📘 ফুতুহুশ শাম 📄 বিজয়ের সংবাদ জানিয়ে খলীফার নিকট পত্র প্রেরণ

📄 বিজয়ের সংবাদ জানিয়ে খলীফার নিকট পত্র প্রেরণ


যুদ্ধ শেষে হযরত খালিদ আবু বকর রা.-এর কাছে একখানা চিঠি লিখলেন। চিঠি খানা নিম্নরূপ:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

من خالد بن الوليد المخزومي إلى خليفة رسول الله, سلام عليك. أما بعد, فإنى أحمد الله الذى لا إله إلا هو وأصلى على نبيه محمد, وأزيد حمدا وشكرا على المسلمين ودمارا على المتكبرين المشركين وانصداع بيعتهم, وإنا لقينا جموعهم باجنادين, وقد رفعوا صلبانهم وتقاسموا بدينهم أن لا يضروا ولا ينهزموا, فخرجنا إليهم واستعنا بالله عز وجل متوكلين على الله خالقنا فرزقنا الله الصبر والنصر وكتب الله على أعدائنا القهر فقاتلناهم في كل واد وسبسب, وجملة من أحصيناهم ممن قتل من المشركين خمسون ألفا وقتل من المسلمين في اليوم الأول والثانى أربعمائة وخمسون رجلا, ونحن راجعون إلى دمشق فادع لنا بالنصر والسلام عليك وعلى جميع المسلمين ورحمة الله وبركاته.

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
খালিদ বিন ওয়ালিদ মাখযূমীর পক্ষ থেকে আল্লাহর রাসুলের খলীফার প্রতি। আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।

পর কথা, আমি সেই মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি ব্যতীত আর কোন মা'বুদ নাই এবং তার নবী মুহাম্মদের জন্য রহমত কামনা করছি। মুসলমানদের প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং অহংকারী মুশরিকদের ধ্বংস ও তাদের বিচ্ছিন্নতা কামনা করছি। আজনাদীনে আমরা তাদের বাহিনীর সাথে মোকাবেলা করেছি। তারা তাদের ক্রুশ উত্তোলন করেছিল এবং তাদের ধর্মের নামে পরস্পরে কসম করেছিল যে, তারা পালাবে না ও পরাজিত হবে না। কিন্তু আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে ও তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করে যুদ্ধ শুরু করি। ফলে তিনি আমাদেরকে ধৈর্য ও বিজয় দান করলেন এবং আমাদের শত্রুদের ভাগ্যে পরাজয় লিখে দিলেন। আমরা তাদেরকে উপত্যকা ও দুর্গম এলাকায় ধাওয়া করে হত্যা করেছি। আমরা মুশরিক রোমানদের পঞ্চাশ হাজার লাশ গণনা করেছি। আর যুদ্ধের দু'দিনে আমাদের সাকুল্যে চারশত পঞ্চাশজন শাহাদাত বরণ করেছেন। আমরা এখন ইনশাআল্লাহ দামেস্কে ফিরে যাচ্ছি। অতএব আপনি আমাদের বিজয়ের জন্য দুআ করুন। আপনার এবং সকল মুসলমানের প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

পত্রটি হযরত আবদুর রহমান বিন হুমাইদের মাধ্যমে মদীনায় পাঠিয়ে দিয়ে হযরত খালিদ মুসলমানদেরকে নিয়ে দামেস্কে রওয়ানা হন।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 পত্র পেয়ে হযরত আবু বকরের প্রতিক্রিয়া

📄 পত্র পেয়ে হযরত আবু বকরের প্রতিক্রিয়া


হযরত আবু বকর রা. প্রতিদিন ফজরের নামাযের পর কিছুক্ষণ হাঁটতেন। একদিন তিনি ফজরের নামাযের পর হাঁটছিলেন। হঠাৎ দেখেন আবদুর রহমান বিন হুমাইদ মদীনার দিকে আসছেন। তাকে দেখে হযরত আবু বকর রা. এর সাথে থাকা লোকজন তার দিকে দৌড়ে গিয়ে বললেন, তুমি কোথা থেকে এসেছ? তিনি বললেন, সিরিয়া থেকে এসেছি। আল্লাহ মুসলমানদেরকে বিজয় দান করেছেন। একথা শোনে হযরত আবু বকর রা. আল্লাহর শোকরিয়া জানাতে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন। আবদুর রহমান বিন হুমাইদ হযরত আবু বকরের কাছে গিয়ে বললেন, ওহে আল্লাহর রাসূলের খলীফা! আপনি মাথা তুলুন, মুসলমানদের দ্বারা আল্লাহ আপনার চক্ষুকে শীতল করেছেন।

হযরত আবু বকর রা. মাথা তুলে পত্রটি কেউ না শোনে মত পড়লেন। পরে সবাইকে পড়ে শোনালেন।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 বিজয়ের সংবাদ শোনার জন্য লোকজনের ভীড়

📄 বিজয়ের সংবাদ শোনার জন্য লোকজনের ভীড়


এ খবর মদীনায় ছড়িয়ে পড়লে চতুর্দিক থেকে লোকজন তা নিজের কানে শোনার জন্য খলীফার নিকট চলে আসে। তিনি বিজয়ের পত্রটি তাদের সবাইকে পড়ে শোনান। মক্কা, হিজায ও ইয়ামানসহ প্রতিটি মুসলিম জনপদে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে। ফলে লোকজন সিরিয়ায় জিহাদ করতে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে খলিফার নিকট আসতে থাকে।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 সিরিয়ার জিহাদে অংশ গ্রহণের জন্য মক্কার নওমুসলিমদের আগমন ও হযরত উমরের সন্দেহ

📄 সিরিয়ার জিহাদে অংশ গ্রহণের জন্য মক্কার নওমুসলিমদের আগমন ও হযরত উমরের সন্দেহ


মক্কা থেকে হযরত আবু সুফ্যান ও গাইদাক বিন ওয়ায়েলের নেতৃত্বে লোকজন যুদ্ধ সরঞ্জামসহ মদীনায় চলে আসল। এসে তারা যখন সিরিয়ায় জিহাদ করতে যাওয়ার জন্য হযরত আবু বকরের কাছে অনুমতি কামনা করল, তখন হযরত উমর রা. বললেন-

لا تأذن للقوم فإن في قلوبهم حقائد وضغائن, والحمد لله الذي كان كلمته هي العليا وكلمتهم هى السفلى وهم على كفرهم وأرادو أن يطفئوا نور الله بأفواههم ويأبى الله إلا أن يتم نوره, ونحن مع ذلك نقول : ليس مع الله غالب, فلما أن أعز الله ديننا ونصر شريعتنا أسلموا خوفا من السيف, فلما سمعوا أن جند الله قد نصروا على الروم أتونا لنبعث بهم إلى الأعداء ليقاسموا السابقين الأولين, والصواب أن لا نقر بهم.

“এদেরকে সিরিয়ায় যাওয়ার অনুমতি দিবেন না। কারণ, তাদের অন্তরে এখনো ইসলামের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ রয়ে গেছে। সমস্ত প্রশংসা সে আল্লাহর, যার কথা উন্নত আর তাদের কথা হচ্ছে পতিত। তারা এখনো তাদের কুফরীতে রয়ে গেছে। তারা আল্লাহর আলোকে (ইসলাম) ফুঁৎকার দিয়ে নিভিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ চেয়েছেন তার আলো পূর্ণ হোক। তাই আমরা বলছি আল্লাহকে পরাজিত করার মত কেউ নেই। যখন আল্লাহ আমাদের দ্বীন ও শরীয়তকে বিজয় দান করেছেন, তখন তারা তরবারীর ভয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছে। অতঃপর যখন শুনেছে যে, আল্লাহর সৈনিকরা রোমানদের উপর বিজয় অর্জন করেছে, তখন তারা আমাদের কাছে শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি তলব করতে এসেছে। যাতে তারা আগে ইসলাম গ্রহণকারীদের সাথে গনীমত ভাগাভাগি করতে পারে। আমার মতে তাদেরকে স্বীকৃতি না দেওয়াই ভাল হবে।” হযরত আবু বকর রা. বললেন, আমি আপনার কোন কথার বিরোধিতা করতে পারি না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px