📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হযরত দিরারের বীরত্ব

📄 হযরত দিরারের বীরত্ব


হযরত খালিদের সাথে এখনো যুদ্ধ চলছে। এমন সময় রক্তমাখা অবস্থায় হযরত দিরার এসে উপস্থিত। তাকে দেখে হযরত খালিদ জিজ্ঞেস করলেন কী খবর দিরার? তিনি বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আমি আজ রাতে একশত পঞ্চাশজন শত্রু হত্যা করেছি। আর আমাদের সাথীরাতো অগণিত শত্রু হত্যা করেছে। আমি ইয়াযীদ বিন আবু সুফ্যানের গেটে যুদ্ধ করেছি।

দিরারের একথা শুনে হযরত খালিদ খুশি হলেন। অতঃপর সবাই হযরত শুরাহবীলের গেটের কাছে গিয়ে শত্রুদের ধাওয়া করেন এবং হযরত শুরাহবীলের প্রশংসা করেন। এ রাতে হযরত শুরাহবীলের ন্যায় কেউ প্রচণ্ড যুদ্ধের সম্মুখীন হয়নি। রাতটি ছিল চন্দ্রোজ্জ্বল। এ রাতে মুসলমানরা কয়েক হাজার রোমানকে হত্যা করে।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 পরাজিত শত্রুদের সন্ধির আহবান

📄 পরাজিত শত্রুদের সন্ধির আহবান


যুদ্ধ শেষে প্রাণে বেঁচে যাওয়া দামেস্কের নেতৃস্থানীয় লোকজন টমার কাছে উপস্থিত হয়ে বলল-

“জনাব! আমরা আপনার মঙ্গল কামনা করেছিলাম, কিন্তু আপনি আমাদের কথা শোনেননি। এখন আমাদের যোদ্ধাদের অধিকাংশই নিহত হয়েছে। এ আমীর অর্থাৎ হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ এক দুর্জয় ব্যক্তি। অতএব, সন্ধি করুন। সন্ধি আপনার ও আমাদের সবার জন্য কল্যাণকর হবে। যদি আপনি সন্ধি না করেন তাহলে আপনার বিষয়ে আপনি ভাবুন।”

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 নরম হয়ে আসল টমার সুর

📄 নরম হয়ে আসল টমার সুর


একথা শুনে টমার দল বলল, আমরা তাদের সাথে অবশ্যই সন্ধি করব। আপনারা আমাকে একটু সময় দিন। আমি সম্রাটের কাছে আমাদের অবস্থা জানিয়ে একটি পত্র পাঠাচ্ছি। এ বলে সে তৎক্ষণাৎ এই পত্রটি লিখল-

“আপনার মেয়ের স্বামী টমার পক্ষ থেকে দয়ালু সম্রাটের প্রতি। পরকথা চোখের ভিতরের সাদা অংশ যেভাবে কালো অংশকে ঘিরে রেখেছে, আরবরাও তেমনি আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে। তারা আজনাদীনে আমাদের সৈন্যকে হত্যা করে এখন দামেস্কে চলে এসেছে এবং আমাদের সাথে ভয়াবহ যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। তাদের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে আমার চোখ আক্রান্ত হয়েছে। আমি এখন আরবদের জিযয়া প্রদান করে তাদের সাথে সন্ধি করতে চাচ্ছি। অতএব হয়তো আমাদেরকে রক্ষা করার জন্য আপনি নিজেই চলে আসুন। নতুবা সৈন্য প্রেরণ করুন। আর না হয় আমাদেরকে তাদের সাথে সন্ধির নির্দেশ দিন। আমাদের অবস্থা শোচনীয়।”

টমা তার এ পত্রটি সকাল হওয়ার পূর্বেই সম্রাটের কাছে পাঠিয়ে দেয়।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 মুসলিম বাহিনীর আক্রমণ ও শত্রুদের পরামর্শ

📄 মুসলিম বাহিনীর আক্রমণ ও শত্রুদের পরামর্শ


সকাল হলে হযরত খালিদ প্রত্যেক উপ-আমীরকে নিজ নিজ স্থানে থেকে দামেস্কের উপর হামলা চালানোর নির্দেশ দিলেন। মুসলমানরা তাদের উপর চতুর্দিক থেকে হামলা করলে তারা যুদ্ধ বিরতির আহবান জানায়। হযরত খালিদ তাতে অস্বীকৃতি জানালেন।

দামেস্কবাসী সম্রাটের নির্দেশের অপেক্ষা করছিলেন। দেওয়ালের বাইর থেকে মুসলমানরা তাদের উপর আক্রমণ অব্যাহত রাখায় তারা পরামর্শে বসল এবং বলল, এদের সাথে যুদ্ধ করলে তারাই বিজয়ী হবে। আর যদি এভাবে চলতে দেই তাহলে আমাদের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। এসময় পূর্ববর্তী কিতাব সম্পর্কে অভিজ্ঞ একজন বৃদ্ধ বললেন-

“ওহে লোকজন! আমি নিশ্চিত যে, সম্রাট যদি তার সকল সৈন্যদের নিয়েও আসেন তাহলে এদের কবল থেকে তোমাদের রক্ষা করতে পারবেন না। কারণ আমি পূর্ববর্তী কিতাবে পেয়েছি যে, তাদের নেতা সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ তার দ্বীনকে সকল দ্বীনের উপর বিজয়ী করবেন। অতএব, তাদের কথা মেনে নাও। তাদের দাবী অনুযায়ী তাদেরকে অর্থ প্রদান কর। এটা তোমাদের জন্য সবচেয়ে উত্তম হবে।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px