📄 পরাজিত শত্রুদের সন্ধির আহবান
যুদ্ধ শেষে প্রাণে বেঁচে যাওয়া দামেস্কের নেতৃস্থানীয় লোকজন টমার কাছে উপস্থিত হয়ে বলল-
“জনাব! আমরা আপনার মঙ্গল কামনা করেছিলাম, কিন্তু আপনি আমাদের কথা শোনেননি। এখন আমাদের যোদ্ধাদের অধিকাংশই নিহত হয়েছে। এ আমীর অর্থাৎ হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ এক দুর্জয় ব্যক্তি। অতএব, সন্ধি করুন। সন্ধি আপনার ও আমাদের সবার জন্য কল্যাণকর হবে। যদি আপনি সন্ধি না করেন তাহলে আপনার বিষয়ে আপনি ভাবুন।”
📄 নরম হয়ে আসল টমার সুর
একথা শুনে টমার দল বলল, আমরা তাদের সাথে অবশ্যই সন্ধি করব। আপনারা আমাকে একটু সময় দিন। আমি সম্রাটের কাছে আমাদের অবস্থা জানিয়ে একটি পত্র পাঠাচ্ছি। এ বলে সে তৎক্ষণাৎ এই পত্রটি লিখল-
“আপনার মেয়ের স্বামী টমার পক্ষ থেকে দয়ালু সম্রাটের প্রতি। পরকথা চোখের ভিতরের সাদা অংশ যেভাবে কালো অংশকে ঘিরে রেখেছে, আরবরাও তেমনি আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে। তারা আজনাদীনে আমাদের সৈন্যকে হত্যা করে এখন দামেস্কে চলে এসেছে এবং আমাদের সাথে ভয়াবহ যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। তাদের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে আমার চোখ আক্রান্ত হয়েছে। আমি এখন আরবদের জিযয়া প্রদান করে তাদের সাথে সন্ধি করতে চাচ্ছি। অতএব হয়তো আমাদেরকে রক্ষা করার জন্য আপনি নিজেই চলে আসুন। নতুবা সৈন্য প্রেরণ করুন। আর না হয় আমাদেরকে তাদের সাথে সন্ধির নির্দেশ দিন। আমাদের অবস্থা শোচনীয়।”
টমা তার এ পত্রটি সকাল হওয়ার পূর্বেই সম্রাটের কাছে পাঠিয়ে দেয়।
📄 মুসলিম বাহিনীর আক্রমণ ও শত্রুদের পরামর্শ
সকাল হলে হযরত খালিদ প্রত্যেক উপ-আমীরকে নিজ নিজ স্থানে থেকে দামেস্কের উপর হামলা চালানোর নির্দেশ দিলেন। মুসলমানরা তাদের উপর চতুর্দিক থেকে হামলা করলে তারা যুদ্ধ বিরতির আহবান জানায়। হযরত খালিদ তাতে অস্বীকৃতি জানালেন।
দামেস্কবাসী সম্রাটের নির্দেশের অপেক্ষা করছিলেন। দেওয়ালের বাইর থেকে মুসলমানরা তাদের উপর আক্রমণ অব্যাহত রাখায় তারা পরামর্শে বসল এবং বলল, এদের সাথে যুদ্ধ করলে তারাই বিজয়ী হবে। আর যদি এভাবে চলতে দেই তাহলে আমাদের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। এসময় পূর্ববর্তী কিতাব সম্পর্কে অভিজ্ঞ একজন বৃদ্ধ বললেন-
“ওহে লোকজন! আমি নিশ্চিত যে, সম্রাট যদি তার সকল সৈন্যদের নিয়েও আসেন তাহলে এদের কবল থেকে তোমাদের রক্ষা করতে পারবেন না। কারণ আমি পূর্ববর্তী কিতাবে পেয়েছি যে, তাদের নেতা সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ তার দ্বীনকে সকল দ্বীনের উপর বিজয়ী করবেন। অতএব, তাদের কথা মেনে নাও। তাদের দাবী অনুযায়ী তাদেরকে অর্থ প্রদান কর। এটা তোমাদের জন্য সবচেয়ে উত্তম হবে।”
📄 সন্ধির আহবানে হযরত আবু উবাইদার সাড়া দান
বৃদ্ধের একথা শুনে সবাই তা মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। কারণ তারা জানত যে, তিনি একজন বড় আলেম ও ইতিহাসে বিজ্ঞ। তাই তারা বলল, এদের সাথে সন্ধি আমরা কীভাবে করতে পারি। বৃদ্ধ বললেন, যদি তোমরা সন্ধি করতে চাও তাহলে জাবিয়া গেটে অবস্থানকারী আমীরের কাছে চলে যাও এবং একজন আরবী জানা লোককে তার সাথে কথা বলার জন্য খুঁজে নাও। সে গিয়ে তাদেরকে উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে বলবে, ওহে আরবের লোকেরা! আমাদের নিরাপত্তা দাও। আমরা আপনাদের আমীরের সাথে কথা বলতে চাই।
হযরত আবু হুরাইরা বলেন, হযরত আবু উবাইদা পূর্বের রাতের ন্যায় শত্রুদের অকস্মাৎ গুপ্ত হামলার আশংকায় গেটে অনেক লোককে পাহারাদার নিযুক্ত করেছিলেন। এ রাতে আমাদের দাওস গোত্রের পাহারাদারির পালা ছিল। আমরা আমের বিন তুফাইল আদদাওসির নেতৃত্বে পাহারাদারীতে নিযুক্ত ছিলাম। হঠাৎ দামেস্কের লোকদের আওয়াজ শুনতে পেলাম। তাদের নরম সুর শুনে আমি দ্রুত হযরত আবু উবাইদার কাছে গিয়ে তাকে বিষয়টা অবহিত করলাম। তিনি আনন্দিত হয়ে আমাকে বললেন, আপনি গিয়ে তাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলুন। আমি গিয়ে তাদেরকে একথা জানালে তারা বলল, আপনি কে? আমি বললাম, আল্লাহর রাসূলের সাহাবী আবু হুরাইরা! জাহিলিয়াতের যুগেও আমাদের কোন গোলাম আপনাদের কাউকে নিরাপত্তা দিলেও আমরা সবাই তাকে নিরাপদে রাখতাম। এখন যেখানে আল্লাহ আমাদেরকে ইসলামের অনুসারী বানিয়েছেন সেখানে তো আমাদের নিরাপত্তা ভঙ্গ করার কোন প্রশ্নই আসে না।
বৃদ্ধের একথা শুনে সবাই তা মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। কারণ তারা জানত যে, তিনি একজন বড় আলেম ও ইতিহাসে বিজ্ঞ। তাই তারা বলল, এদের সাথে সন্ধি আমরা কীভাবে করতে পারি। বৃদ্ধ বললেন, যদি তোমরা সন্ধি করতে চাও তাহলে জাবিয়া গেটে অবস্থানকারী আমীরের কাছে চলে যাও এবং একজন আরবী জানা লোককে তার সাথে কথা বলার জন্য খুঁজে নাও। সে গিয়ে তাদেরকে উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে বলবে, ওহে আরবের লোকেরা! আমাদের নিরাপত্তা দাও। আমরা আপনাদের আমীরের সাথে কথা বলতে চাই।
হযরত আবু হুরাইরা বলেন, হযরত আবু উবাইদা পূর্বের রাতের ন্যায় শত্রুদের অকস্মাৎ গুপ্ত হামলার আশংকায় গেটে অনেক লোককে পাহারাদার নিযুক্ত করেছিলেন। এ রাতে আমাদের দাওস গোত্রের পাহারাদারির পালা ছিল। আমরা আমের বিন তুফাইল আদদাওসির নেতৃত্বে পাহারাদারীতে নিযুক্ত ছিলাম। হঠাৎ দামেস্কের লোকদের আওয়াজ শুনতে পেলাম। তাদের নরম সুর শুনে আমি দ্রুত হযরত আবু উবাইদার কাছে গিয়ে তাকে বিষয়টা অবহিত করলাম। তিনি আনন্দিত হয়ে আমাকে বললেন, আপনি গিয়ে তাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলুন। আমি গিয়ে তাদেরকে একথা জানালে তারা বলল, আপনি কে? আমি বললাম, আল্লাহর রাসূলের সাহাবী আবু হুরাইরা! জাহিলিয়াতের যুগেও আমাদের কোন গোলাম আপনাদের কাউকে নিরাপত্তা দিলেও আমরা সবাই তাকে নিরাপদে রাখতাম। এখন যেখানে আল্লাহ আমাদেরকে ইসলামের অনুসারী বানিয়েছেন সেখানে তো আমাদের নিরাপত্তা ভঙ্গ করার কোন প্রশ্নই আসে না।