📄 টমার সাথে যুদ্ধ শুরু
অতঃপর রুমাস টমার দিকে তীর নিক্ষেপ করেন। তখন টমা তীব্র যুদ্ধ শুরু করে দেয়। সে পাথর ছুড়ে মুসলমানদেরকে বিক্ষিপ্ত করে দিল এবং তীরের আঘাতে কিছু মুসলমানদের আহত করল। আহতদের অন্যতম ছিলেন আবান বিন সাঈদ ইবনুল আস। বিষাক্ত তীরের আঘাতে তিনি ছটফট করছিলেন। সাথীরা তাকে ধরাধরি করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে। তারা তার পাগড়িটি খুলে ফেলতে চাইল। তিনি বললেন, পাগড়ী খুলবেন না। পাগড়ী খুললে আমার প্রাণ বের হয়ে যাবে। আমি যা চেয়েছি আল্লাহ আমাকে তা দান করেছেন। কিন্তু সাথীরা তার কথার প্রতি কর্ণপাত না করে তার পাগড়ী খুলে ফেলে।
📄 হযরত আবান বিন সাঈদের শাহাদাত
পাগড়ী খুলে ফেললে তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে দু'আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে বললেন- أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا رسول الله هذا ما وعد الرحمن وصدق المرسلون. “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সা. আল্লাহর রাসূল। এটা সে বস্তু, যার ওয়াদা আল্লাহ দিয়েছেন। রাসূলগণ সত্য বলেছেন। একথা শেষ করতেই তার রূহ প্রভুর নিকট চলে যায়।”
📄 হযরত আবানের স্ত্রীর অবস্থা
হযরত আবান এর স্ত্রী ছিলেন তার চাচাত বোন। কিছু দিন পূর্বে তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আজনাদীনে বিবাহের সময় লাগানো তার হাতের মেহেদী ও মাথায় লাগানো আতরের সুগন্ধি এখনো রয়ে গেছে। তিনি সাহসী ও বীর পরিবারের বীরাঙ্গনা ছিলেন। যখন তিনি তার স্বামীর মৃত্যু সংবাদ শুনলেন, তখনি স্বামীর লাশের পাশে চলে আসলেন। তিনি হা-হুতাশ করেননি, বরং ধৈর্য ধারণ করলেন। এসময় তার মুখ থেকে শুধু এ কথাটিই বের হয়েছে-
“আপনাকে যা দান করা হয়েছে, তা নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট এবং আপনি আপনার সে প্রভুর নিকট চলে গেছেন, যিনি দু'জনের মাঝে মিলন ঘটিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি আমাদের দু'জনের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটালেন। আমি আপনার কাছে গিয়ে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত জিহাদ করে যাব। আমি আপনার প্রতি খুব আসক্ত। আপনার পর কারো পক্ষে আমাকে স্পর্শ করা জায়েজ হবে না। আমি নিজেকে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করেছি। হতে পারে আমি আপনার সাথে শীঘ্রই মিলিত হব।”
📄 হযরত আবানের স্ত্রীর বীরত্ব
অতঃপর হযরত খালিদ হযরত আবানের জানাযা নামায পড়ান। তাকে দাফন করার পর তার স্ত্রী আর দেরি না করে তার অস্ত্র হাতে নেন এবং হযরত খালিদকে না জানিয়ে যুদ্ধরত মুজাহিদদের মাঝে গিয়ে শামিল হন। তিনি গিয়ে জানতে চান, আমার স্বামী কোন গেটে নিহত হয়েছেন! তারা বললেন, টমা গেটে আর তাকে হত্যা করেছে সম্রাটের মেয়ে জামাই টমা। তখন তিনি টমা গেটে হযরত শুরাহবীল বিন হাসানার নেতৃত্বাধীন মুজাহিদদের কাছে গিয়ে পৌঁছেন এবং তাদের সাথে মিলে শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড যুদ্ধ করলেন।