📄 শত্রুদের গুপ্ত হামলার জবাবে মুসলমানরা
ঘণ্টা বাজার সাথে সাথে লোকজন মুসলমানদের দিকে দৌড়ে যায়। শত্রুদের গুপ্ত হামলার কথা তারা জানতেন না বটে, তবে তারা জাগ্রত ছিলেন। শত্রুদের আগমনের আওয়াজ পেয়ে তারা সতর্ক হয়ে গেলেন এবং রাতের অন্ধকারে অবিন্যস্ত ভাবে শত্রুদের হামলার জবাব দিতে লাগলেন। দূর থেকে হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ এ অবস্থা টের পেয়ে বললেন, আল্লাহ! আমার লোকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। হে আল্লাহ! আপনি আপনার নিদ্রামুক্ত চোখ দ্বারা তাদের প্রতি তাকান এবং তাদেরকে সাহায্য করুন। এ বলে তিনি তার সাথে থাকা চারশত অশ্বারোহী নিয়ে পূর্ব গেটের দিকে অগ্রসর হলেন। দেখলেন, শত্রুরা রাফে বিন উমাইরার লোকদের উপর হামলা করছে। মুসলমানরা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ও আল্লাহু আকবার বলে তাদের হামলার জবাব দিচ্ছেন। শত্রুরা দেওয়ালের উপর দাঁড়িয়ে মুসলমানদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করছে।
হযরত খালিদ তার সাথীদের নিয়ে শত্রুদের উপর তীব্র হামলা শুরু করলেন এবং উচ্চস্বরে বললেন, ওহে মুসলমাগণ! সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য সাহায্য এসে পৌঁছেছে। হযরত খালিদ ও তার সাথীদের হাতে অনেক শত্রু হতাহত হল। এসময় তিনি অন্যান্য গেটে অবস্থানকারী মুসলমান বিশেষ করে হযরত আবু উবাইদার জন্য চিন্তিত ছিলেন।
📄 ইহুদীরাও খ্রীষ্টানদের পক্ষে
সিনান বিন আউফ বলেন, আমি আমার চাচাত ভাই কাইসকে জিজ্ঞেস করলাম, ইহুদীরাও কি তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছিল? বলল, হ্যাঁ তারা দেওয়ালের উপর দাঁড়িয়ে আমাদের উপর তীর নিক্ষেপ করেছে।
📄 টমার মোকাবেলায় হযরত শুরাহবীল
হযরত খালিদ টমা গেটে অবস্থানকারী হযরত শুরাহবীল বিন হাসানার ব্যাপারে শংকিত ছিলেন। টমা গেটে অবস্থানকারী মুসলমানদের উপর সর্বপ্রথম যে আঘাত হানে, সে হচ্ছে টমা। মুসলমানরা টমা ও তার বাহিনীর সাথে ধৈর্য সহকারে লড়ে যাচ্ছিলেন। টমা তীব্রভাবে যুদ্ধ করছিল এবং মুসলমানদেরকে বলছিল, তোমাদের সে ঘৃণ্য আমীর কোথায়, যে আমাকে আঘাত করেছে? মনে রাখবে, আমি সম্রাটের স্তম্ভ এবং ক্রুশের সাহায্যকারী।
টমা অনেক মুসলমানকে আহত করল। তার কথা শুনে হযরত শুরাহবীল তার দিকে গিয়ে বললেন, শোন, তুমি যাকে খুঁজছো আমি সেই ব্যক্তি, তোমাদের বাহিনীর ধ্বংসকারী ও তোমাদের ক্রুশ হস্তগতকারী। আমি রাসূলুল্লাহ সা.- এর ওহী লিপিকার।
একথা শুনে টমা হযরত শুরাহবীলের দিকে এগিয়ে আসল এবং উভয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হল। রাত অর্ধেক পর্যন্ত যুদ্ধ স্থায়ী হল। হযরত আবানের স্ত্রী হযরত শুরাহবীল বিন হাসানার সাথে থেকেই যুদ্ধ করছিলেন। তিনি সারা রাত ধৈর্য সহকারে যুদ্ধ করেন। রোমানরা তার কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। তিনি তাদের একজনকে খুব কাছে পেয়ে তীর ছুঁড়ে মারলেন। তীর তার গলায় বিদ্ধ হয়। সে মারা যায়। তখন রোমানরা চিৎকার দিয়ে তার উপর হামলা করে এবং তাকে ধরে নিয়ে যায়। অন্য দিকে রোমানরা হযরত শুরাহবীলের প্রতি সবার চেয়ে বেশি তীর নিক্ষেপ করে। তিনি বর্ম পরিহিত টমাকে কাছে পেয়ে খুব জোরে একটি আঘাত করলেন। আঘাতে তার তরবারীটি ভেঙে যায়। তখন টমা হযরত শুরাহবীলের উপর হামলা করে তাকে বন্দী করে নিতে চাইল। তখন পিছন থেকে দু'জন লোকের নেতৃত্বে কিছু যোদ্ধা দৌড়ে আসে। তারা রোমানদের উপর হামলা করে। হামলার ফলে হযরত আবানের স্ত্রী তাদের কাছ থেকে মুক্ত হয়ে তাদের উপর হামলা করেন এবং তাকবীর ধ্বনি দিতে থাকেন। তখন দু'জন রোমান অশ্বারোহী আবারো তাকে ধরে নেওয়ার জন্য আসে। এ দু'জনের উপর হযরত আবদুর রহমান বিন আবু বকর ও হযরত আবান বিন উসমান হামলা করে তাদেরকে হত্যা করে। এসময় টমা পলায়ন করে।
📄 জাবিয়া গেটে হযরত আবু উবাইদার যুদ্ধ
তামীম বিন আদী বলেন, আমি হযরত আবু উবাইদার ক্যাম্পে ছিলাম। তিনি রণদামামা শুনতে পেয়ে বললেন, লা হাওলা...। অতঃপর তিনি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সবাইকে যুদ্ধের জন্য দ্রুত প্রস্তুত হওয়ার আহবান জানান।