সকল সাথীরা একমত পোষণ করেছে। ওয়াদা ভঙ্গ করা আমাদের চরিত্র নয়। অতএব, আল্লাহকে ভয় করুন। এ নিয়ে তাদের কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি হল।
📄 বিরোধ মীমাংসার জন্য পরামর্শ
অন্য দিকে আরবের গ্রাম্য মুসলমানরা দামেস্কের লোকদের হত্যা ও তাদের সম্পদ লুটে নিতে ব্যস্ত ছিল। এ দেখে হযরত আবু উবাইদা ঘোড়ায় চড়ে তাদের দিকে দৌড়ে যান এবং আক্ষেপ করে ডাক দিয়ে বলতে থাকেন, ওহে মুসলমানরা! আমি আপনাদেরকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি। যুদ্ধ বন্ধ করুন। আমি আর খালিদের মাঝে কী সিদ্ধান্ত হচ্ছে তার অপেক্ষা করুন।
তখন মুসলমানদের নিয়ে হযরত মুআয বিন জাবাল, ইয়াযীদ বিন আবু সুফিয়ান, আমর ইবনুল আস, শুরাহবীল বিন হাসানা, রবীআ বিন আমের ও আবদুল্লাহ বিন উমরের মতো বিখ্যাত সাহাবীগণ হযরত খালিদ ও হযরত আবু উবাইদার সামনে উপস্থিত হলেন। সবাই পরামর্শে বসেন। মুসলমানদের একদল (যাদের মধ্যে হযরত মুআয ও ইয়াযীদ বিন আবু সুফিয়ানও ছিলেন) বললেন, হযরত আবু উবাইদা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বহাল থাকুক। কারণ, সিরিয়ার সকল শহর পদানত করা কখনো সম্ভব হবে না। অন্যান্য শহরের লোকেরা যদি শুনে যে আমরা এদের সাথে সন্ধি করেছি এবং পরে সন্ধি ভঙ্গ করে তাদের হত্যা করেছি, তাহলে সিরিয়ার আর কোন শহর সন্ধির মাধ্যমে পদানত করা সম্ভব হবে না। তাই এদের হত্যা করার চেয়ে সন্ধি করে ছেড়ে দেওয়াই ভাল হবে। আর যদি আমীর সাহেব এটা না মানেন, তাহলে তিনি যতটুকু তরবারী দ্বারা পদানত করেছেন ততটুকুতেই আপাতত অভিযান স্থগিত রাখা হোক। এর নিয়ন্ত্রণে হযরত আবু উবাইদা তাকে সাহায্য করবেন। আর এ বিরোধের চূড়ান্ত মীমাংসার জন্য দ্রুত খলীফার নিকট পত্র লেখা হোক। তিনি যা নির্দেশ দিবেন আমরা তা-ই করব।
হযরত খালিদ বললেন, ঠিক আছে আমি আপনাদের পরামর্শ মেনে নিলাম। তবে অভিশপ্ত টমা ও হারবীস ছাড়া দামেস্কের সকল লোক নিরাপদ। হারবীসকে টমা শহরের অর্ধেক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়েছিল।
📄 হযরত খালিদের ভয়ে কম্পমান অভিশপ্ত টমা ও হারবীস
হযরত আবু উবাইদা বললেন, এরাই প্রথমে আমার সাথে সন্ধিতে এসেছে। অতএব আমার দেওয়া নিরাপত্তা ভঙ্গ করবেন না। আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। হযরত খালিদ বললেন, আপনি নিরাপত্তা না দিলে তাদের উভয়কে এখনই হত্যা করতাম। তাদের প্রাণ এখন নিরাপদ হলেও তারা এ শহরে থাকতে পারবে না। হযরত আবু উবাইদা বললেন, এ শর্তেই তো আমি তাদের সাথে সন্ধি করেছি।
হযরত আবু উবাইদার সাথে হযরত খালিদের এ বিরোধের খবর পেয়ে টমা ও হারবীস প্রাণের ভয়ে একজন দোভাষীকে নিয়ে হযরত আবু উবাইদার কাছে এসে উপস্থিত হল এবং বলল, আপনার এ নেতা আমাদের সাথে আপনার কৃত চুক্তি ভঙ্গ করতে চাচ্ছে। আমরা সবাই আপনাদের নিরাপত্তায় চলে এসেছি। চুক্তি ভঙ্গ করা আপনাদের চরিত্র নয় বলে আপনারা ঘোষণা করেছিলেন। এখন আমরা আপনার কাছে যা চাচ্ছি, তা হচ্ছে, আপনারা আমাদেরকে আমাদের যেখানে ইচ্ছা সেখানে চলে যাওয়ার সুযোগ দিন।