📘 ফুতুহুশ শাম 📄 সাহায্য চেয়ে হযরত শুরাহবীলের লোক প্রেরণ

📄 সাহায্য চেয়ে হযরত শুরাহবীলের লোক প্রেরণ


তখন হযরত শুরাহবীল বিন হাসানা হযরত খালিদের কাছে অবস্থা জানানোর জন্য একজন লোক পাঠালেন। তিনি গিয়ে বললেন-

“নিশ্চয়ই আল্লাহর শত্রু টমা আমাদের সামনে এমন ভাবে উপস্থিত হয়েছে যা আমাদের হিসাবের বাইরে ছিল। আমাদের এখন সৈন্য সাহায্য প্রয়োজন, কারণ এই গেটে যুদ্ধের তীব্রতা অন্য সব গেটের চেয়ে বেশি।”

এ খবর শুনে হযরত খালিদ আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং বললেন তোমরা ক্রুশ কীভাবে নিয়ে নিলে? লোকটি বললেন, গেটের উপরে রোমদের ক্রুশ একজন লোক বহন করেছিল। সে সম্রাটের মেয়ে জামাই টমার সামনে ছিল। আবানের স্ত্রী তার প্রতি একটি তীর ছুড়লে ক্রুশটি তার হাত থেকে পড়ে আমাদের দিকে গড়িয়ে আসে। তখন আল্লাহর শত্রু টমা গেট খুলে বের হয়ে আসে। তখন আবানের স্ত্রী গিয়ে তার প্রতি তীর নিক্ষেপ করে। তীরটি টমার ডান চোখে বিদ্ধ হয়।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 টমার ভাষণ

📄 টমার ভাষণ


সকাল হলে টমা দামেস্কের বীর সৈন্য ও মুরব্বী শ্রেণীর লোকদের ডেকে পাঠাল। তারা উপস্থিত হলে টমা বলল-

“হে খ্রিষ্টধর্মের অনুসারীরা! আপনাদেরকে এমন একদল লোক অবরোধ করে রেখেছে, যাদের কাছে আমাদের জান-মালের কোন নিরাপত্তা নেই এবং তারা আপনাদের দেশে এসে বসবাস করছে। বলুন, আপনাদের নারী ও শিশুরা তাদের হাতে বন্দী হয়ে তাদের গোলাম ও বাঁদীতে পরিণত হওয়ার বিষয়টি আপনারা কীভাবে মেনে নিচ্ছেন? আপনারা মুসলমানদের সাথে সন্ধি করে এ দ্বীনের সাথে যে বেয়াদবি ও ক্রুশকে অপদস্ত করার যে দুরভিসন্ধির কথা মনে মনে কল্পনা করেছেন, তার প্রতি রাগ করেই ক্রুশ আমাদের হাত থেকে চলে গেছে। আমি যুদ্ধ করতে বের হয়েছি। আমার চোখে আঘাত না লাগলে ওদের শেষ না করে ফিরতাম না। আরবদের এক হাজার চোখ উপড়ে ফেলে আমার চোখের প্রতিশোধ অবশ্যই নিতে হবে। অতঃপর যত দ্রুত সম্ভব ক্রুশের কাছে পৌঁছে তাকে তাদের হাত থেকে অবশ্যই ছিনিয়ে আনতে হবে।”

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হযরত খালিদের উত্তর

📄 হযরত খালিদের উত্তর


টমার এ বক্তব্য শুনে তারা বলল, আপনি যে কাজে রাজি আছেন আমরাও সে কাজে রাজি আছি। আপনি আমাদেরকে যেটা করতে বলবেন আমরা সেটা অবশ্যই করব। টমা বলল, মনে রাখবেন! যারা যুদ্ধ করে তারা কোন কিছুকে ভয় পায় না। আমি সংকল্প করেছি, আজ রাতেই তাদের উপর আঘাত হানব এবং তাদেরকে গুপ্তভাবে হত্যা করব। কারণ, রাত তো এমনিই ভীতিকর। আর আপনারা আপনাদের শহরের অলিগলি সম্পর্কে তাদের চেয়ে অধিক অবহিত। তাই আজ রাতেই সবাই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন এবং গেট দিয়ে বের হোন। আশা করি আজ রাতেই তাদের থেকে আমরা মুক্ত হতে পারব। তাদেরকে শেষ করার পর আমরা তাদের নেতাকে বন্দী করে বিচারের জন্য সম্রাটের নিকট পাঠিয়ে দেব।

তারা বলল, ঠিক আছে। অতঃপর তারা জাবিয়া ও পূর্ব গেট থেকে শুরু করে প্রত্যেক গেটে গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করল।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 মুসলমানদের রাতের আঁধারে হত্যার ষড়যন্ত্র

📄 মুসলমানদের রাতের আঁধারে হত্যার ষড়যন্ত্র


টমা তাদের বলল, ভয় পাওয়ার কারণ নেই। ওদের আমীর আপনাদের কাছ থেকে অনেক দূরে। গেটের কাছে যারা অবস্থান করছে, তারা ক্রীতদাস ও নিম্ন শ্রেণির লোক। অতএব তাদেরকে ইচ্ছামতো হত্যা করুন। এ বলে টমা খ্যাতিমান বীরদের নিয়ে টমা গেটে গিয়ে অবস্থান করল। এর পূর্বে সে তাদেরকে বলল, টমা গেটে একটি ঘণ্টা থাকবে, ঘণ্টা বাজানোর সাথে সাথে সবাই গেট খুলে বের হয়ে শত্রুদের যাদেরকে পাবে হত্যা করবে। এটা করতে পারলে এ রাতেই তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং তাদের কোমর ভেঙে যাবে। ফলে তারা আর আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সাহস পাবে না।

লোকজন নিজ নিজ গেটে গিয়ে ঘণ্টা শোনার অপেক্ষায় রইল। টমা তার একজন লোককে ডেকে বলল, যখন আমি বলব তখন আমাদের লোকেরা শোনে মত হালকাভাবে ঘণ্টা বাজাবে। এ বলে টমা বর্মপরা ও তরবারীধারী বীরদের নিয়ে টমা গেটের দিকে চলল। তার হাতে একটি ভারতীয় লোহার পাত ও মাথায় একটি খসরুবী শিরস্ত্রাণ ছিল। এ শিরস্ত্রাণটি সম্রাট তাকে হাদিয়া দিয়েছিলেন। এতে তরবারী কোন কাজ করত না। গেটে পৌঁছে টমা ঘোষণা দিল, ওহে লোকজন! আপনাদের জন্য গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। অতএব দ্রুত শত্রুদের কাছে গিয়ে তাদেরকে হত্যা করুন। তাদের মধ্যে থেকে যদি কেউ নিরাপত্তা কামনা করে, তবে তার কথা কর্ণপাত করবেন না। তবে আমীর নিরাপত্তা চাইলে তাকে নিরাপত্তা দেবে। আর কেউ যদি ক্রুশ দেখতে পাও, তাহলে তুলে নিয়ে আসবে। এ বলে সে ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশ দিল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px