📄 টমার মোকাবেলায় হযরত শুরাহবীল
হযরত খালিদ টমা গেটে অবস্থানকারী হযরত শুরাহবীল বিন হাসানার ব্যাপারে শংকিত ছিলেন। টমা গেটে অবস্থানকারী মুসলমানদের উপর সর্বপ্রথম যে আঘাত হানে, সে হচ্ছে টমা। মুসলমানরা টমা ও তার বাহিনীর সাথে ধৈর্য সহকারে লড়ে যাচ্ছিলেন। টমা তীব্রভাবে যুদ্ধ করছিল এবং মুসলমানদেরকে বলছিল, তোমাদের সে ঘৃণ্য আমীর কোথায়, যে আমাকে আঘাত করেছে? মনে রাখবে, আমি সম্রাটের স্তম্ভ এবং ক্রুশের সাহায্যকারী।
টমা অনেক মুসলমানকে আহত করল। তার কথা শুনে হযরত শুরাহবীল তার দিকে গিয়ে বললেন, শোন, তুমি যাকে খুঁজছো আমি সেই ব্যক্তি, তোমাদের বাহিনীর ধ্বংসকারী ও তোমাদের ক্রুশ হস্তগতকারী। আমি রাসূলুল্লাহ সা.- এর ওহী লিপিকার।
একথা শুনে টমা হযরত শুরাহবীলের দিকে এগিয়ে আসল এবং উভয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হল। রাত অর্ধেক পর্যন্ত যুদ্ধ স্থায়ী হল। হযরত আবানের স্ত্রী হযরত শুরাহবীল বিন হাসানার সাথে থেকেই যুদ্ধ করছিলেন। তিনি সারা রাত ধৈর্য সহকারে যুদ্ধ করেন। রোমানরা তার কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। তিনি তাদের একজনকে খুব কাছে পেয়ে তীর ছুঁড়ে মারলেন। তীর তার গলায় বিদ্ধ হয়। সে মারা যায়। তখন রোমানরা চিৎকার দিয়ে তার উপর হামলা করে এবং তাকে ধরে নিয়ে যায়। অন্য দিকে রোমানরা হযরত শুরাহবীলের প্রতি সবার চেয়ে বেশি তীর নিক্ষেপ করে। তিনি বর্ম পরিহিত টমাকে কাছে পেয়ে খুব জোরে একটি আঘাত করলেন। আঘাতে তার তরবারীটি ভেঙে যায়। তখন টমা হযরত শুরাহবীলের উপর হামলা করে তাকে বন্দী করে নিতে চাইল। তখন পিছন থেকে দু'জন লোকের নেতৃত্বে কিছু যোদ্ধা দৌড়ে আসে। তারা রোমানদের উপর হামলা করে। হামলার ফলে হযরত আবানের স্ত্রী তাদের কাছ থেকে মুক্ত হয়ে তাদের উপর হামলা করেন এবং তাকবীর ধ্বনি দিতে থাকেন। তখন দু'জন রোমান অশ্বারোহী আবারো তাকে ধরে নেওয়ার জন্য আসে। এ দু'জনের উপর হযরত আবদুর রহমান বিন আবু বকর ও হযরত আবান বিন উসমান হামলা করে তাদেরকে হত্যা করে। এসময় টমা পলায়ন করে।
📄 জাবিয়া গেটে হযরত আবু উবাইদার যুদ্ধ
তামীম বিন আদী বলেন, আমি হযরত আবু উবাইদার ক্যাম্পে ছিলাম। তিনি রণদামামা শুনতে পেয়ে বললেন, লা হাওলা...। অতঃপর তিনি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সবাইকে যুদ্ধের জন্য দ্রুত প্রস্তুত হওয়ার আহবান জানান।
📄 মার খেয়ে শত্রুদের পলায়ন
অতঃপর মুসলমানদের নিয়ে তাকবীর সহকারে শত্রুদের দিকে এগিয়ে গেলেন। তাকবীর শুনে মুশরিক রোমানরা মনে করল, মুসলমানরা অনেক সৈন্য নিয়ে তাদের মোকাবেলায় এসেছে। তাই তারা পালাতে শুরু করে। তখন মুসলমানরা তাদেরকে ধাওয়া করে এবং ইচ্ছামতো হত্যা করে। ওই গেটে হযরত আবু উবাইদার মোকাবেলায় যারা এসেছিল তাদের একজনও রেহাই পায়নি।
📄 হযরত দিরারের বীরত্ব
হযরত খালিদের সাথে এখনো যুদ্ধ চলছে। এমন সময় রক্তমাখা অবস্থায় হযরত দিরার এসে উপস্থিত। তাকে দেখে হযরত খালিদ জিজ্ঞেস করলেন কী খবর দিরার? তিনি বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আমি আজ রাতে একশত পঞ্চাশজন শত্রু হত্যা করেছি। আর আমাদের সাথীরাতো অগণিত শত্রু হত্যা করেছে। আমি ইয়াযীদ বিন আবু সুফ্যানের গেটে যুদ্ধ করেছি।
দিরারের একথা শুনে হযরত খালিদ খুশি হলেন। অতঃপর সবাই হযরত শুরাহবীলের গেটের কাছে গিয়ে শত্রুদের ধাওয়া করেন এবং হযরত শুরাহবীলের প্রশংসা করেন। এ রাতে হযরত শুরাহবীলের ন্যায় কেউ প্রচণ্ড যুদ্ধের সম্মুখীন হয়নি। রাতটি ছিল চন্দ্রোজ্জ্বল। এ রাতে মুসলমানরা কয়েক হাজার রোমানকে হত্যা করে।