📄 মুসলিম বাহিনীর আক্রমণ ও শত্রুদের পরামর্শ
সকাল হলে হযরত খালিদ প্রত্যেক উপ-আমীরকে নিজ নিজ স্থানে থেকে দামেস্কের উপর হামলা চালানোর নির্দেশ দিলেন। মুসলমানরা তাদের উপর চতুর্দিক থেকে হামলা করলে তারা যুদ্ধ বিরতির আহবান জানায়। হযরত খালিদ তাতে অস্বীকৃতি জানালেন।
দামেস্কবাসী সম্রাটের নির্দেশের অপেক্ষা করছিলেন। দেওয়ালের বাইর থেকে মুসলমানরা তাদের উপর আক্রমণ অব্যাহত রাখায় তারা পরামর্শে বসল এবং বলল, এদের সাথে যুদ্ধ করলে তারাই বিজয়ী হবে। আর যদি এভাবে চলতে দেই তাহলে আমাদের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। এসময় পূর্ববর্তী কিতাব সম্পর্কে অভিজ্ঞ একজন বৃদ্ধ বললেন-
“ওহে লোকজন! আমি নিশ্চিত যে, সম্রাট যদি তার সকল সৈন্যদের নিয়েও আসেন তাহলে এদের কবল থেকে তোমাদের রক্ষা করতে পারবেন না। কারণ আমি পূর্ববর্তী কিতাবে পেয়েছি যে, তাদের নেতা সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ তার দ্বীনকে সকল দ্বীনের উপর বিজয়ী করবেন। অতএব, তাদের কথা মেনে নাও। তাদের দাবী অনুযায়ী তাদেরকে অর্থ প্রদান কর। এটা তোমাদের জন্য সবচেয়ে উত্তম হবে।”
📄 সন্ধির আহবানে হযরত আবু উবাইদার সাড়া দান
বৃদ্ধের একথা শুনে সবাই তা মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। কারণ তারা জানত যে, তিনি একজন বড় আলেম ও ইতিহাসে বিজ্ঞ। তাই তারা বলল, এদের সাথে সন্ধি আমরা কীভাবে করতে পারি। বৃদ্ধ বললেন, যদি তোমরা সন্ধি করতে চাও তাহলে জাবিয়া গেটে অবস্থানকারী আমীরের কাছে চলে যাও এবং একজন আরবী জানা লোককে তার সাথে কথা বলার জন্য খুঁজে নাও। সে গিয়ে তাদেরকে উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে বলবে, ওহে আরবের লোকেরা! আমাদের নিরাপত্তা দাও। আমরা আপনাদের আমীরের সাথে কথা বলতে চাই।
হযরত আবু হুরাইরা বলেন, হযরত আবু উবাইদা পূর্বের রাতের ন্যায় শত্রুদের অকস্মাৎ গুপ্ত হামলার আশংকায় গেটে অনেক লোককে পাহারাদার নিযুক্ত করেছিলেন। এ রাতে আমাদের দাওস গোত্রের পাহারাদারির পালা ছিল। আমরা আমের বিন তুফাইল আদদাওসির নেতৃত্বে পাহারাদারীতে নিযুক্ত ছিলাম। হঠাৎ দামেস্কের লোকদের আওয়াজ শুনতে পেলাম। তাদের নরম সুর শুনে আমি দ্রুত হযরত আবু উবাইদার কাছে গিয়ে তাকে বিষয়টা অবহিত করলাম। তিনি আনন্দিত হয়ে আমাকে বললেন, আপনি গিয়ে তাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলুন। আমি গিয়ে তাদেরকে একথা জানালে তারা বলল, আপনি কে? আমি বললাম, আল্লাহর রাসূলের সাহাবী আবু হুরাইরা! জাহিলিয়াতের যুগেও আমাদের কোন গোলাম আপনাদের কাউকে নিরাপত্তা দিলেও আমরা সবাই তাকে নিরাপদে রাখতাম। এখন যেখানে আল্লাহ আমাদেরকে ইসলামের অনুসারী বানিয়েছেন সেখানে তো আমাদের নিরাপত্তা ভঙ্গ করার কোন প্রশ্নই আসে না।
বৃদ্ধের একথা শুনে সবাই তা মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। কারণ তারা জানত যে, তিনি একজন বড় আলেম ও ইতিহাসে বিজ্ঞ। তাই তারা বলল, এদের সাথে সন্ধি আমরা কীভাবে করতে পারি। বৃদ্ধ বললেন, যদি তোমরা সন্ধি করতে চাও তাহলে জাবিয়া গেটে অবস্থানকারী আমীরের কাছে চলে যাও এবং একজন আরবী জানা লোককে তার সাথে কথা বলার জন্য খুঁজে নাও। সে গিয়ে তাদেরকে উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে বলবে, ওহে আরবের লোকেরা! আমাদের নিরাপত্তা দাও। আমরা আপনাদের আমীরের সাথে কথা বলতে চাই।
হযরত আবু হুরাইরা বলেন, হযরত আবু উবাইদা পূর্বের রাতের ন্যায় শত্রুদের অকস্মাৎ গুপ্ত হামলার আশংকায় গেটে অনেক লোককে পাহারাদার নিযুক্ত করেছিলেন। এ রাতে আমাদের দাওস গোত্রের পাহারাদারির পালা ছিল। আমরা আমের বিন তুফাইল আদদাওসির নেতৃত্বে পাহারাদারীতে নিযুক্ত ছিলাম। হঠাৎ দামেস্কের লোকদের আওয়াজ শুনতে পেলাম। তাদের নরম সুর শুনে আমি দ্রুত হযরত আবু উবাইদার কাছে গিয়ে তাকে বিষয়টা অবহিত করলাম। তিনি আনন্দিত হয়ে আমাকে বললেন, আপনি গিয়ে তাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলুন। আমি গিয়ে তাদেরকে একথা জানালে তারা বলল, আপনি কে? আমি বললাম, আল্লাহর রাসূলের সাহাবী আবু হুরাইরা! জাহিলিয়াতের যুগেও আমাদের কোন গোলাম আপনাদের কাউকে নিরাপত্তা দিলেও আমরা সবাই তাকে নিরাপদে রাখতাম। এখন যেখানে আল্লাহ আমাদেরকে ইসলামের অনুসারী বানিয়েছেন সেখানে তো আমাদের নিরাপত্তা ভঙ্গ করার কোন প্রশ্নই আসে না।
📄 সন্ধি করতে শত্রুদের আগমন
তখন তারা গেট খুলে বের হলো। তারা ছিল একশজন বিশিষ্ট নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও আলেমদের একটি প্রতিনিধি দল। তারা হযরত আবু উবাইদার ছাউনির দিকে গেলে তিনি দৌড়ে এসে তাদের অভিনন্দন জানান। তাদেরকে বসিয়ে তিনি বললেন, আমাদের নবী মুহাম্মদ সা. বলেছেন, “তোমাদের নিকট কোন সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তি আগমন করলে তাকে সম্মান কর”। অতঃপর তারা সন্ধির ব্যাপারে আলোচনা করল এবং বলল, আমাদের আবেদন, আপনারা আমাদের গির্জাগুলো ধ্বংস করবেন না। দামেস্কে কয়েকটি বিখ্যাত গির্জা ছিল। যেমন মায়ম গির্জা, হেন গির্জা ও আনযার গির্জা প্রভৃতি। হযরত আবু উবাইদা তাদেরকে সন্ধিপত্র লিখে দিলেন। তবে তাতে নিজের নাম ও সাক্ষীর নাম উল্লেখ করেননি। কারণ, তিনি মুসলমানদের প্রধান আমীর ছিলেন না।
📄 পদানত হল দামেস্ক
হযরত আবু উবাইদা সন্ধিপত্র তাদেরকে হস্তান্তর করার পর তারা বলল, আমাদের সাথে শহরে আসুন। তাদের দাওয়াতে সাড়া দিয়ে হযরত আবু উবাইদা, হযরত আবু হুরাইরা, হযরত মুআয বিন জবল, নুআইম বিন আমর, জরীর বিন নওফল আল হিময়ারী, সাইফ বিন সালামা, মা'মার বিন খলীফা, রবীআ বিন মালিক, মুগীরা বিন শু'বা, আবু লুবাবা বিন মুনযির, আউফ বিন সাঈদ, আমের বিন কাইস, উবাদা বিন উতাইবা, বিশর বিন আমের, আবদুল্লাহ বিন কুরয আল আসাদীসহ বড় বড় পয়ত্রিশ জন সাহাবী ও পয়ষট্টি জন সাধারণ সাহাবী তাদের সাথে চললেন। গেটে এসে হযরত আবু উবাইদা বললেন, আপনাদের সাথে প্রবেশ করার পূর্বে আমাদের কাছে কিছু বন্ধক রাখতে হবে। তারা কিছু জিনিস এনে বন্ধক রাখল।