📄 হযরত আবানের স্ত্রীর বীরত্ব
অতঃপর হযরত খালিদ হযরত আবানের জানাযা নামায পড়ান। তাকে দাফন করার পর তার স্ত্রী আর দেরি না করে তার অস্ত্র হাতে নেন এবং হযরত খালিদকে না জানিয়ে যুদ্ধরত মুজাহিদদের মাঝে গিয়ে শামিল হন। তিনি গিয়ে জানতে চান, আমার স্বামী কোন গেটে নিহত হয়েছেন! তারা বললেন, টমা গেটে আর তাকে হত্যা করেছে সম্রাটের মেয়ে জামাই টমা। তখন তিনি টমা গেটে হযরত শুরাহবীল বিন হাসানার নেতৃত্বাধীন মুজাহিদদের কাছে গিয়ে পৌঁছেন এবং তাদের সাথে মিলে শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড যুদ্ধ করলেন।
📄 রোমানদের ক্রুশ হস্তগত হল মুসলমানদের
হযরত শুরাহবীল বিন হাসানা বলেন, দামেস্ক অবরোধ করে আমাদের যুদ্ধ করার সময় টমা গেটের উপর ক্রুশ হাতে একজন লোক দেখেছিলাম। সে টমার গাইড ছিল। সে বলল-
“হে আল্লাহ! এ ক্রুশকে এবং যে এর আশ্রয় গ্রহণ করেছে তাকে সাহায্য করুন। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য ক্রুশের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দিন এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন”।
আমি তার দিকে বারবার তাকাচ্ছিলাম। হঠাৎ আবানের স্ত্রী তার দিকে একটি তীর ছুড়লেন। তীর তার গায়ে লাগলে ক্রুশ তার হাত থেকে পড়ে যায় এবং মুক্তা খচিত এ ক্রুশ গড়াগড়ি দিয়ে আমাদের দিকে চলে আসে। তখন আমাদের কিছু সাথী ক্রুশটি তুলে নেওয়ার জন্য দৌড়ে যায়। ক্রুশটি কে আগে তুলে নেবে সে ব্যাপারে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।
📄 ক্রুশ হারিয়ে টমার অবস্থা
আল্লাহর দুশমন টমা মহাক্রুশ নিয়ে মুসলমানদের এ টানা-হিঁচড়া দেখে খুব ব্যথিত হল এবং বলল, সম্রাটের কাছে এ খবর পৌঁছে যাবে যে, আরবরা আমাদের কাছ থেকে ক্রুশ ছিনিয়ে নিয়েছে। এটা কখনো হতে দেওয়া যায় না। এ বলে সে তরবারী হাতে নিয়ে মুসলমানদের দিকে এগিয়ে আসতে চাইল এবং বলল, তোমাদের যার মন চায় আমার সাথে আস। আর যার মন চায় বসে থাক। যেভাবেই হোক এদের সাথে আমার মোকাবেলা করতে হবে। গেট খোলার নির্দেশ দিয়ে সে বাইরে চলে আসল। তার পেছনে পেছনে রোমানরাও বিক্ষিপ্ত পঙ্গ পালের মতো বের হয়ে পড়ল।
অন্যদিকে মুসলমানরা ক্রুশটিকে ঘিরে রেখেছিল। রোমানদের বের হতে দেখে মুসলমানরা ক্রুশটি হযরত শুরাহবীল বিন হাসানার কাছে হস্তান্তর করে। রোমানরা এসে মুসলমানদের উপর তীর ও পাথর বর্ষণ শুরু করে। তাদের কিছু লোক দেওয়ালের ওপার থেকে খাটের উপর দাঁড়িয়ে তীর ও পাথর বর্ষণ করল।
📄 হযরত শুরাহবীলের মর্মস্পর্শী ভাষণ
তখন হযরত শুরাহবীল বিন হাসানা ডাক দিয়ে বললেন, ওহে লোকজন আপনারা গেটের উপর দাঁড়ানো আল্লাহর শত্রুদের তীর থেকে নিরাপদ থাকার জন্য একটু পিছনে চলে যান। লোকজন পিছনে সরে গেল। আল্লাহর দুশমন টমা তাদের দিকে এগিয়ে যায়। সে ডানে ও বামে যাকে পাচ্ছে তীর ছুড়ে মারছে। তার সাথে রয়েছে কিছু বীর সৈন্য। হযরত শুরাহবীল বিন হাসানা এ অবস্থা দেখে চিৎকার দিয়ে বললেন-
“ওহে লোকজন! আপনারা জান্নাতের সন্ধানে মৃত্যুর কথা ভুলে যান এবং নিজেদের কর্ম দ্বারা সৃষ্টিকর্তাকে সন্তুষ্ট করুন। তিনি আপনাদের পলায়ন ও পিছু হটাকে পছন্দ করেন না। অতএব কাছে গিয়ে তাদের উপর হামলা করুন। আল্লাহ আপনাদের কাজে বরকত দিন।”