📄 টমার ভাষণ
সকাল হলে টমা দামেস্কের বীর সৈন্য ও মুরব্বী শ্রেণীর লোকদের ডেকে পাঠাল। তারা উপস্থিত হলে টমা বলল-
“হে খ্রিষ্টধর্মের অনুসারীরা! আপনাদেরকে এমন একদল লোক অবরোধ করে রেখেছে, যাদের কাছে আমাদের জান-মালের কোন নিরাপত্তা নেই এবং তারা আপনাদের দেশে এসে বসবাস করছে। বলুন, আপনাদের নারী ও শিশুরা তাদের হাতে বন্দী হয়ে তাদের গোলাম ও বাঁদীতে পরিণত হওয়ার বিষয়টি আপনারা কীভাবে মেনে নিচ্ছেন? আপনারা মুসলমানদের সাথে সন্ধি করে এ দ্বীনের সাথে যে বেয়াদবি ও ক্রুশকে অপদস্ত করার যে দুরভিসন্ধির কথা মনে মনে কল্পনা করেছেন, তার প্রতি রাগ করেই ক্রুশ আমাদের হাত থেকে চলে গেছে। আমি যুদ্ধ করতে বের হয়েছি। আমার চোখে আঘাত না লাগলে ওদের শেষ না করে ফিরতাম না। আরবদের এক হাজার চোখ উপড়ে ফেলে আমার চোখের প্রতিশোধ অবশ্যই নিতে হবে। অতঃপর যত দ্রুত সম্ভব ক্রুশের কাছে পৌঁছে তাকে তাদের হাত থেকে অবশ্যই ছিনিয়ে আনতে হবে।”
📄 হযরত খালিদের উত্তর
টমার এ বক্তব্য শুনে তারা বলল, আপনি যে কাজে রাজি আছেন আমরাও সে কাজে রাজি আছি। আপনি আমাদেরকে যেটা করতে বলবেন আমরা সেটা অবশ্যই করব। টমা বলল, মনে রাখবেন! যারা যুদ্ধ করে তারা কোন কিছুকে ভয় পায় না। আমি সংকল্প করেছি, আজ রাতেই তাদের উপর আঘাত হানব এবং তাদেরকে গুপ্তভাবে হত্যা করব। কারণ, রাত তো এমনিই ভীতিকর। আর আপনারা আপনাদের শহরের অলিগলি সম্পর্কে তাদের চেয়ে অধিক অবহিত। তাই আজ রাতেই সবাই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন এবং গেট দিয়ে বের হোন। আশা করি আজ রাতেই তাদের থেকে আমরা মুক্ত হতে পারব। তাদেরকে শেষ করার পর আমরা তাদের নেতাকে বন্দী করে বিচারের জন্য সম্রাটের নিকট পাঠিয়ে দেব।
তারা বলল, ঠিক আছে। অতঃপর তারা জাবিয়া ও পূর্ব গেট থেকে শুরু করে প্রত্যেক গেটে গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করল।
📄 মুসলমানদের রাতের আঁধারে হত্যার ষড়যন্ত্র
টমা তাদের বলল, ভয় পাওয়ার কারণ নেই। ওদের আমীর আপনাদের কাছ থেকে অনেক দূরে। গেটের কাছে যারা অবস্থান করছে, তারা ক্রীতদাস ও নিম্ন শ্রেণির লোক। অতএব তাদেরকে ইচ্ছামতো হত্যা করুন। এ বলে টমা খ্যাতিমান বীরদের নিয়ে টমা গেটে গিয়ে অবস্থান করল। এর পূর্বে সে তাদেরকে বলল, টমা গেটে একটি ঘণ্টা থাকবে, ঘণ্টা বাজানোর সাথে সাথে সবাই গেট খুলে বের হয়ে শত্রুদের যাদেরকে পাবে হত্যা করবে। এটা করতে পারলে এ রাতেই তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং তাদের কোমর ভেঙে যাবে। ফলে তারা আর আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সাহস পাবে না।
লোকজন নিজ নিজ গেটে গিয়ে ঘণ্টা শোনার অপেক্ষায় রইল। টমা তার একজন লোককে ডেকে বলল, যখন আমি বলব তখন আমাদের লোকেরা শোনে মত হালকাভাবে ঘণ্টা বাজাবে। এ বলে টমা বর্মপরা ও তরবারীধারী বীরদের নিয়ে টমা গেটের দিকে চলল। তার হাতে একটি ভারতীয় লোহার পাত ও মাথায় একটি খসরুবী শিরস্ত্রাণ ছিল। এ শিরস্ত্রাণটি সম্রাট তাকে হাদিয়া দিয়েছিলেন। এতে তরবারী কোন কাজ করত না। গেটে পৌঁছে টমা ঘোষণা দিল, ওহে লোকজন! আপনাদের জন্য গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। অতএব দ্রুত শত্রুদের কাছে গিয়ে তাদেরকে হত্যা করুন। তাদের মধ্যে থেকে যদি কেউ নিরাপত্তা কামনা করে, তবে তার কথা কর্ণপাত করবেন না। তবে আমীর নিরাপত্তা চাইলে তাকে নিরাপত্তা দেবে। আর কেউ যদি ক্রুশ দেখতে পাও, তাহলে তুলে নিয়ে আসবে। এ বলে সে ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশ দিল।
📄 শত্রুদের গুপ্ত হামলার জবাবে মুসলমানরা
ঘণ্টা বাজার সাথে সাথে লোকজন মুসলমানদের দিকে দৌড়ে যায়। শত্রুদের গুপ্ত হামলার কথা তারা জানতেন না বটে, তবে তারা জাগ্রত ছিলেন। শত্রুদের আগমনের আওয়াজ পেয়ে তারা সতর্ক হয়ে গেলেন এবং রাতের অন্ধকারে অবিন্যস্ত ভাবে শত্রুদের হামলার জবাব দিতে লাগলেন। দূর থেকে হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ এ অবস্থা টের পেয়ে বললেন, আল্লাহ! আমার লোকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। হে আল্লাহ! আপনি আপনার নিদ্রামুক্ত চোখ দ্বারা তাদের প্রতি তাকান এবং তাদেরকে সাহায্য করুন। এ বলে তিনি তার সাথে থাকা চারশত অশ্বারোহী নিয়ে পূর্ব গেটের দিকে অগ্রসর হলেন। দেখলেন, শত্রুরা রাফে বিন উমাইরার লোকদের উপর হামলা করছে। মুসলমানরা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ও আল্লাহু আকবার বলে তাদের হামলার জবাব দিচ্ছেন। শত্রুরা দেওয়ালের উপর দাঁড়িয়ে মুসলমানদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করছে।
হযরত খালিদ তার সাথীদের নিয়ে শত্রুদের উপর তীব্র হামলা শুরু করলেন এবং উচ্চস্বরে বললেন, ওহে মুসলমাগণ! সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য সাহায্য এসে পৌঁছেছে। হযরত খালিদ ও তার সাথীদের হাতে অনেক শত্রু হতাহত হল। এসময় তিনি অন্যান্য গেটে অবস্থানকারী মুসলমান বিশেষ করে হযরত আবু উবাইদার জন্য চিন্তিত ছিলেন।