📄 হযরত আবানের স্ত্রীর অবস্থা
হযরত আবান এর স্ত্রী ছিলেন তার চাচাত বোন। কিছু দিন পূর্বে তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আজনাদীনে বিবাহের সময় লাগানো তার হাতের মেহেদী ও মাথায় লাগানো আতরের সুগন্ধি এখনো রয়ে গেছে। তিনি সাহসী ও বীর পরিবারের বীরাঙ্গনা ছিলেন। যখন তিনি তার স্বামীর মৃত্যু সংবাদ শুনলেন, তখনি স্বামীর লাশের পাশে চলে আসলেন। তিনি হা-হুতাশ করেননি, বরং ধৈর্য ধারণ করলেন। এসময় তার মুখ থেকে শুধু এ কথাটিই বের হয়েছে-
“আপনাকে যা দান করা হয়েছে, তা নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট এবং আপনি আপনার সে প্রভুর নিকট চলে গেছেন, যিনি দু'জনের মাঝে মিলন ঘটিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি আমাদের দু'জনের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটালেন। আমি আপনার কাছে গিয়ে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত জিহাদ করে যাব। আমি আপনার প্রতি খুব আসক্ত। আপনার পর কারো পক্ষে আমাকে স্পর্শ করা জায়েজ হবে না। আমি নিজেকে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করেছি। হতে পারে আমি আপনার সাথে শীঘ্রই মিলিত হব।”
📄 হযরত আবানের স্ত্রীর বীরত্ব
অতঃপর হযরত খালিদ হযরত আবানের জানাযা নামায পড়ান। তাকে দাফন করার পর তার স্ত্রী আর দেরি না করে তার অস্ত্র হাতে নেন এবং হযরত খালিদকে না জানিয়ে যুদ্ধরত মুজাহিদদের মাঝে গিয়ে শামিল হন। তিনি গিয়ে জানতে চান, আমার স্বামী কোন গেটে নিহত হয়েছেন! তারা বললেন, টমা গেটে আর তাকে হত্যা করেছে সম্রাটের মেয়ে জামাই টমা। তখন তিনি টমা গেটে হযরত শুরাহবীল বিন হাসানার নেতৃত্বাধীন মুজাহিদদের কাছে গিয়ে পৌঁছেন এবং তাদের সাথে মিলে শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড যুদ্ধ করলেন।
📄 রোমানদের ক্রুশ হস্তগত হল মুসলমানদের
হযরত শুরাহবীল বিন হাসানা বলেন, দামেস্ক অবরোধ করে আমাদের যুদ্ধ করার সময় টমা গেটের উপর ক্রুশ হাতে একজন লোক দেখেছিলাম। সে টমার গাইড ছিল। সে বলল-
“হে আল্লাহ! এ ক্রুশকে এবং যে এর আশ্রয় গ্রহণ করেছে তাকে সাহায্য করুন। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য ক্রুশের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দিন এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন”।
আমি তার দিকে বারবার তাকাচ্ছিলাম। হঠাৎ আবানের স্ত্রী তার দিকে একটি তীর ছুড়লেন। তীর তার গায়ে লাগলে ক্রুশ তার হাত থেকে পড়ে যায় এবং মুক্তা খচিত এ ক্রুশ গড়াগড়ি দিয়ে আমাদের দিকে চলে আসে। তখন আমাদের কিছু সাথী ক্রুশটি তুলে নেওয়ার জন্য দৌড়ে যায়। ক্রুশটি কে আগে তুলে নেবে সে ব্যাপারে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।
📄 ক্রুশ হারিয়ে টমার অবস্থা
আল্লাহর দুশমন টমা মহাক্রুশ নিয়ে মুসলমানদের এ টানা-হিঁচড়া দেখে খুব ব্যথিত হল এবং বলল, সম্রাটের কাছে এ খবর পৌঁছে যাবে যে, আরবরা আমাদের কাছ থেকে ক্রুশ ছিনিয়ে নিয়েছে। এটা কখনো হতে দেওয়া যায় না। এ বলে সে তরবারী হাতে নিয়ে মুসলমানদের দিকে এগিয়ে আসতে চাইল এবং বলল, তোমাদের যার মন চায় আমার সাথে আস। আর যার মন চায় বসে থাক। যেভাবেই হোক এদের সাথে আমার মোকাবেলা করতে হবে। গেট খোলার নির্দেশ দিয়ে সে বাইরে চলে আসল। তার পেছনে পেছনে রোমানরাও বিক্ষিপ্ত পঙ্গ পালের মতো বের হয়ে পড়ল।
অন্যদিকে মুসলমানরা ক্রুশটিকে ঘিরে রেখেছিল। রোমানদের বের হতে দেখে মুসলমানরা ক্রুশটি হযরত শুরাহবীল বিন হাসানার কাছে হস্তান্তর করে। রোমানরা এসে মুসলমানদের উপর তীর ও পাথর বর্ষণ শুরু করে। তাদের কিছু লোক দেওয়ালের ওপার থেকে খাটের উপর দাঁড়িয়ে তীর ও পাথর বর্ষণ করল।